English to Bengali, বাংলা ও ইংরেজি, Online English to Bengali Tense, English Gramma

শিক্ষায় জীবন

Showing posts with label পেয়ারার উপকারিতা. Show all posts
Showing posts with label পেয়ারার উপকারিতা. Show all posts

Sunday, September 12, 2021

আমের উপকারিতা, ব্যবহার ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া -Mango Benefits, Uses and Side Effects in Bengali,আম নানা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এতে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান উপস্থিত থাকে।



আমের পুষ্টিগুণ

      আম নানা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এতে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান উপস্থিত থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) মতে, এক কাপ (১৫৫ গ্রাম) কাটা আমের মধ্যে রয়েছে  –

এনার্জি – ৯৯ কিলো ক্যালোরি
প্রোটিন – ১.৩৫ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট – ২৪.৭ গ্রাম
ডায়েটারি ফাইবার – ২.৬৪ গ্রাম
ফ্যাট – ০.৬২৭ গ্রাম
শর্করা – ২২.৫ গ্রাম
ফোলেট – ৭১ এমসিজি
ভিটামিন সি – ৬০.১ এমসিজি
ক্যালসিয়াম – ১.২ মিলিগ্রাম
আয়রন – ০.২৬৪ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম – ১.৬৫ মিলিগ্রাম
পটাসিয়াম – ২৭৭ মিলিগ্রাম




আমের কত প্রকার  ও কি কি 

আম ৩৫ প্রকার আছে। 

এর বিভিন্ন জাত আছে যেমনঃ ১।ফজলী, ২।গোপালভোগ, ৩।ল্যাংড়া, ৪।খিরসা, ৫।অরুনা, ৬।আম্রপালি, ৭।মল্লিকা, ৮।সুবর্ণরেখা, ৯।মিশ্রিদানা, ১০।নিলাম্বরী, ১১।কালীভোগ, ১২।কাচামিঠা, ১৩।আলফানসো, ১৪।তোতাপুরী, ১৫।বারোমাসী, ১৬।কারাবাউ, ১৭।কেউই সাউই, ১৮।গোপাল খাস, ১৯।কেন্ট ম্যাংঙ্গো, ২০।সূর্যপুরী, ২১।পাহুতান, ২২।ত্রিফলা, ২৩।হাড়িভাঙ্গা, ২৪।ছাতাপুরী, ২৫।গুঠলি, ২৬।অ্যাষ্ঠা ২৭। ত্রিপাতি ২৮।আরচ ম্যাংঙ্গো ২৯।আমিতা আম ৩০।আরিষা পাত ৩১।যমজখিরি ৩২।বোম্বে ফজলী ৩৩।আড়ষ্ট আম ৩৪। শঙ্খ আম ৩৫।মারিচা ম্যাংঙ্গো

আমের  উপকারিতা… health benefits of mango

          আম আমাদের সবার পছন্দের একটা ফল। আম খেতে যেমন সুস্বাদু  তেমনি এর রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা। ভিটামিন , মিনারেল এবং এন্টি অক্সিডেন্ট সহ আমাদের শরীরের জন্য উপকারী এবং প্রয়োজনীয় অনেক উপাদানই আমের মধ্যে রয়েছে।



আমের উপকারিতার কথা জানব ..............

১। ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করেঃ বিভিন্ন রিসার্চে দেখা গেছে আমের মধ্যে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট, কোলন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং লিউকেমিয়া সহ বিভিন্ন রকমের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
২। কোলেস্ট্রেলরের মাত্রা কমায়ঃ আমে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, পেক্টিন এবং ভিটামিন সি আছে। এইসব উপাদান শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
৩। ত্বক সুন্দর রাখেঃ আম খেলে বা ত্বকের উপর ব্যবহার, দুইটাই ত্বকের জন্য উপকারী। আম আমাদের ত্বকের বন্ধ হয়ে যাওয়া লোমকূপ খুলে দিয়ে ব্রণ থেকে আমাদের ত্বককে রক্ষা করে।
৪। চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করেঃ ভিটামিন এ আমাদের দৃষ্টিশক্তি ও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরী। এক কাপ আমে আমাদের প্রতিদিনের ভিটামিনের এ এর চাহিদার ২৫% ভিটামিন এ থাকে। নিয়মিত আম খেলে এটি আমাদের রাতকাণা রোগ ও শুষ্ক চোখের সমস্যা থেকে দূরে রাখবে।
৫। শরীরের অম্ল অ ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করেঃ আমে টারটারিক এসিড, ম্যালিক এসিড এবং সাইট্রিক এসিড থাকে যা আমাদের শরীরের অম্ল অ ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।
৬। ডায়বেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করেঃ আমের পাতায় এমন উপাদান আছে যা আমাদের রক্তের ইন্সুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। গরম পানিতে আমের পাতা সিদ্ধ করে, সারারাত সেই পানিতে পাতা ভিজিয়ে ভোর বেলা সেই পানি খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৭। হজমে সাহায্য করেঃ আমে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আছে যা আমাদের হজমে সাহায্য করে।
৮। প্রচণ্ডে গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে আম খানঃ প্রচণ্ড গরমে কাঁচা আমের জুস আমাদের শরীরকে প্রশান্ত অ ঠাণ্ডা করে। প্রচণ্ড গরমে আমাদের শরীর থেকে অধিক পরিমাণ পানি বের হয়ে যায়। ফলে শরীরে পানির পরিমাণ কমে যায় এবং টক্সিক পদার্থের মাত্রা বেড়ে যায়। গরমের সময় আমের জুস শরীরের পানি শুন্যতা যেমিওন দূর করে তেমনি ক্ষতিকর পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয়।
৯। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়ঃ আমে প্রচুর ভিটামিন সি, এ এবং প্রায় ২৫ রকমের ক্যারটিনয়েড আছে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে আমাদের সাস্থবান বানায়।
১০। এজমা প্রতিরোধে সাহায্য করেঃ আমের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এজমা অ্যাটাক প্রতিরোধে সাহায্য করে।

Saturday, September 11, 2021

স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা, বেদানার উপকারিতা, ব্য়বহার এবং ক্ষতিকারক দিক – Pomegranate Benefits,

       


        ডালিম আমরা সাধারণ ফল হিসাবে জেনে থাকি। এটা বেদানা হিসাবে জনপ্রিয়তা বেশি। টুকটুকে লাল রঙের এই ফলটি সারা বছর জুড়েই প্রায় পাওয়া যায়। ডালিম অথবা বেদানা শুধুমাত্র ফল হিসাবে নয় বরং এটি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক সুবিধা রয়েছে। ডালিমের দানা তো আমরা সবাই খাই তবে এর রস খাওয়ার উপকারিতা অনেক। আমাদের শরীরের জন্য ডালিমের উপকারিতা বহু এবং তা জানলে আমরা অনেকটা আশ্চর্য হয়ে যাই।

 স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা

1. হার্ট ভালো রাখতে
2. ডায়রিয়া রোধ করতে ডালিমের উপকারিতা
3. ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিমের উপকারিতা 
4.পচন তন্ত্র ভালো রাখতে ডালিমের উপকারিতা
5. রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
6. স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডালিমের উপকারিতা
7. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডালিমের উপকারিতা
8. জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে ডালিমের উপকারিতা
9.অ্যানিমিয়ার জন্য ডালিমের উপকারিতা
10. ত্বকের যত্নে ডালিমের উপকারিতা

        স্বাস্থ্যের পাশাপাশি এটি ত্বকের জন্য অনেক উপকারি। আজকের এই নিবন্ধে আমারা ডালিমের উপকারিতার কথা আপনাদের জানাব। এখানে রইল স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা কয়েকটি বিষয়বস্তু।



স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা হার্ট ভালো রাখতে

      বর্তমানে ৮০ শতাংশ মানুষ হার্টের অসুখের জন্য মারা যায়। এই হার্ট রোগের একমাত্র কারন ভেজাল খাদ্য। বাইরের জাঙ্ক ফুড এবং তেলে ভাজা মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে আমাদের হৃদয়। যার দরুন দেখা মিলছে ভিন্ন ধরনের হার্টের অসুখ।


          বাইরের জাঙ্ক ফুডে অতিরিক্ত তেল থাকে। এই তেল জাতীয় খাবারগুলি আমাদের দেহের ধমনীর আবরণে জড়িয়ে থাকে এবং ধীরে ধীরে ধমনী সংকুচিত হতে থাকে। যার জন্য দিনের পর দিন মানুষের হার্টের সমস্যা বেড়ে চলেছে। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপাদান আমাদের হাতের সামনেই রয়েছে। নিয়মিত ডালিমের রস খেলে হার্টের অসুখের হাত থেকে রেহাই মেলে। কারন ডালিমের রস দেহের অতিরিক্ত চর্বিগুলি গলিয়ে দিতে সহায়তা করে। তাই আপনার যদি হার্টের অসুখ থাকে দেরি না করে আজ থেকে নিয়মিত ডালিমের রস খাওয়া শুরু করুন।


         বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হার্টের অসুখে ক্ষেত্রে ডালিমের উপকারিতা রয়েছে। অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে এলডিএল কোলেস্টেরল রক্ষা করে।


ডায়রিয়া রোধ করতে ডালিমের উপকারিতা

      ডালিম ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আমাদের সবারই একটা ভুল ধারনা রয়েছে ডায়রিয়া হলে ডালিম খাওয়া উচিত নয় কিন্তু আপনি কি জানেন ডায়রিয়া হলে ডালিমের রসের মতো ভালো বিকল্প অন্য কিছু হতে পারে না। নিয়মিত দুবেলা ডালিমের রস খেলে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।


ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিমের উপকারিতা 

       মারাত্মক রোগের প্রতিরোধের খুব কার্যকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় বেদানার বীজে অ্যান্টি ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা ক্যান্সারের কোষগুলিকে ক্রমবর্ধমান হতে বাঁধা দেয়। এছাড়াও এটি স্কিন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা করে।


পচন তন্ত্র ভালো রাখতে ডালিমের উপকারিতা

      ডালিমের দানা ভিটামিন বি এর ভালো উৎস। এটির জন্যই পাচক তন্ত্র ভালো থাকে। কারণ ভিটামিন বি শরীরের ফ্যাট, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেটকে দেহের শক্তিতে রূপান্তরিত করে।



        ডালিম ফাইবার এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ ধারন করে যা আমাদের পাচক সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি নিয়মিত অল্প মাত্রায় ডালিম বা তার রস খান তাহলে আপনি হজম সম্পর্কিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। এছাড়াও এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।


রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

         অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সমৃদ্ধ হওয়ায় ডালিম দেহের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় ডালিমেরে দানায় এই উপদানগুলি বিদ্যমান থাকায় বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে।



স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডালিমের উপকারিতা

         ডালিমের মধ্যে অ্যান্টি-প্লাক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং এটি সতেজ করে তোলে। ডালিমের উপস্থিত উপাদানগুলি ডেন্টাল ফলকের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়। ২০১১ সালের একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ডালিমের রস দাঁতের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করে।


রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডালিমের উপকারিতা

          উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যও ডালিম বেশ উপকারী। এটি অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট, ভিতামিন সি এবং নাইট্রিক অক্সাইডের ভালো উৎস। এটি রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ত ধমনীতে পুষ্ট করার জন্য পরিচিত। এটি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও অনেকাংশে হ্রাস করে। ২০১১ সালের একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে ডালিমের রস প্রতিদিন এক গ্লাস ডালিমের রস পান করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।



জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে ডালিমের উপকারিতা

         ডালিম জয়েন্টগুলি এবং সম্পর্কিত সমস্যার জন্য একটি সফল চিকিৎসা। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং সামগ্রিকভাবে জয়েন্টে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিয়মিত ডালিমের বীজ গ্রহণ করুন। এটিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-হ্রাসকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি জয়েন্টগুলিতে প্রদাহ হ্রাস করতে সক্ষম।


অ্যানিমিয়ার জন্য ডালিমের উপকারিতা

         রক্তাল্পতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডালিম একটি জীবন রক্ষাকারী ভেষজ। এটি শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে লাল রক্ত ​​কোষের সংখ্যাও বাড়িয়ে তোলে। এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়িয়ে রক্ত ​​প্রবাহকেও উন্নত করে। এটি ছাড়াও এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা আয়রন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।



ত্বকের যত্নে ডালিমের উপকারিতা

       ডালিম ভিটামিন “সি” এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য ত্বকের যত্নে ডালিম অসাধারণ কার্যকর। ত্বকের দাগছোপ রিমুভ করে ত্বকে উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও ডালিমে উপস্থিত ভিটামিন “সি” ত্বক গ্লোয়িং করে পাশাপাশি ত্বকে বয়সের ছাপ পরতে বাধা সৃষ্টি করে। বাড়িতে ডালিমের প্যাক বানানোর জন্য একটি টিপস নীচে দেওয়া হল-

ডালিমের ফেস প্যাক বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ-

• ২ টেবিল চামচ ডালিমের খোসার গুঁড়ো।
• এক টেবিল চামচ লেবুর রস।
• এক টেবিল চামচ মধু।




পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 



Thursday, July 22, 2021

মধু খাওয়ার উপকারিতা । প্রকারভেদ ও খাবার পদ্ধতি] মধু খাওয়ার উপকারিতা । প্রকারভেদ ও খাবার পদ্ধতি । Benefits of Honey মধু খাওয়ার উপকারিতা মধু আসলে কী ?

 মধু খাওয়ার উপকারিতা । প্রকারভেদ ও খাবার পদ্ধতি]

মধু খাওয়ার উপকারিতা । প্রকারভেদ ও খাবার পদ্ধতি । Benefits of Honey
মধু খাওয়ার উপকারিতা
মধু আসলে কী ? 

মধু হল আসলেএক ধরণের মিষ্টি এবং ঘন তরল পদার্থ, যা মৌমাছি ও নানারকম পতঙ্গ বিভিন্ন রকমের ফুলের নির্যাস সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা করে। এটি খুব উন্নত ওষধিগুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল। বর্তমানে চিনির বহুল প্রয়োগ সত্ত্বেও বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতিতে মধুর ব্যবহার জনপ্রিয়। অধুনা নারীদের রূপচর্চায় মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মধুর বিশেষ গুণ হল এটি সহজে নষ্ট হয়ে যায় না। এমনকি কয়েকশো বছরেও না। মধু খুব ঘন হওয়ায় কোনো জীবানু মধুর ভেতরে এক ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে না ।


মধুতে যে রাসায়নিক উপাদান থাকে :-
মধুতে মানুষের শরীরে প্রয়োজনীয় প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান মজুত থাকে।


ফুলের পরাগ নিঃসৃত মধুতে পাওয়া যায়-

২৫ থেকে ৩৬ শতাংশ গ্লুকোজ,
৩৪ থেকে ৪২ শতাংশ ফ্রুক্টোজ,
০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ
এবং ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ।
আরো থাকে ২০-২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড,
২৭-২৮ শতাংশ খনিজ লবণ
আর ১০-১১ ভাগ এনকাইম।


মধুতে প্রোটিন আর ফ্যাট থাকেনা । ১০০ গ্রাম মধুর তাপনমূল্য প্রায় ২৮০ ক্যালরির মত। মধুর মধ্যে থাকে আয়োডিন, জিংক ও কপার প্রভৃতি খনিজ সহ ভিটামিন বি এর বিভিন্ন উপাদানগুলি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হল মধুতে কোনো কোলস্টেরল থাকে না।

মধুর প্রকারভেদ :-

মধু নানা প্রকারের হয়ে থাকে, তবে সব থেকে জনপ্রিয় প্রকারের মধুগুলির নাম এখানে দেওয়া হল :-


মানুকা মধু :- লেপ্টোস্পের্মম স্কোপারিয়াম গাছে মৌমাছির দ্বারা সংগৃহীত মধু। এই মধু মানুকা প্রথম নিউ জিল্যান্ড এ প্রচলিত হয়।
ব্লবেরি মধু :– নীল জামের নির্যাস থেকে সংগ্রহ করা এই মধু ইংল্যান্ড ও মিকিগানে খুব বিখ্যাত।
অরেঞ্জ ব্লসম মধু :- কমলা লেবু থেকে সংগ্রহ করা এই জাতীয় মধু ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে খুব বিখ্যাত।
বাকহুইট মধু :- বাকহুইট গাছের ফুল থেকে মৌমাছি সংগ্রহ করে এই জাতীয় মধু।
আলফালফা মধু :- ছোট ছোট ফুল গাছের থেকে মৌমাছির দ্বারা পরাগিত হয়ে থাকে এই জাতীয় মধু।
ক্লোভার মধু :- ক্লোভার গাছের থেকে মৌমাছির দ্বারা চয়ন করা মধু ক্লোভার মধু নামে পরিচিত।

      ঘরে সংরক্ষিত মধু যে সমস্ত উপকারে লাগে তার তালিকা করতে হলে অনেক লম্বা হয়ে যাবে। তার মধ্যে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয় বিষয়গুলি নিম্নরূপ-


মধু খাওয়ার উপকারিতাগুলি হলঃ –

 ১। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে :-
         মধুতে থাকা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। সকালবেলা খালি পেটে দুই চামচ খাঁটি মধু নিয়মিত খেলে ভীষণ উপকার পাওয়া যায়।

২। ওজন কমায়:-
       ওজন বেড়ে যাচ্ছে ? কিংবা বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ফেলতে চান ? অথবা শরীরের স্লিম ভাব ধরে রাখতে চান ? তাহলে আপনার সবচেয়ে কার্যকর ভেষজ খাবার হল মধু। সকালবেলা খালি পেটে কুসুম গরম জলের সঙ্গে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে খান। দেখুন ম্যাজিকের মতো কাজ করে কিনা ।

৩। মুখের দুর্গন্ধ দূর করে :-
      মুখের ভিতরে নানা খদ্যদ্রব্য আটকে থাকে আর সেসব থেকে নানা জীবাণু ক্রিয়া করে। অনেকসময় মুখের ভিতরে আলসার বা ঘা হয়ে থাকে। কখনো মাড়ির গোড়া থেকে পুঁজ বেরোয়। যদি আপনি নিয়মিত মধু সেবন করেন তাহলে মুখের সেইসব সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারেন। আর মুখের দুর্গন্ধ অচিরেই পালিয়ে গেছে দেখবেন।

৪। হৃদরোগের উপশম ঘটায় :-
         মধু উষ্ণতা বৃদ্ধি করে এবং রক্ত সঞ্চালন সুস্থ ও স্বাভাবিক করে। ফলে হৃদপেশি মজবুত করে হৃদপিণ্ডের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় । রোজ এক চামচ মৌরির গুড়োর সঙ্গে এক চামচ মধু খেয়ে যান। এইভাবে নানা হৃদরোগের হাত থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে।

৫। হাঁপানি রোধে সাহায্য করে :-
       সামান্য গোলমরিচের গুঁড়োর সঙ্গে আদা মিশিয়ে মধুর সঙ্গে দিনে অন্তত বার তিনেক সেবন করলে হাঁপানির মতো রোগের যন্ত্রণা থেকে আরাম পাওয়া যায়।

৬। সর্দি-কাশি কমায় :-
         আমাদের ঠাকুমা দিদিমারা সর্দি কাশিতে বাসক পাতা, তুলসি পাতা ইত্যাদির সঙ্গে আদা মিশিয়ে মধুর সঙ্গে খেতে বলতেন। এটা যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। বুকের কফ পরিষ্কার করতে এর তুলনা নেই।

৭। হজমশক্তি বাড়ায় :-
         হজমের সমস্যা ! গুরুপাক কোনো খাবারের আগে Aciloc খাবার বদলে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। দেখবেন পেটের অ্যাসিড ভাব দূর হয়ে ভালো হজম হয়ে গেছে। এছাড়া রোজ খালি পেটে গরম জলের সঙ্গে মধু খাবার অভ্যাস করলে গ্যাস অ্যাসিডিটি দূর হয়ে ভালো হজম হবার অভিজ্ঞতা লাভ করবেন।

৮। গলাভাঙ্গা দ্রুত সারায় :-
      যাকে আমরা গলাভাঙ্গা বলি সেটা আসলে স্বরভঙ্গ । বেশি ঠাণ্ডা লাগলে কন্ঠ নালীর স্বরতন্ত্র আঘাতপ্রাপ্ত বা আক্রান্ত হলেই এরকমটা হয়ে থাকে। তাই এরকম হলে সৈন্ধব লবণ বা Rock salt এর সঙ্গে আমলকি,পিপুল, গোল মরিচ ইত্যাদির সঙ্গে মধু মিশিয়ে এক চা চামচ করে খেলে কফ যেমন দূর হবে তেমনি ও স্বরভাঙ্গাও দ্রুত কমে যাবে।

৯। যৌবনীশক্তি ধরে রাখে :-
       শরীরের পাশাপাশি যৌন ক্ষমতা ধরে রাখতে মধুর তুলনা নেই। ধাতু দুর্বলতা কিংবা যৌন ক্ষমতা কমতে থাকার হাত থেকে উন্নত অবস্থায় যেতে চাইলে নিয়মিত মধু সেবন করা দরকার।

১০। রক্ত পরিষ্কার রাখে :-
       লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিয়মিত খেলে রক্ত পরিষ্কার থাকে। এটা অভ্যাস করতে পারলে শরীরের অনেকগুলি দিকে উপকার পাওয়া যাবে।

১১। শরীর গরম রাখে :-
      লোকে বলে মধু খেলে শরীর গরম থাকে । কথাটি খুব সত্যি। এক কাপ গরম জলে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে শরীর গরম হয়। শীতের সময় এটি খুবই কার্যকরি। কেননা মধুর মধ্যে থাকা উচ্চ ক্যালরি শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে।

১২। বাতের ব্যাথায় আরাম দেয় :-
        যে কোনো ভাবেই যদি নিয়মিত মধু সেবন করা যায় তাহলে বাতের ব্যাথার মত গাঁটের ব্যাথা থেকে খুব আরাম পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে মধু খাবার পরিমাণ যেন নির্দিষ্ট পরিমাণে এবং তা নিয়ম করে খাওয়া হয়।



১৩। পেশি সুদৃঢ় করে :-
     মধুর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের পেশিকে যেমন দৃঢ় ও শক্তিশালী করে। তেমনি দেহের নানা ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

১৪। ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায় :-
    মধুর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট , বিভিন্ন ভিটামিন আর মিনারেল সমূহ রক্ত পরিষ্কার করার পাশাপাশি ফুসফুসের কার্য ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

১৫। দাঁতের গোড়া শক্ত করে :-
        দাঁতকে ও দাঁতের গোড়া মজবুত করতে হলে নিয়মিত মধু সেবন করা দরকার। বিভিন্ন জীবানু মধুর সংস্পর্শে ধ্বংস হয়ে যায়।

১৬। হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে রক্তশূন্যতা দূর করে :-
       মধুর মধ্যে থাকা কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি উপাদানগুলি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে রক্তাল্পতা দূর করে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে রক্তাল্পতার সমস্যা বেশি হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই তারা নিয়মিত মধু সেবন করলে রক্তের হিমোগ্লোবিন কমে যাবার সম্ভাবনা দূর হয়।

১৭। যৌনক্ষমতা বাড়ায় :-
     কুসুম গরম দুধের সঙ্গে মধু সেবন করলে তারুন্য শক্তি যেমন বজায় থাকে তেমনি নিয়মিত খেলে যৌনক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। তাই যুগ যুগ ধরেই মধু খাবার প্রচলন রয়েছে।

১৮। অনিদ্রা দূর করে :-
       মধুর গুনের মধ্যে থাকা আরেকটি গুন , যা হয়তো অনেকেই জানেন না , সেটা হল অনিদ্রাভাব দূর করার ক্ষমতা। রাতে ঘুমানোর আগে যদি এক গ্লাস হালকা গরম জলের সঙ্গে দুই চামচ মধু মিশিয়ে পান করা যায় তাহলে খুব গভীর ঘুম হবে এবং অনিদ্রার সমস্যা দূর হবে ।

১৯। দ্রুত বমিভাব দূর করে :-
   গা গোলানো বা বমি বমি ভাব হলে এক কাপ ঠাণ্ডা জলে এক চামচ মধু আর সামান্য জোয়ানের গুড়ো মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে বমি ভাব দূর হয়।

২০। ত্বকের মসৃণতা বৃদ্ধি করে :-
      মধু যেহেতু উত্তম একটি ভেষজ , আর এর মধ্যে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের টান টান অবস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখে। তাই মধু বুড়িয়ে যাওয়া থেকে দূরে রাখে। বর্তমানে তাই রূপচর্চায় মধুর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।


মধু খাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা :-

        কোনোকিছুই অতিরিক্ত ভালো নয় । তাই নিয়মিত অল্প অল্প করে না খেয়ে একেবারে বেশি পরিমাণ মধু খেলে শরীরে ক্ষতির সম্ভাবনা। আর শরীরে যদি গুরুতর কোনো রোগ থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনেই মধু সেবন করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল মধুতে ভেজাল। ভেজাল মধু খাবার থেকে সাবধান থাকতে হবে ।


খাঁটি মধু কীভাবে চিনবেন :-

        মধু কেনার সময় বড় সমস্যাটি হল , বিক্রেতা লোভে পড়ে মধুতে নানারকম ক্যামিক্যাল বা প্রাকৃতিক ভেজাল মেশায়। তাই আসুন জেনে নিই আসল মধু কীভাবে চেনা যায়:-

১। খ্যাতনামা বিশ্বস্ত কোনো কোম্পানির মধু কিনবেন , যা আগে আপনার খেয়ে পরখ করাই আছে।
২। খাঁটি মধু হবে আঠালো চটচটে। চামচে করে তুলে ধরলে লম্বা সুতোর মতো নীচে পড়তে থাকবে। 
৩। আঙ্গুলে এক ফোঁটা , মধু নিয়ে উল্টো করে ধরে দেখুন খুব দ্রুত পড়ে যায় কি না। আসল মধু হলে দ্রুত ফোঁটা ফোঁটা পড়ে যাবে না।
৪। মধু জলে খুব দ্রুত মিশে যায় । অন্য ভেজাল থাকলে জলের নীচে গুঁড়ো গুঁড়ো থিতিয়ে থাকবে।
৫। একটা পাত্রে মধু নিয়ে ফ্রিজে কিছুক্ষণ রেখে দিয়ে দেখুন কোনো রকম জমাট বাঁধে কিনা। খাঁটি মধু ফ্রিজের ঠাণ্ডায় জমাট বাঁধবে না ।


        আশা করি বন্ধুরা আজকের আর্টিকেল থেকে আমরা ভালো ও দরকারি কিছু শিখতে পারলাম । লেখাটি একটুও যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আবশ্যই আপনার পরিজনদের শেয়ার করতে ভুলবেন না। আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করে সঙ্গে থাকুন আর অপেক্ষা করুন এরকম আরো সুন্দর কিছু লেখার জন্য।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন
 
এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  

 

আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


My Blog List

  • Positive Thoughts - * 1) ‘Dreams are not what you see in your sleep. Dreams* *That's what keeps you awake. '* *2) ‘To be as bright as the sun first* *You have to burn li...
    6 months ago

Popular Posts