English to Bengali, বাংলা ও ইংরেজি, Online English to Bengali Tense, English Gramma

শিক্ষায় জীবন

Showing posts with label মধু খাওয়ার উপকারিতা. Show all posts
Showing posts with label মধু খাওয়ার উপকারিতা. Show all posts

Saturday, September 11, 2021

স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা, বেদানার উপকারিতা, ব্য়বহার এবং ক্ষতিকারক দিক – Pomegranate Benefits,

       


        ডালিম আমরা সাধারণ ফল হিসাবে জেনে থাকি। এটা বেদানা হিসাবে জনপ্রিয়তা বেশি। টুকটুকে লাল রঙের এই ফলটি সারা বছর জুড়েই প্রায় পাওয়া যায়। ডালিম অথবা বেদানা শুধুমাত্র ফল হিসাবে নয় বরং এটি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক সুবিধা রয়েছে। ডালিমের দানা তো আমরা সবাই খাই তবে এর রস খাওয়ার উপকারিতা অনেক। আমাদের শরীরের জন্য ডালিমের উপকারিতা বহু এবং তা জানলে আমরা অনেকটা আশ্চর্য হয়ে যাই।

 স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা

1. হার্ট ভালো রাখতে
2. ডায়রিয়া রোধ করতে ডালিমের উপকারিতা
3. ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিমের উপকারিতা 
4.পচন তন্ত্র ভালো রাখতে ডালিমের উপকারিতা
5. রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
6. স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডালিমের উপকারিতা
7. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডালিমের উপকারিতা
8. জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে ডালিমের উপকারিতা
9.অ্যানিমিয়ার জন্য ডালিমের উপকারিতা
10. ত্বকের যত্নে ডালিমের উপকারিতা

        স্বাস্থ্যের পাশাপাশি এটি ত্বকের জন্য অনেক উপকারি। আজকের এই নিবন্ধে আমারা ডালিমের উপকারিতার কথা আপনাদের জানাব। এখানে রইল স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা কয়েকটি বিষয়বস্তু।



স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা হার্ট ভালো রাখতে

      বর্তমানে ৮০ শতাংশ মানুষ হার্টের অসুখের জন্য মারা যায়। এই হার্ট রোগের একমাত্র কারন ভেজাল খাদ্য। বাইরের জাঙ্ক ফুড এবং তেলে ভাজা মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে আমাদের হৃদয়। যার দরুন দেখা মিলছে ভিন্ন ধরনের হার্টের অসুখ।


          বাইরের জাঙ্ক ফুডে অতিরিক্ত তেল থাকে। এই তেল জাতীয় খাবারগুলি আমাদের দেহের ধমনীর আবরণে জড়িয়ে থাকে এবং ধীরে ধীরে ধমনী সংকুচিত হতে থাকে। যার জন্য দিনের পর দিন মানুষের হার্টের সমস্যা বেড়ে চলেছে। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপাদান আমাদের হাতের সামনেই রয়েছে। নিয়মিত ডালিমের রস খেলে হার্টের অসুখের হাত থেকে রেহাই মেলে। কারন ডালিমের রস দেহের অতিরিক্ত চর্বিগুলি গলিয়ে দিতে সহায়তা করে। তাই আপনার যদি হার্টের অসুখ থাকে দেরি না করে আজ থেকে নিয়মিত ডালিমের রস খাওয়া শুরু করুন।


         বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হার্টের অসুখে ক্ষেত্রে ডালিমের উপকারিতা রয়েছে। অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে এলডিএল কোলেস্টেরল রক্ষা করে।


ডায়রিয়া রোধ করতে ডালিমের উপকারিতা

      ডালিম ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আমাদের সবারই একটা ভুল ধারনা রয়েছে ডায়রিয়া হলে ডালিম খাওয়া উচিত নয় কিন্তু আপনি কি জানেন ডায়রিয়া হলে ডালিমের রসের মতো ভালো বিকল্প অন্য কিছু হতে পারে না। নিয়মিত দুবেলা ডালিমের রস খেলে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।


ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিমের উপকারিতা 

       মারাত্মক রোগের প্রতিরোধের খুব কার্যকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় বেদানার বীজে অ্যান্টি ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা ক্যান্সারের কোষগুলিকে ক্রমবর্ধমান হতে বাঁধা দেয়। এছাড়াও এটি স্কিন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা করে।


পচন তন্ত্র ভালো রাখতে ডালিমের উপকারিতা

      ডালিমের দানা ভিটামিন বি এর ভালো উৎস। এটির জন্যই পাচক তন্ত্র ভালো থাকে। কারণ ভিটামিন বি শরীরের ফ্যাট, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেটকে দেহের শক্তিতে রূপান্তরিত করে।



        ডালিম ফাইবার এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ ধারন করে যা আমাদের পাচক সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি নিয়মিত অল্প মাত্রায় ডালিম বা তার রস খান তাহলে আপনি হজম সম্পর্কিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। এছাড়াও এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।


রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

         অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সমৃদ্ধ হওয়ায় ডালিম দেহের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় ডালিমেরে দানায় এই উপদানগুলি বিদ্যমান থাকায় বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে।



স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডালিমের উপকারিতা

         ডালিমের মধ্যে অ্যান্টি-প্লাক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং এটি সতেজ করে তোলে। ডালিমের উপস্থিত উপাদানগুলি ডেন্টাল ফলকের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়। ২০১১ সালের একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ডালিমের রস দাঁতের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করে।


রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডালিমের উপকারিতা

          উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যও ডালিম বেশ উপকারী। এটি অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট, ভিতামিন সি এবং নাইট্রিক অক্সাইডের ভালো উৎস। এটি রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ত ধমনীতে পুষ্ট করার জন্য পরিচিত। এটি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও অনেকাংশে হ্রাস করে। ২০১১ সালের একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে ডালিমের রস প্রতিদিন এক গ্লাস ডালিমের রস পান করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।



জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে ডালিমের উপকারিতা

         ডালিম জয়েন্টগুলি এবং সম্পর্কিত সমস্যার জন্য একটি সফল চিকিৎসা। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং সামগ্রিকভাবে জয়েন্টে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিয়মিত ডালিমের বীজ গ্রহণ করুন। এটিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-হ্রাসকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি জয়েন্টগুলিতে প্রদাহ হ্রাস করতে সক্ষম।


অ্যানিমিয়ার জন্য ডালিমের উপকারিতা

         রক্তাল্পতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডালিম একটি জীবন রক্ষাকারী ভেষজ। এটি শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে লাল রক্ত ​​কোষের সংখ্যাও বাড়িয়ে তোলে। এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়িয়ে রক্ত ​​প্রবাহকেও উন্নত করে। এটি ছাড়াও এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা আয়রন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।



ত্বকের যত্নে ডালিমের উপকারিতা

       ডালিম ভিটামিন “সি” এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য ত্বকের যত্নে ডালিম অসাধারণ কার্যকর। ত্বকের দাগছোপ রিমুভ করে ত্বকে উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও ডালিমে উপস্থিত ভিটামিন “সি” ত্বক গ্লোয়িং করে পাশাপাশি ত্বকে বয়সের ছাপ পরতে বাধা সৃষ্টি করে। বাড়িতে ডালিমের প্যাক বানানোর জন্য একটি টিপস নীচে দেওয়া হল-

ডালিমের ফেস প্যাক বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ-

• ২ টেবিল চামচ ডালিমের খোসার গুঁড়ো।
• এক টেবিল চামচ লেবুর রস।
• এক টেবিল চামচ মধু।




পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 



Tuesday, September 07, 2021

কলার উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক – Banana Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

কলার উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক – Banana Benefits, Uses and Side Effects in Bengali





        সব ধর্মের এবং গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো কলা। হিন্দিতে একে কেলা বলা হয়। কন্নারে বেল হান্নু বলা হয়। এটি মূলত সবুজ এবং হলুদ দুই বর্ণের হয়ে থাকে। কাঁচা কলা সবুজ বর্ণ ধারণ করে এবং পাকা কলা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে চাষ করা হয়ে থাকে। মূলত এটি নরম প্রজাতির হয়। বিশ্বের খাদ্য ফসল গুলির মধ্যে আর্থিক মূল্যের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে কলা। শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের মানুষের মধ্যে খুব জনপ্রিয় এই ফলটি। কলা সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি দিয়ে রান্নাও করা হয়ে থাকে। এমনকি কোথাও কোথাও রান্নায় আলুর প্রতিস্থাপন হিসেবেও এটি ব্যবহার হয়ে থাকে।

       ‘সর্ব ঘটে কাঁঠালি কলা’ এই প্রবাদ বাক্যটি আমাদের মধ্যে সকলেরই প্রায় জানা। আমাদের জীবনে কলার ভূমিকা কিন্তু ঠিক এতটাই, যতটা প্রবাদ বাক্যে মজা করে বলা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য রক্ষায় হোক কিংবা ত্বক ও চুলের যত্নে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এমনকি আমাদের রোজকার জীবনের অধিক ব্যবহৃত ফল গুলির মধ্যে অন্যতম হল কলা। কলার অনেক গুনাগুন রয়েছে, যেগুলি খানিকটা জানলেও অনেকটাই হয়তো আমাদের অজানা। তাই আজ জেনে নিন আপনার হাতের কাছে থাকা সহজলভ্য এই ফলটি সম্পর্কে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মূলত কলা মুসাসেই গোত্রীয় ফলের অন্তর্গত। এর বৈজ্ঞানিক নাম হল মুসাঅচুমিনটা কোল।

     

কলার উপকারিতা – Benefits of Banana in Bengali

স্বাস্থ্যের জন্য কলার উপকারিতা – Health Benefits of Banana in Bengali

ত্বকের জন্য কলার উপকারিতা – Skin Benefits of Banana in Bengali

চুলের জন্য কলার উপকারিতা – Hair Benefits of Banana in Bengali

কলার পুষ্টিগত মান – Banana (Kela) Nutritional Value in Bengali

কলার ব্যবহার – How to Use Banana in Bengali

সঠিক কলা বাছাই করে সেটা অনেকদিন পর্যন্ত সুরক্ষিত রাখার উপায়

কলার ক্ষতিকর দিক – Side Effects of Banana in Bengali

কলার উপকারিতা – Benefits of Banana in Bengali


        দৈনন্দিন কলা গ্রহণ করলে শরীরে রক্ত শর্করার উন্নতি হওয়ার পাশাপাশি কোলন স্বাস্থ্য সুস্থ থাকে। কলা হল ম্যাগনেসিয়াম এর উৎকৃষ্ট উৎস, যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে উচ্চস্তরের ট্রাইপটোফোন। যা ডিপ্রেশন কমিয়ে মানসিক সুস্থতা প্রদান করে থাকে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা ভিটামিন বি6 শরীরের সঠিক ঘুম হতে এবং অনিদ্রাভাব কমাতে সহায়তা করে। এরকম ভাবে বিভিন্ন উপায়ে কলা আমাদের উপকৃত করে থাকে।

        আসুন জেনে নিন আপনার হাতের কাছে থাকা ফলটির উপকারিতা গুলি। কলা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ার এটি সব বয়সীদের মধ্যে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়াও কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, যা শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়াও কলা হার্টকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে। একটি কলার মধ্যে রয়েছে 467 মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, 1 মিলিগ্রাম সোডিয়াম। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা ভিটামিন b6 রক্তাল্পতা এবং করোনারি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলার মধ্যে থাকা ফাইবার জাতীয় উপাদানগুলি হজমের উন্নতি ঘটিয়ে শরীরের ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি শরীরে কার্বোহাইড্রেট এর কাজ করে। 

       


স্বাস্থ্যের জন্য কলার উপকারিতা – Health Benefits of Banana in Bengali

     আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। আসুন জেনে নিন কিভাবে কলার সঠিক ব্যবহার করে আমরা সুস্থ থাকতে পারি।


    হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার উপকারিতা :

       হাভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে, পটাশিয়ামের পরিমাণ শরীরে যথাযথ না থাকলে সেক্ষেত্রে হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কলা যেহেতু পটাশিয়াম সমৃদ্ধ একটি ফল তাই এটি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে কলার পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখতে হবে। হৃদযন্ত্র মূলত তার সংকোচন-প্রসারণের ওপর শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে আর এই সংকোচন এবং প্রসারণ অনেকাংশে পটাশিয়াম এর উপর নির্ভর করে। হাই পোকাসিয়াম স্তর,  হাইপোকলিমিয়া  নামক দুটি উপাদানের কারণে হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে তার হৃদস্পন্দন সম্পন্ন করতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দৈনিক একটি করে কলা খেলে হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা কম থাকে। এছাড়াও অতিরিক্ত ধূমপান কম করে দৈনিক ব্যায়াম করলে এক্ষেত্রে সুস্থ থাকা যায়। হার্টের সুরক্ষায় থাকা পটাশিয়ামের বিভিন্ন উপাদান গুলিকে কলা সমৃদ্ধ করে এবং হৃদযন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে। সে ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র বন্ধ পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর হৃদয়ের জন্য দৈনিক একটি কলা খাওয়া প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পটাশিয়াম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি অবশ্যই আপনার শরীরের প্রয়োজন কতটা তা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে সেই মতো দৈনিক গ্রহণ করবেন। কেননা অত্যধিক পটাশিয়াম গ্রহণের ফলে আবার হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে চাইলে দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ কলা গ্রহণ করতে হবে এবং তার সাথে একটি সুস্থ জীবন পালন করতে হবে। কলার মধ্যে থাকা সোডিয়াম হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার পাশাপাশি কিডনিকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।



রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কলার ভূমিকা :

        কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও কলা রক্তকে পরিশুদ্ধ করতে সহায়তা করে। মূলত কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেট জাতীয় উপাদান গুলি রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি এটি শরীরের রক্তচাপ কেও নিয়ন্ত্রিত করে থাকে। ন্যাশনাল হার্ট, ফুসফুস এবং রক্ত ইনস্টিটিউট এর মতে শরীরে সঠিক ভাবে রক্ত সঞ্চালনের জন্য কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। তবে এটি গ্রহণের আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে তারপর এটি গ্রহণ করবেন। কেননা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দিনে দুটি কলা খেলে রক্তচাপ ১০ শতাংশের বেশি কমে যেতে হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার শরীরের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝে এটি গ্রহণ করতে হবে।



হজমের সমাধানে কলার ব্যবহার :

         কলা অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা যেহেতু ফাইবার সমৃদ্ধ একটি খাদ্য তাই এটি হজম স্বাস্থ্যের উন্নতি করে থাকে। এছাড়াও পাচনতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম অন্ত্রের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যার ফলে হজমের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে। কলা নিজে যেমন তাড়াতাড়ি হজম হতে পারে, তেমনি অন্য খাবার কেও তাড়াতাড়ি হজম করতে পারে। কেননা কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার। যা শরীরের ভিতরে থাকা খাদ্য উপাদান কে সঠিকভাবে হজমে সহায়তা করে। এছাড়া একটি কলাতেই পেট ভরে যাওয়ার মত মনে হয়। যার ফলে অধিক খাওয়া থেকেও এটি দূরে রাখতে সহায়তা করে। এটি দ্রুত দ্রবণীয় হওয়ায় অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীর থেকে চর্বি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান কে শোষণ করে নিতে সহায়তা করে। কলা  ফ্রুকটলিগোস্যাকচারাইড এর একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে শরীর স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করে। এছাড়াও পাকা কলা হজমজনিত সমস্যা গুলি নিরাময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা মূলত প্রাকৃতিক এন্টাসিড হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি পাকস্থলীর এসিড কমাতে এবং আলসার চিকিৎসা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি পেটের ভিতরে অতিরিক্ত মেদ জমা থেকে শরীরকে দূরে রাখে। এছাড়া এটি গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। কাঁচা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই কলায় প্রাকৃতিক অ্যাসিড কম থাকে, তাই এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এবং পাকা কলা শরীরের হজমে সহায়তা করে। তবে কাঁচা কলা যদি অধিক পরিমাণে গ্রহণ করা হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূলত ডায়েরিয়ার চিকিৎসায় কাঁচা কলার ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া খাদ্যকে দ্রুত হজম করতে চাইলে পাকা কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য।


মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার ব্যবহার :

         কলা ভিটামিন বি6 সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা খাদ্যতালিকায় ভিটামিন b6 সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করেন তাদের মস্তিষ্ক অন্যান্যদের তুলনায় বেশ প্রখর হয় এবং এরা ভালো পারফরম্যান্স করে থাকে। কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষ গুলিকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া কলা মস্তিষ্কের কোষগুলির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। যেহেতু আমাদের মস্তিষ্ক গ্লুকোজ সংরক্ষণ করতে পারে না, সেহেতু কলা দৈনিক এটি সরবরাহ করে থাকে। কলায় যেহেতু ফাইবার রয়েছে তাই এতে শর্করা ধীরে ধীরে রক্তপ্রবাহকে প্রবাহিত করে এবং শরীরে ধীরে ধীরে কলা গ্লুকোজ সরবরাহ করে থাকে। কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম মস্তিষ্কের কোষগুলোয় অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। এছাড়াও এটি ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় মৃগী এবং পারকিনসন রোগের সমস্যায় সমাধান করে। কলার মধ্যে থাকা সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন স্ট্রেস রিলিফ করতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি হতাশা এবং মস্তিষ্কের যে কোন ধরনের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিয়মিত কলা খেলে মস্তিষ্কের শক্তি এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি তার ঘনত্ব বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম বৃদ্ধ বয়সে স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়াও মেনোপজাল পরবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে কলা খাওয়া স্ট্রোকের সম্ভাবনা ১২ শতাংশ কমাতে সহায়তা করে। মূলত যে সমস্ত ব্যক্তিরা কম পটাশিয়াম গ্রহণ করেন তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। কেননা পটাশিয়াম কম গ্রহণ করলে সেটি হঠাৎ রক্তপাত এর ফলে স্ট্রোকের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।


  হাড়ের গঠনে কলার উপকারিতা :

      ন্যাশনাল অস্টিওপরোসিস ফাউন্ডেশনের মতে, কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম হাঁড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা পটাসিয়ামের অন্যতম উৎস যা হাড়ের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান প্রদান করে থাকে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গুলি শরীরে ক্ষার তৈরি করতে  সহায়তা করে। এছাড়াও দেখা গিয়েছে যখন কোন অ্যাসিড যুক্ত উপাদান শরীরে তৈরি হয় তখন হাড়গুলি দূর্বল হবার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে হাড় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে। তাই পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গুলি এই ক্ষার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে শরীরে ক্যালসিয়ামের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়। বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে পটাশিয়াম গ্রহণ আবশ্যক। কেননা বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী পটাশিয়াম গ্রহণের ফলে অস্টিওপোরোসিস এর সমস্যা কম হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে খাদ্যতালিকায় পটাশিয়াম এর অন্যতম উৎস হিসাবে একটি কলা রাখলে সে ক্ষেত্রে এটি শরীরের হাড় কে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।



ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কলার ভূমিকা :

       ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কলা। কার্বোহাইড্রেট সম্পন্ন উপাদান হওয়ায় এটি দৈনিক গ্রহণ করা আবশ্যক। কেননা কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা কে দ্রুত বাড়াতে সহায়তা করে। আর কলাতে প্রচুর শর্করা রয়েছে। মূলত 93% ক্যালোরি কার্বোহাইড্রেট থেকে পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে কলাতে শর্করা থাকার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এই ফাইবার হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ব্লাড সুগার কে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি খুব বেশি ক্ষতিকর নয়, কেননা সবুজ কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ। এটি শরীরে ফাইবার এর মত কাজ করে রক্তে শর্করার মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও এটি শরীরের পরিপাক ব্যবস্থাকে উন্নত করে রক্তে শর্করার স্পাইক গুলো কে নিয়ন্ত্রণ করে। কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন বি সিক্স ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কলা প্রতিদিন গ্রহণের ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকাকালীন অবস্থায় কলা খেলে সে ক্ষেত্রে শরীরে ফ্রুক্টোজ এর পরিমাণ কম থাকে।


 ডায়েরিয়া নিয়ন্ত্রণে কলার উপকারিতা :

         ডায়েরিয়ার চিকিৎসায় ইলেক্ট্রোলাইট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কলা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কলা মূলত পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া পটাশিয়াম প্রতিস্থাপনে সহায়তা করে থাকে। ডায়েরিয়ার সমস্যা দেখা দিলে একটি কলা খেলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও এক গ্লাস জলে এক চিমটি লবণ যোগ করে খেলে এটি শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া সোডিয়াম এবং ক্লোরাইড প্রতিস্থাপনে সহায়তা করে থাকে। ডায়েরিয়া থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য একটি নির্দিষ্ট ডায়েট তৈরি করা হয়েছে, একে ব্র্যাট ডায়েট বলা হয়। কলা আপেল এবং টোস্ট দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এটি মূলত শিশুদের জন্য অধিক কার্যকরী। এই ডায়েটে শরীরের দ্বারা উৎপাদিত মলের পরিমাণ হ্রাস করে পেটে কিছুটা স্বস্তি দেয় এই ডায়েটে প্রোটিন ফাইবার এবং ফ্যাট কম হওয়ায় এটি একটি সুষম খাদ্য। এছাড়াও এটি ডায়েরিয়া পরবর্তী অবস্থায় শরীরের পুষ্টির অভাব পূরণে সহায়তা করে। ডায়েরিয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটি খেলে ডায়েরিয়ার উপশমে সহায়তা করবে।


হ্যাংওভার কাটাতে কলার ব্যবহার :

         পরিমাণের তুলনায় খানিকটা বেশি অ্যালকোহল পান করলেই তার পরবর্তী সময়ে হ্যাংওভার ভাবটা অনেকের মধ্যে থেকেই যায়। এমনকি সেটা রাত পেরিয়ে পরের দিন পর্যন্ত থেকে যায়। তবে এই হ্যাংওভার কাটাতে আপনার হাতের কাছেই রয়েছে কলা। কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হ্যাংওভার কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা পটাশিয়াম এমন এক ধরনের খনিজ অ্যালকোহল গ্রহণের পরে নষ্ট হয়ে যায় এবং ডিহাইড্রেশন ঘটায়। তাই কলা এবং মধু দিয়ে মিল্কশেক তৈরি করে খাওয়া গেলে খুব শীঘ্রই হ্যাংওভার থেকে মুক্তি পেয়ে যায়। কারণ কলা স্নায়ুগুলোকে শান্ত করে এবং মধু শরীরে চিনির পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পাশাপাশি এতে দুধ দেওয়া যেতে পারে তাহলে তা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে। ভিটামিন বি১ এবং বি৬ হলো এমন দুটি উপাদান যা হ্যাংওভারের লক্ষণগুলোকে কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা গ্লুকোজ এবং ইলেকট্রোলাইট গুলি হ্যাংওভার এর চিকিৎসা করতে সহায়তা করে।


রক্তাল্পতা নিয়ন্ত্রণে কলার ব্যবহার :

         বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো রক্তাল্পতা। মূলত গর্ভাবস্থায় রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দেয়, তখন ফলিক অ্যাসিডের আদর্শ ডোজ দিয়ে এর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। পুষ্টিকর খাবার গুলিতে পাওয়া ভিটামিন এর পাশাপাশি এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যরক্ষায় রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করা আবশ্যক। সেকারণে কলার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। কলাতে থাকা ভিটামিন সি এর যথাযথ সহায়তা করে এবং এটি রক্তস্বল্পতার সাথে লড়াই করে। এছাড়া ভিটামিন বি টুয়েলভ রক্তাল্পতার চিকিৎসা করতে সহায়তা করে। যদিও ভিটামিন বি টুয়েলভ খুব বেশি মাত্রায় কলার মধ্যে নেই, তবে এটি ভিটামিনের সঠিক সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা তামা ও আয়রন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।


স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে কলার উপকারিতা :

        কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপকে কমাতে সহায়তা করে। তাই এটি যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা শর্করা সমৃদ্ধ একটি ফল হওয়ায় এটি মানসিক চাপকে শিথিল করতে পারে এবং স্নায়ুকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে রয়েছে ডোপামিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে প্রশান্ত করে চাপ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন বি6 যে কোন ধরনের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তাই অত্যধিক মানসিক চাপ কিংবা স্ট্রেস দেখা দিলে সে ক্ষেত্রে দৈনিক একটা করে কলা খাওয়া উচিত কিংবা হঠাৎ করে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেলে তখন কলা খেলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।


শক্তি বাড়াতে কলার উপকারিতা :

        কলা হল অ্যামিনো এসিড সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক শর্করা এবং অন্যান্য খনিজ সমৃদ্ধ একটি খাদ্য উপাদান। যা শরীরের শক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে থাকে। উপাদানগুলি ধীরে ধীরে রক্ত সরবরাহ কে সঠিক ভাবে প্রেরণ করে থাকে। এছাড়াও এটি শরীর থেকে খারাপ উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা ব্যায়ামের পরে খেলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এগুলিকে যথাযথ পূরণ করতে এবং জল ধরে রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দুটিমাত্র কলা 90 মিনিটের কঠোর পরিশ্রমের মতন শক্তি দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলা যেকোনো ধরনের উচ্চশক্তিসম্পন্ন পানীয়র সমান উপকারী হতে পারে। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাথলিটরা ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদান গুলি শরীরের শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে।



চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার ব্যবহার :

        শরীরের পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে কলা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি চোখে ছানি পড়ার যে ছত্রাকের সৃষ্টি হয় তা কমাতে সহায়তা করে। মূলত কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন-এ চোখ এবং কর্নিয়ায় সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। যাতে কোনো রকমে বাইরের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা চোখ আক্রান্ত হতে না পারে।


মাসিকের যন্ত্রণা কমাতে কলার উপকারিতা :

       বর্তমান স্ট্রেসফুল জীবনের অন্যতম একটি সমস্যা হল মাসিকের যন্ত্রণা। বলা যায় ৯০ শতাংশ মহিলাই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে দৈনিক একটি করে কলা খেলে এই সমস্যার উপশম হতে পারে। কেননা কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ গুলো পিরিয়ডের সময় জরায়ুর পেশীগুলোকে শক্তি প্রদান করে এবং ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও তলপেটে ব্যথা হয় সেগুলো কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন b6 পেটে ব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া মতো সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। (১২)


মশার কামড়ের যন্ত্রণা কমাতে কলার ব্যবহার :

      মশার কামড়ে নাজেহাল অবস্থা!  একনাগাড়ে চুলকে চুলকে গায়ের চামড়া উঠে যাচ্ছে?  কিন্তু আপনি জানেন কি আপনার হাতে কাছে থাকা কলা হতে পারে এর মোক্ষম ওষুধ। কলার খোসার ব্যবহারেই এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কলার খোসার মধ্যে থাকা শর্করা জাতীয় উপাদান মশার কামড়ের জায়গা থেকে জীবাণু সরিয়ে দিতে সহায়তা করে। যার ফলে মশার কামড় আক্রান্ত স্থানটি কলার খোসা দিয়ে ঘষলে সেখান থেকে মশার কামড় জনিত প্রদাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে আক্রান্ত স্থানটিতে কলার খোসা ব্যবহার করার আগে অবশ্যই একবার ডেটল দিয়ে মুছে নেবেন। তাতে ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়ে যাবে।


ইমিউনিটি বাঁচাতে কলার উপকারিতা :

       ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি কলার মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যকর উপাদান গুলি কিভাবে আমাদের শরীর চর্চায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কলার মধ্যে রয়েছে এমন এক ধরনের উপাদান, যা রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার সময় কোষগুলিকে তাদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে উন্নত করে তোলে। পাশাপাশি কলার মধ্যে থাকা এনজাইমগুলো আয়রন কে সঠিকভাবে হজমে সাহায্য করে। যার ফলে শরীরে আয়রনটা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়। কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন সি সর্বকালের গুরুত্বপূর্ণ শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। এর পাশাপাশি ভিটামিন শরীর থেকে যেকোনো ধরনের রোগ জীবাণু ধ্বংস করতে এবং রক্তকণিকাকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ফোলেট অন্যতম একটি পুষ্টিকর উপাদান, যা প্রোটিনকে শরীরে যথাযথ গ্রহণে সহায়তা করে। কলার মধ্যে থাকা লেক্টিন নামক অপর একটি উপাদান শরীরকে শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করে। এটি শরীরের কোষগুলোকে ভাইরাস আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। যাতে শরীরে মারাত্মক কোনো ভাইরাস আক্রমণ করতে না পারে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়ামও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। যার ফলে দৈনিক গ্রহণের ফলে এ ধরনের সমস্যা গুলো দূর হয়। এর পাশাপাশি কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়ামও শরীরকে যথাযথ শক্তি জুগিয়ে শরীরের ইমিউনিটি ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।


মর্নিং সিকনেস সমস্যায় কলার ব্যবহার :

         গর্ভবতী মহিলাদের অন্যতম একটি সমস্যা হল মর্নিং সিকনেস। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে সকাল বেলা বমি ভাব কিংবা বমি হতে দেখা যায়। এই সমস্যার ক্ষেত্রে কোন ওষুধ ব্যবহার না করে দৈনিক একটি করে কলা খেয়ে এটিকে নির্মূল করতে পারেন। কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম মর্নিং সিকনেস সমস্যাকে কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরকে সুস্থ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।


মেজাজ সঠিক রাখতে কলার ব্যবহার :

             কাজের চাপ হোক কিংবা জীবনের চাপ, মেজাজ যেকোনো সময় বিগড়ে যেতেই পারে। দীর্ঘদিন ধরে একনাগাড়ে এক কাজ চলতে থাকার ফলে একটা সময় মানুষের বিরক্তি ভাব এসে যায়। একে নির্মূল করা যাবে দৈনিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে। যে কারণে চিকিৎসকেরা দৈনিক খাদ্য তালিকা একটি কলা রাখার কথা বলেছেন। কলার মধ্যে থাকা শর্করা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করে। যার ফলে এটি মেজাজ সতেজ রাখতে সহায়তা করে এবং এর মধ্যে থাকা ভিটামিন বি6 যেকোনো ধরনের চাপ এবং উদ্বেগ থেকে মুক্তি দেয়। কলা ট্রিপটোফেন এর অন্যতম একটি উৎস, যা সেরোটোনিনের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। সুখ হরমোন নামে পরিচিত এই হরমোন নিঃসরণ এর ফলে হাসি খুশি এবং আনন্দিত থাকা যায়। ভিটামিন বি গ্রহণের ফলে হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে এবং এই সমস্ত ভিটামিন এ পরিপূর্ণ হবার এটি অন্যতম একটি সুষম খাদ্য। কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম মস্তিষ্কের নিউরন গুলিতে সুগঠিত রাখতে সহায়তা করে। যার ফলে যেকোনো ধরনের সমস্যা থেকে মস্তিষ্ককে বাইরে রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলাতে থাকা সেরোটোনিন মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালন কে ত্বরান্বিত করে। যার ফলে মেজাজ সুস্থ রাখতে সহায়তা হয়।


ওজন হ্রাস করতে কলার উপকারিতা :

          শুনে হয়তো অবাক হচ্ছেন, যে ওজন হ্রাস করবে কলা। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। কলা যথাযথভাবে খেলে ওজন হ্রাস করা সম্ভব হয়। কলার মধ্যে থাকা ফাইবার জাতীয় উপাদানগুলি ওজন হ্রাসে সহায়তা করে। এছাড়া এর মধ্যে থাকা স্টার্চ জাতীয় উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ওজন হ্রাসের জন্য অন্যতম একটি খাদ্য কলা, কারণ এটি শরীরের অতিরিক্ত চিনি কে শরীরে ফ্যাট হিসাবে জমতে দেয় না। ওজন হ্রাসের জন্য সকালে খালি পেটে একটি করে কলা খেতে পারেন। এটি অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভর্তি রাখতে সহায়তা করে। কার্বোহাইড্রেট এর অন্যতম উৎস হওয়ার এটি আপনি প্রাতরাশের জন্য রাখতেই পারেন। তবে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ কলা খেয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।


দাঁত সাদা করতে কলার ব্যবহার :

          অত্যধিক ধূমপান কিংবা তামাক গ্রহণের ফলে দাঁতের রং পাল্টে যাওয়া এ কোনো নতুন ব্যাপার নয়। তবে দাঁতের রং সাদা করতে ব্যবহার করুন কলা। এটি যেকোনো ধরনের কড়া দাগ কে কমাতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি দাঁতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দাঁতের উপরে পড়া কালো দাগ কমাতে সহায়তা করে।


অনিদ্রা কাটাতে কলার ব্যবহার :

        ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না, এই সমস্যায় নাজেহাল বালক থেকে বৃদ্ধ। কারো পড়ার চাপ, কারোর কাজের চাপ কিংবা কারোর পারিবারিক চিন্তা। তবে এবার আর চিন্তা নেই রোজ খাদ্যতালিকায় একটি করে কলা রাখুন এর মধ্যে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম স্নায়ুকে শিথিল করতে এবং ঘুমাতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে থাকা ট্রিপটোফ্যান ঘুমের ওষুধের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যে সমস্ত রোগীরা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য ব্যবহৃত ওষুধের ট্রিপটোফ্যান এর ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা মেলাটোনিন অনিদ্রার চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। 


পেটের আলসার চিকিৎসায় কলার ব্যবহার :

        খাবারের সমস্যার ফলে কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে পেটে আলসার দেখা দিতে পারে। এছাড়াও শরীরের ভেতরে অম্বলের সমস্যা বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ হলে সে ক্ষেত্রে আলসারের মত সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে এই সমস্যা থেকে নিরাময় পেতে দৈনিক একটি করে কলা গ্রহণ করুন। কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি শরীরের অভ্যন্তরীণ অ্যাসিড নিঃসরণে বাধা দেয় যার ফলে আলসারের মতো সমস্যা কম থাকে। কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম শরীরকে ভেতর থেকে জীবাণুমুক্ত করে তোলে। যার ফলে শরীর ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হয়। এছাড়া পাকা কলা হজমজনিত সমস্যা গুলি নিরাময়ে সহায়তা করে।


ত্বকের জন্য কলার উপকারিতা – Skin Benefits of Banana in Bengali

ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যরক্ষায় কলার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা জেনেছি। এবার জেনে নিন ত্বক পরিচর্যায় কিভাবে কলার ব্যবহার করে ত্বককে সুন্দর করে তুলবেন।


ত্বককে ময়শ্চারাইজ করতে কলার ব্যবহার :

       যে কোন ধরণের ত্বকের জন্য অন্যতম প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে পরিচিত কলা। কলাতে উপস্থিত ভিটামিন এ ত্বকের হারানো আর্দ্রতা পুনরুদ্ধার করে এবং নিস্তেজ ত্বককে সতেজ করে তুলতে, শুষ্কতা নিরাময় করতে সহায়তা করে। কলার সাহায্যে তাকে তৎক্ষণাৎ উজ্জ্বল করা সম্ভব হয়।


১) শুষ্ক এবং নিস্তেজ ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে তোলার জন্য একটি পাকা কলা চটকে নিয়ে মুখে লাগান।
২) চোখের চারপাশ বাদ দিয়ে কুড়ি থেকে পঁচিশ মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৩) তখনই দেখতে পাবেন ত্বক নরম এবং কোমল হয়ে উঠেছে।
৪) এছাড়া এই প্যাকে প্রয়োজনে মধু যোগ করতে পারেন।
৫) কলা এবং মধুর প্যাক ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলবে।
৬) উজ্জ্বল এবং দীপ্তিময় ত্বক পেতে অন্যতম একটি প্যাক হলো পাকা কলা।
৭) তার সাথে এক টেবিল চামচ দই এবং 1 চা চামচ ভিটামিন ই তেল মিশিয়ে নিয়ে পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে রাখুন।
৮) এবং 30 মিনিট পর ধুয়ে নিন। এটা দেখবেন এক নিমিষেই ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।


অ্যান্টি এজিং উপাদান হিসেবে কলার ব্যবহার :

       কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে ত্বকের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। যে কারণে কুচকে যাওয়া, বুড়িয়ে যাওয়া ত্বকে আর্দ্রতা প্রদান করে ত্বককে তরুণ রাখে।


১) ভিটামিন এ এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ অ্যান্টি-এজিং মাক্স তৈরীর ক্ষেত্রে একটি অ্যাভোকাডো এবং একটি কলা ভাল করে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন।
২) এবার এটি কুড়ি মিনিটের জন্য মুখে লাগিয়ে রাখুন।
৩) তারপর ধুয়ে ফেলুন।
৪) এতে ত্বক উজ্জ্বল এবং টানটান হয়ে উঠবে।
৫) কলার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান গুলি এবং এভোকাডোর মধ্যে থাকা ভিটামিন ই ত্বকের ফ্রিরেডিকেল গুলির সাথে লড়াই করে ত্বকের ক্ষতি নিরাময় করে।
৬) এছাড়াও অর্ধেক কলা নিয়ে তার সাথে 1 চা চামচ গোলাপজল মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে এবং ঘাড়ে লাগিয়ে আধঘণ্টা পর ধুয়ে ফেললে একটি সতেজ ত্বক উপহার পাবেন।


ত্বকের জেল্লা বাড়াতে কলার ব্যবহার :

কলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা ত্বককে আর্দ্র এবং কোমল রাখতে সহায়তা করে। তাই কলার সাহায্যে আপনি এই সমস্ত প্যাকগুলি ব্যবহার করে আপনার হারিয়ে যাওয়া জেল্লা ফিরিয়ে আনতে পারেন।

১) অর্ধেক পাকা কলা নিয়ে তার মধ্যে এক টেবিল চামচ চন্দন কাঠের গুঁড়ো এবং 1 চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন।
২) এবার এটি পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে কুড়ি থেকে 25 মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩) এবং তারপর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অন্যতম একটি উপকারী ফেসপ্যাক।
৪) এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত সেবাম নিঃসরণ দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলতে সহায়তা করবে।
৫) শুষ্ক ত্বকের জন্য অন্যতম একটি প্যাক হলো একটি পাকা কলার মধ্যে একটি লেবুর রস মিশিয়ে নিন।
৬) এবার এই মিশ্রণটি পরিষ্কার মুখে রেখে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন।
৭) এরপর ধুয়ে ফেলুন।
৮) এটি ত্বক থেকে দাগ ছোপ কমাবে এবং ত্বককে জেল্লাদার করে তুলবে।
৯) কলার সাথে দুধ ব্যবহার করেও ত্বককে জেল্লাদার করে তুলতে পারেন।
১০) কলাটি ভালো করে ফেটিয়ে নিয়ে তারমধ্যে দুধ মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন এবং তার মধ্যে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল যোগ করুন।
১১) এবার এই মিশ্রণটি মুখে ঘাড়ে কুড়ি মিনিট রেখে দিন।
১২) তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে উজ্জ্বল করতে সহায়তা করবে।


ত্বকের মৃতকোষ অপসারণে কলার ভূমিকা :

      ত্বককে সুন্দর এবং সুস্থ রাখতে সপ্তাহে অন্তত দু’বার এক্সফোলিয়েশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলা দিয়ে তৈরি স্ক্রাব দিয়ে ত্বকের এক্সফোলিয়েশন করতে পারেন। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি উপাদান হওয়ায় ত্বকের ওপর দিয়ে মৃত কোষগুলি অপসারণের পাশাপাশি ত্বককে বাড়তি উজ্জ্বলতা দিয়ে থাকে। বাড়িতেই তৈরি করে নিন কলার স্ক্রাব।

১) একটি কলা নিয়ে ভালো করে ম্যাস করে নিন।
২) এর মধ্যে এক টেবিল চামচ চিনি যোগ করুন।
৩) এবার এটি ভালো করে মিশিয়ে ত্বকের ওপর বৃত্তাকারভাবে ঘষে নিন।
৪) এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করবে এবং চিনির দানা গুলো শরীরের মৃত কোষ গুলিকে সরাতে সহায়তা করবে।
৫) একটি পাকা কলা তার মধ্যে 2 টেবিল চামচ ওটস, 1 টেবিল চামচ মধু এবং দুধ যোগ করে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
৬) এবার এটি মুখে লাগিয়ে 15 মিনিট রেখে দিন।
৭) তারপর ভেজা হাতে মুখে ঘষে ঘষে তুলুন।
৮) এটি ত্বককে মসৃণ করে তুলবে।
৯) এছাড়া কলা দিয়ে বডি স্ক্রাব তৈরি করে নিতে পারেন সে ক্ষেত্রে, দুটি কলা, চার-পাঁচটি স্ট্রবেরি দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন এবং এর মধ্যে 3 টেবিল চামচ চিনি মিশিয়ে নিন।
১০) স্নান করার সময় সারা শরীরে ব্যবহার করুন।


ব্রণ কমাতে কলার উপকারিতা :

      ব্রণ আমাদের সকলেরই অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। তবে এটি নিরাময়ে কলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন।

১) কলার খোসার একটি ছোট টুকরো কেটে নিন।
২) এবার কলার খোসার ভেতরের অংশ আলতো করে ঘষুন এবং তারপর 5 মিনিটের জন্য তা রেখে দিন।
৩) এবার এটি শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৪) সপ্তাহে 3 দিন এটি ব্যবহার করুন। এক সপ্তাহেই তফাৎটা বুঝতে পারবেন।

চুলকানি দূর করতে কলার ব্যবহার :

       অ্যালার্জির কারণে কিংবা পোকামাকড় কামড়ানোর ফলে চুলকানির সমস্যা গুলো দূর করার জন্য অন্যতম একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হলো কলা। এটি এলার্জি যুক্ত ত্বকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এইরকম জায়গায় কলার খোসা ভেতরের দিকটা ভালো করে ঘষে নিন। এতে স্বস্তি পাবেন।

১) এছাড়াও সোরিয়াসিস রোগের চিকিৎসার জন্য কলার খোসা টি আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন।
২) এবং প্রতিদিন 10 থেকে 15 মিনিটের জন্য একবার ব্যবহার করুন।
৩) আপনার ওষুধের ব্যবহারের পাশাপাশি এটি করতে পারেন। তবে অবশ্যই আপনার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এটি ব্যবহার করবেন।


চোখের ফোলা ভাব কমাতে কলার ব্যবহার :

      একনাগাড়ে কম্পিউটারে কাজ করলে কিংবা সঠিকভাবে ঘুম না হলে কিংবা চোখ খুব বেশি ঘষলে চোখের তলায় ফোলা ভাব দেখা দেয়। কলার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান গুলি চোখের নিচের রক্তনালী গুলিকে স্বস্তি প্রদান করে চোখের ফোলাভাব কমাতে সহায়তা করে।

১) এর ফলে আপনাকে যা করতে হবে একটি কলার অর্ধেক অংশ নিয়ে চোখের ফোলা ভাব এর উপর পুরু করে লাগিয়ে রাখতে হবে।
২) এরপর পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করে তা ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
৩) কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম চোখের নিচের ফোলা ভাব কমাতে এবং সেই জায়গাটাকে ঠান্ডা ভাব দিতে সহায়তা করে।

পায়ের যত্নে কলার ব্যবহার :

      দীর্ঘ সময় ধরে খালিপায়ে হাঁটাচলা করলে কিংবা হঠাৎ মরসুমের পরিবর্তন হলে সেক্ষেত্রে ফাটা গোড়ালির সমস্যা দেখা যেতে পারে। ফাটা গোড়ালির চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কলা।

১) দুটি পাকা কলা নিয়ে সেটাকে ভালো করে মিশিয়ে পরিষ্কার পায়ে লাগিয়ে রাখুন।
২) এবং 10 মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩) 10 মিনিট পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৪) শুষ্ক ত্বক প্রতিরোধ করে এবং ফাটা গোড়ালির সমস্যা দূর করে পায়ের ত্বকে আর্দ্রতা প্রদান করে তা কোমল করে তোলে।



সৌন্দর্যের ঘুম নিন কলার ব্যবহার করে :

     ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি অনিদ্রা জনিত সমস্যা দূর করতে কলার ব্যবহার অনস্বীকার্য। তাই কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে নিজের ত্বককে চনমনে করে তুলতে একটা বিউটি স্লিপ আবশ্যিক। সে ক্ষেত্রে যদি অতিরিক্ত চাপ থাকে কিংবা স্ট্রেস থাকে সকালে উঠে একটা কলা খেয়ে নিন। তাহলে সারাটাদিন চাপমুক্ত থাকবেন। এর পাশাপাশি কাজের ফাঁকে 5 থেকে 10 মিনিটের একটা ছোট্ট বিশ্রাম নিয়ে নিন। এতে আপনি আরো চনমনে হয়ে উঠবেন। এতে আপনার ত্বক উজ্জল হয়ে উঠবে।


চুলের জন্য কলার উপকারিতা – Hair Benefits of Banana in Bengali

    ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য এবং ত্বকের যত্নে কলার ভূমিকা সম্পর্কে আমরা জেনে নিয়েছি। এবার জেনে নিন চুলের যত্নে কিভাবে কলা ব্যবহার করতে পারবেন।


চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার উপকারিতা :

       কলার মধ্যে থাকা ফলিক অ্যাসিড চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তুলতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি চুলে আর্দ্রতা প্রদান করে। যার ফলে চুল শুষ্ক হয়ে যায় না। কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম চুলকে প্রাকৃতিক ভাবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখে। কলা দিয়ে চুলের পরিচর্যার জন্য অনেকগুলো প্যাক রয়েছে জেনে নিন সেগুলো।


নরম চুলের জন্য :

১) নরম চুল পেতে গেলে একটি পাকা কলার সাথে এভোক্যাডো নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
২) এবার এই মিশ্রণটিতে নারকেলের দুধ যোগ করুন।
৩) এবার এই মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে 15 থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন।
৪) তারপর হারবাল কোন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।


চকচকে চুলের জন্য :

১) চকচকে চুল পেতে গেলে একটি কলার খোসা এবং অলিভ অয়েল এবং ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
২) এই মিশ্রণটি আপনার চুলে লাগিয়ে 15 মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩) তারপর আপনি যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন তা দিয়ে চুল ধুয়ে চুলে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।
স্ট্রং চুলের জন্য  :
১) পাকা কলা এবং দই মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
২) এবার এই মসৃণ পেস্টটি মাথায় লাগিয়ে 15 থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩)  তারপর ধুয়ে ফেলুন।
৪) এটি সপ্তাহে দুদিন করুন। চুল মজবুত হবে।
৫) যারা শুষ্ক চুলের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি। একটি পাকা কলার সাথে 3 চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন।
৬) এবার এই মিশ্রণটি চুলটা ভেজা অবস্থায় লাগিয়ে নিন।
৭) এবার 15 থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন।
৮) তারপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন।


ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য :

১) একটি কলা এবং তার মধ্যে কয়েক ফোঁটা বাদাম তেল নিয়ে মিক্সারে ভালো করে পিষে নিন।
২) এবার এই মিশ্রণটি মাথায় লাগিয়ে 15 থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩) কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন এ এবং সি চুলকে আর্দ্রতা প্রদান করে নরম এবং উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করবে।


তবে এগুলো ব্যবহার করার পর অবশ্যই মনে রাখবেন, চুল ধোয়ার পরে যাতে চুলে কোনরকম কলার টুকরো বা অংশ আটকে না থাকে


এতে চুল চ্যাটচ্যাটে ধরনের হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও এগুলি চুলে খুব বেশি শুকোতে দেবেন না। কিছুক্ষণ লাগিয়ে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন। না হলে এগুলি চুলে আটকে থাকতে পারে এবং চুল কে রুক্ষ করে তুলতে পারে।


কলার ব্যবহার – How to Use Banana in Bengali

ইতিমধ্যেই কলার গুনাগুন সম্পর্কে আমরা অনেকটাই জেনে নিয়েছি। এবার কলা কিভাবে, কত পরিমাণ, কখন খাওয়া উচিত সেগুলো আমরা জেনে নি। মূলত কলা সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি রান্না করে অনেকাংশে খাওয়া যেতে পারে। জেনে নিন কিভাবে সেটি ব্যবহার করবেন।


১) প্রাতরাশ এ ব্যবহার করুন দুটি বড় বড় কলা, এক কাপ বাদাম দুধ, চিনাবাদাম, কোকো পাউডার, ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো করে একটি স্মুদি বানিয়ে নিন।


২) কলা এবং অ্যাভোকাডো দিয়ে স্মুদি। একটা কলা, একটা এভোকাডো, এক কাপ দই, বাদাম দুধ, ভ্যানিলা এসেন্স, মধু এবং বরফের টুকরো দিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো করে মিশিয়ে স্মুদি বানিয়ে প্রাতরাশে খান।


সঠিক কলা বাছাই করে সেটা অনেকদিন পর্যন্ত সুরক্ষিত রাখার উপায়

      কলা কেনার সময় মাথায় রাখবেন সেগুলি যাতে খুব বেশি শক্ত কিংবা খুব বেশি নরম না হয়। যে কলার গায়ে বাদামী রংয়ের হালকা দাগ রয়েছে সেগুলি ব্যবহার করুন। কেননা সে গুলি খাওয়ার জন্য উপযুক্ত। অথবা যদি রান্না করতে চান সে ক্ষেত্রে সবুজ রংয়ের কাঁচা কলা ব্যবহার করে নিতে পারেন। সেটাও অনেকদিন ভালো থাকবে এবং ভাল করে রান্না করে খেতে পারবেন। কলা যদি অনেকদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখতে চান সে ক্ষেত্রে ঘরের তাপমাত্রায় রাখুন। সরাসরি সূর্যের তাপের কাছাকাছি কিংবা রেফ্রিজারেটরে কখনোই রাখবেন না। আর কলা অন্যান্য ফলের থেকে আলাদা রাখবেন। সম্ভব হলে ঘরের মধ্যে দড়ি টাঙ্গিয়ে সেখানে কলা ঝুলিয়ে রাখুন, এতে তা অনেক দিন স্থায়ী হবে।




কলার ক্ষতিকর দিক – Side Effects of Banana in Bengali

    ইতিমধ্যেই আমরা কলার গুণাগুণ সম্পর্কে জেনে নিয়েছি। তবে এবার জেনে নিন কলার ক্ষতিকর দিকগুলো। কোন জিনিসই অতিরিক্ত ব্যবহার ঠিক নয়। এক্ষেত্রে কলাও তার ব্যতিক্রম নয়। জেনে নিন কলার ক্ষতিকর দিকগুলি :

১) কলার মধ্যে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম রয়েছে। তাই এটি কখনোই দিনে দুটির বেশি খাবেন না।
২) গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করবেন।
৩) কলা গাছের পাতা, কান্ড সবকিছুই খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। কিন্তু কোনোরকম  এলার্জিরসমিস্যা থাকলে দেখে  নেবেন কলা গাছের কোন বিশেষ অংশ আপনার খাওয়া উচিত নয়।
৪) কলার মধ্যে উচ্চমাত্রায় অ্যামিনো এসিড থাকায় এটি অধিকগ্রহণের ফলে রক্তনালীতে প্রভাব পড়তে পারে। যার ফলে মাথাব্যথার সৃষ্টি হয় এবং এর মধ্যে ট্রিপটোফ্যান থাকায় এটি বেশি পরিমাণে খাবার ফলে বেশি ঘুম পাওয়ার সমস্যা হতে পারে।
৫) কলা শর্করা সমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় এটি খাওয়ার পর ঠিকভাবে মুখ না ধুলে দাঁতের ক্ষয় হতে পারে।
৬) পটাশিয়ামের অধিগ্রহণের ফলে হাইপারক্যালেমিয়া রোগ দেখা দিতে পারে। যার ফলে পেশির দুর্বলতা কিংবা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা হতে পারে। তাই দৈনিক অল্প পরিমাণে কলা খেতে হবে।
৭) অতিরিক্ত কলা খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ খান।
৮)  যদি কারো কিডনির সমস্যা থাকে সে ক্ষেত্রে তাদের কলা খাওয়ার পরিমান করিয়ে দেওয়া উচিত। কেননা অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে তা কিডনির ব্যথা সৃষ্টি করতে পারেন।


তাহলে ইতিমধ্যেই জেনে নিয়েছেন কলার গুনাগুন গুলি। তাহলে আর অপেক্ষা কিসের? এগুলি মেনে চলুন এবং নিজে সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন এবং ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য রক্ষায় ত্বক পরিচর্যায় কলার ব্যবহার গুলো জেনে নিয়েছেন সেগুলি মেনে চলুন।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


Friday, August 13, 2021

কমলালেবুর উপকারিতা বা পুষ্টিগুণ, আপনাদের জন্য তো আজকের টিপস কমলালেবুর উপকারিতা বা পুষ্টিগুণ

            

       মলকির পরে ভিটামিন C এর উৎস হিসেবে যাকে ধরা হয় তা হল কমলালেবু (Orange) । কাঁচা আমলকি যেহেতু সারা বছর পাওয়া যায় না, তাই সেটা শুকনো বা পাউডার রূপে রাখা হয়। কিন্তু কমলালেবু সারা বছরই পাওয়া যায়। তাই ভিটামিন C কে নিয়ে আমাদের আর দ্বিতীয়বার ভাবতে হয় না। কমলা খাই না এমন মানুষ খুব কম আছে। মুখে স্বাদ নেই তো কি হয়েছে, মুখের রুচির জন্য আর মুখে স্বাদ আনার জন্য একটা কমলাই যথেষ্ট। ওজন কমানো, ত্বকের পুষ্টি এমন কি হৃদযন্ত্র ভালো রেখে শরীরে রক্ত চলাচল নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে কমলা। কমলার রয়েছে আরো অনেক উপকারিতা। আপনাদের জন্য তো আজকের টিপস কমলালেবুর উপকারিতা বা পুষ্টিগুণ   



রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে

       কমলা আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করে। একই সঙ্গে এ ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান। এ পুষ্টি উপাদানসমূহ রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ছোটবড় নানা ব্যাধি ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।


         আমাদের মুখে ভিটামিন সি এর অভাবে যে ঘাঁ হয় সেটার ঔষুধ হিসেবে কমলা অনেক ভাল কাজ করে।এটি ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। কমলাতে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন সেল ড্যামেজ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম যা দাঁত ও হাঁড়ের গঠনে সাহায্য করে।


সুন্দর ত্বকের জন্য

      বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বকও দ্রুত বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। ভিটামিন সি ছাড়াও কমলায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহ ত্বককে সতেজ ও সজীব রাখতে সাহায্য করে। বার্ধক্যেও ত্বককে অনেকটাই মসৃণ রাখে, সহজে বলিরেখা পড়ে না। কারণ, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিস সি ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখে বহু বছর। ফলে, বয়স বাড়লেও, আপনাকে দেখাবে চিরতরুণের ন্যায়।


চোখের জন্য

       প্রতিদিন একটি করে কমলা খাওয়ার অভ্যাস আপনার দৃষ্টিশক্তিকে ভাল রাখে। কারণ, কমলায় রয়েছে ভিটামিন এ, সি ও পটাসিয়াম। এ ভিটামিনগুলো আপনার দৃষ্টিশক্তির জন্য বেশ উপকারী।


পাকস্থলীর আলসার থেকে সুরক্ষায়

       আঁশের অন্যতম উৎস কমলা পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত কমলা খাওয়ার অভ্যাস পাকস্থলীর আলসার ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সুরক্ষা দেবে। পাকস্থলীকে রাখবে সবল।


ক্যান্সার প্রতিরোধ (anti-cancer)

          কমলায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিনের পাশাপাশি রয়েছে আলফা ও বেটা ক্যারোটিনের মতো ফ্ল্যাভনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কমলায় উচ্চমাত্রার পুষ্টিগুণ হচ্ছে ফ্ল্যাভনয়েড যা ফুসফুস এবং ক্যাভিটি ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর। তাই ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন ১ টি কমলা খাওয়া উচিত।


       কমলার ভিটামিন সি উপাদান (vitamin C content) আমাদের শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এটি আমাদের শরীরের কোলন ক্যান্সার (colon cancer) ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের (breast cancer) অন্যতম সেল প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।


ব্যথা উপশম (pain killer)

        ব্যথা উপশমে কমলার তুলনা হয়না। কমলা ও কমলার জুসের পুষ্টিমাণ আমাদের শরীরের যেকোন ধরণের ব্যথা উপশমে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।


কিডনি রক্ষা (kidney protector)

     কমলার উচ্চ সাইট্রেট উপাদান ( high citrate content) কিডনি রক্ষা করে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে লেবুর থেকে কমলার জুস আরও ভালভাবে আমাদের কিডনির দেখভাল করে।


ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ (diabetes management)

      কমলা একটি উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ ফল। আর দি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন(the New England Journal of Medicine) থেকে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে লিখা হয়েছে উচ্চ ফাইবার আমাদের শরীরের সুগারের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে একটি বড় অবদান রাখে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে নিয়মিত কমলা গ্রহণের বিকল্প হয়না।


কলেস্টেরল হ্রাস (cholesterol reducer)

      প্রতিদিন ৭৫০ মিলি. কমলার জুস গ্রহণ করলে আমাদের শরীরের ক্ষতিকর কলেস্টেরল (bad cholesterol) এর মাত্রা কমে গিয়ে উপকারী কলেস্টেরল (good cholesterol) এর পরিমাণ বেড়ে যাই। তাই আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত একগ্লাস কমলার জুস খাওয়া খুব উপকারী।


হার্ট সুস্থ রাখে:

     কমলায় আছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান যা হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম এবং ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ উপাদানগুলো শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কমলার চর্বিহীণ আঁশ, সোডিয়াম মুক্ত এবং কোলেস্টেরল মুক্ত উপাদানগুলো হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে।


এক নজরে কমলার উপকারিতা

১) কিডনিতে পাথর  হওয়া প্রতিরোধ করে,
২) এটি খেলে চর্বি কিছুটা কমে,
৩) যাদের পেট বেশি মোটা তারা খেলে পেট কিছুটা কমে যায়,
৪) দাঁতকে সুন্দর করে,
৫) যদি প্রতিদিন কেউ কমলা খায় তাহলে তার কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়,
৬) কমলাতে হেসপেরিডিন এবং পেকটিন থাকে যা কিনা কোলেস্টেরল কমায় আর যার কারণে কমলা খেলে এটি শরীরের চর্বি আস্তে আস্তে কমাতে সাহায্য করে,
৭) কমলার ক্যালরি অনেক কম তাই এটি শরীরের সুগারের উপর কাজ করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে,
৮) কেউ যদি প্রতিদিন এক গ্লাস কমলার জুস খায় তাহলে তার রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়,
৯) কমলাতে হেসপিরিডিন এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারনে এটি ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে,
১০) কমলাতে ডি-লিনোনেন নামক এক ধরনের জিনিস থাকে যা কিনা প্নেক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাই কেউ যদি কমলা খায় তাহলে এই কমলা খাওয়ার কারনে সে কোলন ক্যান্সার,ফুসফুসের ক্যান্সার,স্কিন ক্যান্সার,ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে,
১১) কমলাতে আঁশ, হেসপেরিডিন, ফলেট থাকার কারণে এটি স্বাস্থ্যকে ভাল রাখে। কেউ নিয়মিত কমলা খেলে তার হার্ট ভাল থাকে,
১২) কমলাতে ফলিক এসিড থাকে যা কিনা ব্রেনের ডেভেলপমেন্টে কাজ করে,
১৩) কমলাতে থাকে ভিটামিন সি আর যা কিনা আমাদের শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা বাড়ায়ে আমাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করে,
১৪) কমলাতে কম ক্যালরি এবং বেশি ফাইবার থাকার কারণে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে,
১৫) কমলাতে ফ্লাভোনোয়েড এবং পলিফেনল থাকার কারণে এটি ভাইরাল ইনফেকশন থেকে আমাদের সাহায্য করে,
১৬) কমলাতে ক্যালসিয়াম থাকার কারণে এটি হাড় এবং দাতের গঠন ঠিক রাখ্তে সাহায্য করে,
১৭) কমলাতে অনেক বেশি ফাইবার থাকার কারণে এটি অনেক আলসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।কেউ নিয়মিত কমলা খেলে তার পাকস্থলির ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে,
১৮) কমলা খেলে চোখের জ্যোতি ভাল থাকে,
১৯) কমলাতে ভিটামিন সি থাকার কারণে এটি আর্টেরিওস্কেলোরোসিস থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে,
২০) যেসব মায়েরা বাচ্চাদের বুকের দুধ পান করায় তাদের জন্য কমলা খুবই উপকারী কারণ তারা যদি ঠিকমত কমলা খায় তাহলে এতে অতিরিক্ত দুধ আসে ব্রেস্ট থেকে যার কারোনে বাচ্চা ও ঠিকমত দুধ পায়,
২১) কেউ নিয়মিত কমলার চা খেলে তার শ্বাসের সমস্যা কিছুটা হলে ও কমে এবং সেই সাথে ওরাল হাইজিন উন্নত করে এটি,
২২) কমলা খেলে রক্ত সঞ্চালন ভাল থাকে,
২৩) চুলের গ্রোথে কমলা খুবই উপকারি,
২৪) ড্যানড্রাফ দূর করতে ও কমলার জুড়ি নেই,
২৫) কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কমলা সাহায্য করে কারণ কমলাতে ফাইবার বেশি থাকে।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


Tuesday, August 10, 2021

দুধের উপকারিতা, দুধ কেন স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি,দুধের খাদ্যগুণ,কিভাবে দুধ ব্যবহার করবেন ? দুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া,দুধ কেন স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি ?

 দুধের ব্যবহার ও উপকারিতা :-

দুধের উপকারিতা

        আপনাদের মধ্যে অনেকেই দুধ খেতে পছন্দ করেন, তারা আশা করি আমাদের এই প্রতিবেদন পড়ে খুশি হবেন। আবার অনেকে আছে যারা দুধ পছন্দ করেন না, তাদের এই প্রতিবেদনটি পড়া উচিত। আপনাদের আজ জানাবো দুধের  উপকারিতা ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত। তাহলে শুরু করা যাক।

     দুধের উপকারিতা, দুধ কেন স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি,দুধের খাদ্যগুণ,কিভাবে দুধ ব্যবহার করবেন ? দুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া,দুধ কেন স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি ?

       নিয়মিত দুধ খাওয়ার অভ্যেস থাকলে ত্বক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব দেখতে পাবেন। আর কেন দুধ উপকারী বলা হচ্ছে, এ ব্যাপারে নিচে উল্লেখ করা হল।


দুধের উপকারিতা

 ঘুম গাঢ় করতে

      আমাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, রাতে এক গ্লাস গরম জল খেলে ঘুমোলে ঘুম ভালো হয়, জলের জায়গায় গরম দুধ খেয়ে দেখুন, দারুন ফল পেতে পারেন ।


    অনেকেই অনিদ্রা রোগে ভোগেন। সেক্ষেত্রে কিন্তু কিছু ডাক্তার পরামর্শ দেন রাতে শুতে যাবার আগে এক গ্লাস গরম দুধ খাওয়ার। দুধে বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান থাকার জন্য তা স্ট্রেস কমিয়ে ঘুম গাঢ় করতে সাহায্য করে (7)।


 ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে

     দুধে থাকে ল্যাক্টোফেরিন নামক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদান, তাই দুধ অ্যাকনের সমস্যা দূর করতে উপযোগী বলে জানা যায়। নিয়মিত লো ফ্যাট দুধ খেলে নাকি ত্বক কম ফাটে, এর কারণ হল কম ফ্যাট যুক্ত দুধে থাকে ট্রাই-গ্লিসারাইড। একটি গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত ত্বকে দুধ লাগালে ত্বকের থেকে অতিরিক্ত তেল ৩১% কম বেরোয় (10)।


 চুলকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে

        অনেকেই কন্ডিশনার হিসেবে দুধ ব্যবহার করে থাকেন। এতে চুল মসৃণ ও চকচকে হয়ে ওঠে। এছাড়া চুলের নানা প্যাক দুধ দিয়ে বানান। এটি চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।


 ব্লাড প্রেসার ঠিক রাখতে

     ব্লাড প্রেসারের সমস্যা থাকলে নিয়মিত কম ফ্যাট যুক্ত দুধ খাওয়া উচিত, এতে ব্লাড প্রেসারের মাত্রা ঠিক থাকে  (8)।


 ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

      দুধে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ডি থাকার জন্য আমাদের শরীরের কোষের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।  একটি গবেষণার মাধ্যমে দাবি করেছে যে দুধ নাকি ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে উপযোগী (9)। তাই দুধ নিয়মিত খাওয়া খুবই ভালো । কোলন ক্যান্সারের রোগীদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে দুধ বলে জানা যায়।




 হাড় ও পেশিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে 

     একটি সুস্থ শরীরের জন্য হাড়ের মজবুত হওয়া খুবই জরুরি। তাই প্রয়োজন ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি -এর। আর যেসব মহিলারা মেনোপোজের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের এই সময় হাড়ের ক্ষয় শুরু হয় কারণ শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের তারতম্য হয়ে থাকে (1)।


    দুধে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি, তাই সবারই নিয়মিত দুধ খাওয়ার অভ্যেস করা উচিত।


 দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

     নিয়মিত দুধ খেলে হাড় শক্ত হওয়ার পাশাপাশি দাঁতও মজবুত হয় কারণ দুধে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি উপস্থিত (2) । দাঁতের ওপরে যে এনামেলের স্তর থাকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ক্ষয় হতে থাকে। ফলে দাঁতে কনকনানি ব্যাথা হতে শুরু হয়। তাই নিয়মিত দুধ খাওয়ার অভ্যেস থাকলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয় না বলে জানা যায়।


 শরীরের ওজন হ্রাস করতে

     দুধে প্রোটিন থাকার কারণে তা অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে , ফলে অন্যান্য খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে (3) । এক্ষেত্রে ননিমুক্ত বা ফ্যাট মুক্ত দুধ খাওয়া প্রয়োজন। ফলে এই ধরণের দুধ খেলে শরীরে প্রোটিন প্রবেশ করে কিন্তু ক্যালোরি নয়।


 স্ট্রেস দূর করতে

      নানা গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য যে স্ট্রেস কমাতে নাকি দুধ খুবই উপযোগী। তাই যদি আপনি স্ট্রেসে ভুগছেন, তাহলে অবশ্যই নিয়মিত দুধ খেতে শুরু করুন।


  হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

       জানা যায় প্রত্যেকদিন ২০০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার দুধ খেলে নাকি হার্টের সমস্যা হওয়ার প্রবণতা ৭% কমে যায়। কম ফ্যাট যুক্ত দুধ খেলে রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমান বৃদ্ধি পায় ও খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। কম বয়স থেকে কম ফ্যাট যুক্ত দুধ খেতে শুরু করলে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস ও অন্যান্য হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা কমে (4)। এছাড়া ব্লাড প্রেসার সঠিক রাখতেও সাহায্য করে।


 ডায়াবেটিসের সমস্যা কমাতে

      ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি তে পরিপূর্ণ এই দুধ। আর সেজন্য দুধ ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য উপকারী খাবার বলে জানা যায় (5), (6)।  তবে অবশ্যই কম ফ্যাট যুক্ত দুধ খাওয়া প্রয়োজন এক্ষেত্রে।


 পেটের সমস্যা ও অ্যাসিডিটি কমাতে

       দুধে উপস্থিত ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি র জন্যই পেটের সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে পারে বলে জানা যায় (6) ।  কখনোই ননি যুক্ত দুধ এই সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না, তাই লো ফ্যাট যুক্ত দুধই খাবেন।


দুধের খাদ্যগুণ

গরুর দুধের খাদ্যগুণ সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হল - ৬ টি  ।

১- জল ৮৮ গ্রাম। 
২- এনার্জি ৬১ কিলো ক্যালোরি।  
৩- প্রোটিন ৩.২ গ্রাম। 
৪- ফ্যাট ৩.৪ গ্রাম।  
৫- ল্যাক্টোজ ৪.৭ গ্রাম। 
৬- মিনারেলস ০.৭২ গ্রাম। 


কিভাবে দুধ ব্যবহার করবেন ?

১.একটি সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন।

২.ঘুম ভালো হওয়ার জন্য রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধ খেতে পারেন।  ব্রেকফাস্টের সময়ও দুধ খেতে পারেন।

৩.শুধু দুধ খেতে না ভালো লাগলে হরলিক্স বা ওই জাতীয় কিছু মিশিয়েও খেতে পারেন।

৪.কোনো ফল দিয়ে মিল্ক শেক বানিয়েও খেতে পারেন, তাহলে স্বাদের পরিবর্তন হবে।
দুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

৫.আমরা জানি, কোনো কিছুই বেশি খাওয়া উচিত না। এক্ষেত্রেও আপনার পরিমান মতো দুধ খাওয়া উচিত, কখনোই ভাববেন না বেশি পরিমানে দুধ খেলে এর উপকারিতাও বাড়বে।

৬.নিয়মিত দুধ খাওয়ার অভ্যেস করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন অবশ্যই। নিচে দুধের কিছু ক্ষতিকারক দিকের কথা উল্লেখ করা হল।


১. ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স

      যারা দুধ খেয়ে হজম করতে পারে না, পেটে গ্যাস বা হজমের সমস্যা হয় তাদের মূলত ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স থাকে (11)। দুধে থাকে  ল্যাক্টোজ, আর যাদের ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স থাকে, তাদের ইন্টেস্টাইনে দুধ গিয়ে তা পাচিত হয় না। কোলনে প্রবেশ করার পর তা গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং তার সঙ্গে গ্যাসেরও সৃষ্টি হয়  । এর ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও দেখা দেয়। এক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় যে দুধে অ্যালার্জি আছে।

২. হরমোনের তারতম্য

     দুধে থাকে ইস্ট্রোজেন হরমোন, যদি বেশি দুধ খাওয়া হয়ে যায় তাহলে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণও বেড়ে যায় কারণ এমনিতেই এই হরমোন তৈরী হয়। এর ফলে ব্রেস্ট, প্রস্ট্রেট ক্যান্সার সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে জানা যায় (12)।

      দুধের গুনাগুণ ও ক্ষতিকারক দিক  সম্পর্কে তো জানলেন, তাহলে বুঝতেই পারছেন এটি শরীরের পক্ষে কতটা স্বাস্থ্যকর। তাই আশা করি, এখন থেকে নিশ্চয়ই এটি খাওয়ার চেষ্টা করবেন নিয়মিত, তবে পরিমাণ সম্পর্কে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না কিন্তু । নিজের যত্ন করুন ও সুস্থ থাকুন।


রাতে দুধ খাওয়া কি শরীরের পক্ষে উপকারী ?
হ্যাঁ, অবশ্যই উপকারী।  এতে ঘুম ভালো হয়, তবে গরম দুধ এক্ষেত্রে উপযোগী।
কাঁচা দুধ কি খাওয়া যেতে পারে ?
না, কখনোই না।
গরম দুধ খেলে কি কি উপকার পাওয়া যায় ?
দুধের যেসব উপকারিতা আছে, তা গরম দুধ খেলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাওয়া যায়।
খালি পেটে দুধ খাওয়া কি উচিত ?
খালি পেটে দুধ না খাওয়াই উচিত।


Monday, August 09, 2021

প্রতিদিন খেজুর খেলে কী হতে পারে জানেন?

 

প্রতিদিন খেজুর খেলে কী হতে পারে জানেন?

সুস্বাদু এই মরু ফলটির শরীরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, উপকারি তেল, ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, কপার এবং আরও নানাবিধ খনিজ। রয়েছে উপকারি ভিটামিনও। তাই তো প্রতিদিন সকালে ৩-৪ টে খেজুর খেলে শরীরের তো কোনও ক্ষতি হয়ই না। উল্টে দারুন উপকার পাওয়া যায়। বিশেষত যারা কনস্টিপেশন বা কোনও ধরনের পেটের রোগে ভুগছেন তাদের জন্য় তো এই ফলটি মহৌষধির সমান! তবে এখানেই শেষ হয়ে যায় খজুরের গুণ, এমনটা ভাবলে কিন্তু ভুল করবেন। কারণ নিয়মিত এই ফলটি কেলে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন...


১. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে খেজুর খাওয়ার পাশাপাশি যদি নিয়মিত এই ফলটির পাতা খাওয়া যায়, তাহলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে চোকে পরার মতো! সেই সঙ্গে নাইট ব্লাইন্ডনেস সহ অন্যান্য চোখের রোগের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না।


২. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

এই ফলটির অন্দরে থাকা প্রকৃতিক সুগার রক্তে মেশার পর এমন মাত্রায় খেল দেখাতে শুরু করে যে শরীর একেবারে চনমনে হয়ে ওঠে, সেই সঙ্গে মানসিক ক্লান্তি দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এবার থেকে যখনই ক্লান্ত লাগবে এক-দুটো খেজুর খেয়ে নেবেন, তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে!



৩. হার্টের ক্ষমতা বাড়ে:

ডায়াটারি ফাইবারে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে নিয়মিত খেজুর খেলে শরীরে "এল ডি এল" বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে এতে উপস্থিত পটাশিয়াম আরও সব হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমায়।


৪. পেটের রোগের প্রকোপ কমায়:

প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকার কারণে নিয়মিত এই ফলটি খেলে বাওয়েল মুভমেন্টে মারাত্মক উন্নতি ঘটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোনও ধরনের পেটের রোগই আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ৩ টে করে খেজুর খেলে শরীরে অন্দরে উপকারি ব্যাকটেরিয়ায় মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে বদ-হজম, কোলাইটিস এবং হেমোরয়েডের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।


৫. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ:

খেজুরে প্রচুর মাত্রায় প্রাকৃতির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা একাধিক রোগকে দূরে রাখার পাশাপাশি শরীরের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানেই শেষ নয়, এই ফলটিতে বেশ কিছু অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজও রযেছে, ফলে নিয়মিত খেজুর খেলে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও অনেকাংশে হ্রাস পায়।


৬. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

খেজুরে উপস্থিত খনিজ এবং ভিটামিন হাড়কে এতটাই শক্তপোক্ত করে দেয় যে বয়স্কালে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, এই ফলটিতে উপস্থিত সেলেনিয়াম, ম্য়াঙ্গানিজ, কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।


৭. ওজন বৃ্দ্ধি পায়:

নানা কারণে যাদের ওজন মাত্রাতিরিক্ত হারে কমে যেতে শুরু করেছে, তারা আজ থেকেই খেজুর খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। কারণ এই ফলটিতে উপস্থিত ক্যালরি শরীরে ভাঙন রোধ করে ওজন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।


৮. নার্ভাস সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:

খেজুরে উপস্থিত নানাবিধ ভিটামিন এবং খনিজ, বিশেষত পটাশিয়াম নার্ভের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ব্রেন পাওয়ার বাড়াতেও এই ফলটি দারুনভাবে সাহায্য করে। এবার নিশ্চয় বুঝেছেন বাচ্চাদের প্রতিদিন কেন খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।


৯. অ্যানিমিয়ার মতো রোগকে দূরে রাখে:

শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলেই মূলত এই ধরনের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তাই তো শরীরে যাতে এই খনিজটির ঘাটতি কোনও সময় দেখা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর এক্ষেত্রে খেজুর দারুনভাবে সাহায্য করতে পারে। কীভাবে? এই ছোট্ট ফলটি আয়রণ সমৃদ্ধি। তাই তো অ্যানিমিয়ার মতো রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।


১০. অ্যালার্জির প্রকোপ কমায়:

২০০২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে দাবি করা হয়েছিল খেজুরে উপস্থিত সালফার কম্পাউন্ড অ্যালার্জির মতো রোগ থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো যারা সারা বছরই এই রোগে ভুগে থাকেন, তাদের রোজের ডায়েটে এই ফলটির অন্তর্ভুক্তি মাস্ট!



পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


My Blog List

  • Positive Thoughts - * 1) ‘Dreams are not what you see in your sleep. Dreams* *That's what keeps you awake. '* *2) ‘To be as bright as the sun first* *You have to burn li...
    6 months ago

Popular Posts