English to Bengali, বাংলা ও ইংরেজি, Online English to Bengali Tense, English Gramma

শিক্ষায় জীবন

হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখা থেকে হজমে সাহায্য করা, আর কী গুণ রয়েছে ফুলকপির ?

    হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখা থেকে হজমে সাহায্য করা, আর কী গুণ রয়েছে ফুলকপির ?

হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখা থেকে হজমে সাহায্য করা, আর কী গুণ রয়েছে ফুলকপির ?
 হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখা থেকে হজমে সাহায্য করা, আর কী গুণ রয়েছে ফুলকপির ?

       ফুলকপিতে রয়েছে সালফোরাফেন। এই উপাদান ক্যান্সারের স্টেম সেল মেরে টিউমারের বৃদ্ধি আটকায়। ফুলকপির এই উপাদান প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

     ফুলকপি ফাইবার-সমৃদ্ধ। যা হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। ফুলকপির সালফোরাফেন রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে

    ফুলকপিতে রয়েছে কোলিন। এটি এক ধরনের ভিটামিন বি। যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল রাখে

    ফুলকপিতে থাকা সালফোরাফেন, ভিটামিন সি ও ফোলাট ওজন ঝরাতে সাহায্য করে

    এটি ভিটামিন কে সমৃদ্ধ। যা হাড় শক্ত রাখে

    ফুলকপিতে উপস্থিত ফাইবার হজমে সাহায্য করে

    কিডনি রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে ফুলকপিতে থাকা ফাইটোকেমিক্যালস

    এই সবজিতে থাকা সালফোরাফেন রেটিনা নষ্ট হওয়া রোধ করে

উচ্চমাত্রায় ফাইবার থাকায় ফুলকপি রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করতে পারে

     ফুলকপিতে থাকা বিভিন্ন রকমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চামড়ার ডার্ক স্পট কাটাতে সাহায্য করে (ডিসক্লেমার : এগুলি এবিপি আনন্দর সাজেশন মাত্র। যে কোনও রকম রোগের ক্ষেত্রে কী সব্জি খাবেন বা কী ডায়েট চার্ট ফলো করবেন তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন)।

   

   সারা বছর ধরেই এখন ফুলকপি বাজারে পাওয়া যায়। তবে শীতকালীন ভাল সব্জির মধ্যে ফুলকপি অন্যতম। দেখতে একদম ফুলের মতো বলেই এর নাম ফুলকপি। বাঙালির আবার ফুলকপির প্রতি দুর্বলতা রয়েছে। সে খিচুড়িই হোক, বা সব্জির তরকারি, সবেতেই ফুলকপি দেওয়া চাই-ই চাই।

     এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: শীতকালের জন্য ফুলকপি আর ফুলকপির জন্যই বোধহয় শীতকাল!

     সারা বছর ধরেই এখন ফুলকপি বাজারে পাওয়া যায়। তবে শীতকালীন ভাল সব্জির মধ্যে ফুলকপি অন্যতম। দেখতে একদম ফুলের মতো বলেই এর নাম ফুলকপি। বাঙালির আবার ফুলকপির প্রতি দুর্বলতা রয়েছে। সে খিচুড়িই হোক, বা সব্জির তরকারি, সবেতেই ফুলকপি দেওয়া চাই-ই চাই। তবে বেশি খাওয়া একদমই উচিত নয়।

     আগে আমরা মটরশুটি নিয়ে কথা বলেছিলাম। এবার আলোচনা করব ফুলকপির গুণাবলী নিয়ে।

     ১. ফুলকপির খাদ্যগুণ অপরিসীম। ১০০ গ্রাম ফুলকপি থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোক্যালোরি সক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া এই সব্জি থেকে ৫-৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২ গ্রাম প্রোটিন, ০.৩ গ্রামের মত ফ্যাট পাওয়া যায়। এছাড়া ভিটামিন C, ভিটামিন K, ক্যালসিয়াম, আয়রন থাকে।

২. ফুলকপিতে প্রচুর পরিমানে জল আর তন্তু থাকে। এতে শরীর খুব ভাল থাকে। ডায়াবেটিস রোগীরা ফুলকপি নিঃসন্দেহে খেতে পারেন।

৩. ফুলকপি মুখের ভিতর মিউকাস মেমব্রেনকে ঠিক রাখে।

৪. প্রোস্টেট ক্যানসারের জন্য ফুলকপি খুবই উপকারী। এই সব্জি ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি রোধ করে।

৫. শিশু বা বয়স্করা ফুলকপি খেতে পারেন। কারণ, ফুলকপি দেহে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অনেকাংশেই বাড়িয়ে তোলে।

৬. সেদ্ধ ফুলকপি খেতে পারেন। তবে যাঁরা গ্যাস বা অম্বল রোগে ভোগেন তাঁদের ফুলকপি না খাওয়াই ভালো।

৭. যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাঁদেরও এই সব্জি না খাওয়াই ভাল।

৮. বর্তমানে ফুলকপি চাষে অত্যন্ত রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তাই রান্না করার আগে ঈষদুষ্ণ জলে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর জল ছেঁকে ফুলকপি রান্না করুন।

ধনের উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ধনের অন্যান্য উপকারিতা - Other benefits of Coriander in Bengali

ধনের উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Coriander Benefits, Uses and Side Effects in Bengali


        ধনে বা সিলান্ত্র একটি বাৎসরিক গাছড়া যা সাংস্কৃতিক ভারতীয় রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। খাদ্যাভ্যাসগত ফাইবারের একটি ভাল উৎস হিসেবে পরিচিত, কোরিয়ানড্রাম সাতিভাম-এর প্রচুর ঔষধিগুণ রয়েছে। বিভিন্ন সভ্যতা ধনে ব্যবহার করে আসছে প্রথাগত নিরাময়কারী এবং খাবার সুস্বাদু করার প্রতিনিধি হিসেবে। ধনে গাছ তার সম্পূর্ণতায় পেট্রোসেলিনিক অ্যাসিড এবং অপরিহার্য তেলের মত লিপিডের একটি সমৃদ্ধ উৎস।

          দক্ষিণ ইউরোপ এবং উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার স্থানীয় হিসেবে পরিচিত, ধনে হল একটি নরম গাছড়া যা সাধারণত 50সেমি উচ্চতার হয়। এর পাতার নিম্নভাগ হয় বিস্তৃত লতির মত এবং বাইরের প্রান্তগুলির দিকে হয় পাতলা এবং পালকের মত এবং এটি বিভিন্ন আকৃতির হয়ে থাকে। আয়ুর্বেদে ধনেকে অত্যন্ত প্রশংসা করা হয়েছে একটি ত্রিশোদিক (তিনটি উপকারিতা প্রদান করে) মশলা হিসেবে যেটি খিদে বাড়ায়, হজমে সাহায্য করে, এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

           ধনেতে বেশ কিছু জৈবিক উপাদান রয়েছে যার ফলে এই গাছড়ার বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন ঔষধিগুণ প্রদর্শন করে। এগুলির মধ্যে পরে ডায়বিটিসবিরোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, জীবাণুবিরোধী, মৃগীরোগ-বিরোধী (মৃগীরোগ প্রতিরোধ করে), অবসাদ-বিরোধী, প্রদাহবিরোধী (ফুলে যাওয়া রোধ করে), ডিসলিপিডেমিক-বিরোধী (রক্তে কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসেরাইডের রূপে থাকা লিপিড কমায়), স্নায়ু সুরক্ষাকারী (স্মৃতিশক্তির কোষগুলি রক্ষা করে), হাইপারটেনসিভ-বিরোধী (রক্তচাপ কমায়) এবং মূত্রবর্ধক (প্রস্রাব বাড়ায়) বৈশিষ্ট্য।

ধনের বিষয়ে কিছু মৌলিক তথ্য

বোটানিকাল নামঃ কোরিয়ানড্রাম সাতিভাম
পরিবারঃ অ্যাপিকাসি
প্রচলিত নামঃ ধনে, সিলান্ত্র, চীনা পারস্লে
সংস্কৃত নামঃ ধানিয়া
ব্যবহৃত অংশঃ পাতা, কাণ্ড, বীজ
স্থানীয় অঞ্চল এবং ভৌগলিক বন্টনঃ দক্ষিণ ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকা
ধনের পুষ্টিগুণের তথ্য 
ধনেপাতার উপকারিতা
বৃক্কের জন্য ধনেপাতা 
কোলেস্টেরলের জন্য ধনেপাতা 
যকৃতের জন্য ধনেপাতা 
ভাল স্মৃতিশক্তির জন্য ধনেপাতা
রক্তচাপের জন্য ধনেপাতা 
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ধনেপাতা 
ধনেপাতার রসের উপকারিতা 
ওজন কমানোর জন্য ধনেপাতার রস 
চুল পড়ার জন্য ধনেপাতার রস 
সুস্থ ত্বকের জন্য ধনেপাতার রস 
ধনের ঔষধিগুণ
বাতের জন্য ধনে 
অ্যালজাইমার’স রোগের জন্য ধনে 
উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার জন্য ধনে 
ক্যানসারের জন্য ধনে 
চুলকানি এবং অ্যালার্জির জন্য ধনে 
মূত্রনালির সংক্রমনে ধনে 
ধনের অন্যান্য উপকারিতা 
সুস্থ চোখের জন্য ধনে 
মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির জন্য ধনে 
জীবাণুর সংক্রমণের জন্য ধনে 
খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য ধনে 
ভারী ধাতু অপসারণের জন্য ধনে 
কি করে বানাবেন ধনের রস 
ধনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 
ধনের পুষ্টিগুণের তথ্য 
ধনে তার স্বাস্থপকারিতার জন্য পরিচিত। USDA অনুযায়ী, 100 গ্রা ধনের পরিবেশনের পুষ্টিগুন এই তালিকায় দেওয়া রয়েছে।


ধনেপাতার উপকারিতা 
        ধনেপাতা বরাবরই বেশিরভাগ খাবারে মশলা (স্বাদ বৃদ্ধিকারক) হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। উপরন্তু এও দেখা গেছে যে ধনের ব্যবহারের ফলে বেশ কিছু স্বাস্থপকারিতা পাওয়া গেছে। এই প্রবন্ধে ধনের ব্যবহারের ফলে ভাল স্বাস্থ্যের উন্নীত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

            ধনে গাছড়াটির সম্পূর্ণটারই বেশ কিছু ব্যবহার এবং উপকারিতা রয়েছে। ধনেপাতার কিছু ব্যবহার এবং স্বাস্থপকারিতার বিষয়ে খতিয়ে দেখা যাক।

বৃক্কের জন্য ধনেপাতা - Coriander leaves for kidney in Bengali
     পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, এবং ম্যাগনেসিয়ামের মত একগুচ্ছ খনিজ বস্তু পাওয়া যায় ধনেতে। সর্বোত্তম স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-এর মত ভিটামিন এবং বিটা-ক্যারোটিন (এক ধরণের রজক যা ভিটামিন এ তৈরির জন্য দায়ী) যা ধনেপাতায় পাওয়া যায়। ধনেপাতা একটি মুত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং বৃক্কের পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এর ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে এবং ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বার করে দেয়।

কোলেস্টেরলের জন্য ধনেপাতা - Coriander leaves for cholesterol in Bengali

ধনেতে থাকা জৈব যৌগ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এই যৌগগুলি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা সাধারণ পর্যায়ে নিয়ে আসে। নিয়মিত ধনের সেবনের ফলে কম ঘনত্বের কোলেস্টেরল (এলডিএল) এবং অত্যন্ত কম ঘনত্বের কোলেস্টেরল (ভিএলডিএল) কম শতাংশে পাওয়া গেছে কার্ডিওভাসকুলার রোগের রুগীদের মধ্যে।

ধনে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে রক্তে থাকা ট্রাইগ্লিসেরাইড কমিয়ে এবং উচ্চ ঘনত্বের কোলেস্টেরল (এইছডিএল) যা ভাল কোলেস্টেরল হিসেবেও পরিচিত।


যকৃতের জন্য ধনেপাতা - Coriander leaves for the liver in Bengali
      মানব শরীরের বিপাকীয় ক্রিয়ার সিংহভাগ যকৃতের দ্বারা সঞ্চালিত হয়। কোরিয়ানড্রাম সাতিভাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ থাকার দরুন হেপাটোপ্রোটেক্তিভ (যকৃৎ রক্ষা করে) হিসেবে কাজ করে ক্যাটালেজ, গ্লুটথিয়েন পেরক্সাইডেস, এবং সুপারক্সাইড ডিসমুটেজের মত কিছু এনজাইমের ক্রিয়া বাড়িয়ে দিয়ে। এই এনজাইমগুলি হাইড্রক্সিল র‍্যাডিকালের (ক্ষতিকারক প্রতিনিধি) মত বিষাক্ত পদার্থ নাশ করে এদের সাথে একাত্ম হয়ে এবং যকৃতের সঠিক কার্যকলাপ উন্নত করে।

       ভাল স্মৃতিশক্তির জন্য ধনেপাতা - Coriander leaves for good memory in Bengali
ধনের ওপর হওয়া ব্যাপক গবেষণা দৃঢ়ভাবে সুপারিশ করে যে এই গাছড়াটি স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে উল্লেখযোগ্য ভাবে সাহায্য করে।

          প্রাথমিক যে পদ্ধতিতে ধনে স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে তা হল কোলিনেরেস্টেস এনজাইম রোধ করে (একটি এনজাইম যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে থাকে) যেটি এসিটিলকোলিন নামক একটি স্নায়ুপ্রেরকের (স্নায়ুর সংকেত সরবরাহে সাহায্য করে) ভাঙনের জন্য দায়ী।

        এসিটিলকোলিন শরীরের পেশীর কোষগুলিকে সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয়। ধনে মস্তিষ্কে অক্সিডেটিভ চাপ কমায় যেটি কোলিনেরেস্টেসের ক্রিয়া রোধ করে, এবং এসিটিলকোলিনের গড়ে তলা উন্নীত করে। ফলত, সেটি স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।

রক্তচাপের জন্য ধনেপাতা - Coriander leaves for blood pressure in Bengali
ধনেপাতা দিয়ে তৈরি করা সালাদ প্রায়ই উচ্চ রক্তচাপের রুগীদের ক্ষেত্রে উপকারী পাওয়া গেছে।

        ধনে ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ যা এসিটিলকোলিনের সাথে পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে রক্ত থেকে চাপ মুক্ত করে।

         ধনে সেবনের সেইজন্য রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা রয়েছে। ধনের এই বৈশিষ্ট্য কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এবং স্ট্রোকের মত বিভিন্ন ধরণের কার্ডিওভাসকুলার (হৃদয়ের) রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

        অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ধনেপাতা - Coriander leaves as antioxidants in Bengali
মানব শরীর ক্রমাগত বাহ্যিক পারিপার্শ্বিক পরিবেশের বিষাক্ত পদার্থের সামনে উন্মুক্ত হয়।

         এইসব বিষাক্ত পদার্থের সাথে প্রতিক্রিয়ার ফলে শরীর ফ্রি র‍্যাডিকাল তৈরি করে যা কোষের ক্ষতি করে এবং দীর্ঘ মেয়াদে হৃদরোগ, ডায়বিটিস এবং ক্যানসারের মত রোগের জন্ম দেয়।

       ধনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি ভাল উৎস। ধনেপাতা থেকে তৈরি করা নির্যাস অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে পারে গ্লুটাথায়নের মত বৃহৎ সংখ্যক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সাহায্যে যা ফ্রি র‍্যডিকাল থেকে হওয়া ক্ষতি কমিয়ে দেয়।




ধনেপাতার রসের উপকারিতা - Coriander leaves juice benefits in Bengali
        টাটকা ধনেপাতা জলে চূর্ণ করলে যে রস পাওয়া যায় তার প্রচুর স্বাস্থপকারিতা রয়েছে। এছাড়াও, প্রচুর প্রস্তুতি (মিশ্রণ) তৈরি করা হয় ধনেপাতা চূর্ণ করে এবং তার সঙ্গে অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে এবং তা ব্যবহার করা হয় তার স্বাস্থপকারিতার জন্য। ধনেপাতার থেকে তৈরি করা রসের প্রধান সুবিধাগুলি নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

    ওজন কমানোর জন্য ধনেপাতার রস - Coriander leaves juice for weight loss in Bengali
বিশেষজ্ঞেরা বারংবর ধনেপাতার রস সুপারিশ করে আসছেন কার্যকর ভাবে ওজন কমানোর জন্য।

ধনেপাতায় থাকা অপরিহার্য তেল অন্ত্রের যাবতীয় জীবাণু নিষ্কাসিত করে স্থুলতার জন্য দায়ী সকল বিষাক্ত পদার্থ দূর করে দেয়।

       উপরন্তু, ধনেপাতায় থাকা পলিফেনল চর্বির সাথে লড়ে এবং তার জমে ওঠা প্রতিরোধ করে। ধনেপাতার রসের এইসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি লোকজনের মধ্যে ওজন কমাতে উন্নীত হয়।

চুল পড়ার জন্য ধনেপাতার রস - Coriander leaves juice for hair loss in Bengali
         ধনেপাতার রস বা পেস্ট চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। ধনে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন কে-তে সমৃদ্ধ। কেরাটিন হল সেই প্রোটিন যা চুলের গুটিকা শক্তিশালী করতে চুল ভেঙে যাওয়া থেকে আটকাতে প্রয়োজন।

        ভিটামিন কে প্রয়োজন কেরাটিন তৈরি হতে। ধনেপাতার রস সেবনের ফলে কেরাটিন প্রোটিনের গঠন এবং জমা শুরু হতে সাহায্য পায়। ফলত উন্নত চুলের বেড়ে ওঠা শুরু হয়। এর ফলে চুলের পরিমাণ এবং চাকচিক্য বাড়ে।  

সুস্থ ত্বকের জন্য ধনেপাতার রস - Coriander leaves juice for healthy skin in Bengali
         ধনের পাতা রস হিসেবে খেলে বা পেস্ট হিসেবে ব্যবহার করলে ব্রণ এবং ব্ল্যাকহেড কমায়। তৈলাক্ত ত্বকের ব্যক্তিরা ধনেপাতার রস বা পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করতে।

        ধনেপাতার রসে জীবাণুবিরোধী এবং ছত্রাকবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি একটি পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে এবং সকল প্রকার জীবাণু এবং ছত্রাক যার কারণে তৈলাক্ত ত্বক এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যা হয় তা নিষ্কাসিত করে দেয়।

ধনের ঔষধিগুণ - Medicinal Benefits of Coriander in Bengali
     উপরুক্ত স্বাস্থপকারিতা বাদেও ধনের কিছু উপকারী ঔষধিগুণ রয়েছে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে। এইসব ঔষধিগুণ নিচে বিশদে আলোচনা করা হয়েছে।

        শরীরকে বিষমুক্ত করেঃ ধনে যকৃৎ এবং বৃক্কের কার্যকারিতা উন্নত করে, যেগুলি আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক বিষনাশক অঙ্গ। এটি মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাসন বাড়িয়ে দেয়।
        মস্তিষ্কের ক্রিয়া উন্নত করেঃ ধনেপাতার মস্তিষ্কে অ্যান্টিঅক্সিডেটিভ প্রভাব রয়েছে যেটিকে স্মৃতিশক্তি এবং চেতনা উন্নত করতে দেখা গেছে। এটি স্নায়ুক্ষয়কারী রোগ হওয়ার আশঙ্কাও কমিয়ে দেয় চাপ-বিরোধী এবং অবসাদ-বিরোধী প্রভাব বিস্তার করার সাথে সাথে।
       ওজন কমানো উন্নীত করেঃ ধনের বিষনাশক প্রভাব এটিকে একটি দুর্দান্ত ওজন কমানোর নিরাময় তৈরি করে। এটি শরীরে চর্বি জমা কমায় এবং অন্ত্রের আনুবিক উদ্ভিদ উন্নত করে, যার ফলে শরীরের ওজন কমে।
       ত্বকের উপকারিতাঃ ধনেপাতার রস এবং পেস্ট, খেলে বা ব্যবহার করলে তা ব্রণ এবং ব্ল্যাকহেড কমায় বলে জানা যায়। এটি ত্বকে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক বেড়ে ওঠা রোধ করে এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।
      মৌখিক স্বাস্থ্য উন্নত করেঃ ধনে হল একধরনের প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী যা টাকরা পরিষ্কার করে এবং নিশ্বাসের দুর্গন্ধ কমায়। এটি মুখের আলসার কমাতেও কার্যকর বলে সুপারিশ করা করা।
       মূত্রনালীর সংক্রমণের জন্যঃ ধনের দ্বৈত উপকারিতা রয়েছে মূত্রনালীর সংক্রমণের লক্ষণগুলির ক্ষেত্রে। এটি শুধুমাত্র শরীর থেকে প্যাথোজেন নিষ্কাসিত করে দিতেই সাহায্য করে না, এটি মূত্রনালিতে জীবাণুর বেড়ে ওঠায় বাধা দেয়।

বাতের জন্য ধনে - Coriander for arthritis in Bengali
      কোরিয়ানড্রাম সাতিভাম-এর প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ধনের এই প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত কার্যকর বাতের মত অসুস্থতার ক্ষেত্রে। যেই রুগীরা গাঁট ফুলে ওঠার কারণে বাতে ভোগেন তারা ত্বকের ফুলে ওঠা এবং ত্বকে দানা হওয়ায় ভোগেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে ধনে ত্বকের ফুলে ওঠা কমায় যার ফলে অস্বস্তি কমে এবং আপনার ত্বকের অবস্থার উন্নতি হয়।

অ্যালজাইমার’স রোগের জন্য ধনে - Coriander for Alzheimer’s Disease in Bengali
      অ্যালজাইমার’সের মত স্নায়ুক্ষয়কারী (স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষয়) রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে ধনের ডোজের ওপর নির্ভর করে। এসিটিলকোলিন নামক স্নায়ুপ্রেরকের ঘাটতির কারণে তা অ্যালজাইমার’সের আকার ধারন করে। এসিটিলকোলিন পেশীর নড়াচড়ার জন্যেও প্রয়োজন এবং এর ক্ষয় পক্ষাঘাতের মত অবস্থায় রূপান্তরিত হতে পারে। ধনে কোলিনেরেস্টেস এনজাইমের ক্রিয়া আটকে এই রোগ প্রতিরোধ করে যেটি এসিটিলকোলিনের ভাঙ্গনের জন্য দায়ী।

উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার জন্য ধনে - Coriander for anxiety and depression in Bengali
       ধনে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয় এর অবসাদ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য। বিশেষজ্ঞেরা অ্যালজাইমার’সের ওপর ধনের প্রভাব বোঝার পড়াশোনাতে আবিষ্কার করেছেন এর সম্ভাব্যতা রয়েছে উদ্বেগ নিরাময়ের। গবেষণায় পাওয়া গেছে ধনের উদ্বায়ী তেল স্নায়ুতন্ত্রের রুগীদের দিলে, উদ্বেগ এবং চাপের বিপরীত ক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে। এটি প্রধানত সম্ভব হয় গ্লুটাথায়নের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে, যেটি মস্তিষ্কের অক্সিডেটিভ-বিরোধী ক্রিয়া বাড়িয়ে তোলে। এইভাবে উদ্বেগ এবং চাপের অবস্থাগুলি কমে।




ক্যানসারের জন্য ধনে - Coriander for cancer in Bengali
       ধনে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কার্যকর হিসেবে দাবি করা হয় কারণ এর মিউটাজেনিক-বিরোধী (যেই পরিব্যক্তিগুলি ক্যানসারে রূপান্তরিত হয় সেগুলি কমায়) বৈশিষ্ট্য রয়েছে। একটি গবেষণায় ধনের রসে মিউটাজেনিক-বিরোধী বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে। যা ডিএনএ-তে পরিব্যক্তি কমায়, বিশেষত ক্যানসারজনক পণ্যের। ধনের ক্যানসার-বিরোধী হিসেবে কাজ করার সম্ভাব্যতা, যদিও, এখনও ইন-ভিভো পরীক্ষা হওয়া বাকি।

চুলকানি এবং অ্যালার্জির জন্য ধনে - Coriander for rashes and allergies in Bengali
       ধনে তার প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রখ্যাত। আয়ুর্বেদিক অনুশীলনকারীরা ধনের রস সুপারিশ করেন চুলকানি, প্রদাহ, চামড়ায় ফুসকুড়ি এবং পোকামাকড়ের কামড় থেকে হওয়া অ্যালার্জির চিকিৎসা করতে। ধনের রস পুড়ে যাওয়া, খড় জ্বরের (অ্যালার্জিক রাইনিটিস) চিকিৎসাতেও কার্যকর।

মূত্রনালির সংক্রমনে ধনে - Coriander for urinary tract infections in Bengali
      মূত্রনালি সংক্রমণ (ইউটিআই) প্রধানত হয় যৌনাঙ্গে প্যাথোজেন থেকে হওয়া সংক্রমণ থেকে যেই কারণে প্রস্রাব করার সময় আমাদের জ্বালার অনুভব হয়। বিভিন্ন প্রথাগত চিকিৎসায়, ধনে ব্যবহার করা হয়েছে মুত্রনালির সংক্রমণ সারাতে এটির জীবাণুবিরোধী এবং মুত্রবর্ধকের বৈশিষ্ট্যের জন্য এবং ইউটিআই রোগের কারণ যে প্যাথোজেন তার বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ার জন্য, যেগুলি সাধারণত ওষুধের প্রতিরোধী।  

ধনের অন্যান্য উপকারিতা - Other benefits of Coriander in Bengali
       ধনের স্বাস্থপকারিতা এবং ঔষধিগুণ ছাড়াও কিছু উল্লেখযোগ্য উপকারিতা রয়েছে রোজকার খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করলে। ধনের অন্যান্য উপকারিতা এখানে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সুস্থ চোখের জন্য ধনে - Coriander for healthy eyes in Bengali
        ধনে ভিটামিন এ-র একটি সমৃদ্ধ উৎস, যেটি রড এবং কোন কোষ, যেগুলি দৃষ্টিতে সহায়তা করে, তার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন। ধনেতে উচ্চ পরিমাণে থাকা ভিটামিন এ চোখ রক্ষা করতে কাজে লাগে। এটি রাতকানা হওয়াও প্রতিরোধ করে। ধনেতে থাকা ভিটামিন এ আসে ক্যারোটিনয়েড থেকে বিটা-ক্যারোটিন (যার থেকে ভিটামিন এ তৈরি হয়) হিসেবে। এবং সেই কারণে অত্যন্ত বেশি পরিমাণেরও কোন বিষক্রিয়া নেই।  

মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির জন্য ধনে - Coriander for oral hygiene in Bengali
       ধনে ব্যবহার করা যেতে পারে একক ভাবে বা লবঙ্গের মত পরিষ্কারক প্রতিনিধির সাথে মিশিয়ে এবং কার্যকর ভাবে মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির জন্য। ধনেতে থাকা অপরিহার্য তেল, সিত্রনেললের বীজবারক হিসেবে কার্যকারিতা রয়েছে। মুখের আলসার সারাতে এই বৈশিষ্ট্যটি সাহায্য করে এবং নিশ্বাস পরিষ্কার করে। গবেষণা দাবি করে যে মুখের আলসার উল্লেখযোগ্য কমে ধনের পেস্ট ব্যবহার করলে।

জীবাণুর সংক্রমণের জন্য ধনে - Coriander for microbial infections in Bengali
      ধনে প্রচুর জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এর অপরিহার্য তেলে দীর্ঘ চেনের অ্যালডিহাইড থাকার দরুন। লিস্টারিয়া মনোসাইটোজিনস, সালমেনেলা এন্টারিকা, এসেরিশিয়া কোলি, বসিউলাস স্পপি, স্টাফাইলোকোকাস অরেয়াস এবং ক্যান্ডিড এলবিক্যান্সের হল কিছু প্যাথোজেন, যেগুলি একগুচ্ছ গুরুতর সংক্রমণ তৈরি করে। এগুলি প্রতিরোধ করা যেতে পারে ধনে ব্যবহার করে।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য ধনে - Coriander for food poisoning in Bengali
        ধনের সেবনের ফলে অন্ত্র পরিষ্কার থাকে এবং জীবাণুজাত সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। অপ্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের মত প্যাথোজেন শরীরে ঢুকতে পারে খারাপ পরিবেশে তৈরি করা খাবার খেলে। ধনের জীবাণুবিরোধী বৈশিষ্ট্য যেকোনো ধরণের খাদ্যের বিষক্রিয়া রোধ করে যা খাদ্যজাত প্যাথোজেন থেকে হয় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।  

ভারী ধাতু অপসারণের জন্য ধনে - Coriander for removing of heavy metals in Bengali
       একটি গবেষণা অনুযায়ী শরীরে দূষণের কারণে জমা ভারি ধাতু অপসারণ করে দেয় ধনে এবং তার থেকে হওয়া ক্ষতি নুন্যতম করে দেয়। শিষা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক, মার্কারির মত ভারি ধাতু শরীরের জৈব চাপ বৃদ্ধি করে এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ বারবার ফিরে আসতে পারে যেগুলি হার্পিস সিম্পলেক্স এবং ক্ল্যামিডিয়া ট্র্যাকোমাটিসের মত প্যাথোজেন থেকে হয়। ধনে এইসব ক্ষতিকারক ধাতুর শরীর থেকে নিষ্কাসন উন্নত করে এবং শরীরকে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলে।

কি করে বানাবেন ধনের রস - How to make coriander juice in Bengali
বিভিন্ন স্বাস্থপকারিতার জন্য খাওয়া ধনের রস বাড়িতেই তৈরি করা যায় নিম্নোক্ত সহজ পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করে।

এক মুঠো ধনেপাতা ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে তারপর তা সুক্ষভাবে কেটে নিন।
½ কাপ জলে ধনেপাতা যোগ করুন এবং সেটি জুসারে পিষে নিন।
    ছাকনিতে রসটি ছেঁকে নিন এবং তৎক্ষণাৎ পরিবেশন করুন। রসটিকে খাওয়ার জন্য আরও তরল করতে পারেন অতিরিক্ত জল যোগ করে (প্রায় ¼ কাপ) ।


ধনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Side effects of coriander in Bengali
     ধনে সাধারণত খাওয়ার জন্য সুরক্ষিত মনে করা হয় সাধারণ পরিমাণে এবং ওষুধ হিসেবে প্রস্তাবিত পরিমাণ খেলেও তা নির্ভরযোগ্য। যদিও, কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেগুলি নিম্নলিখিতগুলির অন্তর্ভুক্ত।

       পেটে ব্যথা এবং ডাইরিয়া সৃষ্টিকারী কিছু ধরণের ধনে কিছু লোকজনের কাছ থেকে জানা গেছে। যদি অবস্থা একই থাকে, একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা বাঞ্ছনীয়।
     ধনের অতিরিক্ত সেবন কিছু ধরণের অ্যালার্জির রূপ নিতে পারে কিছু লোকের ক্ষেত্রে। কোন ধরণের অ্যালার্জি যদি বেড়ে ওঠে, তৎক্ষণাৎ আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন এবং সঠিক পরামর্শ অবধি এর ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
ধনে অতিরিক্ত সেবন করলে তা কিছু লোকজনের মধ্যে রক্তচাপ অত্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে হালকা মাথা ঘোড়া বা অসাড়তা দেখা দিতে পারে।
     শ্বাসযন্ত্রের রোগে ভোগা কিছু লোকজনের একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা দরকার ধনে সেবন করা আগে কারণ নিঃশ্বাসের দুর্বলতা এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগের মত কিছু অবস্থা কিছু লোকজনের মধ্যে দেখা গেছে।
     ধনেতে থাকা অ্যাসিডিক উপাদান কিছু লোকজনের মধ্যে সূর্যের আলর প্রতি সংবেদনশীলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ধনে সেবন করা ফলে কিছু লোকজনের মধ্যে বুকের ব্যথার খবর পাওয়া গেছে। সেহেতু ঔষধীয় কারণের জন্য ধনে সেবন করার আগে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা অত্যন্ত দরকারি।
       ধনে মানুষের প্রজনন গ্রন্থির ক্ষতি করতে পারে এবং গর্ভবতী মহিলাদের ভ্রূণ উন্নয়ন ব্যাহত করে দিতে পারে। সেহেতু গর্ভবতী মহিলাদের অতিরিক্ত পরিমাণে ধনে সেবন করা উচিৎ নয়।

পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  

আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 

Thank You 


তরমুজের উপকারিতা, ব্যবহার , Watermelon Benefits, Uses and Side Effects in Bengali


তরমুজের উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকারক দিক – Watermelon Benefits, Uses and Side Effects in Bengali]



           গরমের দুপুরে ঠান্ডা মিষ্টি তরমুজ ভাবতেই কেমন জিভে জল এসে গেলো, তাই না? এটি এমন একটি ফল যা একদিকে দেখতেও যেমন সুন্দর, তেমনি খেতেও অসাধারণ সুস্বাদু, আবার তরমুজের স্বাস্থ্য উপকারিতাও প্রচুর। প্রায় সপ্তম শতাব্দী থেকে এই তরমুজ আমাদের ভারতবর্ষে চাষ করা হয়ে আসছে এবং এখন এটি চীনের পরে ভারতবর্ষেই সব থেকে বেশি চাষ করা হয়ে থাকে (১)। বাজারে খুব সহজেই তরমুজ কিনতে পাওয়া যায় এবং উপকারের তুলনায় এর দামও বেশ সস্তা। আজ আমরা আপনাকে তরমুজ সম্পর্কে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করব এই পোস্টের মাধ্যমে। চলুন শুরু করা যাক।
            তরমুজ একটি সুস্বাদু ও রসালো ফল যার মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমানে পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, সি ও বি (২)। কিন্তু যার জন্যে তরমুজের উপকারিতা আরও বেশি হয়ে ওঠে তা হল লাইকোপেন নামে এক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যার ফলে তরমুজের রং এতখানি লাল হয়ে থাকে। তরমুজে উপস্থিত এই লাইকোপেন বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে অতি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে যা স্ট্রোকের সম্ভাবনা অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বেশ কার্যকরী (৩)। যদিও অন্যান্য অনেক ফলের মত এতে ফাইবারের পরিমান অতখানি নেই, কিন্তু এতে ক্যালোরির পরিমান খুবই কম যা শরীরে ফ্যাট জমতে দেয়না ও জলের পরিমান বাড়িয়ে দেয়।
নীচে বিস্তারিত ভাবে তরমুজের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে দেওয়া হল। চলুন দেখে নেওয়া   যাক।

১. হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে

          বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে তরমুজের উপকারিতা এতটাই যে প্রতিদিন অন্তত এক টুকরো করে তরমুজ খেলে নিষ্প্রয়োনীয় ও ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলকে দূরে রাখা যায় যা হার্ট সংক্রান্ত রোগগুলিকে প্রতিরোধ করতে পারে (৪)। তরমুজে উপস্থিত সিট্রোলিন হার্টের স্বাস্থ্যের জন্যে খুবই ভাল। কারণ মহিলাদের মেনোপজ হওয়ার পর যে মাঝে মাঝে ধমনী শক্ত হয়ে যায় যা ব্যাথার সৃষ্টি করে, সেটি রোধ করে করতে সাহায্য করে এই সিট্রোলিন (৫)।

২. হজম ক্ষমতা বাড়াতে

    তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমানে জল যা হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে (৬)। এছাড়া এতে রয়েছে ফাইবার যা কোষ্টকাঠিন্য দূর করে ও খাবার হজম করিয়ে পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে (৭)।

৩. ওজন কমানোর জন্য

       তরমুজের সবথেকে বড় উপকারিতা হল এটি ওজন কমানোর জন্যে কার্যকরী জানা যায় কারণ তরমুজে জলের পরিমান খুবই উচ্চ (৬)। এর ফলে বিপাক ক্রিয়া সঠিক থাকে ও শরীরকে নানা ধরণের বিষক্রিয়া পদার্থ ও ফ্যাট থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে, যা ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে (৮)।
একটি তরমুজের বড় টুকরোয় মাত্র ৮৬ ক্যালোরি , ২২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ১ গ্রামের থেকেও কম ফ্যাট থাকে এবং কোনোরকম কোলেস্টেরল থাকে না। এটি আপনার শরীরের প্রতিদিনের  ফাইবারের প্রয়োজনীয়তাকে ৫% মেটায় (৯) যা শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।

৪. শরীর আর্দ্র রাখতে

       তরমুজে রয়েছে ৯০% জল যা শরীরকে বেশ আর্দ্র রাখে (১০)। তাই চা বা কফির তুলনায় তরমুজ খাওয়া অনেক বেশি উপকারী। তাই প্রস্রাবের পরিমান ঠিক থাকে ফলে কিডনিতে চাপ পড়ে না (১১)।

৫. ক্যান্সার রুখতে

          তরমুজে থাকা লাইকোপেন ক্যান্সারের প্রবণতা অনেকটা কমিয়ে আনে (১২) (১৩)। এই লাইকোপেনের জন্যেই তরমুজের রং গাঢ় লাল হয় এবং এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর যা ক্যান্সার রোধ করে (১৪)। দু কাপ তরমুজে রয়েছে ২০গ্রাম লাইকোপেন যা নানা ধরণের ক্যান্সারের বিরুধ্যে লড়াই করতে সাহায্য করে (১৫)। প্রস্ট্রেট ক্যান্সারের জন্যে লাইকোপেন কেমো থেরাপির মত কাজ করে যা সহজেই ক্যান্সারের কোষগুলি নষ্ট করে দেয় বলে জানা গেছে (১৬)। তবে এই ব্যাপারে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

৬. মাংস পেশী ঠিক রাখতে:

ব্যায়াম বা জিম করার পর মাংস পেশীতে যখন ব্যাথা করে তখন ইলেকট্রোলাইট ও অ্যামাইনো অ্যাসিড ভরপুর সিট্রোলিন ( l-Citrulline) আরামদায়ক একটি ঔষধির কাজ করে (১৭)। তরমুজে রয়েছে এই সিট্রোলিন যা মাংস পেশির ক্লান্তি দূর করতে সক্ষম বলে জানা গেছে (১৯), (২০)। তাই তরমুজ খেলে শরীরে জমে যাওয়া ল্যাকটিক অ্যাসিড দূর হয় ও মাংস পেশি সচল রাখে (১৮)। তাই তরমুজের উপকারিতা পাওয়ার জন্য এর রস পান করার অভ্যেস করুন (১৯)।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

     তরমুজ ভিটামিন সি তে সমৃদ্ধ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে (২০)। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন বি ৬ যা অ্যান্টিবডি গঠন করতে সাহায্য করে (২১)। এর ফলে শ্বেত রক্ত ক্ষণিকা সঠিক পরিমানে তৈরী হয়। তরমুজে থাকা ভিটামিন এ শরীরকে নানা ধরণের সংক্রমণ থেকে দূরে রাখে (২২)।

৮. হাঁপানির ক্ষেত্রে

        তরমুজে উপস্থিত লাইকোপেন নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ যা শরীরের নানা সমস্যা যেমন ঠান্ডা লাগা ও জ্বর প্রতিরোধ করে (২৩)। এমনকি বয়স্কদের ক্ষেত্রেও তরমুজ হাঁপানির সমস্যা কম করতে পারে (২৪) ।

৯. কিডনির সুরক্ষা

         যদিও তরমুজে পটাশিয়াম রয়েছে, কিন্তু অন্যান্য ফলের তুলনায় এতে পটাসিয়াম মাত্রা বেশ কম যার ফলে কিডনির সমস্যায় ভোগা মানুষদের জন্যে এটি খুবই কার্যকরী (২৫)। কিডনির সমস্যা থাকলে কম পটাসিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়াই উচিত এবং এক্ষেত্রে তরমুজ অনায়াসে আপনার খাদ্য তালিকায় যোগ করতে পারেন।

১০. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে:

      তরমুজে রয়েছে উচ্চ পরিমানে সিট্রোলিন যা উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে আনতে দারুন কার্যকরী (২৬)।

১১. চোখের জন্যে

          তরমুজ ভিটামিন এ তে পরিপূর্ণ যা চোখের জন্যে খুব প্রয়োজনীয়। ভিটামিন এ দৃষ্টি শক্তি প্রখর করে ও বয়সকালে দ্রুত ছানি পড়া রোধ করে। ফলে আপনি অনেক দিন পর্যন্ত স্পষ্ট  দৃষ্টি শক্তির অধিকারী হতে পারেন নিয়মিত তরমুজ খেলে (২৭)।

১২. ডায়াবেটিসের জন্যে

        হয়তো শুনতে অবাক লাগবে যে ডায়াবেটিস কমাতে তরমুজের ভূমিকা আছে জানলে? আসলে তরমুজের শর্করার পরিমান কম থাকে এবং এছাড়া তরমুজে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ও সঙ্গে অ্যান্টি ডায়াবেটিক উপাদানও (২৮)। কিন্তু এ ব্যাপারে অবশ্যই একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

১৩. গরমে স্ট্রোক আটকাতে

      শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও প্রচন্ড তেষ্টা মিটিয়ে তরমুজ শরীরে জলের পরিমান ঠিক রাখে। এর ফলে গরমে স্ট্রোক ( Heat stroke ) হওয়া রোধ করা সম্ভব হতে পারে (২৯)।

১৪. হাড়ের স্বাস্থ্য

         হাড়ের সুস্বাস্থের জন্যে ভিটামিন সি খুব প্রয়োজনীয় কারণ এটি হাড়ের ছোট খাটো সমস্যা খুব সহজেই দূর করতে পারে (৩০)। তরমুজ খাওয়ার ফলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের চিড় ধরা রোধ করা যায় (৩১)। এছাড়া হাড়ের বৃদ্ধিতেও এর প্রভাব আছে বলে জানা যায় (৩২)।

১৫. মাড়ির জন্যে

         তরমুজে থাকা ভিটামিন সি মাড়ির জন্যে খুবই ভালো (৩৩)। ভিটামিন সি এর অভাবে মাড়ি থেকে রক্তপাত ও মাড়ির ফোলাভাব দেখা যায় যা তরমুজ নিয়মিত খেলে অনায়াসে কমতে পারে (৩৪)। তরমুজ এমনকি মুখের ভেতরের ব্যাকটিরিয়া ও মাড়ির সংক্রমণও রোধ করতে সাহায্য করে।

১৬. কোষ নষ্ট হওয়া আটকায়

             লাইকোপেনে সমৃদ্ধ তরমুজ শরীরের কোষগুলিকে হার্টের রোগ সংক্রান্ত ক্ষতির থেকে রক্ষা  করে (৩৫) ।

১৭. গর্ভবতী মহিলাদের জন্যে

       গর্ভাবস্থার সময় বুকে জ্বালা ভাব হওয়া খুব সাধারণ। এছাড়া সকালে উঠে গর্ভবতী মহিলাদের অসুস্থ বোধ করতেও দেখা যায়। এই সবকিছু তরমুজ খেলে অনেকটা রোধ করা যায় (৩৬)। এমনকি গর্ভাবস্থার শেষের দিকে মাংস পেশিতে ব্যথা হওয়া রোধ করতে পারে এই তরমুজ।

১৮. ফোলাভাব দূর করে

       তরমুজে লাইকোপেন ছাড়াও রয়েছে আন্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা শরীরের সংক্রমণ ও ফোলাভাব দূর করতে সাহায্য করে (৩৭)।

১৯. শক্তি বাড়ায়

    তরমুজ হল ভিটামিন বি তে ভরপুর যা শরীরে শক্তি প্রদান করে বলে জানা যায় (৩৮)। কম  মাত্রায় ক্যালোরি থাকার ফলে এটি শরীরে যথার্থ পুষ্টি প্রদান করে শরীরে শক্তির যোগান দেয় যা আপনাকে সারাদিন তরতাজা রাখতে  সাহায্য করে। এছাড়া তরমুজে থাকা পটাশিয়াম শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের কাজ করে (৩৯)।

একটি তাজা তরমুজের পুষ্টিগত মান (৪০) – Watermelon Nutritional Value in Bengali  
তরমুজের ব্যবহার – How to Use Watermelon in Bengali

      তরমুজের উপকারীতা সম্পর্কে তো জানলেন, এবার আসুন দেখা নেওয়া যাক আপনি কতরকম ভাবে এই তরমুজ ব্যবহার করতে পারবেন –
      তরমুজ খাওয়ার সবথেকে সহজ উপায় হল এটিকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে অল্প একটু নুন দিয়ে খেতে পারেন। খাওয়ার আগে একটু ফ্রিজে রেখে দিলে এটি আরো সুস্বাদু হয়ে ওঠে।
       তরমুজ খাওয়ার আরেকটি বিশেষ উপায় হল তরমুজের স্যালাড বানিয়ে খাওয়া। এই স্যালাড বানাতে আপনার প্রয়োজন কয়েক টুকরো তরমুজ, অল্প একটু পেঁয়াজ কুচি, শশা কুচি, লেবুর রস, কাজু বাদাম গুঁড়ো ও নুন। এই স্যালাড দেখতে ও খেতে উভয় দিক থেকেই অসাধারণ।
      তরমুজ দিয়ে আপনি খুব সুন্দর আইসক্রিম বানাতে পারবেন। এর জন্যে দুধ ভালো করে ফুটিয়ে তাতে চিনি, ভ্যানিলা এসেন্স ও তরমুজ দিয়ে গাঢ় হয়ে এলে সেটি ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে দিন। এটি খেতে দুর্দান্ত লাগে।
      তরমুজের শরবত খুব সহজেই আপনি বাড়িতে বানাতে পারেন। তরমুজ থেকে বীজ বের করে নিয়ে সেটি ব্লেন্ডারে অল্প জল বা দুধের সাথে মিশিয়ে একটু চিনি যোগ করে মিক্স করুন। এরপর সেটি পান করুন।
      তরমুজের ফ্লেভারের কেক খেতেও অসাধারণ লাগে। এর জন্যে প্রয়োজন বীজ ছাড়া তরমুজ, বেকিং পাউডার, আইসিং সুগার, ডিম, অল্প সাদা তেল, দুধ ও কোকো পাউডার। এগুলি সব একসাথে মিশিয়ে ব্লেন্ডারে দিয়ে একটি কেক তৈরির মিশ্রণ তৈরী করে নিন এবং মাইক্রোওয়েভে বসিয়ে বেক করে নিন।
তরমুজকে বেশিদিন ধরে সুরক্ষিত রাখার উপায়
    তরমুজকে বেশিদিন ধরে সুরক্ষিত রাখার জন্যে আপনার প্রথমেই জানা প্রয়োজন কিভাবে কেনার সময় সঠিক তরমুজ বাছাই করবেন। নিচে সব বিস্তারিত ভাবে দেওয়া হল –
      একটি ভাল তরমুজ কেনার আগে দেখে নিন যেন সেটি যেন টাটকা ও সমতল আকারের হয়। সেটির গায়ে যেন কোনো কাটা বা ফুটোর দাগ না থাকে।
হাতে তুলে নিয়ে তরমুজটি ভালো করে ওজন করুন। একটি টাটকা তরমুজ ভারী হওয়া উচিত। ভারী থাকার অর্থ হল এতে জলের পরিমান সঠিক রয়েছে।
       তরমুজের গায়ে মাটির দাগটি লক্ষ্য করুন। যেই তরমুজে মাটির দাগ বেশি গাঢ়, সেটি সেরা। অর্থাৎ এটি মাটির সাথে ভালো করে থেকে পেকেছে এবং এতে বিষক্রিয়া পদার্থ অত বেশি নেই। মাটির দাগ হালকা থাকা মানে হল সেটি ভালোভাবে পাকার আগেই তুলে নেওয়া হয়েছে।
   একটি টাটকা তরমুজ কখনোই খুব বেশি ঝলমলে বা রঙিন হবেনা। টাটকা তরমুজের রং হবে হালকা সবুজ ও একটু ফ্যাকাসে।
এবারে জেনে নিন কিভাবে তরমুজ কেনার পর সেটি বহু দিন ধরে কিভাবে টাটকা রাখতে পারবেন-
      একটি গোটা তরমুজ আপনি ফ্রিজে প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত অনায়াসে টাটকা রাখতে পারবেন। শুধু খেয়াল রাখবেন যেন রাখার সময় সেটির গায়ে কোনো কাটা বা ফুটো না হয়ে যায় এবং ৪ ডিগ্রির নিচে যেন ফ্রিজের তাপমাত্রা না থাকে।
         তরমুজ কেটে সংরক্ষণ করার উপায় হল সেটি সমান ভাবে ও সাবধানে একটি ছুড়ি দিয়ে এক ইঞ্চি আকারের টুকরো সব কেটে ফেলুন ও তারপর একটি কাঁচের বাটিতে রেখে একটি প্লেট দিয়ে ঢাকা দিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। এভাবে আপনি ৩-৪ দিন পর্যন্ত রাখতে পারবেন।

তরমুজের ক্ষতিকারক দিক – Side Effects of Watermelon in Bengali



       যতই উপকারিতা থাকুক না কেন, যে কোনো জিনিসই অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে ক্ষতি হতে পারে, তেমনি তরমুজ খাওয়ারও সঠিক নিয়ম আছে। তরমুজ অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে আপনার কি কি ক্ষতি হতে পারে তা নিচে দেখে নিন:
পেটের সমস্যা
     তরমুজে রয়েছে ভরপুর মাত্রায় লাইকোপেন যা অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে পেটের নানারকমের সমস্যা দেখা দেয় যেমন বমি, পেট খারাপ, হজমের সমস্যা, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি।
হাইপারক্যালেমিয়া
          হাইপারক্যালেমিয়া এমন একটি রোগ যেখানে শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক মাত্রায় পটাশিয়াম বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত পরিমান তরমুজ খেলে হতে পারে (৪১)। এর ফলে হার্টের সমস্যা যেমন অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ও দুর্বল নাড়ি, ইত্যাদি সমস্যা হয়।
অ্যালার্জি
          যাদের তরমুজ খেলে অ্যালার্জি হয়, তাদের কোনোভাবেই তরমুজ খাওয়া উচিত না (৪২)। এতে শরীরে চুলকানি, ত্বকের লালচে ভাব দেখা যায়।
          তবে যাই হোক না কেন, গরমের দিনে তরমুজ খাওয়ার আরামই আলাদা। আগের সব তথ্য পড়ার পর তরমুজের স্বাস্থ্য উপকারিতা আপনি কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারবেন না। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই যোগ করুন এই সুস্বাদু ও উপকারী ফলটি।

পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  

আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 

Thank You 


আনারসের উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকারক দিক (Pineapple Benefits, Uses and Side Effects in Bengali)

আনারসের উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকারক দিক  (Pineapple Benefits, Uses and Side Effects in Bengali)




আসুন জেনে নেই আনারসের পুষ্টিগুন ও উপকারীতাঃ

1
আনারস পুষ্টির বেশ বড় একটি উৎস। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং আরও অনেক পুষ্টি উপাদান।
2
এতে থাকা প্রচুর ভিটামিন সি ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা ও কাশি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া জ্বর ও জন্ডিসের প্রকোপ কমাতে আনারস বেশ উপকারী। নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা এবং ব্রংঙ্কাইটিসের বিকল্প ওষুধ হিসেবে আনারসের রস কাজ করে। তাই এ গরমে নিয়মিত আনারস খেয়েই দূর করা যাবে গরম- ঠাণ্ডার জ্বর, জ্বর-জ্বর ভাবসহ নানা সমস্যা।
3
এছাড়াও ওজন কমাতে, রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে, হাঁড় ও দাঁতের গঠনে, ক্যানসারপ্রতিরোধে, ত্বকের যত্নে রয়েছে এর দারুণ কার্যকারিতা।
4
আনারসে থাকা বিটা ক্যারোটিন চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করতে সাহায্য করে।
5
কৃমিনাশক হিসেবে আনারসের জুস ভালো কাজ করে। নিয়মিত আনারসের জুস খেলে কৃমির সমস্যা দূর করা সম্ভব। 

আনারসে থাকে ব্রোমেলিন নামক এসিড যা হজমশক্তি বৃদ্ধি করে কিন্তু এটি অধিক পরিমাণে গ্রহণ না করে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে এর সুফল পাওয়া যাবে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া। প্রেগন্যান্ট এবং আলসার রোগীদের না খাওয়াই ভালো। যাদের আনারসে এলার্জি হয় তারা লবন দিয়ে ধুয়ে খেলে উপকৃত হতে পারেন।

আনারসের উপকারিতা, ব্যবহার

আনারস হল একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফল যা গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম বা উৎসেচক এবং পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। এটি খেতেও যেমন সুস্বাদু এর খাদ্য গুণও অনেক। এটি সম্ভাব্য ওজন হ্রাস, ভাল হজমশক্তি গড়ে তুলতে এবং প্রদাহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাচ্চাদের শরীরে পুষ্টির পরিমান বাড়াতে পারে এই আনারস । আমাদের এই প্রতিবেদনে আনারসের উপকারিতা সম্পর্কে নানা তথ্য থাকবে।


 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে

আনারসে ব্রোমেলাইন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং ক্ষত নিরাময়ের সম্ভাব্যতা বাড়িয়ে তোলে । আনারসের রস যেসব শিশুদেরও নিয়মিত খাওয়ানো হয় তাদের মাইক্রোবিয়াল সংক্রমণের ঝুঁকি কম হয় । এই ফলটি রোগ প্রতিরোধকারী শ্বেত রক্ত ​​কণিকার (WBC) ঘনত্বকে চারগুণ বাড়িয়ে তোলে । অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে হাঁপানির লক্ষণগুলি কমানোর পিছনে জন্য ব্রোমেলাইন সম্ভাবনা থাকতে পারে  ।



 হজমের সমস্যাকে দূর করতে

আনারসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ব্রোমেলাইন।  একটি শক্তিশালী এনজাইম যা হজম ক্ষমতাকে উন্নত করে । গবেষণায় দেখা যায় ব্রোমেলাইন (ডাইজেস্টিভ এনজাইম) শরীরের


প্রোটিনগুলি ভাঙতে সাহায্য করে  । গবেষণায় জানা যায়, ডায়রিয়ার সমস্যার থেকেও নাকি এই অনাররস মুক্তি দিতে পারে।


 ব্লাড প্রেসার ঠিক রাখতে

আনারসে উপস্থিত ব্রোমেলাইন রক্তের প্লেটলেটগুলিকে জামাট বাঁধতে দেয় না। তাই  থ্রোম্বোফ্লেবিটিস (রক্তের জমে যাওয়া) এর চিকিৎসায় সহায়তা করতে পারে। ফলে ব্লাড প্রেসারের মাত্রাও ঠিক থাকে । তবে কার্ডিওভাসকুলার রোগে ব্রোমেলিনের উপকারীতার কথা জানতে এ সম্পর্কে আরও গবেষণার প্রয়োজন ।


 ডায়াবেটিস কমাতে

জানা যায়, রক্তের শর্করার পরিমান কমিয়ে আনতে পারে এই ফল। তবে এ সম্পর্কিত কোনো প্রমাণিত তথ্য নেই।


 হাড়কে মজবুত করে

আনারসে ম্যাঙ্গানিজ থাকে যা হাড় গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এগুলিতে ভিটামিন সি রয়েছে যা হাড়ের কোলাজেন গঠনে সহায়তা করে। আনারস কম বয়সীদের ক্ষেত্রে হাড়ের বৃদ্ধি ঘটাতে পারে এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের হাড়কে শক্তিশালী করতে পারে (2)।


 দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

ভিটামিন সি উপস্থিত থাকে বলে আনারস দাঁতের স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে পারে।



 ওজন কমাতে

গবেষণায় দেখা গেছে , আনারসেঅ্যান্টি ওবিসিটির প্রভাবগুলি বর্তমান। এটি খেলে দেহে ফ্যাট কম জমে এবং লিভারের ফ্যাট জমতে দেয় না (3)।


 ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে

ব্রোমেলাইন কোলন ক্যান্সার কোষগুলিতে ক্যান্সার বিরোধী প্রভাবগুলি প্রদর্শন করে। ব্রোমেলিনযুক্ত খাবারগুলি কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে উপযোগী (4)।


ত্বকের জন্য আনারসের উপকারিতা

এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে সীমিত গবেষণা করা হয়েছে। আনারসে থাকা ভিটামিন সি ত্বকে তার উপকারিতার প্রভাব দেখায়। ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে করতে সাহায্য করে এবং ত্বক নানা ধরণের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে । এছাড়া যেসব উপকারিতা আছে তা নিচে উল্লেখ করা হল।


অ্যাকনে দূর করতে সাহায্য করে

ত্বককে সজীব করে তোলে

নখকে মজবুত করে তোলে

ঠোঁট বা পা ফেটে গেলে তা সারাতে।

এক্ষত্রে আনারস মিক্সার গ্রাইন্ডারে পেস্ট করে তা দিয়ে ফেস প্যাক বানিয়ে লাগাতে হবে।


চুলের জন্য আনারসের উপকারিতা

আনারসে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি পাওয়া যায় যা আমাদের চুলের সঠিক ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য খুবই প্রয়োনজনীয়। এছাড়া ভিটামিন সি আমাদের চুল পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়। আনারসে উপস্থিত আ্যন্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরী। স্বাস্থ্যকর করে তোলে ও খুশকির থেকে বাঁচায়।

চুলকে পুষ্টি সমৃদ্ধ করে তুলে চুলে ঘন ও মজবুত বানায়।

চুলকে উজ্জ্বল করে তোলে।

এক্ষত্রে আনারস মিক্সার গ্রাইন্ডারে পেস্ট করে তা দিয়ে হেয়ার প্যাক বানিয়ে লাগাতে হবে।




আনারসের পুষ্টিগত মান

প্রতি এক কাপ (১৬৫ গ্রাম) আনারসের পুস্তুগুণ নিচে উল্লেখ করা হল।

৭৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি

৯৫ IU  ভিটামিন এ

২১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম

১৯ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম

১২ মিলিগ্রামফসফরাস

১৮০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম

২৯ মাইক্রো গ্রাম ফোলেট।


আনারসের ব্যবহার

আনারস কেটে ওপরে একটু বিট নুন ছড়িয়ে খেতে পারেন বা শুধুও খেতে পারেন। এছাড়া এর চাটনি বানিয়েও খেতে পারেন, অনেকেরই খুব পছন্দের আনারসের চাটনি।

আনারসের ক্ষতিকারক দিক

অ্যালাৰ্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে গর্ভাবস্থায় গর্ভপাতের কারণ হতে পারে  এবং   গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় আনারস খাওয়া এড়ানো উচিত।

তবে এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

আনারস আপনার শরীরকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে। আপনি এটিকে আপনার ডায়েটে যোগ করতে পারেন । এর উচ্চ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে । যদিও অ্যালার্জির থেকে সাবধান থাকুন। আপনি যদি কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন, তাহলে এটি ব্যবহার বন্ধ করুন এবং আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।



বর্ষায় তাজা আনারসের রস, এই উপকারগুলি অনায়াসে পেতে পারেন

পিনা কোলাডা পছন্দ করেন? তাহলে আপনি নিশ্চয় আনারস খেতেও ভালোবাসেন। আনারস খেতেও যেমন সুস্বাদু তেমনই এর উপকারিতাও অনেক।

আনারসের জুস খুবই উপকারী

আনারস গোটা খাওয়ার থেকে যদি জুস করে খেতে পারেন তাহলে বেশি ভালো।
অন্য যে কোনও ফলের রসের থেকে আনারস উপকারী।
আনারসের জুসে আলাদা করে চিনি দিতে হয় না।
এমনিই মিষ্টি।
এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: পিনা কোলাডা পছন্দ করেন? তাহলে আপনি নিশ্চয় আনারস খেতেও ভালোবাসেন। আনারস খেতেও যেমন সুস্বাদু তেমনই এর উপকারিতাও অনেক। কী ভাবছেন এই ফল কাটা ঝামেলার? তবে আনারস কাটাও একরকম আর্ট। আর এখন বাজারে সুন্দর করে কেটেই আনারস বিক্রি করা হয়। আনারস গোটা খাওয়ার থেকে যদি জুস করে খেতে পারেন তাহলে বেশি ভালো। অন্য যে কোনও ফলের রসের থেকে আনারস উপকারী। আনারসের জুসে আলাদা করে চিনি দিতে হয় না। এমনিই মিষ্টি। এছাড়াও এর মধ্যে থাকে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। যা শরীরে ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করে। একনজরে দেখে নিন আনারসের জুসে আপনার যা যা উপকার হবে

ক্ষত সারায়- আনারসের জুস যে কোনও রকম ক্ষত সারাতে প্রস্তুত। এছাড়াও আনারস ভালো উৎসকের কাজ করে, হজম ভালো হয়, দীর্ঘদিনের জ্বালা যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে এই জুস খুবই ভালো। পেশির ব্যথা কমায়। রক্তকে হঠাৎ করে জমাট বাঁধতে দেয় না।

ক্যান্সার কোশের ক্ষমতা হ্রাস- ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যদি প্রতিদিন আনারস খাওয়া যায়। এছাড়াও কেমো চলাকালীন চিকিৎসকরা প্রতিদিন এই ফল খাওয়ার কথা বলছেন। অদূর ভবিষ্যতে আনারস থেকেই ক্যান্সারের ওষুধ তৈরি হবে এরকম সম্ভাবনাও আছে।

হার্ট ভালো রাখে- হার্ট ভালো রাখতে আনারসের জুড়ি নেই। আনারসের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি হার্টের রোগকে দূরে রাখে।

দৃষ্টিশক্তি ভালে রাখে- চোখের ইনফেকশন বা কর্নিয়ার সমস্যা অনেক কমে যায়। এছাড়াও ছানি দেরিতে পড়ে।

যৌনক্ষমতা বাড়ায়- পুরুষ এবং নারীর যৌনক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন এবং খনিজে পূর্ণ থাকায় ডিম্বানু এবং শুক্রাণু নির্গমন ভালো হয়।

শ্বাসকষ্টের সমস্যা দূর করে- অ্যাজমা, হাঁপানি প্রভৃতি সমস্যার সমাধান হয় আনারসে।

ওজন কমাতে- চটপট ওজন ঝরাতে চান? তাহলে আজই খাওয়া শুরু করুন আনারস। ওজনও কমবে আর কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা থেকেও দূরে থাকা যাবে।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


আমের উপকারিতা, ব্যবহার ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া -Mango Benefits, Uses and Side Effects in Bengali,আম নানা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এতে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান উপস্থিত থাকে।



আমের পুষ্টিগুণ

      আম নানা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এতে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান উপস্থিত থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) মতে, এক কাপ (১৫৫ গ্রাম) কাটা আমের মধ্যে রয়েছে  –

এনার্জি – ৯৯ কিলো ক্যালোরি
প্রোটিন – ১.৩৫ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট – ২৪.৭ গ্রাম
ডায়েটারি ফাইবার – ২.৬৪ গ্রাম
ফ্যাট – ০.৬২৭ গ্রাম
শর্করা – ২২.৫ গ্রাম
ফোলেট – ৭১ এমসিজি
ভিটামিন সি – ৬০.১ এমসিজি
ক্যালসিয়াম – ১.২ মিলিগ্রাম
আয়রন – ০.২৬৪ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম – ১.৬৫ মিলিগ্রাম
পটাসিয়াম – ২৭৭ মিলিগ্রাম




আমের কত প্রকার  ও কি কি 

আম ৩৫ প্রকার আছে। 

এর বিভিন্ন জাত আছে যেমনঃ ১।ফজলী, ২।গোপালভোগ, ৩।ল্যাংড়া, ৪।খিরসা, ৫।অরুনা, ৬।আম্রপালি, ৭।মল্লিকা, ৮।সুবর্ণরেখা, ৯।মিশ্রিদানা, ১০।নিলাম্বরী, ১১।কালীভোগ, ১২।কাচামিঠা, ১৩।আলফানসো, ১৪।তোতাপুরী, ১৫।বারোমাসী, ১৬।কারাবাউ, ১৭।কেউই সাউই, ১৮।গোপাল খাস, ১৯।কেন্ট ম্যাংঙ্গো, ২০।সূর্যপুরী, ২১।পাহুতান, ২২।ত্রিফলা, ২৩।হাড়িভাঙ্গা, ২৪।ছাতাপুরী, ২৫।গুঠলি, ২৬।অ্যাষ্ঠা ২৭। ত্রিপাতি ২৮।আরচ ম্যাংঙ্গো ২৯।আমিতা আম ৩০।আরিষা পাত ৩১।যমজখিরি ৩২।বোম্বে ফজলী ৩৩।আড়ষ্ট আম ৩৪। শঙ্খ আম ৩৫।মারিচা ম্যাংঙ্গো

আমের  উপকারিতা… health benefits of mango

          আম আমাদের সবার পছন্দের একটা ফল। আম খেতে যেমন সুস্বাদু  তেমনি এর রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা। ভিটামিন , মিনারেল এবং এন্টি অক্সিডেন্ট সহ আমাদের শরীরের জন্য উপকারী এবং প্রয়োজনীয় অনেক উপাদানই আমের মধ্যে রয়েছে।



আমের উপকারিতার কথা জানব ..............

১। ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করেঃ বিভিন্ন রিসার্চে দেখা গেছে আমের মধ্যে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট, কোলন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং লিউকেমিয়া সহ বিভিন্ন রকমের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
২। কোলেস্ট্রেলরের মাত্রা কমায়ঃ আমে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, পেক্টিন এবং ভিটামিন সি আছে। এইসব উপাদান শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
৩। ত্বক সুন্দর রাখেঃ আম খেলে বা ত্বকের উপর ব্যবহার, দুইটাই ত্বকের জন্য উপকারী। আম আমাদের ত্বকের বন্ধ হয়ে যাওয়া লোমকূপ খুলে দিয়ে ব্রণ থেকে আমাদের ত্বককে রক্ষা করে।
৪। চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করেঃ ভিটামিন এ আমাদের দৃষ্টিশক্তি ও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরী। এক কাপ আমে আমাদের প্রতিদিনের ভিটামিনের এ এর চাহিদার ২৫% ভিটামিন এ থাকে। নিয়মিত আম খেলে এটি আমাদের রাতকাণা রোগ ও শুষ্ক চোখের সমস্যা থেকে দূরে রাখবে।
৫। শরীরের অম্ল অ ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করেঃ আমে টারটারিক এসিড, ম্যালিক এসিড এবং সাইট্রিক এসিড থাকে যা আমাদের শরীরের অম্ল অ ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।
৬। ডায়বেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করেঃ আমের পাতায় এমন উপাদান আছে যা আমাদের রক্তের ইন্সুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। গরম পানিতে আমের পাতা সিদ্ধ করে, সারারাত সেই পানিতে পাতা ভিজিয়ে ভোর বেলা সেই পানি খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৭। হজমে সাহায্য করেঃ আমে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আছে যা আমাদের হজমে সাহায্য করে।
৮। প্রচণ্ডে গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে আম খানঃ প্রচণ্ড গরমে কাঁচা আমের জুস আমাদের শরীরকে প্রশান্ত অ ঠাণ্ডা করে। প্রচণ্ড গরমে আমাদের শরীর থেকে অধিক পরিমাণ পানি বের হয়ে যায়। ফলে শরীরে পানির পরিমাণ কমে যায় এবং টক্সিক পদার্থের মাত্রা বেড়ে যায়। গরমের সময় আমের জুস শরীরের পানি শুন্যতা যেমিওন দূর করে তেমনি ক্ষতিকর পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয়।
৯। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়ঃ আমে প্রচুর ভিটামিন সি, এ এবং প্রায় ২৫ রকমের ক্যারটিনয়েড আছে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে আমাদের সাস্থবান বানায়।
১০। এজমা প্রতিরোধে সাহায্য করেঃ আমের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এজমা অ্যাটাক প্রতিরোধে সাহায্য করে।

পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  

আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 

Thank You 

স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা, বেদানার উপকারিতা, ব্য়বহার এবং ক্ষতিকারক দিক – Pomegranate Benefits,

       


        ডালিম আমরা সাধারণ ফল হিসাবে জেনে থাকি। এটা বেদানা হিসাবে জনপ্রিয়তা বেশি। টুকটুকে লাল রঙের এই ফলটি সারা বছর জুড়েই প্রায় পাওয়া যায়। ডালিম অথবা বেদানা শুধুমাত্র ফল হিসাবে নয় বরং এটি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক সুবিধা রয়েছে। ডালিমের দানা তো আমরা সবাই খাই তবে এর রস খাওয়ার উপকারিতা অনেক। আমাদের শরীরের জন্য ডালিমের উপকারিতা বহু এবং তা জানলে আমরা অনেকটা আশ্চর্য হয়ে যাই।

 স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা

1. হার্ট ভালো রাখতে
2. ডায়রিয়া রোধ করতে ডালিমের উপকারিতা
3. ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিমের উপকারিতা 
4.পচন তন্ত্র ভালো রাখতে ডালিমের উপকারিতা
5. রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
6. স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডালিমের উপকারিতা
7. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডালিমের উপকারিতা
8. জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে ডালিমের উপকারিতা
9.অ্যানিমিয়ার জন্য ডালিমের উপকারিতা
10. ত্বকের যত্নে ডালিমের উপকারিতা

        স্বাস্থ্যের পাশাপাশি এটি ত্বকের জন্য অনেক উপকারি। আজকের এই নিবন্ধে আমারা ডালিমের উপকারিতার কথা আপনাদের জানাব। এখানে রইল স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা কয়েকটি বিষয়বস্তু।



স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা হার্ট ভালো রাখতে

      বর্তমানে ৮০ শতাংশ মানুষ হার্টের অসুখের জন্য মারা যায়। এই হার্ট রোগের একমাত্র কারন ভেজাল খাদ্য। বাইরের জাঙ্ক ফুড এবং তেলে ভাজা মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে আমাদের হৃদয়। যার দরুন দেখা মিলছে ভিন্ন ধরনের হার্টের অসুখ।


          বাইরের জাঙ্ক ফুডে অতিরিক্ত তেল থাকে। এই তেল জাতীয় খাবারগুলি আমাদের দেহের ধমনীর আবরণে জড়িয়ে থাকে এবং ধীরে ধীরে ধমনী সংকুচিত হতে থাকে। যার জন্য দিনের পর দিন মানুষের হার্টের সমস্যা বেড়ে চলেছে। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপাদান আমাদের হাতের সামনেই রয়েছে। নিয়মিত ডালিমের রস খেলে হার্টের অসুখের হাত থেকে রেহাই মেলে। কারন ডালিমের রস দেহের অতিরিক্ত চর্বিগুলি গলিয়ে দিতে সহায়তা করে। তাই আপনার যদি হার্টের অসুখ থাকে দেরি না করে আজ থেকে নিয়মিত ডালিমের রস খাওয়া শুরু করুন।


         বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হার্টের অসুখে ক্ষেত্রে ডালিমের উপকারিতা রয়েছে। অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে এলডিএল কোলেস্টেরল রক্ষা করে।


ডায়রিয়া রোধ করতে ডালিমের উপকারিতা

      ডালিম ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আমাদের সবারই একটা ভুল ধারনা রয়েছে ডায়রিয়া হলে ডালিম খাওয়া উচিত নয় কিন্তু আপনি কি জানেন ডায়রিয়া হলে ডালিমের রসের মতো ভালো বিকল্প অন্য কিছু হতে পারে না। নিয়মিত দুবেলা ডালিমের রস খেলে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।


ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিমের উপকারিতা 

       মারাত্মক রোগের প্রতিরোধের খুব কার্যকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় বেদানার বীজে অ্যান্টি ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা ক্যান্সারের কোষগুলিকে ক্রমবর্ধমান হতে বাঁধা দেয়। এছাড়াও এটি স্কিন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা করে।


পচন তন্ত্র ভালো রাখতে ডালিমের উপকারিতা

      ডালিমের দানা ভিটামিন বি এর ভালো উৎস। এটির জন্যই পাচক তন্ত্র ভালো থাকে। কারণ ভিটামিন বি শরীরের ফ্যাট, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেটকে দেহের শক্তিতে রূপান্তরিত করে।



        ডালিম ফাইবার এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ ধারন করে যা আমাদের পাচক সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি নিয়মিত অল্প মাত্রায় ডালিম বা তার রস খান তাহলে আপনি হজম সম্পর্কিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। এছাড়াও এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।


রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

         অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সমৃদ্ধ হওয়ায় ডালিম দেহের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় ডালিমেরে দানায় এই উপদানগুলি বিদ্যমান থাকায় বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে।



স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডালিমের উপকারিতা

         ডালিমের মধ্যে অ্যান্টি-প্লাক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং এটি সতেজ করে তোলে। ডালিমের উপস্থিত উপাদানগুলি ডেন্টাল ফলকের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়। ২০১১ সালের একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ডালিমের রস দাঁতের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করে।


রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডালিমের উপকারিতা

          উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যও ডালিম বেশ উপকারী। এটি অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট, ভিতামিন সি এবং নাইট্রিক অক্সাইডের ভালো উৎস। এটি রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ত ধমনীতে পুষ্ট করার জন্য পরিচিত। এটি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও অনেকাংশে হ্রাস করে। ২০১১ সালের একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে ডালিমের রস প্রতিদিন এক গ্লাস ডালিমের রস পান করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।



জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে ডালিমের উপকারিতা

         ডালিম জয়েন্টগুলি এবং সম্পর্কিত সমস্যার জন্য একটি সফল চিকিৎসা। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং সামগ্রিকভাবে জয়েন্টে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিয়মিত ডালিমের বীজ গ্রহণ করুন। এটিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-হ্রাসকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি জয়েন্টগুলিতে প্রদাহ হ্রাস করতে সক্ষম।


অ্যানিমিয়ার জন্য ডালিমের উপকারিতা

         রক্তাল্পতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডালিম একটি জীবন রক্ষাকারী ভেষজ। এটি শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে লাল রক্ত ​​কোষের সংখ্যাও বাড়িয়ে তোলে। এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়িয়ে রক্ত ​​প্রবাহকেও উন্নত করে। এটি ছাড়াও এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা আয়রন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।



ত্বকের যত্নে ডালিমের উপকারিতা

       ডালিম ভিটামিন “সি” এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য ত্বকের যত্নে ডালিম অসাধারণ কার্যকর। ত্বকের দাগছোপ রিমুভ করে ত্বকে উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও ডালিমে উপস্থিত ভিটামিন “সি” ত্বক গ্লোয়িং করে পাশাপাশি ত্বকে বয়সের ছাপ পরতে বাধা সৃষ্টি করে। বাড়িতে ডালিমের প্যাক বানানোর জন্য একটি টিপস নীচে দেওয়া হল-

ডালিমের ফেস প্যাক বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ-

• ২ টেবিল চামচ ডালিমের খোসার গুঁড়ো।
• এক টেবিল চামচ লেবুর রস।
• এক টেবিল চামচ মধু।




পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 



কলার উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক – Banana Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

কলার উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক – Banana Benefits, Uses and Side Effects in Bengali





        সব ধর্মের এবং গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো কলা। হিন্দিতে একে কেলা বলা হয়। কন্নারে বেল হান্নু বলা হয়। এটি মূলত সবুজ এবং হলুদ দুই বর্ণের হয়ে থাকে। কাঁচা কলা সবুজ বর্ণ ধারণ করে এবং পাকা কলা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে চাষ করা হয়ে থাকে। মূলত এটি নরম প্রজাতির হয়। বিশ্বের খাদ্য ফসল গুলির মধ্যে আর্থিক মূল্যের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে কলা। শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের মানুষের মধ্যে খুব জনপ্রিয় এই ফলটি। কলা সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি দিয়ে রান্নাও করা হয়ে থাকে। এমনকি কোথাও কোথাও রান্নায় আলুর প্রতিস্থাপন হিসেবেও এটি ব্যবহার হয়ে থাকে।

       ‘সর্ব ঘটে কাঁঠালি কলা’ এই প্রবাদ বাক্যটি আমাদের মধ্যে সকলেরই প্রায় জানা। আমাদের জীবনে কলার ভূমিকা কিন্তু ঠিক এতটাই, যতটা প্রবাদ বাক্যে মজা করে বলা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য রক্ষায় হোক কিংবা ত্বক ও চুলের যত্নে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এমনকি আমাদের রোজকার জীবনের অধিক ব্যবহৃত ফল গুলির মধ্যে অন্যতম হল কলা। কলার অনেক গুনাগুন রয়েছে, যেগুলি খানিকটা জানলেও অনেকটাই হয়তো আমাদের অজানা। তাই আজ জেনে নিন আপনার হাতের কাছে থাকা সহজলভ্য এই ফলটি সম্পর্কে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মূলত কলা মুসাসেই গোত্রীয় ফলের অন্তর্গত। এর বৈজ্ঞানিক নাম হল মুসাঅচুমিনটা কোল।

     

কলার উপকারিতা – Benefits of Banana in Bengali

স্বাস্থ্যের জন্য কলার উপকারিতা – Health Benefits of Banana in Bengali

ত্বকের জন্য কলার উপকারিতা – Skin Benefits of Banana in Bengali

চুলের জন্য কলার উপকারিতা – Hair Benefits of Banana in Bengali

কলার পুষ্টিগত মান – Banana (Kela) Nutritional Value in Bengali

কলার ব্যবহার – How to Use Banana in Bengali

সঠিক কলা বাছাই করে সেটা অনেকদিন পর্যন্ত সুরক্ষিত রাখার উপায়

কলার ক্ষতিকর দিক – Side Effects of Banana in Bengali

কলার উপকারিতা – Benefits of Banana in Bengali


        দৈনন্দিন কলা গ্রহণ করলে শরীরে রক্ত শর্করার উন্নতি হওয়ার পাশাপাশি কোলন স্বাস্থ্য সুস্থ থাকে। কলা হল ম্যাগনেসিয়াম এর উৎকৃষ্ট উৎস, যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে উচ্চস্তরের ট্রাইপটোফোন। যা ডিপ্রেশন কমিয়ে মানসিক সুস্থতা প্রদান করে থাকে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা ভিটামিন বি6 শরীরের সঠিক ঘুম হতে এবং অনিদ্রাভাব কমাতে সহায়তা করে। এরকম ভাবে বিভিন্ন উপায়ে কলা আমাদের উপকৃত করে থাকে।

        আসুন জেনে নিন আপনার হাতের কাছে থাকা ফলটির উপকারিতা গুলি। কলা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ার এটি সব বয়সীদের মধ্যে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়াও কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, যা শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়াও কলা হার্টকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে। একটি কলার মধ্যে রয়েছে 467 মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, 1 মিলিগ্রাম সোডিয়াম। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা ভিটামিন b6 রক্তাল্পতা এবং করোনারি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলার মধ্যে থাকা ফাইবার জাতীয় উপাদানগুলি হজমের উন্নতি ঘটিয়ে শরীরের ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি শরীরে কার্বোহাইড্রেট এর কাজ করে। 

       


স্বাস্থ্যের জন্য কলার উপকারিতা – Health Benefits of Banana in Bengali

     আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। আসুন জেনে নিন কিভাবে কলার সঠিক ব্যবহার করে আমরা সুস্থ থাকতে পারি।


    হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার উপকারিতা :

       হাভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে, পটাশিয়ামের পরিমাণ শরীরে যথাযথ না থাকলে সেক্ষেত্রে হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কলা যেহেতু পটাশিয়াম সমৃদ্ধ একটি ফল তাই এটি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে কলার পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখতে হবে। হৃদযন্ত্র মূলত তার সংকোচন-প্রসারণের ওপর শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে আর এই সংকোচন এবং প্রসারণ অনেকাংশে পটাশিয়াম এর উপর নির্ভর করে। হাই পোকাসিয়াম স্তর,  হাইপোকলিমিয়া  নামক দুটি উপাদানের কারণে হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে তার হৃদস্পন্দন সম্পন্ন করতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দৈনিক একটি করে কলা খেলে হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা কম থাকে। এছাড়াও অতিরিক্ত ধূমপান কম করে দৈনিক ব্যায়াম করলে এক্ষেত্রে সুস্থ থাকা যায়। হার্টের সুরক্ষায় থাকা পটাশিয়ামের বিভিন্ন উপাদান গুলিকে কলা সমৃদ্ধ করে এবং হৃদযন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে। সে ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র বন্ধ পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর হৃদয়ের জন্য দৈনিক একটি কলা খাওয়া প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পটাশিয়াম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি অবশ্যই আপনার শরীরের প্রয়োজন কতটা তা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে সেই মতো দৈনিক গ্রহণ করবেন। কেননা অত্যধিক পটাশিয়াম গ্রহণের ফলে আবার হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে চাইলে দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ কলা গ্রহণ করতে হবে এবং তার সাথে একটি সুস্থ জীবন পালন করতে হবে। কলার মধ্যে থাকা সোডিয়াম হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার পাশাপাশি কিডনিকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।



রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কলার ভূমিকা :

        কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও কলা রক্তকে পরিশুদ্ধ করতে সহায়তা করে। মূলত কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেট জাতীয় উপাদান গুলি রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি এটি শরীরের রক্তচাপ কেও নিয়ন্ত্রিত করে থাকে। ন্যাশনাল হার্ট, ফুসফুস এবং রক্ত ইনস্টিটিউট এর মতে শরীরে সঠিক ভাবে রক্ত সঞ্চালনের জন্য কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। তবে এটি গ্রহণের আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে তারপর এটি গ্রহণ করবেন। কেননা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দিনে দুটি কলা খেলে রক্তচাপ ১০ শতাংশের বেশি কমে যেতে হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার শরীরের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝে এটি গ্রহণ করতে হবে।



হজমের সমাধানে কলার ব্যবহার :

         কলা অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা যেহেতু ফাইবার সমৃদ্ধ একটি খাদ্য তাই এটি হজম স্বাস্থ্যের উন্নতি করে থাকে। এছাড়াও পাচনতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম অন্ত্রের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যার ফলে হজমের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে। কলা নিজে যেমন তাড়াতাড়ি হজম হতে পারে, তেমনি অন্য খাবার কেও তাড়াতাড়ি হজম করতে পারে। কেননা কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার। যা শরীরের ভিতরে থাকা খাদ্য উপাদান কে সঠিকভাবে হজমে সহায়তা করে। এছাড়া একটি কলাতেই পেট ভরে যাওয়ার মত মনে হয়। যার ফলে অধিক খাওয়া থেকেও এটি দূরে রাখতে সহায়তা করে। এটি দ্রুত দ্রবণীয় হওয়ায় অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীর থেকে চর্বি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান কে শোষণ করে নিতে সহায়তা করে। কলা  ফ্রুকটলিগোস্যাকচারাইড এর একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে শরীর স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করে। এছাড়াও পাকা কলা হজমজনিত সমস্যা গুলি নিরাময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা মূলত প্রাকৃতিক এন্টাসিড হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি পাকস্থলীর এসিড কমাতে এবং আলসার চিকিৎসা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি পেটের ভিতরে অতিরিক্ত মেদ জমা থেকে শরীরকে দূরে রাখে। এছাড়া এটি গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। কাঁচা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই কলায় প্রাকৃতিক অ্যাসিড কম থাকে, তাই এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এবং পাকা কলা শরীরের হজমে সহায়তা করে। তবে কাঁচা কলা যদি অধিক পরিমাণে গ্রহণ করা হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূলত ডায়েরিয়ার চিকিৎসায় কাঁচা কলার ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া খাদ্যকে দ্রুত হজম করতে চাইলে পাকা কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য।


মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার ব্যবহার :

         কলা ভিটামিন বি6 সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা খাদ্যতালিকায় ভিটামিন b6 সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করেন তাদের মস্তিষ্ক অন্যান্যদের তুলনায় বেশ প্রখর হয় এবং এরা ভালো পারফরম্যান্স করে থাকে। কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষ গুলিকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া কলা মস্তিষ্কের কোষগুলির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। যেহেতু আমাদের মস্তিষ্ক গ্লুকোজ সংরক্ষণ করতে পারে না, সেহেতু কলা দৈনিক এটি সরবরাহ করে থাকে। কলায় যেহেতু ফাইবার রয়েছে তাই এতে শর্করা ধীরে ধীরে রক্তপ্রবাহকে প্রবাহিত করে এবং শরীরে ধীরে ধীরে কলা গ্লুকোজ সরবরাহ করে থাকে। কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম মস্তিষ্কের কোষগুলোয় অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। এছাড়াও এটি ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় মৃগী এবং পারকিনসন রোগের সমস্যায় সমাধান করে। কলার মধ্যে থাকা সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন স্ট্রেস রিলিফ করতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি হতাশা এবং মস্তিষ্কের যে কোন ধরনের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিয়মিত কলা খেলে মস্তিষ্কের শক্তি এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি তার ঘনত্ব বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম বৃদ্ধ বয়সে স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়াও মেনোপজাল পরবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে কলা খাওয়া স্ট্রোকের সম্ভাবনা ১২ শতাংশ কমাতে সহায়তা করে। মূলত যে সমস্ত ব্যক্তিরা কম পটাশিয়াম গ্রহণ করেন তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। কেননা পটাশিয়াম কম গ্রহণ করলে সেটি হঠাৎ রক্তপাত এর ফলে স্ট্রোকের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।


  হাড়ের গঠনে কলার উপকারিতা :

      ন্যাশনাল অস্টিওপরোসিস ফাউন্ডেশনের মতে, কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম হাঁড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা পটাসিয়ামের অন্যতম উৎস যা হাড়ের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান প্রদান করে থাকে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গুলি শরীরে ক্ষার তৈরি করতে  সহায়তা করে। এছাড়াও দেখা গিয়েছে যখন কোন অ্যাসিড যুক্ত উপাদান শরীরে তৈরি হয় তখন হাড়গুলি দূর্বল হবার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে হাড় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে। তাই পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গুলি এই ক্ষার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে শরীরে ক্যালসিয়ামের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়। বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে পটাশিয়াম গ্রহণ আবশ্যক। কেননা বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী পটাশিয়াম গ্রহণের ফলে অস্টিওপোরোসিস এর সমস্যা কম হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে খাদ্যতালিকায় পটাশিয়াম এর অন্যতম উৎস হিসাবে একটি কলা রাখলে সে ক্ষেত্রে এটি শরীরের হাড় কে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।



ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কলার ভূমিকা :

       ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কলা। কার্বোহাইড্রেট সম্পন্ন উপাদান হওয়ায় এটি দৈনিক গ্রহণ করা আবশ্যক। কেননা কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা কে দ্রুত বাড়াতে সহায়তা করে। আর কলাতে প্রচুর শর্করা রয়েছে। মূলত 93% ক্যালোরি কার্বোহাইড্রেট থেকে পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে কলাতে শর্করা থাকার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এই ফাইবার হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ব্লাড সুগার কে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি খুব বেশি ক্ষতিকর নয়, কেননা সবুজ কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ। এটি শরীরে ফাইবার এর মত কাজ করে রক্তে শর্করার মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও এটি শরীরের পরিপাক ব্যবস্থাকে উন্নত করে রক্তে শর্করার স্পাইক গুলো কে নিয়ন্ত্রণ করে। কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন বি সিক্স ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কলা প্রতিদিন গ্রহণের ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকাকালীন অবস্থায় কলা খেলে সে ক্ষেত্রে শরীরে ফ্রুক্টোজ এর পরিমাণ কম থাকে।


 ডায়েরিয়া নিয়ন্ত্রণে কলার উপকারিতা :

         ডায়েরিয়ার চিকিৎসায় ইলেক্ট্রোলাইট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কলা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কলা মূলত পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া পটাশিয়াম প্রতিস্থাপনে সহায়তা করে থাকে। ডায়েরিয়ার সমস্যা দেখা দিলে একটি কলা খেলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও এক গ্লাস জলে এক চিমটি লবণ যোগ করে খেলে এটি শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া সোডিয়াম এবং ক্লোরাইড প্রতিস্থাপনে সহায়তা করে থাকে। ডায়েরিয়া থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য একটি নির্দিষ্ট ডায়েট তৈরি করা হয়েছে, একে ব্র্যাট ডায়েট বলা হয়। কলা আপেল এবং টোস্ট দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এটি মূলত শিশুদের জন্য অধিক কার্যকরী। এই ডায়েটে শরীরের দ্বারা উৎপাদিত মলের পরিমাণ হ্রাস করে পেটে কিছুটা স্বস্তি দেয় এই ডায়েটে প্রোটিন ফাইবার এবং ফ্যাট কম হওয়ায় এটি একটি সুষম খাদ্য। এছাড়াও এটি ডায়েরিয়া পরবর্তী অবস্থায় শরীরের পুষ্টির অভাব পূরণে সহায়তা করে। ডায়েরিয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটি খেলে ডায়েরিয়ার উপশমে সহায়তা করবে।


হ্যাংওভার কাটাতে কলার ব্যবহার :

         পরিমাণের তুলনায় খানিকটা বেশি অ্যালকোহল পান করলেই তার পরবর্তী সময়ে হ্যাংওভার ভাবটা অনেকের মধ্যে থেকেই যায়। এমনকি সেটা রাত পেরিয়ে পরের দিন পর্যন্ত থেকে যায়। তবে এই হ্যাংওভার কাটাতে আপনার হাতের কাছেই রয়েছে কলা। কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হ্যাংওভার কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা পটাশিয়াম এমন এক ধরনের খনিজ অ্যালকোহল গ্রহণের পরে নষ্ট হয়ে যায় এবং ডিহাইড্রেশন ঘটায়। তাই কলা এবং মধু দিয়ে মিল্কশেক তৈরি করে খাওয়া গেলে খুব শীঘ্রই হ্যাংওভার থেকে মুক্তি পেয়ে যায়। কারণ কলা স্নায়ুগুলোকে শান্ত করে এবং মধু শরীরে চিনির পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পাশাপাশি এতে দুধ দেওয়া যেতে পারে তাহলে তা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে। ভিটামিন বি১ এবং বি৬ হলো এমন দুটি উপাদান যা হ্যাংওভারের লক্ষণগুলোকে কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা গ্লুকোজ এবং ইলেকট্রোলাইট গুলি হ্যাংওভার এর চিকিৎসা করতে সহায়তা করে।


রক্তাল্পতা নিয়ন্ত্রণে কলার ব্যবহার :

         বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো রক্তাল্পতা। মূলত গর্ভাবস্থায় রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দেয়, তখন ফলিক অ্যাসিডের আদর্শ ডোজ দিয়ে এর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। পুষ্টিকর খাবার গুলিতে পাওয়া ভিটামিন এর পাশাপাশি এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যরক্ষায় রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করা আবশ্যক। সেকারণে কলার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। কলাতে থাকা ভিটামিন সি এর যথাযথ সহায়তা করে এবং এটি রক্তস্বল্পতার সাথে লড়াই করে। এছাড়া ভিটামিন বি টুয়েলভ রক্তাল্পতার চিকিৎসা করতে সহায়তা করে। যদিও ভিটামিন বি টুয়েলভ খুব বেশি মাত্রায় কলার মধ্যে নেই, তবে এটি ভিটামিনের সঠিক সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা তামা ও আয়রন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।


স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে কলার উপকারিতা :

        কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপকে কমাতে সহায়তা করে। তাই এটি যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা শর্করা সমৃদ্ধ একটি ফল হওয়ায় এটি মানসিক চাপকে শিথিল করতে পারে এবং স্নায়ুকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে রয়েছে ডোপামিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে প্রশান্ত করে চাপ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন বি6 যে কোন ধরনের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তাই অত্যধিক মানসিক চাপ কিংবা স্ট্রেস দেখা দিলে সে ক্ষেত্রে দৈনিক একটা করে কলা খাওয়া উচিত কিংবা হঠাৎ করে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেলে তখন কলা খেলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।


শক্তি বাড়াতে কলার উপকারিতা :

        কলা হল অ্যামিনো এসিড সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক শর্করা এবং অন্যান্য খনিজ সমৃদ্ধ একটি খাদ্য উপাদান। যা শরীরের শক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে থাকে। উপাদানগুলি ধীরে ধীরে রক্ত সরবরাহ কে সঠিক ভাবে প্রেরণ করে থাকে। এছাড়াও এটি শরীর থেকে খারাপ উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা ব্যায়ামের পরে খেলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এগুলিকে যথাযথ পূরণ করতে এবং জল ধরে রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দুটিমাত্র কলা 90 মিনিটের কঠোর পরিশ্রমের মতন শক্তি দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলা যেকোনো ধরনের উচ্চশক্তিসম্পন্ন পানীয়র সমান উপকারী হতে পারে। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাথলিটরা ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদান গুলি শরীরের শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে।



চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার ব্যবহার :

        শরীরের পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে কলা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি চোখে ছানি পড়ার যে ছত্রাকের সৃষ্টি হয় তা কমাতে সহায়তা করে। মূলত কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন-এ চোখ এবং কর্নিয়ায় সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। যাতে কোনো রকমে বাইরের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা চোখ আক্রান্ত হতে না পারে।


মাসিকের যন্ত্রণা কমাতে কলার উপকারিতা :

       বর্তমান স্ট্রেসফুল জীবনের অন্যতম একটি সমস্যা হল মাসিকের যন্ত্রণা। বলা যায় ৯০ শতাংশ মহিলাই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে দৈনিক একটি করে কলা খেলে এই সমস্যার উপশম হতে পারে। কেননা কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ গুলো পিরিয়ডের সময় জরায়ুর পেশীগুলোকে শক্তি প্রদান করে এবং ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও তলপেটে ব্যথা হয় সেগুলো কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন b6 পেটে ব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া মতো সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। (১২)


মশার কামড়ের যন্ত্রণা কমাতে কলার ব্যবহার :

      মশার কামড়ে নাজেহাল অবস্থা!  একনাগাড়ে চুলকে চুলকে গায়ের চামড়া উঠে যাচ্ছে?  কিন্তু আপনি জানেন কি আপনার হাতে কাছে থাকা কলা হতে পারে এর মোক্ষম ওষুধ। কলার খোসার ব্যবহারেই এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কলার খোসার মধ্যে থাকা শর্করা জাতীয় উপাদান মশার কামড়ের জায়গা থেকে জীবাণু সরিয়ে দিতে সহায়তা করে। যার ফলে মশার কামড় আক্রান্ত স্থানটি কলার খোসা দিয়ে ঘষলে সেখান থেকে মশার কামড় জনিত প্রদাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে আক্রান্ত স্থানটিতে কলার খোসা ব্যবহার করার আগে অবশ্যই একবার ডেটল দিয়ে মুছে নেবেন। তাতে ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়ে যাবে।


ইমিউনিটি বাঁচাতে কলার উপকারিতা :

       ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি কলার মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যকর উপাদান গুলি কিভাবে আমাদের শরীর চর্চায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কলার মধ্যে রয়েছে এমন এক ধরনের উপাদান, যা রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার সময় কোষগুলিকে তাদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে উন্নত করে তোলে। পাশাপাশি কলার মধ্যে থাকা এনজাইমগুলো আয়রন কে সঠিকভাবে হজমে সাহায্য করে। যার ফলে শরীরে আয়রনটা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়। কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন সি সর্বকালের গুরুত্বপূর্ণ শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। এর পাশাপাশি ভিটামিন শরীর থেকে যেকোনো ধরনের রোগ জীবাণু ধ্বংস করতে এবং রক্তকণিকাকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ফোলেট অন্যতম একটি পুষ্টিকর উপাদান, যা প্রোটিনকে শরীরে যথাযথ গ্রহণে সহায়তা করে। কলার মধ্যে থাকা লেক্টিন নামক অপর একটি উপাদান শরীরকে শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করে। এটি শরীরের কোষগুলোকে ভাইরাস আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। যাতে শরীরে মারাত্মক কোনো ভাইরাস আক্রমণ করতে না পারে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়ামও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। যার ফলে দৈনিক গ্রহণের ফলে এ ধরনের সমস্যা গুলো দূর হয়। এর পাশাপাশি কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়ামও শরীরকে যথাযথ শক্তি জুগিয়ে শরীরের ইমিউনিটি ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।


মর্নিং সিকনেস সমস্যায় কলার ব্যবহার :

         গর্ভবতী মহিলাদের অন্যতম একটি সমস্যা হল মর্নিং সিকনেস। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে সকাল বেলা বমি ভাব কিংবা বমি হতে দেখা যায়। এই সমস্যার ক্ষেত্রে কোন ওষুধ ব্যবহার না করে দৈনিক একটি করে কলা খেয়ে এটিকে নির্মূল করতে পারেন। কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম মর্নিং সিকনেস সমস্যাকে কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরকে সুস্থ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।


মেজাজ সঠিক রাখতে কলার ব্যবহার :

             কাজের চাপ হোক কিংবা জীবনের চাপ, মেজাজ যেকোনো সময় বিগড়ে যেতেই পারে। দীর্ঘদিন ধরে একনাগাড়ে এক কাজ চলতে থাকার ফলে একটা সময় মানুষের বিরক্তি ভাব এসে যায়। একে নির্মূল করা যাবে দৈনিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে। যে কারণে চিকিৎসকেরা দৈনিক খাদ্য তালিকা একটি কলা রাখার কথা বলেছেন। কলার মধ্যে থাকা শর্করা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করে। যার ফলে এটি মেজাজ সতেজ রাখতে সহায়তা করে এবং এর মধ্যে থাকা ভিটামিন বি6 যেকোনো ধরনের চাপ এবং উদ্বেগ থেকে মুক্তি দেয়। কলা ট্রিপটোফেন এর অন্যতম একটি উৎস, যা সেরোটোনিনের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। সুখ হরমোন নামে পরিচিত এই হরমোন নিঃসরণ এর ফলে হাসি খুশি এবং আনন্দিত থাকা যায়। ভিটামিন বি গ্রহণের ফলে হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে এবং এই সমস্ত ভিটামিন এ পরিপূর্ণ হবার এটি অন্যতম একটি সুষম খাদ্য। কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম মস্তিষ্কের নিউরন গুলিতে সুগঠিত রাখতে সহায়তা করে। যার ফলে যেকোনো ধরনের সমস্যা থেকে মস্তিষ্ককে বাইরে রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলাতে থাকা সেরোটোনিন মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালন কে ত্বরান্বিত করে। যার ফলে মেজাজ সুস্থ রাখতে সহায়তা হয়।


ওজন হ্রাস করতে কলার উপকারিতা :

          শুনে হয়তো অবাক হচ্ছেন, যে ওজন হ্রাস করবে কলা। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। কলা যথাযথভাবে খেলে ওজন হ্রাস করা সম্ভব হয়। কলার মধ্যে থাকা ফাইবার জাতীয় উপাদানগুলি ওজন হ্রাসে সহায়তা করে। এছাড়া এর মধ্যে থাকা স্টার্চ জাতীয় উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ওজন হ্রাসের জন্য অন্যতম একটি খাদ্য কলা, কারণ এটি শরীরের অতিরিক্ত চিনি কে শরীরে ফ্যাট হিসাবে জমতে দেয় না। ওজন হ্রাসের জন্য সকালে খালি পেটে একটি করে কলা খেতে পারেন। এটি অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভর্তি রাখতে সহায়তা করে। কার্বোহাইড্রেট এর অন্যতম উৎস হওয়ার এটি আপনি প্রাতরাশের জন্য রাখতেই পারেন। তবে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ কলা খেয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।


দাঁত সাদা করতে কলার ব্যবহার :

          অত্যধিক ধূমপান কিংবা তামাক গ্রহণের ফলে দাঁতের রং পাল্টে যাওয়া এ কোনো নতুন ব্যাপার নয়। তবে দাঁতের রং সাদা করতে ব্যবহার করুন কলা। এটি যেকোনো ধরনের কড়া দাগ কে কমাতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি দাঁতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দাঁতের উপরে পড়া কালো দাগ কমাতে সহায়তা করে।


অনিদ্রা কাটাতে কলার ব্যবহার :

        ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না, এই সমস্যায় নাজেহাল বালক থেকে বৃদ্ধ। কারো পড়ার চাপ, কারোর কাজের চাপ কিংবা কারোর পারিবারিক চিন্তা। তবে এবার আর চিন্তা নেই রোজ খাদ্যতালিকায় একটি করে কলা রাখুন এর মধ্যে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম স্নায়ুকে শিথিল করতে এবং ঘুমাতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে থাকা ট্রিপটোফ্যান ঘুমের ওষুধের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যে সমস্ত রোগীরা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য ব্যবহৃত ওষুধের ট্রিপটোফ্যান এর ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা মেলাটোনিন অনিদ্রার চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। 


পেটের আলসার চিকিৎসায় কলার ব্যবহার :

        খাবারের সমস্যার ফলে কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে পেটে আলসার দেখা দিতে পারে। এছাড়াও শরীরের ভেতরে অম্বলের সমস্যা বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ হলে সে ক্ষেত্রে আলসারের মত সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে এই সমস্যা থেকে নিরাময় পেতে দৈনিক একটি করে কলা গ্রহণ করুন। কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি শরীরের অভ্যন্তরীণ অ্যাসিড নিঃসরণে বাধা দেয় যার ফলে আলসারের মতো সমস্যা কম থাকে। কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম শরীরকে ভেতর থেকে জীবাণুমুক্ত করে তোলে। যার ফলে শরীর ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হয়। এছাড়া পাকা কলা হজমজনিত সমস্যা গুলি নিরাময়ে সহায়তা করে।


ত্বকের জন্য কলার উপকারিতা – Skin Benefits of Banana in Bengali

ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যরক্ষায় কলার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা জেনেছি। এবার জেনে নিন ত্বক পরিচর্যায় কিভাবে কলার ব্যবহার করে ত্বককে সুন্দর করে তুলবেন।


ত্বককে ময়শ্চারাইজ করতে কলার ব্যবহার :

       যে কোন ধরণের ত্বকের জন্য অন্যতম প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে পরিচিত কলা। কলাতে উপস্থিত ভিটামিন এ ত্বকের হারানো আর্দ্রতা পুনরুদ্ধার করে এবং নিস্তেজ ত্বককে সতেজ করে তুলতে, শুষ্কতা নিরাময় করতে সহায়তা করে। কলার সাহায্যে তাকে তৎক্ষণাৎ উজ্জ্বল করা সম্ভব হয়।


১) শুষ্ক এবং নিস্তেজ ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে তোলার জন্য একটি পাকা কলা চটকে নিয়ে মুখে লাগান।
২) চোখের চারপাশ বাদ দিয়ে কুড়ি থেকে পঁচিশ মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৩) তখনই দেখতে পাবেন ত্বক নরম এবং কোমল হয়ে উঠেছে।
৪) এছাড়া এই প্যাকে প্রয়োজনে মধু যোগ করতে পারেন।
৫) কলা এবং মধুর প্যাক ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলবে।
৬) উজ্জ্বল এবং দীপ্তিময় ত্বক পেতে অন্যতম একটি প্যাক হলো পাকা কলা।
৭) তার সাথে এক টেবিল চামচ দই এবং 1 চা চামচ ভিটামিন ই তেল মিশিয়ে নিয়ে পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে রাখুন।
৮) এবং 30 মিনিট পর ধুয়ে নিন। এটা দেখবেন এক নিমিষেই ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।


অ্যান্টি এজিং উপাদান হিসেবে কলার ব্যবহার :

       কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে ত্বকের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। যে কারণে কুচকে যাওয়া, বুড়িয়ে যাওয়া ত্বকে আর্দ্রতা প্রদান করে ত্বককে তরুণ রাখে।


১) ভিটামিন এ এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ অ্যান্টি-এজিং মাক্স তৈরীর ক্ষেত্রে একটি অ্যাভোকাডো এবং একটি কলা ভাল করে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন।
২) এবার এটি কুড়ি মিনিটের জন্য মুখে লাগিয়ে রাখুন।
৩) তারপর ধুয়ে ফেলুন।
৪) এতে ত্বক উজ্জ্বল এবং টানটান হয়ে উঠবে।
৫) কলার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান গুলি এবং এভোকাডোর মধ্যে থাকা ভিটামিন ই ত্বকের ফ্রিরেডিকেল গুলির সাথে লড়াই করে ত্বকের ক্ষতি নিরাময় করে।
৬) এছাড়াও অর্ধেক কলা নিয়ে তার সাথে 1 চা চামচ গোলাপজল মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে এবং ঘাড়ে লাগিয়ে আধঘণ্টা পর ধুয়ে ফেললে একটি সতেজ ত্বক উপহার পাবেন।


ত্বকের জেল্লা বাড়াতে কলার ব্যবহার :

কলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা ত্বককে আর্দ্র এবং কোমল রাখতে সহায়তা করে। তাই কলার সাহায্যে আপনি এই সমস্ত প্যাকগুলি ব্যবহার করে আপনার হারিয়ে যাওয়া জেল্লা ফিরিয়ে আনতে পারেন।

১) অর্ধেক পাকা কলা নিয়ে তার মধ্যে এক টেবিল চামচ চন্দন কাঠের গুঁড়ো এবং 1 চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন।
২) এবার এটি পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে কুড়ি থেকে 25 মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩) এবং তারপর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অন্যতম একটি উপকারী ফেসপ্যাক।
৪) এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত সেবাম নিঃসরণ দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলতে সহায়তা করবে।
৫) শুষ্ক ত্বকের জন্য অন্যতম একটি প্যাক হলো একটি পাকা কলার মধ্যে একটি লেবুর রস মিশিয়ে নিন।
৬) এবার এই মিশ্রণটি পরিষ্কার মুখে রেখে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন।
৭) এরপর ধুয়ে ফেলুন।
৮) এটি ত্বক থেকে দাগ ছোপ কমাবে এবং ত্বককে জেল্লাদার করে তুলবে।
৯) কলার সাথে দুধ ব্যবহার করেও ত্বককে জেল্লাদার করে তুলতে পারেন।
১০) কলাটি ভালো করে ফেটিয়ে নিয়ে তারমধ্যে দুধ মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন এবং তার মধ্যে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল যোগ করুন।
১১) এবার এই মিশ্রণটি মুখে ঘাড়ে কুড়ি মিনিট রেখে দিন।
১২) তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে উজ্জ্বল করতে সহায়তা করবে।


ত্বকের মৃতকোষ অপসারণে কলার ভূমিকা :

      ত্বককে সুন্দর এবং সুস্থ রাখতে সপ্তাহে অন্তত দু’বার এক্সফোলিয়েশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলা দিয়ে তৈরি স্ক্রাব দিয়ে ত্বকের এক্সফোলিয়েশন করতে পারেন। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি উপাদান হওয়ায় ত্বকের ওপর দিয়ে মৃত কোষগুলি অপসারণের পাশাপাশি ত্বককে বাড়তি উজ্জ্বলতা দিয়ে থাকে। বাড়িতেই তৈরি করে নিন কলার স্ক্রাব।

১) একটি কলা নিয়ে ভালো করে ম্যাস করে নিন।
২) এর মধ্যে এক টেবিল চামচ চিনি যোগ করুন।
৩) এবার এটি ভালো করে মিশিয়ে ত্বকের ওপর বৃত্তাকারভাবে ঘষে নিন।
৪) এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করবে এবং চিনির দানা গুলো শরীরের মৃত কোষ গুলিকে সরাতে সহায়তা করবে।
৫) একটি পাকা কলা তার মধ্যে 2 টেবিল চামচ ওটস, 1 টেবিল চামচ মধু এবং দুধ যোগ করে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
৬) এবার এটি মুখে লাগিয়ে 15 মিনিট রেখে দিন।
৭) তারপর ভেজা হাতে মুখে ঘষে ঘষে তুলুন।
৮) এটি ত্বককে মসৃণ করে তুলবে।
৯) এছাড়া কলা দিয়ে বডি স্ক্রাব তৈরি করে নিতে পারেন সে ক্ষেত্রে, দুটি কলা, চার-পাঁচটি স্ট্রবেরি দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন এবং এর মধ্যে 3 টেবিল চামচ চিনি মিশিয়ে নিন।
১০) স্নান করার সময় সারা শরীরে ব্যবহার করুন।


ব্রণ কমাতে কলার উপকারিতা :

      ব্রণ আমাদের সকলেরই অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। তবে এটি নিরাময়ে কলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন।

১) কলার খোসার একটি ছোট টুকরো কেটে নিন।
২) এবার কলার খোসার ভেতরের অংশ আলতো করে ঘষুন এবং তারপর 5 মিনিটের জন্য তা রেখে দিন।
৩) এবার এটি শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৪) সপ্তাহে 3 দিন এটি ব্যবহার করুন। এক সপ্তাহেই তফাৎটা বুঝতে পারবেন।

চুলকানি দূর করতে কলার ব্যবহার :

       অ্যালার্জির কারণে কিংবা পোকামাকড় কামড়ানোর ফলে চুলকানির সমস্যা গুলো দূর করার জন্য অন্যতম একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হলো কলা। এটি এলার্জি যুক্ত ত্বকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এইরকম জায়গায় কলার খোসা ভেতরের দিকটা ভালো করে ঘষে নিন। এতে স্বস্তি পাবেন।

১) এছাড়াও সোরিয়াসিস রোগের চিকিৎসার জন্য কলার খোসা টি আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন।
২) এবং প্রতিদিন 10 থেকে 15 মিনিটের জন্য একবার ব্যবহার করুন।
৩) আপনার ওষুধের ব্যবহারের পাশাপাশি এটি করতে পারেন। তবে অবশ্যই আপনার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এটি ব্যবহার করবেন।


চোখের ফোলা ভাব কমাতে কলার ব্যবহার :

      একনাগাড়ে কম্পিউটারে কাজ করলে কিংবা সঠিকভাবে ঘুম না হলে কিংবা চোখ খুব বেশি ঘষলে চোখের তলায় ফোলা ভাব দেখা দেয়। কলার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান গুলি চোখের নিচের রক্তনালী গুলিকে স্বস্তি প্রদান করে চোখের ফোলাভাব কমাতে সহায়তা করে।

১) এর ফলে আপনাকে যা করতে হবে একটি কলার অর্ধেক অংশ নিয়ে চোখের ফোলা ভাব এর উপর পুরু করে লাগিয়ে রাখতে হবে।
২) এরপর পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করে তা ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
৩) কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম চোখের নিচের ফোলা ভাব কমাতে এবং সেই জায়গাটাকে ঠান্ডা ভাব দিতে সহায়তা করে।

পায়ের যত্নে কলার ব্যবহার :

      দীর্ঘ সময় ধরে খালিপায়ে হাঁটাচলা করলে কিংবা হঠাৎ মরসুমের পরিবর্তন হলে সেক্ষেত্রে ফাটা গোড়ালির সমস্যা দেখা যেতে পারে। ফাটা গোড়ালির চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কলা।

১) দুটি পাকা কলা নিয়ে সেটাকে ভালো করে মিশিয়ে পরিষ্কার পায়ে লাগিয়ে রাখুন।
২) এবং 10 মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩) 10 মিনিট পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৪) শুষ্ক ত্বক প্রতিরোধ করে এবং ফাটা গোড়ালির সমস্যা দূর করে পায়ের ত্বকে আর্দ্রতা প্রদান করে তা কোমল করে তোলে।



সৌন্দর্যের ঘুম নিন কলার ব্যবহার করে :

     ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি অনিদ্রা জনিত সমস্যা দূর করতে কলার ব্যবহার অনস্বীকার্য। তাই কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে নিজের ত্বককে চনমনে করে তুলতে একটা বিউটি স্লিপ আবশ্যিক। সে ক্ষেত্রে যদি অতিরিক্ত চাপ থাকে কিংবা স্ট্রেস থাকে সকালে উঠে একটা কলা খেয়ে নিন। তাহলে সারাটাদিন চাপমুক্ত থাকবেন। এর পাশাপাশি কাজের ফাঁকে 5 থেকে 10 মিনিটের একটা ছোট্ট বিশ্রাম নিয়ে নিন। এতে আপনি আরো চনমনে হয়ে উঠবেন। এতে আপনার ত্বক উজ্জল হয়ে উঠবে।


চুলের জন্য কলার উপকারিতা – Hair Benefits of Banana in Bengali

    ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য এবং ত্বকের যত্নে কলার ভূমিকা সম্পর্কে আমরা জেনে নিয়েছি। এবার জেনে নিন চুলের যত্নে কিভাবে কলা ব্যবহার করতে পারবেন।


চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার উপকারিতা :

       কলার মধ্যে থাকা ফলিক অ্যাসিড চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তুলতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি চুলে আর্দ্রতা প্রদান করে। যার ফলে চুল শুষ্ক হয়ে যায় না। কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম চুলকে প্রাকৃতিক ভাবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখে। কলা দিয়ে চুলের পরিচর্যার জন্য অনেকগুলো প্যাক রয়েছে জেনে নিন সেগুলো।


নরম চুলের জন্য :

১) নরম চুল পেতে গেলে একটি পাকা কলার সাথে এভোক্যাডো নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
২) এবার এই মিশ্রণটিতে নারকেলের দুধ যোগ করুন।
৩) এবার এই মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে 15 থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন।
৪) তারপর হারবাল কোন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।


চকচকে চুলের জন্য :

১) চকচকে চুল পেতে গেলে একটি কলার খোসা এবং অলিভ অয়েল এবং ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
২) এই মিশ্রণটি আপনার চুলে লাগিয়ে 15 মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩) তারপর আপনি যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন তা দিয়ে চুল ধুয়ে চুলে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।
স্ট্রং চুলের জন্য  :
১) পাকা কলা এবং দই মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
২) এবার এই মসৃণ পেস্টটি মাথায় লাগিয়ে 15 থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩)  তারপর ধুয়ে ফেলুন।
৪) এটি সপ্তাহে দুদিন করুন। চুল মজবুত হবে।
৫) যারা শুষ্ক চুলের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি। একটি পাকা কলার সাথে 3 চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন।
৬) এবার এই মিশ্রণটি চুলটা ভেজা অবস্থায় লাগিয়ে নিন।
৭) এবার 15 থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন।
৮) তারপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন।


ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য :

১) একটি কলা এবং তার মধ্যে কয়েক ফোঁটা বাদাম তেল নিয়ে মিক্সারে ভালো করে পিষে নিন।
২) এবার এই মিশ্রণটি মাথায় লাগিয়ে 15 থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩) কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন এ এবং সি চুলকে আর্দ্রতা প্রদান করে নরম এবং উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করবে।


তবে এগুলো ব্যবহার করার পর অবশ্যই মনে রাখবেন, চুল ধোয়ার পরে যাতে চুলে কোনরকম কলার টুকরো বা অংশ আটকে না থাকে


এতে চুল চ্যাটচ্যাটে ধরনের হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও এগুলি চুলে খুব বেশি শুকোতে দেবেন না। কিছুক্ষণ লাগিয়ে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন। না হলে এগুলি চুলে আটকে থাকতে পারে এবং চুল কে রুক্ষ করে তুলতে পারে।


কলার ব্যবহার – How to Use Banana in Bengali

ইতিমধ্যেই কলার গুনাগুন সম্পর্কে আমরা অনেকটাই জেনে নিয়েছি। এবার কলা কিভাবে, কত পরিমাণ, কখন খাওয়া উচিত সেগুলো আমরা জেনে নি। মূলত কলা সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি রান্না করে অনেকাংশে খাওয়া যেতে পারে। জেনে নিন কিভাবে সেটি ব্যবহার করবেন।


১) প্রাতরাশ এ ব্যবহার করুন দুটি বড় বড় কলা, এক কাপ বাদাম দুধ, চিনাবাদাম, কোকো পাউডার, ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো করে একটি স্মুদি বানিয়ে নিন।


২) কলা এবং অ্যাভোকাডো দিয়ে স্মুদি। একটা কলা, একটা এভোকাডো, এক কাপ দই, বাদাম দুধ, ভ্যানিলা এসেন্স, মধু এবং বরফের টুকরো দিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো করে মিশিয়ে স্মুদি বানিয়ে প্রাতরাশে খান।


সঠিক কলা বাছাই করে সেটা অনেকদিন পর্যন্ত সুরক্ষিত রাখার উপায়

      কলা কেনার সময় মাথায় রাখবেন সেগুলি যাতে খুব বেশি শক্ত কিংবা খুব বেশি নরম না হয়। যে কলার গায়ে বাদামী রংয়ের হালকা দাগ রয়েছে সেগুলি ব্যবহার করুন। কেননা সে গুলি খাওয়ার জন্য উপযুক্ত। অথবা যদি রান্না করতে চান সে ক্ষেত্রে সবুজ রংয়ের কাঁচা কলা ব্যবহার করে নিতে পারেন। সেটাও অনেকদিন ভালো থাকবে এবং ভাল করে রান্না করে খেতে পারবেন। কলা যদি অনেকদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখতে চান সে ক্ষেত্রে ঘরের তাপমাত্রায় রাখুন। সরাসরি সূর্যের তাপের কাছাকাছি কিংবা রেফ্রিজারেটরে কখনোই রাখবেন না। আর কলা অন্যান্য ফলের থেকে আলাদা রাখবেন। সম্ভব হলে ঘরের মধ্যে দড়ি টাঙ্গিয়ে সেখানে কলা ঝুলিয়ে রাখুন, এতে তা অনেক দিন স্থায়ী হবে।




কলার ক্ষতিকর দিক – Side Effects of Banana in Bengali

    ইতিমধ্যেই আমরা কলার গুণাগুণ সম্পর্কে জেনে নিয়েছি। তবে এবার জেনে নিন কলার ক্ষতিকর দিকগুলো। কোন জিনিসই অতিরিক্ত ব্যবহার ঠিক নয়। এক্ষেত্রে কলাও তার ব্যতিক্রম নয়। জেনে নিন কলার ক্ষতিকর দিকগুলি :

১) কলার মধ্যে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম রয়েছে। তাই এটি কখনোই দিনে দুটির বেশি খাবেন না।
২) গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করবেন।
৩) কলা গাছের পাতা, কান্ড সবকিছুই খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। কিন্তু কোনোরকম  এলার্জিরসমিস্যা থাকলে দেখে  নেবেন কলা গাছের কোন বিশেষ অংশ আপনার খাওয়া উচিত নয়।
৪) কলার মধ্যে উচ্চমাত্রায় অ্যামিনো এসিড থাকায় এটি অধিকগ্রহণের ফলে রক্তনালীতে প্রভাব পড়তে পারে। যার ফলে মাথাব্যথার সৃষ্টি হয় এবং এর মধ্যে ট্রিপটোফ্যান থাকায় এটি বেশি পরিমাণে খাবার ফলে বেশি ঘুম পাওয়ার সমস্যা হতে পারে।
৫) কলা শর্করা সমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় এটি খাওয়ার পর ঠিকভাবে মুখ না ধুলে দাঁতের ক্ষয় হতে পারে।
৬) পটাশিয়ামের অধিগ্রহণের ফলে হাইপারক্যালেমিয়া রোগ দেখা দিতে পারে। যার ফলে পেশির দুর্বলতা কিংবা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা হতে পারে। তাই দৈনিক অল্প পরিমাণে কলা খেতে হবে।
৭) অতিরিক্ত কলা খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ খান।
৮)  যদি কারো কিডনির সমস্যা থাকে সে ক্ষেত্রে তাদের কলা খাওয়ার পরিমান করিয়ে দেওয়া উচিত। কেননা অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে তা কিডনির ব্যথা সৃষ্টি করতে পারেন।


তাহলে ইতিমধ্যেই জেনে নিয়েছেন কলার গুনাগুন গুলি। তাহলে আর অপেক্ষা কিসের? এগুলি মেনে চলুন এবং নিজে সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন এবং ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য রক্ষায় ত্বক পরিচর্যায় কলার ব্যবহার গুলো জেনে নিয়েছেন সেগুলি মেনে চলুন।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


Labels

Present Tense (25) Normal English Lessons (15) Tense (12) Regular English Lessons (11) মধু খাওয়ার উপকারিতা (11) রসুনের উপকারিতা (10) Interrogative Sentence (8) Negative Sentence (8) জীবন বদলে দেওয়ার মতো 30 টি বাণী (8) Affirmative Sentence (হাঁ -বাচক ) (7) Interrogative Negative (7) কম্পিউটার কীবোর্ড শর্টকাট কোড এবং টেকনিক – (keyboard shortcuts) (6) পেয়ারার উপকারিতা (6) 7 Idioms Starting with "Cold" (4) Parts of Speech-English Grammar (ইংরেজি ব্যাকরণ) (4) Swami Vivekananda Bani in Bengali – বিবেকানন্দের অমূল্য বাণী (4) 6 Idioms Starting with "Close" (3) Sayings Starting with "Cross" and "Cry" (3) রবীন্দ্রনাথের বাণী সমগ্র (3) Adjective (2) Figures of speech Starting with "Come" (2) Preposition (2) grammar (2) voice-active-voice-passive-voice (2) About Us (1) Adverb (1) Believe-in-yourself-sand-stone. (1) Computer Shortcut Keys (1) Motivational speech (1) Noun (1) Parts of Speech: Noun (1) Pronoun (1) Verb (1) এ.পি.জে আব্দুল কালাম (1) এ.পি.জে আব্দুল কালামের অনুপ্রেরণাদায়ক বাণী (1) ব্যবহার এবং অপকারিতা (1)

My Blog List

  • Positive Thoughts - * 1) ‘Dreams are not what you see in your sleep. Dreams* *That's what keeps you awake. '* *2) ‘To be as bright as the sun first* *You have to burn li...
    8 months ago

Popular Posts

Most Popular

জীবন বদলে দেবার মতো উক্তি,গুণীজনের বাণী , যা আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে

জীবন বদলে দেবার মতো উক্তি  জীবন ও সময় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, জীবন শেখায়, সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করতে। আর সময় শেখায়, জীবনের মূল্য দিতে।...