English to Bengali, বাংলা ও ইংরেজি, Online English to Bengali Tense, English Gramma

শিক্ষায় জীবন

Showing posts with label পেয়ারার উপকারিতা. Show all posts
Showing posts with label পেয়ারার উপকারিতা. Show all posts

হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখা থেকে হজমে সাহায্য করা, আর কী গুণ রয়েছে ফুলকপির ?

    হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখা থেকে হজমে সাহায্য করা, আর কী গুণ রয়েছে ফুলকপির ?

হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখা থেকে হজমে সাহায্য করা, আর কী গুণ রয়েছে ফুলকপির ?
 হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখা থেকে হজমে সাহায্য করা, আর কী গুণ রয়েছে ফুলকপির ?

       ফুলকপিতে রয়েছে সালফোরাফেন। এই উপাদান ক্যান্সারের স্টেম সেল মেরে টিউমারের বৃদ্ধি আটকায়। ফুলকপির এই উপাদান প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

     ফুলকপি ফাইবার-সমৃদ্ধ। যা হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। ফুলকপির সালফোরাফেন রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে

    ফুলকপিতে রয়েছে কোলিন। এটি এক ধরনের ভিটামিন বি। যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল রাখে

    ফুলকপিতে থাকা সালফোরাফেন, ভিটামিন সি ও ফোলাট ওজন ঝরাতে সাহায্য করে

    এটি ভিটামিন কে সমৃদ্ধ। যা হাড় শক্ত রাখে

    ফুলকপিতে উপস্থিত ফাইবার হজমে সাহায্য করে

    কিডনি রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে ফুলকপিতে থাকা ফাইটোকেমিক্যালস

    এই সবজিতে থাকা সালফোরাফেন রেটিনা নষ্ট হওয়া রোধ করে

উচ্চমাত্রায় ফাইবার থাকায় ফুলকপি রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করতে পারে

     ফুলকপিতে থাকা বিভিন্ন রকমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চামড়ার ডার্ক স্পট কাটাতে সাহায্য করে (ডিসক্লেমার : এগুলি এবিপি আনন্দর সাজেশন মাত্র। যে কোনও রকম রোগের ক্ষেত্রে কী সব্জি খাবেন বা কী ডায়েট চার্ট ফলো করবেন তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন)।

   

   সারা বছর ধরেই এখন ফুলকপি বাজারে পাওয়া যায়। তবে শীতকালীন ভাল সব্জির মধ্যে ফুলকপি অন্যতম। দেখতে একদম ফুলের মতো বলেই এর নাম ফুলকপি। বাঙালির আবার ফুলকপির প্রতি দুর্বলতা রয়েছে। সে খিচুড়িই হোক, বা সব্জির তরকারি, সবেতেই ফুলকপি দেওয়া চাই-ই চাই।

     এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: শীতকালের জন্য ফুলকপি আর ফুলকপির জন্যই বোধহয় শীতকাল!

     সারা বছর ধরেই এখন ফুলকপি বাজারে পাওয়া যায়। তবে শীতকালীন ভাল সব্জির মধ্যে ফুলকপি অন্যতম। দেখতে একদম ফুলের মতো বলেই এর নাম ফুলকপি। বাঙালির আবার ফুলকপির প্রতি দুর্বলতা রয়েছে। সে খিচুড়িই হোক, বা সব্জির তরকারি, সবেতেই ফুলকপি দেওয়া চাই-ই চাই। তবে বেশি খাওয়া একদমই উচিত নয়।

     আগে আমরা মটরশুটি নিয়ে কথা বলেছিলাম। এবার আলোচনা করব ফুলকপির গুণাবলী নিয়ে।

     ১. ফুলকপির খাদ্যগুণ অপরিসীম। ১০০ গ্রাম ফুলকপি থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোক্যালোরি সক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া এই সব্জি থেকে ৫-৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২ গ্রাম প্রোটিন, ০.৩ গ্রামের মত ফ্যাট পাওয়া যায়। এছাড়া ভিটামিন C, ভিটামিন K, ক্যালসিয়াম, আয়রন থাকে।

২. ফুলকপিতে প্রচুর পরিমানে জল আর তন্তু থাকে। এতে শরীর খুব ভাল থাকে। ডায়াবেটিস রোগীরা ফুলকপি নিঃসন্দেহে খেতে পারেন।

৩. ফুলকপি মুখের ভিতর মিউকাস মেমব্রেনকে ঠিক রাখে।

৪. প্রোস্টেট ক্যানসারের জন্য ফুলকপি খুবই উপকারী। এই সব্জি ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি রোধ করে।

৫. শিশু বা বয়স্করা ফুলকপি খেতে পারেন। কারণ, ফুলকপি দেহে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অনেকাংশেই বাড়িয়ে তোলে।

৬. সেদ্ধ ফুলকপি খেতে পারেন। তবে যাঁরা গ্যাস বা অম্বল রোগে ভোগেন তাঁদের ফুলকপি না খাওয়াই ভালো।

৭. যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাঁদেরও এই সব্জি না খাওয়াই ভাল।

৮. বর্তমানে ফুলকপি চাষে অত্যন্ত রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তাই রান্না করার আগে ঈষদুষ্ণ জলে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর জল ছেঁকে ফুলকপি রান্না করুন।

ধনের উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ধনের অন্যান্য উপকারিতা - Other benefits of Coriander in Bengali

ধনের উপকারিতা, ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Coriander Benefits, Uses and Side Effects in Bengali


        ধনে বা সিলান্ত্র একটি বাৎসরিক গাছড়া যা সাংস্কৃতিক ভারতীয় রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। খাদ্যাভ্যাসগত ফাইবারের একটি ভাল উৎস হিসেবে পরিচিত, কোরিয়ানড্রাম সাতিভাম-এর প্রচুর ঔষধিগুণ রয়েছে। বিভিন্ন সভ্যতা ধনে ব্যবহার করে আসছে প্রথাগত নিরাময়কারী এবং খাবার সুস্বাদু করার প্রতিনিধি হিসেবে। ধনে গাছ তার সম্পূর্ণতায় পেট্রোসেলিনিক অ্যাসিড এবং অপরিহার্য তেলের মত লিপিডের একটি সমৃদ্ধ উৎস।

          দক্ষিণ ইউরোপ এবং উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার স্থানীয় হিসেবে পরিচিত, ধনে হল একটি নরম গাছড়া যা সাধারণত 50সেমি উচ্চতার হয়। এর পাতার নিম্নভাগ হয় বিস্তৃত লতির মত এবং বাইরের প্রান্তগুলির দিকে হয় পাতলা এবং পালকের মত এবং এটি বিভিন্ন আকৃতির হয়ে থাকে। আয়ুর্বেদে ধনেকে অত্যন্ত প্রশংসা করা হয়েছে একটি ত্রিশোদিক (তিনটি উপকারিতা প্রদান করে) মশলা হিসেবে যেটি খিদে বাড়ায়, হজমে সাহায্য করে, এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

           ধনেতে বেশ কিছু জৈবিক উপাদান রয়েছে যার ফলে এই গাছড়ার বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন ঔষধিগুণ প্রদর্শন করে। এগুলির মধ্যে পরে ডায়বিটিসবিরোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, জীবাণুবিরোধী, মৃগীরোগ-বিরোধী (মৃগীরোগ প্রতিরোধ করে), অবসাদ-বিরোধী, প্রদাহবিরোধী (ফুলে যাওয়া রোধ করে), ডিসলিপিডেমিক-বিরোধী (রক্তে কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসেরাইডের রূপে থাকা লিপিড কমায়), স্নায়ু সুরক্ষাকারী (স্মৃতিশক্তির কোষগুলি রক্ষা করে), হাইপারটেনসিভ-বিরোধী (রক্তচাপ কমায়) এবং মূত্রবর্ধক (প্রস্রাব বাড়ায়) বৈশিষ্ট্য।

ধনের বিষয়ে কিছু মৌলিক তথ্য

বোটানিকাল নামঃ কোরিয়ানড্রাম সাতিভাম
পরিবারঃ অ্যাপিকাসি
প্রচলিত নামঃ ধনে, সিলান্ত্র, চীনা পারস্লে
সংস্কৃত নামঃ ধানিয়া
ব্যবহৃত অংশঃ পাতা, কাণ্ড, বীজ
স্থানীয় অঞ্চল এবং ভৌগলিক বন্টনঃ দক্ষিণ ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকা
ধনের পুষ্টিগুণের তথ্য 
ধনেপাতার উপকারিতা
বৃক্কের জন্য ধনেপাতা 
কোলেস্টেরলের জন্য ধনেপাতা 
যকৃতের জন্য ধনেপাতা 
ভাল স্মৃতিশক্তির জন্য ধনেপাতা
রক্তচাপের জন্য ধনেপাতা 
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ধনেপাতা 
ধনেপাতার রসের উপকারিতা 
ওজন কমানোর জন্য ধনেপাতার রস 
চুল পড়ার জন্য ধনেপাতার রস 
সুস্থ ত্বকের জন্য ধনেপাতার রস 
ধনের ঔষধিগুণ
বাতের জন্য ধনে 
অ্যালজাইমার’স রোগের জন্য ধনে 
উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার জন্য ধনে 
ক্যানসারের জন্য ধনে 
চুলকানি এবং অ্যালার্জির জন্য ধনে 
মূত্রনালির সংক্রমনে ধনে 
ধনের অন্যান্য উপকারিতা 
সুস্থ চোখের জন্য ধনে 
মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির জন্য ধনে 
জীবাণুর সংক্রমণের জন্য ধনে 
খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য ধনে 
ভারী ধাতু অপসারণের জন্য ধনে 
কি করে বানাবেন ধনের রস 
ধনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 
ধনের পুষ্টিগুণের তথ্য 
ধনে তার স্বাস্থপকারিতার জন্য পরিচিত। USDA অনুযায়ী, 100 গ্রা ধনের পরিবেশনের পুষ্টিগুন এই তালিকায় দেওয়া রয়েছে।


ধনেপাতার উপকারিতা 
        ধনেপাতা বরাবরই বেশিরভাগ খাবারে মশলা (স্বাদ বৃদ্ধিকারক) হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। উপরন্তু এও দেখা গেছে যে ধনের ব্যবহারের ফলে বেশ কিছু স্বাস্থপকারিতা পাওয়া গেছে। এই প্রবন্ধে ধনের ব্যবহারের ফলে ভাল স্বাস্থ্যের উন্নীত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

            ধনে গাছড়াটির সম্পূর্ণটারই বেশ কিছু ব্যবহার এবং উপকারিতা রয়েছে। ধনেপাতার কিছু ব্যবহার এবং স্বাস্থপকারিতার বিষয়ে খতিয়ে দেখা যাক।

বৃক্কের জন্য ধনেপাতা - Coriander leaves for kidney in Bengali
     পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, এবং ম্যাগনেসিয়ামের মত একগুচ্ছ খনিজ বস্তু পাওয়া যায় ধনেতে। সর্বোত্তম স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-এর মত ভিটামিন এবং বিটা-ক্যারোটিন (এক ধরণের রজক যা ভিটামিন এ তৈরির জন্য দায়ী) যা ধনেপাতায় পাওয়া যায়। ধনেপাতা একটি মুত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং বৃক্কের পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এর ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে এবং ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বার করে দেয়।

কোলেস্টেরলের জন্য ধনেপাতা - Coriander leaves for cholesterol in Bengali

ধনেতে থাকা জৈব যৌগ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এই যৌগগুলি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা সাধারণ পর্যায়ে নিয়ে আসে। নিয়মিত ধনের সেবনের ফলে কম ঘনত্বের কোলেস্টেরল (এলডিএল) এবং অত্যন্ত কম ঘনত্বের কোলেস্টেরল (ভিএলডিএল) কম শতাংশে পাওয়া গেছে কার্ডিওভাসকুলার রোগের রুগীদের মধ্যে।

ধনে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে রক্তে থাকা ট্রাইগ্লিসেরাইড কমিয়ে এবং উচ্চ ঘনত্বের কোলেস্টেরল (এইছডিএল) যা ভাল কোলেস্টেরল হিসেবেও পরিচিত।


যকৃতের জন্য ধনেপাতা - Coriander leaves for the liver in Bengali
      মানব শরীরের বিপাকীয় ক্রিয়ার সিংহভাগ যকৃতের দ্বারা সঞ্চালিত হয়। কোরিয়ানড্রাম সাতিভাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ থাকার দরুন হেপাটোপ্রোটেক্তিভ (যকৃৎ রক্ষা করে) হিসেবে কাজ করে ক্যাটালেজ, গ্লুটথিয়েন পেরক্সাইডেস, এবং সুপারক্সাইড ডিসমুটেজের মত কিছু এনজাইমের ক্রিয়া বাড়িয়ে দিয়ে। এই এনজাইমগুলি হাইড্রক্সিল র‍্যাডিকালের (ক্ষতিকারক প্রতিনিধি) মত বিষাক্ত পদার্থ নাশ করে এদের সাথে একাত্ম হয়ে এবং যকৃতের সঠিক কার্যকলাপ উন্নত করে।

       ভাল স্মৃতিশক্তির জন্য ধনেপাতা - Coriander leaves for good memory in Bengali
ধনের ওপর হওয়া ব্যাপক গবেষণা দৃঢ়ভাবে সুপারিশ করে যে এই গাছড়াটি স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে উল্লেখযোগ্য ভাবে সাহায্য করে।

          প্রাথমিক যে পদ্ধতিতে ধনে স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে তা হল কোলিনেরেস্টেস এনজাইম রোধ করে (একটি এনজাইম যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে থাকে) যেটি এসিটিলকোলিন নামক একটি স্নায়ুপ্রেরকের (স্নায়ুর সংকেত সরবরাহে সাহায্য করে) ভাঙনের জন্য দায়ী।

        এসিটিলকোলিন শরীরের পেশীর কোষগুলিকে সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয়। ধনে মস্তিষ্কে অক্সিডেটিভ চাপ কমায় যেটি কোলিনেরেস্টেসের ক্রিয়া রোধ করে, এবং এসিটিলকোলিনের গড়ে তলা উন্নীত করে। ফলত, সেটি স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।

রক্তচাপের জন্য ধনেপাতা - Coriander leaves for blood pressure in Bengali
ধনেপাতা দিয়ে তৈরি করা সালাদ প্রায়ই উচ্চ রক্তচাপের রুগীদের ক্ষেত্রে উপকারী পাওয়া গেছে।

        ধনে ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ যা এসিটিলকোলিনের সাথে পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে রক্ত থেকে চাপ মুক্ত করে।

         ধনে সেবনের সেইজন্য রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা রয়েছে। ধনের এই বৈশিষ্ট্য কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এবং স্ট্রোকের মত বিভিন্ন ধরণের কার্ডিওভাসকুলার (হৃদয়ের) রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

        অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ধনেপাতা - Coriander leaves as antioxidants in Bengali
মানব শরীর ক্রমাগত বাহ্যিক পারিপার্শ্বিক পরিবেশের বিষাক্ত পদার্থের সামনে উন্মুক্ত হয়।

         এইসব বিষাক্ত পদার্থের সাথে প্রতিক্রিয়ার ফলে শরীর ফ্রি র‍্যাডিকাল তৈরি করে যা কোষের ক্ষতি করে এবং দীর্ঘ মেয়াদে হৃদরোগ, ডায়বিটিস এবং ক্যানসারের মত রোগের জন্ম দেয়।

       ধনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি ভাল উৎস। ধনেপাতা থেকে তৈরি করা নির্যাস অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে পারে গ্লুটাথায়নের মত বৃহৎ সংখ্যক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সাহায্যে যা ফ্রি র‍্যডিকাল থেকে হওয়া ক্ষতি কমিয়ে দেয়।




ধনেপাতার রসের উপকারিতা - Coriander leaves juice benefits in Bengali
        টাটকা ধনেপাতা জলে চূর্ণ করলে যে রস পাওয়া যায় তার প্রচুর স্বাস্থপকারিতা রয়েছে। এছাড়াও, প্রচুর প্রস্তুতি (মিশ্রণ) তৈরি করা হয় ধনেপাতা চূর্ণ করে এবং তার সঙ্গে অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে এবং তা ব্যবহার করা হয় তার স্বাস্থপকারিতার জন্য। ধনেপাতার থেকে তৈরি করা রসের প্রধান সুবিধাগুলি নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

    ওজন কমানোর জন্য ধনেপাতার রস - Coriander leaves juice for weight loss in Bengali
বিশেষজ্ঞেরা বারংবর ধনেপাতার রস সুপারিশ করে আসছেন কার্যকর ভাবে ওজন কমানোর জন্য।

ধনেপাতায় থাকা অপরিহার্য তেল অন্ত্রের যাবতীয় জীবাণু নিষ্কাসিত করে স্থুলতার জন্য দায়ী সকল বিষাক্ত পদার্থ দূর করে দেয়।

       উপরন্তু, ধনেপাতায় থাকা পলিফেনল চর্বির সাথে লড়ে এবং তার জমে ওঠা প্রতিরোধ করে। ধনেপাতার রসের এইসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি লোকজনের মধ্যে ওজন কমাতে উন্নীত হয়।

চুল পড়ার জন্য ধনেপাতার রস - Coriander leaves juice for hair loss in Bengali
         ধনেপাতার রস বা পেস্ট চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। ধনে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন কে-তে সমৃদ্ধ। কেরাটিন হল সেই প্রোটিন যা চুলের গুটিকা শক্তিশালী করতে চুল ভেঙে যাওয়া থেকে আটকাতে প্রয়োজন।

        ভিটামিন কে প্রয়োজন কেরাটিন তৈরি হতে। ধনেপাতার রস সেবনের ফলে কেরাটিন প্রোটিনের গঠন এবং জমা শুরু হতে সাহায্য পায়। ফলত উন্নত চুলের বেড়ে ওঠা শুরু হয়। এর ফলে চুলের পরিমাণ এবং চাকচিক্য বাড়ে।  

সুস্থ ত্বকের জন্য ধনেপাতার রস - Coriander leaves juice for healthy skin in Bengali
         ধনের পাতা রস হিসেবে খেলে বা পেস্ট হিসেবে ব্যবহার করলে ব্রণ এবং ব্ল্যাকহেড কমায়। তৈলাক্ত ত্বকের ব্যক্তিরা ধনেপাতার রস বা পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করতে।

        ধনেপাতার রসে জীবাণুবিরোধী এবং ছত্রাকবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি একটি পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে এবং সকল প্রকার জীবাণু এবং ছত্রাক যার কারণে তৈলাক্ত ত্বক এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যা হয় তা নিষ্কাসিত করে দেয়।

ধনের ঔষধিগুণ - Medicinal Benefits of Coriander in Bengali
     উপরুক্ত স্বাস্থপকারিতা বাদেও ধনের কিছু উপকারী ঔষধিগুণ রয়েছে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে। এইসব ঔষধিগুণ নিচে বিশদে আলোচনা করা হয়েছে।

        শরীরকে বিষমুক্ত করেঃ ধনে যকৃৎ এবং বৃক্কের কার্যকারিতা উন্নত করে, যেগুলি আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক বিষনাশক অঙ্গ। এটি মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাসন বাড়িয়ে দেয়।
        মস্তিষ্কের ক্রিয়া উন্নত করেঃ ধনেপাতার মস্তিষ্কে অ্যান্টিঅক্সিডেটিভ প্রভাব রয়েছে যেটিকে স্মৃতিশক্তি এবং চেতনা উন্নত করতে দেখা গেছে। এটি স্নায়ুক্ষয়কারী রোগ হওয়ার আশঙ্কাও কমিয়ে দেয় চাপ-বিরোধী এবং অবসাদ-বিরোধী প্রভাব বিস্তার করার সাথে সাথে।
       ওজন কমানো উন্নীত করেঃ ধনের বিষনাশক প্রভাব এটিকে একটি দুর্দান্ত ওজন কমানোর নিরাময় তৈরি করে। এটি শরীরে চর্বি জমা কমায় এবং অন্ত্রের আনুবিক উদ্ভিদ উন্নত করে, যার ফলে শরীরের ওজন কমে।
       ত্বকের উপকারিতাঃ ধনেপাতার রস এবং পেস্ট, খেলে বা ব্যবহার করলে তা ব্রণ এবং ব্ল্যাকহেড কমায় বলে জানা যায়। এটি ত্বকে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক বেড়ে ওঠা রোধ করে এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।
      মৌখিক স্বাস্থ্য উন্নত করেঃ ধনে হল একধরনের প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী যা টাকরা পরিষ্কার করে এবং নিশ্বাসের দুর্গন্ধ কমায়। এটি মুখের আলসার কমাতেও কার্যকর বলে সুপারিশ করা করা।
       মূত্রনালীর সংক্রমণের জন্যঃ ধনের দ্বৈত উপকারিতা রয়েছে মূত্রনালীর সংক্রমণের লক্ষণগুলির ক্ষেত্রে। এটি শুধুমাত্র শরীর থেকে প্যাথোজেন নিষ্কাসিত করে দিতেই সাহায্য করে না, এটি মূত্রনালিতে জীবাণুর বেড়ে ওঠায় বাধা দেয়।

বাতের জন্য ধনে - Coriander for arthritis in Bengali
      কোরিয়ানড্রাম সাতিভাম-এর প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ধনের এই প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত কার্যকর বাতের মত অসুস্থতার ক্ষেত্রে। যেই রুগীরা গাঁট ফুলে ওঠার কারণে বাতে ভোগেন তারা ত্বকের ফুলে ওঠা এবং ত্বকে দানা হওয়ায় ভোগেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে ধনে ত্বকের ফুলে ওঠা কমায় যার ফলে অস্বস্তি কমে এবং আপনার ত্বকের অবস্থার উন্নতি হয়।

অ্যালজাইমার’স রোগের জন্য ধনে - Coriander for Alzheimer’s Disease in Bengali
      অ্যালজাইমার’সের মত স্নায়ুক্ষয়কারী (স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষয়) রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে ধনের ডোজের ওপর নির্ভর করে। এসিটিলকোলিন নামক স্নায়ুপ্রেরকের ঘাটতির কারণে তা অ্যালজাইমার’সের আকার ধারন করে। এসিটিলকোলিন পেশীর নড়াচড়ার জন্যেও প্রয়োজন এবং এর ক্ষয় পক্ষাঘাতের মত অবস্থায় রূপান্তরিত হতে পারে। ধনে কোলিনেরেস্টেস এনজাইমের ক্রিয়া আটকে এই রোগ প্রতিরোধ করে যেটি এসিটিলকোলিনের ভাঙ্গনের জন্য দায়ী।

উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার জন্য ধনে - Coriander for anxiety and depression in Bengali
       ধনে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয় এর অবসাদ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য। বিশেষজ্ঞেরা অ্যালজাইমার’সের ওপর ধনের প্রভাব বোঝার পড়াশোনাতে আবিষ্কার করেছেন এর সম্ভাব্যতা রয়েছে উদ্বেগ নিরাময়ের। গবেষণায় পাওয়া গেছে ধনের উদ্বায়ী তেল স্নায়ুতন্ত্রের রুগীদের দিলে, উদ্বেগ এবং চাপের বিপরীত ক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে। এটি প্রধানত সম্ভব হয় গ্লুটাথায়নের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে, যেটি মস্তিষ্কের অক্সিডেটিভ-বিরোধী ক্রিয়া বাড়িয়ে তোলে। এইভাবে উদ্বেগ এবং চাপের অবস্থাগুলি কমে।




ক্যানসারের জন্য ধনে - Coriander for cancer in Bengali
       ধনে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কার্যকর হিসেবে দাবি করা হয় কারণ এর মিউটাজেনিক-বিরোধী (যেই পরিব্যক্তিগুলি ক্যানসারে রূপান্তরিত হয় সেগুলি কমায়) বৈশিষ্ট্য রয়েছে। একটি গবেষণায় ধনের রসে মিউটাজেনিক-বিরোধী বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে। যা ডিএনএ-তে পরিব্যক্তি কমায়, বিশেষত ক্যানসারজনক পণ্যের। ধনের ক্যানসার-বিরোধী হিসেবে কাজ করার সম্ভাব্যতা, যদিও, এখনও ইন-ভিভো পরীক্ষা হওয়া বাকি।

চুলকানি এবং অ্যালার্জির জন্য ধনে - Coriander for rashes and allergies in Bengali
       ধনে তার প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রখ্যাত। আয়ুর্বেদিক অনুশীলনকারীরা ধনের রস সুপারিশ করেন চুলকানি, প্রদাহ, চামড়ায় ফুসকুড়ি এবং পোকামাকড়ের কামড় থেকে হওয়া অ্যালার্জির চিকিৎসা করতে। ধনের রস পুড়ে যাওয়া, খড় জ্বরের (অ্যালার্জিক রাইনিটিস) চিকিৎসাতেও কার্যকর।

মূত্রনালির সংক্রমনে ধনে - Coriander for urinary tract infections in Bengali
      মূত্রনালি সংক্রমণ (ইউটিআই) প্রধানত হয় যৌনাঙ্গে প্যাথোজেন থেকে হওয়া সংক্রমণ থেকে যেই কারণে প্রস্রাব করার সময় আমাদের জ্বালার অনুভব হয়। বিভিন্ন প্রথাগত চিকিৎসায়, ধনে ব্যবহার করা হয়েছে মুত্রনালির সংক্রমণ সারাতে এটির জীবাণুবিরোধী এবং মুত্রবর্ধকের বৈশিষ্ট্যের জন্য এবং ইউটিআই রোগের কারণ যে প্যাথোজেন তার বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ার জন্য, যেগুলি সাধারণত ওষুধের প্রতিরোধী।  

ধনের অন্যান্য উপকারিতা - Other benefits of Coriander in Bengali
       ধনের স্বাস্থপকারিতা এবং ঔষধিগুণ ছাড়াও কিছু উল্লেখযোগ্য উপকারিতা রয়েছে রোজকার খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করলে। ধনের অন্যান্য উপকারিতা এখানে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সুস্থ চোখের জন্য ধনে - Coriander for healthy eyes in Bengali
        ধনে ভিটামিন এ-র একটি সমৃদ্ধ উৎস, যেটি রড এবং কোন কোষ, যেগুলি দৃষ্টিতে সহায়তা করে, তার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন। ধনেতে উচ্চ পরিমাণে থাকা ভিটামিন এ চোখ রক্ষা করতে কাজে লাগে। এটি রাতকানা হওয়াও প্রতিরোধ করে। ধনেতে থাকা ভিটামিন এ আসে ক্যারোটিনয়েড থেকে বিটা-ক্যারোটিন (যার থেকে ভিটামিন এ তৈরি হয়) হিসেবে। এবং সেই কারণে অত্যন্ত বেশি পরিমাণেরও কোন বিষক্রিয়া নেই।  

মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির জন্য ধনে - Coriander for oral hygiene in Bengali
       ধনে ব্যবহার করা যেতে পারে একক ভাবে বা লবঙ্গের মত পরিষ্কারক প্রতিনিধির সাথে মিশিয়ে এবং কার্যকর ভাবে মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির জন্য। ধনেতে থাকা অপরিহার্য তেল, সিত্রনেললের বীজবারক হিসেবে কার্যকারিতা রয়েছে। মুখের আলসার সারাতে এই বৈশিষ্ট্যটি সাহায্য করে এবং নিশ্বাস পরিষ্কার করে। গবেষণা দাবি করে যে মুখের আলসার উল্লেখযোগ্য কমে ধনের পেস্ট ব্যবহার করলে।

জীবাণুর সংক্রমণের জন্য ধনে - Coriander for microbial infections in Bengali
      ধনে প্রচুর জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এর অপরিহার্য তেলে দীর্ঘ চেনের অ্যালডিহাইড থাকার দরুন। লিস্টারিয়া মনোসাইটোজিনস, সালমেনেলা এন্টারিকা, এসেরিশিয়া কোলি, বসিউলাস স্পপি, স্টাফাইলোকোকাস অরেয়াস এবং ক্যান্ডিড এলবিক্যান্সের হল কিছু প্যাথোজেন, যেগুলি একগুচ্ছ গুরুতর সংক্রমণ তৈরি করে। এগুলি প্রতিরোধ করা যেতে পারে ধনে ব্যবহার করে।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য ধনে - Coriander for food poisoning in Bengali
        ধনের সেবনের ফলে অন্ত্র পরিষ্কার থাকে এবং জীবাণুজাত সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। অপ্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের মত প্যাথোজেন শরীরে ঢুকতে পারে খারাপ পরিবেশে তৈরি করা খাবার খেলে। ধনের জীবাণুবিরোধী বৈশিষ্ট্য যেকোনো ধরণের খাদ্যের বিষক্রিয়া রোধ করে যা খাদ্যজাত প্যাথোজেন থেকে হয় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।  

ভারী ধাতু অপসারণের জন্য ধনে - Coriander for removing of heavy metals in Bengali
       একটি গবেষণা অনুযায়ী শরীরে দূষণের কারণে জমা ভারি ধাতু অপসারণ করে দেয় ধনে এবং তার থেকে হওয়া ক্ষতি নুন্যতম করে দেয়। শিষা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক, মার্কারির মত ভারি ধাতু শরীরের জৈব চাপ বৃদ্ধি করে এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ বারবার ফিরে আসতে পারে যেগুলি হার্পিস সিম্পলেক্স এবং ক্ল্যামিডিয়া ট্র্যাকোমাটিসের মত প্যাথোজেন থেকে হয়। ধনে এইসব ক্ষতিকারক ধাতুর শরীর থেকে নিষ্কাসন উন্নত করে এবং শরীরকে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলে।

কি করে বানাবেন ধনের রস - How to make coriander juice in Bengali
বিভিন্ন স্বাস্থপকারিতার জন্য খাওয়া ধনের রস বাড়িতেই তৈরি করা যায় নিম্নোক্ত সহজ পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করে।

এক মুঠো ধনেপাতা ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে তারপর তা সুক্ষভাবে কেটে নিন।
½ কাপ জলে ধনেপাতা যোগ করুন এবং সেটি জুসারে পিষে নিন।
    ছাকনিতে রসটি ছেঁকে নিন এবং তৎক্ষণাৎ পরিবেশন করুন। রসটিকে খাওয়ার জন্য আরও তরল করতে পারেন অতিরিক্ত জল যোগ করে (প্রায় ¼ কাপ) ।


ধনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Side effects of coriander in Bengali
     ধনে সাধারণত খাওয়ার জন্য সুরক্ষিত মনে করা হয় সাধারণ পরিমাণে এবং ওষুধ হিসেবে প্রস্তাবিত পরিমাণ খেলেও তা নির্ভরযোগ্য। যদিও, কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেগুলি নিম্নলিখিতগুলির অন্তর্ভুক্ত।

       পেটে ব্যথা এবং ডাইরিয়া সৃষ্টিকারী কিছু ধরণের ধনে কিছু লোকজনের কাছ থেকে জানা গেছে। যদি অবস্থা একই থাকে, একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা বাঞ্ছনীয়।
     ধনের অতিরিক্ত সেবন কিছু ধরণের অ্যালার্জির রূপ নিতে পারে কিছু লোকের ক্ষেত্রে। কোন ধরণের অ্যালার্জি যদি বেড়ে ওঠে, তৎক্ষণাৎ আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন এবং সঠিক পরামর্শ অবধি এর ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
ধনে অতিরিক্ত সেবন করলে তা কিছু লোকজনের মধ্যে রক্তচাপ অত্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে হালকা মাথা ঘোড়া বা অসাড়তা দেখা দিতে পারে।
     শ্বাসযন্ত্রের রোগে ভোগা কিছু লোকজনের একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা দরকার ধনে সেবন করা আগে কারণ নিঃশ্বাসের দুর্বলতা এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগের মত কিছু অবস্থা কিছু লোকজনের মধ্যে দেখা গেছে।
     ধনেতে থাকা অ্যাসিডিক উপাদান কিছু লোকজনের মধ্যে সূর্যের আলর প্রতি সংবেদনশীলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ধনে সেবন করা ফলে কিছু লোকজনের মধ্যে বুকের ব্যথার খবর পাওয়া গেছে। সেহেতু ঔষধীয় কারণের জন্য ধনে সেবন করার আগে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা অত্যন্ত দরকারি।
       ধনে মানুষের প্রজনন গ্রন্থির ক্ষতি করতে পারে এবং গর্ভবতী মহিলাদের ভ্রূণ উন্নয়ন ব্যাহত করে দিতে পারে। সেহেতু গর্ভবতী মহিলাদের অতিরিক্ত পরিমাণে ধনে সেবন করা উচিৎ নয়।

পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  

আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 

Thank You 


আনারসের উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকারক দিক (Pineapple Benefits, Uses and Side Effects in Bengali)

আনারসের উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকারক দিক  (Pineapple Benefits, Uses and Side Effects in Bengali)




আসুন জেনে নেই আনারসের পুষ্টিগুন ও উপকারীতাঃ

1
আনারস পুষ্টির বেশ বড় একটি উৎস। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং আরও অনেক পুষ্টি উপাদান।
2
এতে থাকা প্রচুর ভিটামিন সি ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা ও কাশি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া জ্বর ও জন্ডিসের প্রকোপ কমাতে আনারস বেশ উপকারী। নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা এবং ব্রংঙ্কাইটিসের বিকল্প ওষুধ হিসেবে আনারসের রস কাজ করে। তাই এ গরমে নিয়মিত আনারস খেয়েই দূর করা যাবে গরম- ঠাণ্ডার জ্বর, জ্বর-জ্বর ভাবসহ নানা সমস্যা।
3
এছাড়াও ওজন কমাতে, রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে, হাঁড় ও দাঁতের গঠনে, ক্যানসারপ্রতিরোধে, ত্বকের যত্নে রয়েছে এর দারুণ কার্যকারিতা।
4
আনারসে থাকা বিটা ক্যারোটিন চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করতে সাহায্য করে।
5
কৃমিনাশক হিসেবে আনারসের জুস ভালো কাজ করে। নিয়মিত আনারসের জুস খেলে কৃমির সমস্যা দূর করা সম্ভব। 

আনারসে থাকে ব্রোমেলিন নামক এসিড যা হজমশক্তি বৃদ্ধি করে কিন্তু এটি অধিক পরিমাণে গ্রহণ না করে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে এর সুফল পাওয়া যাবে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া। প্রেগন্যান্ট এবং আলসার রোগীদের না খাওয়াই ভালো। যাদের আনারসে এলার্জি হয় তারা লবন দিয়ে ধুয়ে খেলে উপকৃত হতে পারেন।

আনারসের উপকারিতা, ব্যবহার

আনারস হল একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফল যা গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম বা উৎসেচক এবং পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। এটি খেতেও যেমন সুস্বাদু এর খাদ্য গুণও অনেক। এটি সম্ভাব্য ওজন হ্রাস, ভাল হজমশক্তি গড়ে তুলতে এবং প্রদাহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাচ্চাদের শরীরে পুষ্টির পরিমান বাড়াতে পারে এই আনারস । আমাদের এই প্রতিবেদনে আনারসের উপকারিতা সম্পর্কে নানা তথ্য থাকবে।


 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে

আনারসে ব্রোমেলাইন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং ক্ষত নিরাময়ের সম্ভাব্যতা বাড়িয়ে তোলে । আনারসের রস যেসব শিশুদেরও নিয়মিত খাওয়ানো হয় তাদের মাইক্রোবিয়াল সংক্রমণের ঝুঁকি কম হয় । এই ফলটি রোগ প্রতিরোধকারী শ্বেত রক্ত ​​কণিকার (WBC) ঘনত্বকে চারগুণ বাড়িয়ে তোলে । অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে হাঁপানির লক্ষণগুলি কমানোর পিছনে জন্য ব্রোমেলাইন সম্ভাবনা থাকতে পারে  ।



 হজমের সমস্যাকে দূর করতে

আনারসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ব্রোমেলাইন।  একটি শক্তিশালী এনজাইম যা হজম ক্ষমতাকে উন্নত করে । গবেষণায় দেখা যায় ব্রোমেলাইন (ডাইজেস্টিভ এনজাইম) শরীরের


প্রোটিনগুলি ভাঙতে সাহায্য করে  । গবেষণায় জানা যায়, ডায়রিয়ার সমস্যার থেকেও নাকি এই অনাররস মুক্তি দিতে পারে।


 ব্লাড প্রেসার ঠিক রাখতে

আনারসে উপস্থিত ব্রোমেলাইন রক্তের প্লেটলেটগুলিকে জামাট বাঁধতে দেয় না। তাই  থ্রোম্বোফ্লেবিটিস (রক্তের জমে যাওয়া) এর চিকিৎসায় সহায়তা করতে পারে। ফলে ব্লাড প্রেসারের মাত্রাও ঠিক থাকে । তবে কার্ডিওভাসকুলার রোগে ব্রোমেলিনের উপকারীতার কথা জানতে এ সম্পর্কে আরও গবেষণার প্রয়োজন ।


 ডায়াবেটিস কমাতে

জানা যায়, রক্তের শর্করার পরিমান কমিয়ে আনতে পারে এই ফল। তবে এ সম্পর্কিত কোনো প্রমাণিত তথ্য নেই।


 হাড়কে মজবুত করে

আনারসে ম্যাঙ্গানিজ থাকে যা হাড় গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এগুলিতে ভিটামিন সি রয়েছে যা হাড়ের কোলাজেন গঠনে সহায়তা করে। আনারস কম বয়সীদের ক্ষেত্রে হাড়ের বৃদ্ধি ঘটাতে পারে এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের হাড়কে শক্তিশালী করতে পারে (2)।


 দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

ভিটামিন সি উপস্থিত থাকে বলে আনারস দাঁতের স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে পারে।



 ওজন কমাতে

গবেষণায় দেখা গেছে , আনারসেঅ্যান্টি ওবিসিটির প্রভাবগুলি বর্তমান। এটি খেলে দেহে ফ্যাট কম জমে এবং লিভারের ফ্যাট জমতে দেয় না (3)।


 ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে

ব্রোমেলাইন কোলন ক্যান্সার কোষগুলিতে ক্যান্সার বিরোধী প্রভাবগুলি প্রদর্শন করে। ব্রোমেলিনযুক্ত খাবারগুলি কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে উপযোগী (4)।


ত্বকের জন্য আনারসের উপকারিতা

এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে সীমিত গবেষণা করা হয়েছে। আনারসে থাকা ভিটামিন সি ত্বকে তার উপকারিতার প্রভাব দেখায়। ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে করতে সাহায্য করে এবং ত্বক নানা ধরণের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে । এছাড়া যেসব উপকারিতা আছে তা নিচে উল্লেখ করা হল।


অ্যাকনে দূর করতে সাহায্য করে

ত্বককে সজীব করে তোলে

নখকে মজবুত করে তোলে

ঠোঁট বা পা ফেটে গেলে তা সারাতে।

এক্ষত্রে আনারস মিক্সার গ্রাইন্ডারে পেস্ট করে তা দিয়ে ফেস প্যাক বানিয়ে লাগাতে হবে।


চুলের জন্য আনারসের উপকারিতা

আনারসে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি পাওয়া যায় যা আমাদের চুলের সঠিক ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য খুবই প্রয়োনজনীয়। এছাড়া ভিটামিন সি আমাদের চুল পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়। আনারসে উপস্থিত আ্যন্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরী। স্বাস্থ্যকর করে তোলে ও খুশকির থেকে বাঁচায়।

চুলকে পুষ্টি সমৃদ্ধ করে তুলে চুলে ঘন ও মজবুত বানায়।

চুলকে উজ্জ্বল করে তোলে।

এক্ষত্রে আনারস মিক্সার গ্রাইন্ডারে পেস্ট করে তা দিয়ে হেয়ার প্যাক বানিয়ে লাগাতে হবে।




আনারসের পুষ্টিগত মান

প্রতি এক কাপ (১৬৫ গ্রাম) আনারসের পুস্তুগুণ নিচে উল্লেখ করা হল।

৭৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি

৯৫ IU  ভিটামিন এ

২১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম

১৯ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম

১২ মিলিগ্রামফসফরাস

১৮০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম

২৯ মাইক্রো গ্রাম ফোলেট।


আনারসের ব্যবহার

আনারস কেটে ওপরে একটু বিট নুন ছড়িয়ে খেতে পারেন বা শুধুও খেতে পারেন। এছাড়া এর চাটনি বানিয়েও খেতে পারেন, অনেকেরই খুব পছন্দের আনারসের চাটনি।

আনারসের ক্ষতিকারক দিক

অ্যালাৰ্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে গর্ভাবস্থায় গর্ভপাতের কারণ হতে পারে  এবং   গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় আনারস খাওয়া এড়ানো উচিত।

তবে এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

আনারস আপনার শরীরকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে। আপনি এটিকে আপনার ডায়েটে যোগ করতে পারেন । এর উচ্চ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে । যদিও অ্যালার্জির থেকে সাবধান থাকুন। আপনি যদি কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন, তাহলে এটি ব্যবহার বন্ধ করুন এবং আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।



বর্ষায় তাজা আনারসের রস, এই উপকারগুলি অনায়াসে পেতে পারেন

পিনা কোলাডা পছন্দ করেন? তাহলে আপনি নিশ্চয় আনারস খেতেও ভালোবাসেন। আনারস খেতেও যেমন সুস্বাদু তেমনই এর উপকারিতাও অনেক।

আনারসের জুস খুবই উপকারী

আনারস গোটা খাওয়ার থেকে যদি জুস করে খেতে পারেন তাহলে বেশি ভালো।
অন্য যে কোনও ফলের রসের থেকে আনারস উপকারী।
আনারসের জুসে আলাদা করে চিনি দিতে হয় না।
এমনিই মিষ্টি।
এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: পিনা কোলাডা পছন্দ করেন? তাহলে আপনি নিশ্চয় আনারস খেতেও ভালোবাসেন। আনারস খেতেও যেমন সুস্বাদু তেমনই এর উপকারিতাও অনেক। কী ভাবছেন এই ফল কাটা ঝামেলার? তবে আনারস কাটাও একরকম আর্ট। আর এখন বাজারে সুন্দর করে কেটেই আনারস বিক্রি করা হয়। আনারস গোটা খাওয়ার থেকে যদি জুস করে খেতে পারেন তাহলে বেশি ভালো। অন্য যে কোনও ফলের রসের থেকে আনারস উপকারী। আনারসের জুসে আলাদা করে চিনি দিতে হয় না। এমনিই মিষ্টি। এছাড়াও এর মধ্যে থাকে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। যা শরীরে ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করে। একনজরে দেখে নিন আনারসের জুসে আপনার যা যা উপকার হবে

ক্ষত সারায়- আনারসের জুস যে কোনও রকম ক্ষত সারাতে প্রস্তুত। এছাড়াও আনারস ভালো উৎসকের কাজ করে, হজম ভালো হয়, দীর্ঘদিনের জ্বালা যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে এই জুস খুবই ভালো। পেশির ব্যথা কমায়। রক্তকে হঠাৎ করে জমাট বাঁধতে দেয় না।

ক্যান্সার কোশের ক্ষমতা হ্রাস- ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যদি প্রতিদিন আনারস খাওয়া যায়। এছাড়াও কেমো চলাকালীন চিকিৎসকরা প্রতিদিন এই ফল খাওয়ার কথা বলছেন। অদূর ভবিষ্যতে আনারস থেকেই ক্যান্সারের ওষুধ তৈরি হবে এরকম সম্ভাবনাও আছে।

হার্ট ভালো রাখে- হার্ট ভালো রাখতে আনারসের জুড়ি নেই। আনারসের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি হার্টের রোগকে দূরে রাখে।

দৃষ্টিশক্তি ভালে রাখে- চোখের ইনফেকশন বা কর্নিয়ার সমস্যা অনেক কমে যায়। এছাড়াও ছানি দেরিতে পড়ে।

যৌনক্ষমতা বাড়ায়- পুরুষ এবং নারীর যৌনক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন এবং খনিজে পূর্ণ থাকায় ডিম্বানু এবং শুক্রাণু নির্গমন ভালো হয়।

শ্বাসকষ্টের সমস্যা দূর করে- অ্যাজমা, হাঁপানি প্রভৃতি সমস্যার সমাধান হয় আনারসে।

ওজন কমাতে- চটপট ওজন ঝরাতে চান? তাহলে আজই খাওয়া শুরু করুন আনারস। ওজনও কমবে আর কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা থেকেও দূরে থাকা যাবে।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


আমের উপকারিতা, ব্যবহার ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া -Mango Benefits, Uses and Side Effects in Bengali,আম নানা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এতে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান উপস্থিত থাকে।



আমের পুষ্টিগুণ

      আম নানা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এতে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান উপস্থিত থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) মতে, এক কাপ (১৫৫ গ্রাম) কাটা আমের মধ্যে রয়েছে  –

এনার্জি – ৯৯ কিলো ক্যালোরি
প্রোটিন – ১.৩৫ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট – ২৪.৭ গ্রাম
ডায়েটারি ফাইবার – ২.৬৪ গ্রাম
ফ্যাট – ০.৬২৭ গ্রাম
শর্করা – ২২.৫ গ্রাম
ফোলেট – ৭১ এমসিজি
ভিটামিন সি – ৬০.১ এমসিজি
ক্যালসিয়াম – ১.২ মিলিগ্রাম
আয়রন – ০.২৬৪ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম – ১.৬৫ মিলিগ্রাম
পটাসিয়াম – ২৭৭ মিলিগ্রাম




আমের কত প্রকার  ও কি কি 

আম ৩৫ প্রকার আছে। 

এর বিভিন্ন জাত আছে যেমনঃ ১।ফজলী, ২।গোপালভোগ, ৩।ল্যাংড়া, ৪।খিরসা, ৫।অরুনা, ৬।আম্রপালি, ৭।মল্লিকা, ৮।সুবর্ণরেখা, ৯।মিশ্রিদানা, ১০।নিলাম্বরী, ১১।কালীভোগ, ১২।কাচামিঠা, ১৩।আলফানসো, ১৪।তোতাপুরী, ১৫।বারোমাসী, ১৬।কারাবাউ, ১৭।কেউই সাউই, ১৮।গোপাল খাস, ১৯।কেন্ট ম্যাংঙ্গো, ২০।সূর্যপুরী, ২১।পাহুতান, ২২।ত্রিফলা, ২৩।হাড়িভাঙ্গা, ২৪।ছাতাপুরী, ২৫।গুঠলি, ২৬।অ্যাষ্ঠা ২৭। ত্রিপাতি ২৮।আরচ ম্যাংঙ্গো ২৯।আমিতা আম ৩০।আরিষা পাত ৩১।যমজখিরি ৩২।বোম্বে ফজলী ৩৩।আড়ষ্ট আম ৩৪। শঙ্খ আম ৩৫।মারিচা ম্যাংঙ্গো

আমের  উপকারিতা… health benefits of mango

          আম আমাদের সবার পছন্দের একটা ফল। আম খেতে যেমন সুস্বাদু  তেমনি এর রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা। ভিটামিন , মিনারেল এবং এন্টি অক্সিডেন্ট সহ আমাদের শরীরের জন্য উপকারী এবং প্রয়োজনীয় অনেক উপাদানই আমের মধ্যে রয়েছে।



আমের উপকারিতার কথা জানব ..............

১। ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করেঃ বিভিন্ন রিসার্চে দেখা গেছে আমের মধ্যে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট, কোলন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং লিউকেমিয়া সহ বিভিন্ন রকমের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
২। কোলেস্ট্রেলরের মাত্রা কমায়ঃ আমে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, পেক্টিন এবং ভিটামিন সি আছে। এইসব উপাদান শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
৩। ত্বক সুন্দর রাখেঃ আম খেলে বা ত্বকের উপর ব্যবহার, দুইটাই ত্বকের জন্য উপকারী। আম আমাদের ত্বকের বন্ধ হয়ে যাওয়া লোমকূপ খুলে দিয়ে ব্রণ থেকে আমাদের ত্বককে রক্ষা করে।
৪। চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করেঃ ভিটামিন এ আমাদের দৃষ্টিশক্তি ও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরী। এক কাপ আমে আমাদের প্রতিদিনের ভিটামিনের এ এর চাহিদার ২৫% ভিটামিন এ থাকে। নিয়মিত আম খেলে এটি আমাদের রাতকাণা রোগ ও শুষ্ক চোখের সমস্যা থেকে দূরে রাখবে।
৫। শরীরের অম্ল অ ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করেঃ আমে টারটারিক এসিড, ম্যালিক এসিড এবং সাইট্রিক এসিড থাকে যা আমাদের শরীরের অম্ল অ ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।
৬। ডায়বেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করেঃ আমের পাতায় এমন উপাদান আছে যা আমাদের রক্তের ইন্সুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। গরম পানিতে আমের পাতা সিদ্ধ করে, সারারাত সেই পানিতে পাতা ভিজিয়ে ভোর বেলা সেই পানি খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৭। হজমে সাহায্য করেঃ আমে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আছে যা আমাদের হজমে সাহায্য করে।
৮। প্রচণ্ডে গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে আম খানঃ প্রচণ্ড গরমে কাঁচা আমের জুস আমাদের শরীরকে প্রশান্ত অ ঠাণ্ডা করে। প্রচণ্ড গরমে আমাদের শরীর থেকে অধিক পরিমাণ পানি বের হয়ে যায়। ফলে শরীরে পানির পরিমাণ কমে যায় এবং টক্সিক পদার্থের মাত্রা বেড়ে যায়। গরমের সময় আমের জুস শরীরের পানি শুন্যতা যেমিওন দূর করে তেমনি ক্ষতিকর পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয়।
৯। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়ঃ আমে প্রচুর ভিটামিন সি, এ এবং প্রায় ২৫ রকমের ক্যারটিনয়েড আছে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে আমাদের সাস্থবান বানায়।
১০। এজমা প্রতিরোধে সাহায্য করেঃ আমের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এজমা অ্যাটাক প্রতিরোধে সাহায্য করে।

পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  

আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 

Thank You 

স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা, বেদানার উপকারিতা, ব্য়বহার এবং ক্ষতিকারক দিক – Pomegranate Benefits,

       


        ডালিম আমরা সাধারণ ফল হিসাবে জেনে থাকি। এটা বেদানা হিসাবে জনপ্রিয়তা বেশি। টুকটুকে লাল রঙের এই ফলটি সারা বছর জুড়েই প্রায় পাওয়া যায়। ডালিম অথবা বেদানা শুধুমাত্র ফল হিসাবে নয় বরং এটি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক সুবিধা রয়েছে। ডালিমের দানা তো আমরা সবাই খাই তবে এর রস খাওয়ার উপকারিতা অনেক। আমাদের শরীরের জন্য ডালিমের উপকারিতা বহু এবং তা জানলে আমরা অনেকটা আশ্চর্য হয়ে যাই।

 স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা

1. হার্ট ভালো রাখতে
2. ডায়রিয়া রোধ করতে ডালিমের উপকারিতা
3. ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিমের উপকারিতা 
4.পচন তন্ত্র ভালো রাখতে ডালিমের উপকারিতা
5. রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
6. স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডালিমের উপকারিতা
7. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডালিমের উপকারিতা
8. জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে ডালিমের উপকারিতা
9.অ্যানিমিয়ার জন্য ডালিমের উপকারিতা
10. ত্বকের যত্নে ডালিমের উপকারিতা

        স্বাস্থ্যের পাশাপাশি এটি ত্বকের জন্য অনেক উপকারি। আজকের এই নিবন্ধে আমারা ডালিমের উপকারিতার কথা আপনাদের জানাব। এখানে রইল স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা কয়েকটি বিষয়বস্তু।



স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা হার্ট ভালো রাখতে

      বর্তমানে ৮০ শতাংশ মানুষ হার্টের অসুখের জন্য মারা যায়। এই হার্ট রোগের একমাত্র কারন ভেজাল খাদ্য। বাইরের জাঙ্ক ফুড এবং তেলে ভাজা মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে আমাদের হৃদয়। যার দরুন দেখা মিলছে ভিন্ন ধরনের হার্টের অসুখ।


          বাইরের জাঙ্ক ফুডে অতিরিক্ত তেল থাকে। এই তেল জাতীয় খাবারগুলি আমাদের দেহের ধমনীর আবরণে জড়িয়ে থাকে এবং ধীরে ধীরে ধমনী সংকুচিত হতে থাকে। যার জন্য দিনের পর দিন মানুষের হার্টের সমস্যা বেড়ে চলেছে। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপাদান আমাদের হাতের সামনেই রয়েছে। নিয়মিত ডালিমের রস খেলে হার্টের অসুখের হাত থেকে রেহাই মেলে। কারন ডালিমের রস দেহের অতিরিক্ত চর্বিগুলি গলিয়ে দিতে সহায়তা করে। তাই আপনার যদি হার্টের অসুখ থাকে দেরি না করে আজ থেকে নিয়মিত ডালিমের রস খাওয়া শুরু করুন।


         বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হার্টের অসুখে ক্ষেত্রে ডালিমের উপকারিতা রয়েছে। অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে এলডিএল কোলেস্টেরল রক্ষা করে।


ডায়রিয়া রোধ করতে ডালিমের উপকারিতা

      ডালিম ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আমাদের সবারই একটা ভুল ধারনা রয়েছে ডায়রিয়া হলে ডালিম খাওয়া উচিত নয় কিন্তু আপনি কি জানেন ডায়রিয়া হলে ডালিমের রসের মতো ভালো বিকল্প অন্য কিছু হতে পারে না। নিয়মিত দুবেলা ডালিমের রস খেলে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।


ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিমের উপকারিতা 

       মারাত্মক রোগের প্রতিরোধের খুব কার্যকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় বেদানার বীজে অ্যান্টি ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা ক্যান্সারের কোষগুলিকে ক্রমবর্ধমান হতে বাঁধা দেয়। এছাড়াও এটি স্কিন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা করে।


পচন তন্ত্র ভালো রাখতে ডালিমের উপকারিতা

      ডালিমের দানা ভিটামিন বি এর ভালো উৎস। এটির জন্যই পাচক তন্ত্র ভালো থাকে। কারণ ভিটামিন বি শরীরের ফ্যাট, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেটকে দেহের শক্তিতে রূপান্তরিত করে।



        ডালিম ফাইবার এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ ধারন করে যা আমাদের পাচক সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি নিয়মিত অল্প মাত্রায় ডালিম বা তার রস খান তাহলে আপনি হজম সম্পর্কিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। এছাড়াও এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।


রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

         অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সমৃদ্ধ হওয়ায় ডালিম দেহের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় ডালিমেরে দানায় এই উপদানগুলি বিদ্যমান থাকায় বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে।



স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডালিমের উপকারিতা

         ডালিমের মধ্যে অ্যান্টি-প্লাক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং এটি সতেজ করে তোলে। ডালিমের উপস্থিত উপাদানগুলি ডেন্টাল ফলকের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়। ২০১১ সালের একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ডালিমের রস দাঁতের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করে।


রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডালিমের উপকারিতা

          উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যও ডালিম বেশ উপকারী। এটি অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট, ভিতামিন সি এবং নাইট্রিক অক্সাইডের ভালো উৎস। এটি রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ত ধমনীতে পুষ্ট করার জন্য পরিচিত। এটি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও অনেকাংশে হ্রাস করে। ২০১১ সালের একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে ডালিমের রস প্রতিদিন এক গ্লাস ডালিমের রস পান করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।



জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে ডালিমের উপকারিতা

         ডালিম জয়েন্টগুলি এবং সম্পর্কিত সমস্যার জন্য একটি সফল চিকিৎসা। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং সামগ্রিকভাবে জয়েন্টে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিয়মিত ডালিমের বীজ গ্রহণ করুন। এটিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-হ্রাসকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি জয়েন্টগুলিতে প্রদাহ হ্রাস করতে সক্ষম।


অ্যানিমিয়ার জন্য ডালিমের উপকারিতা

         রক্তাল্পতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডালিম একটি জীবন রক্ষাকারী ভেষজ। এটি শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে লাল রক্ত ​​কোষের সংখ্যাও বাড়িয়ে তোলে। এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়িয়ে রক্ত ​​প্রবাহকেও উন্নত করে। এটি ছাড়াও এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা আয়রন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।



ত্বকের যত্নে ডালিমের উপকারিতা

       ডালিম ভিটামিন “সি” এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য ত্বকের যত্নে ডালিম অসাধারণ কার্যকর। ত্বকের দাগছোপ রিমুভ করে ত্বকে উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও ডালিমে উপস্থিত ভিটামিন “সি” ত্বক গ্লোয়িং করে পাশাপাশি ত্বকে বয়সের ছাপ পরতে বাধা সৃষ্টি করে। বাড়িতে ডালিমের প্যাক বানানোর জন্য একটি টিপস নীচে দেওয়া হল-

ডালিমের ফেস প্যাক বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ-

• ২ টেবিল চামচ ডালিমের খোসার গুঁড়ো।
• এক টেবিল চামচ লেবুর রস।
• এক টেবিল চামচ মধু।




পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 



মধু খাওয়ার উপকারিতা । প্রকারভেদ ও খাবার পদ্ধতি] মধু খাওয়ার উপকারিতা । প্রকারভেদ ও খাবার পদ্ধতি । Benefits of Honey মধু খাওয়ার উপকারিতা মধু আসলে কী ?

 মধু খাওয়ার উপকারিতা । প্রকারভেদ ও খাবার পদ্ধতি]

মধু খাওয়ার উপকারিতা । প্রকারভেদ ও খাবার পদ্ধতি । Benefits of Honey
মধু খাওয়ার উপকারিতা
মধু আসলে কী ? 

মধু হল আসলেএক ধরণের মিষ্টি এবং ঘন তরল পদার্থ, যা মৌমাছি ও নানারকম পতঙ্গ বিভিন্ন রকমের ফুলের নির্যাস সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা করে। এটি খুব উন্নত ওষধিগুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল। বর্তমানে চিনির বহুল প্রয়োগ সত্ত্বেও বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতিতে মধুর ব্যবহার জনপ্রিয়। অধুনা নারীদের রূপচর্চায় মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মধুর বিশেষ গুণ হল এটি সহজে নষ্ট হয়ে যায় না। এমনকি কয়েকশো বছরেও না। মধু খুব ঘন হওয়ায় কোনো জীবানু মধুর ভেতরে এক ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে না ।


মধুতে যে রাসায়নিক উপাদান থাকে :-
মধুতে মানুষের শরীরে প্রয়োজনীয় প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান মজুত থাকে।


ফুলের পরাগ নিঃসৃত মধুতে পাওয়া যায়-

২৫ থেকে ৩৬ শতাংশ গ্লুকোজ,
৩৪ থেকে ৪২ শতাংশ ফ্রুক্টোজ,
০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ
এবং ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ।
আরো থাকে ২০-২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড,
২৭-২৮ শতাংশ খনিজ লবণ
আর ১০-১১ ভাগ এনকাইম।


মধুতে প্রোটিন আর ফ্যাট থাকেনা । ১০০ গ্রাম মধুর তাপনমূল্য প্রায় ২৮০ ক্যালরির মত। মধুর মধ্যে থাকে আয়োডিন, জিংক ও কপার প্রভৃতি খনিজ সহ ভিটামিন বি এর বিভিন্ন উপাদানগুলি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হল মধুতে কোনো কোলস্টেরল থাকে না।

মধুর প্রকারভেদ :-

মধু নানা প্রকারের হয়ে থাকে, তবে সব থেকে জনপ্রিয় প্রকারের মধুগুলির নাম এখানে দেওয়া হল :-


মানুকা মধু :- লেপ্টোস্পের্মম স্কোপারিয়াম গাছে মৌমাছির দ্বারা সংগৃহীত মধু। এই মধু মানুকা প্রথম নিউ জিল্যান্ড এ প্রচলিত হয়।
ব্লবেরি মধু :– নীল জামের নির্যাস থেকে সংগ্রহ করা এই মধু ইংল্যান্ড ও মিকিগানে খুব বিখ্যাত।
অরেঞ্জ ব্লসম মধু :- কমলা লেবু থেকে সংগ্রহ করা এই জাতীয় মধু ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে খুব বিখ্যাত।
বাকহুইট মধু :- বাকহুইট গাছের ফুল থেকে মৌমাছি সংগ্রহ করে এই জাতীয় মধু।
আলফালফা মধু :- ছোট ছোট ফুল গাছের থেকে মৌমাছির দ্বারা পরাগিত হয়ে থাকে এই জাতীয় মধু।
ক্লোভার মধু :- ক্লোভার গাছের থেকে মৌমাছির দ্বারা চয়ন করা মধু ক্লোভার মধু নামে পরিচিত।

      ঘরে সংরক্ষিত মধু যে সমস্ত উপকারে লাগে তার তালিকা করতে হলে অনেক লম্বা হয়ে যাবে। তার মধ্যে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয় বিষয়গুলি নিম্নরূপ-


মধু খাওয়ার উপকারিতাগুলি হলঃ –

 ১। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে :-
         মধুতে থাকা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। সকালবেলা খালি পেটে দুই চামচ খাঁটি মধু নিয়মিত খেলে ভীষণ উপকার পাওয়া যায়।

২। ওজন কমায়:-
       ওজন বেড়ে যাচ্ছে ? কিংবা বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ফেলতে চান ? অথবা শরীরের স্লিম ভাব ধরে রাখতে চান ? তাহলে আপনার সবচেয়ে কার্যকর ভেষজ খাবার হল মধু। সকালবেলা খালি পেটে কুসুম গরম জলের সঙ্গে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে খান। দেখুন ম্যাজিকের মতো কাজ করে কিনা ।

৩। মুখের দুর্গন্ধ দূর করে :-
      মুখের ভিতরে নানা খদ্যদ্রব্য আটকে থাকে আর সেসব থেকে নানা জীবাণু ক্রিয়া করে। অনেকসময় মুখের ভিতরে আলসার বা ঘা হয়ে থাকে। কখনো মাড়ির গোড়া থেকে পুঁজ বেরোয়। যদি আপনি নিয়মিত মধু সেবন করেন তাহলে মুখের সেইসব সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারেন। আর মুখের দুর্গন্ধ অচিরেই পালিয়ে গেছে দেখবেন।

৪। হৃদরোগের উপশম ঘটায় :-
         মধু উষ্ণতা বৃদ্ধি করে এবং রক্ত সঞ্চালন সুস্থ ও স্বাভাবিক করে। ফলে হৃদপেশি মজবুত করে হৃদপিণ্ডের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় । রোজ এক চামচ মৌরির গুড়োর সঙ্গে এক চামচ মধু খেয়ে যান। এইভাবে নানা হৃদরোগের হাত থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে।

৫। হাঁপানি রোধে সাহায্য করে :-
       সামান্য গোলমরিচের গুঁড়োর সঙ্গে আদা মিশিয়ে মধুর সঙ্গে দিনে অন্তত বার তিনেক সেবন করলে হাঁপানির মতো রোগের যন্ত্রণা থেকে আরাম পাওয়া যায়।

৬। সর্দি-কাশি কমায় :-
         আমাদের ঠাকুমা দিদিমারা সর্দি কাশিতে বাসক পাতা, তুলসি পাতা ইত্যাদির সঙ্গে আদা মিশিয়ে মধুর সঙ্গে খেতে বলতেন। এটা যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। বুকের কফ পরিষ্কার করতে এর তুলনা নেই।

৭। হজমশক্তি বাড়ায় :-
         হজমের সমস্যা ! গুরুপাক কোনো খাবারের আগে Aciloc খাবার বদলে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। দেখবেন পেটের অ্যাসিড ভাব দূর হয়ে ভালো হজম হয়ে গেছে। এছাড়া রোজ খালি পেটে গরম জলের সঙ্গে মধু খাবার অভ্যাস করলে গ্যাস অ্যাসিডিটি দূর হয়ে ভালো হজম হবার অভিজ্ঞতা লাভ করবেন।

৮। গলাভাঙ্গা দ্রুত সারায় :-
      যাকে আমরা গলাভাঙ্গা বলি সেটা আসলে স্বরভঙ্গ । বেশি ঠাণ্ডা লাগলে কন্ঠ নালীর স্বরতন্ত্র আঘাতপ্রাপ্ত বা আক্রান্ত হলেই এরকমটা হয়ে থাকে। তাই এরকম হলে সৈন্ধব লবণ বা Rock salt এর সঙ্গে আমলকি,পিপুল, গোল মরিচ ইত্যাদির সঙ্গে মধু মিশিয়ে এক চা চামচ করে খেলে কফ যেমন দূর হবে তেমনি ও স্বরভাঙ্গাও দ্রুত কমে যাবে।

৯। যৌবনীশক্তি ধরে রাখে :-
       শরীরের পাশাপাশি যৌন ক্ষমতা ধরে রাখতে মধুর তুলনা নেই। ধাতু দুর্বলতা কিংবা যৌন ক্ষমতা কমতে থাকার হাত থেকে উন্নত অবস্থায় যেতে চাইলে নিয়মিত মধু সেবন করা দরকার।

১০। রক্ত পরিষ্কার রাখে :-
       লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিয়মিত খেলে রক্ত পরিষ্কার থাকে। এটা অভ্যাস করতে পারলে শরীরের অনেকগুলি দিকে উপকার পাওয়া যাবে।

১১। শরীর গরম রাখে :-
      লোকে বলে মধু খেলে শরীর গরম থাকে । কথাটি খুব সত্যি। এক কাপ গরম জলে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে শরীর গরম হয়। শীতের সময় এটি খুবই কার্যকরি। কেননা মধুর মধ্যে থাকা উচ্চ ক্যালরি শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে।

১২। বাতের ব্যাথায় আরাম দেয় :-
        যে কোনো ভাবেই যদি নিয়মিত মধু সেবন করা যায় তাহলে বাতের ব্যাথার মত গাঁটের ব্যাথা থেকে খুব আরাম পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে মধু খাবার পরিমাণ যেন নির্দিষ্ট পরিমাণে এবং তা নিয়ম করে খাওয়া হয়।



১৩। পেশি সুদৃঢ় করে :-
     মধুর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের পেশিকে যেমন দৃঢ় ও শক্তিশালী করে। তেমনি দেহের নানা ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

১৪। ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায় :-
    মধুর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট , বিভিন্ন ভিটামিন আর মিনারেল সমূহ রক্ত পরিষ্কার করার পাশাপাশি ফুসফুসের কার্য ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

১৫। দাঁতের গোড়া শক্ত করে :-
        দাঁতকে ও দাঁতের গোড়া মজবুত করতে হলে নিয়মিত মধু সেবন করা দরকার। বিভিন্ন জীবানু মধুর সংস্পর্শে ধ্বংস হয়ে যায়।

১৬। হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে রক্তশূন্যতা দূর করে :-
       মধুর মধ্যে থাকা কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি উপাদানগুলি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে রক্তাল্পতা দূর করে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে রক্তাল্পতার সমস্যা বেশি হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই তারা নিয়মিত মধু সেবন করলে রক্তের হিমোগ্লোবিন কমে যাবার সম্ভাবনা দূর হয়।

১৭। যৌনক্ষমতা বাড়ায় :-
     কুসুম গরম দুধের সঙ্গে মধু সেবন করলে তারুন্য শক্তি যেমন বজায় থাকে তেমনি নিয়মিত খেলে যৌনক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। তাই যুগ যুগ ধরেই মধু খাবার প্রচলন রয়েছে।

১৮। অনিদ্রা দূর করে :-
       মধুর গুনের মধ্যে থাকা আরেকটি গুন , যা হয়তো অনেকেই জানেন না , সেটা হল অনিদ্রাভাব দূর করার ক্ষমতা। রাতে ঘুমানোর আগে যদি এক গ্লাস হালকা গরম জলের সঙ্গে দুই চামচ মধু মিশিয়ে পান করা যায় তাহলে খুব গভীর ঘুম হবে এবং অনিদ্রার সমস্যা দূর হবে ।

১৯। দ্রুত বমিভাব দূর করে :-
   গা গোলানো বা বমি বমি ভাব হলে এক কাপ ঠাণ্ডা জলে এক চামচ মধু আর সামান্য জোয়ানের গুড়ো মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে বমি ভাব দূর হয়।

২০। ত্বকের মসৃণতা বৃদ্ধি করে :-
      মধু যেহেতু উত্তম একটি ভেষজ , আর এর মধ্যে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের টান টান অবস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখে। তাই মধু বুড়িয়ে যাওয়া থেকে দূরে রাখে। বর্তমানে তাই রূপচর্চায় মধুর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।


মধু খাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা :-

        কোনোকিছুই অতিরিক্ত ভালো নয় । তাই নিয়মিত অল্প অল্প করে না খেয়ে একেবারে বেশি পরিমাণ মধু খেলে শরীরে ক্ষতির সম্ভাবনা। আর শরীরে যদি গুরুতর কোনো রোগ থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনেই মধু সেবন করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল মধুতে ভেজাল। ভেজাল মধু খাবার থেকে সাবধান থাকতে হবে ।


খাঁটি মধু কীভাবে চিনবেন :-

        মধু কেনার সময় বড় সমস্যাটি হল , বিক্রেতা লোভে পড়ে মধুতে নানারকম ক্যামিক্যাল বা প্রাকৃতিক ভেজাল মেশায়। তাই আসুন জেনে নিই আসল মধু কীভাবে চেনা যায়:-

১। খ্যাতনামা বিশ্বস্ত কোনো কোম্পানির মধু কিনবেন , যা আগে আপনার খেয়ে পরখ করাই আছে।
২। খাঁটি মধু হবে আঠালো চটচটে। চামচে করে তুলে ধরলে লম্বা সুতোর মতো নীচে পড়তে থাকবে। 
৩। আঙ্গুলে এক ফোঁটা , মধু নিয়ে উল্টো করে ধরে দেখুন খুব দ্রুত পড়ে যায় কি না। আসল মধু হলে দ্রুত ফোঁটা ফোঁটা পড়ে যাবে না।
৪। মধু জলে খুব দ্রুত মিশে যায় । অন্য ভেজাল থাকলে জলের নীচে গুঁড়ো গুঁড়ো থিতিয়ে থাকবে।
৫। একটা পাত্রে মধু নিয়ে ফ্রিজে কিছুক্ষণ রেখে দিয়ে দেখুন কোনো রকম জমাট বাঁধে কিনা। খাঁটি মধু ফ্রিজের ঠাণ্ডায় জমাট বাঁধবে না ।


        আশা করি বন্ধুরা আজকের আর্টিকেল থেকে আমরা ভালো ও দরকারি কিছু শিখতে পারলাম । লেখাটি একটুও যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আবশ্যই আপনার পরিজনদের শেয়ার করতে ভুলবেন না। আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করে সঙ্গে থাকুন আর অপেক্ষা করুন এরকম আরো সুন্দর কিছু লেখার জন্য।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন
 
এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  

 

আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


Labels

Present Tense (25) Normal English Lessons (15) Tense (12) Regular English Lessons (11) মধু খাওয়ার উপকারিতা (11) রসুনের উপকারিতা (10) Interrogative Sentence (8) Negative Sentence (8) জীবন বদলে দেওয়ার মতো 30 টি বাণী (8) Affirmative Sentence (হাঁ -বাচক ) (7) Interrogative Negative (7) কম্পিউটার কীবোর্ড শর্টকাট কোড এবং টেকনিক – (keyboard shortcuts) (6) পেয়ারার উপকারিতা (6) 7 Idioms Starting with "Cold" (4) Parts of Speech-English Grammar (ইংরেজি ব্যাকরণ) (4) Swami Vivekananda Bani in Bengali – বিবেকানন্দের অমূল্য বাণী (4) 6 Idioms Starting with "Close" (3) Sayings Starting with "Cross" and "Cry" (3) রবীন্দ্রনাথের বাণী সমগ্র (3) Adjective (2) Figures of speech Starting with "Come" (2) Preposition (2) grammar (2) voice-active-voice-passive-voice (2) About Us (1) Adverb (1) Believe-in-yourself-sand-stone. (1) Computer Shortcut Keys (1) Motivational speech (1) Noun (1) Parts of Speech: Noun (1) Pronoun (1) Verb (1) এ.পি.জে আব্দুল কালাম (1) এ.পি.জে আব্দুল কালামের অনুপ্রেরণাদায়ক বাণী (1) ব্যবহার এবং অপকারিতা (1)

My Blog List

  • Positive Thoughts - * 1) ‘Dreams are not what you see in your sleep. Dreams* *That's what keeps you awake. '* *2) ‘To be as bright as the sun first* *You have to burn li...
    8 months ago

Popular Posts

Most Popular

জীবন বদলে দেবার মতো উক্তি,গুণীজনের বাণী , যা আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে

জীবন বদলে দেবার মতো উক্তি  জীবন ও সময় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, জীবন শেখায়, সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করতে। আর সময় শেখায়, জীবনের মূল্য দিতে।...