English to Bengali, বাংলা ও ইংরেজি, Online English to Bengali Tense, English Gramma

শিক্ষায় জীবন

Most Popular

জীবন বদলে দেবার মতো উক্তি,গুণীজনের বাণী , যা আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে

জীবন বদলে দেবার মতো উক্তি  জীবন ও সময় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, জীবন শেখায়, সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করতে। আর সময় শেখায়, জীবনের মূল্য দিতে।...

Showing posts with label মধু খাওয়ার উপকারিতা. Show all posts
Showing posts with label মধু খাওয়ার উপকারিতা. Show all posts

পেয়ারার উপকারীতা, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং ব্যবহার | All About Guava

 পেয়ারার উপকারীতা, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং ব্যবহার | All About Guava

             একাধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ পেয়ারা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপযোগী একটি ফল। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় পুষ্টিলাভের জন্য পেয়ারার অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। এই নিবন্ধে পেয়ারা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নিয়ে বিশদে আলোচনা করা হবে। জানা যাবে পেয়ার উপকারীতা, পৌষ্টিক গুরুত্ব, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া একইসাথে পেয়ারা সংরক্ষণের উপায় ইত্যাদি। প্রধাণত গ্রীষ্মমণ্ডলের এই ফলে রয়েছে ভিটামিন সি এবং লাইসোপিন সহ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতন কার্যকরী পৌষ্টিক উপাদান। যা সুস্বাস্থ্য গঠনের জন্য বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।


Table Of Contents

পেয়ারার ঔষধি গুণ

পেয়ারার উপকারীতা

পেয়ারার পুষ্টিগুণ

পেয়ারার ব্যবহার –

কী পদ্ধতি অবলম্বন করলে বেশ কিছুদিন সময় পর্যন্ত পেয়ারা সংরক্ষণ করা যায়

পেয়ারার রস তৈরীর পদ্ধতি

পেয়ারার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী :

পেয়ারার ঔষধি গুণ



           পেয়ারায় রয়েছে একাধিক ঔষধি গুণ। পেয়ারা এবং এই গাছের অন্যান্য উপাদানগুলি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিফ্যাঙ্গাল, অ্যান্টিডায়াবেটিক, এবং অ্যান্টিডায়রিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়।


                গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনল ইনফেকশন বা সংক্রমণ, ওরাল ইনফেকশন বা মুখবিবরে এবং দাঁতের সংক্রমণ, ত্বকের সংক্রমণ, মধুমেহ বা ডায়াবেটিস, হৃদযন্ত্র বা হার্টের সমস্যা এবং সর্বোপরি অপুষ্টিজনিত সমস্যার জন্য পেয়ারা খুবই উপকারী পথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। শুধু তাই নয় অনেক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে মহিলাদের স্বাস্থ্য সমস্যা, কিডনি এবং ক্যান্সারের জন্য পেয়ারা খুবই উপাদেয় একটি ফল (1) । সব মিলিয়ে দেখতে গেলে দৈনন্দিন জীবনে খাদ্য হিসেবে পেয়ারার গুরুত্ব অপরিসীম।


পেয়ারার উপকারীতা

       পেয়ারার একাধিক উপকারীতার কথা আমরা অনেকেই জানি। তবে সেগুলি ঠিক কী কী এবার সেগুলো জেনে নেওয়া যাক। পেয়ারার উপকারিতা গুলি হলো নিম্নরূপ-



১. ডায়বেটিস বা মধুমেহর জন্য পেয়ারার উপকারীতা

          মধুমেহ রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পেয়ারা খুবই উপকারী একটি ফল। খোসা ছাড়ানো পেয়ারা রক্তে শর্করার পরিমাণ হ্রাস করতে সাহায্য করে (2)। একইসাথে একটি গবেষণা থেকে আরোও জানা যায় যে, পেয়ারাতে উপস্থিত পলিস্যাকারাইড উপাদান গুলি টাইপ ২ ডায়বেটিস হ্রাস করতে পারে (3)। অন্যদিকে পেয়ারা পাতার নির্যাসে অ্যান্টি-হাইপারগ্লাইসেমিক প্রভাবও রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রন করতে সহায়তা করে (4)। এই কারণে মধুমেহ রোগীদের খাবারের তালিকায় পেয়ারা অন্তর্ভূক্ত করা জরুরী।


২. ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে

         ক্যান্সার প্রতিরোধে পেয়ারার গুরুত্ব অপরিসীম। একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে পেয়ারা প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। পেয়ারাতে রয়েছে লাইকোপিন নামক একটি উপাদান যা প্রোস্টেট ক্যান্সারের কোষগুলির বিরুদ্ধে গিয়ে কেমোপ্রেনভেটিভ প্রভাব প্রদর্শন করে (5)। তবে পাঠকদের একথা মনে রাখতে হবে যে পেয়ারা কোনোভাবেই ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধাদি নয়। ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ।


৩. ওজন কমাতে সহায়ক

        ওজন কম করার জন্য ফল একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। তবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অন্যসব ফলের মধ্যে পেয়ারা একটি অতি কার্যকরী নাম। একজন সুস্থ্য মানুষের উচ্চতা অনুয়ারী কত ওজন হওয়া উচিৎ তা নির্ধারণ করা হয় তার বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) এর মাধ্যমে। এই বডি মাস ইনডেক্স এর আধিক্য মেদ বৃদ্ধিকে ইঙ্গিত করে (6)। এনসিবিআই (ন্যাশানাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে খোসা সমেত পাকা পেয়ারাতে উপস্থিত পরিপূরক গুলি শরীরের ভর সূচক হ্রাস করতে পারে (7)। তবে শরীরের ওজন সূচক এবং মেদ হ্রাস করার জন্য পেয়ারা কীভাবে আরোও উপকারী হয়ে উঠতে পারে সেই বিষয়ে আরো গবেষণা দরকার।


৪. পরিপাকে সহায়ক

        পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় করে পেয়ারা পরিপাকে সহায়তা করে। একটি গবেষনা থেকে জানা গেছে পেয়ারা এবং পেয়ারার গুঁড়ো ডায়টারি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে কোষ্ঠ্য কাঠিণ্যের সমস্যা দূর করে। শরীরে ফাইবারের অভাব অধিকাংশ সময়েই কোষ্ঠ্য কাঠিন্যের সৃষ্টি করে (8) (9)। এই কারণে হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং কোষ্ঠ্য কাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে চাইলে অবশ্যই পেয়ারা খাওয়া দরকার।


৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বর্দ্ধক

         পেয়ারায় উপস্থিত ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে (10)। এছাড়াও পেয়ারা স্থিত ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং রোগ সৃষ্টিকারী জীবানুদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শরীরকে শক্তি জোগায় (11)।  তাই পেয়ারা খাওয়া রোগ জীবানু প্রতিরোধ করে সুস্বাস্থ্য গঠনের জন্য খুবই উপকারী বলে বিবেচিত হয়।


৬. হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যোন্নতিতে সহায়ক

         হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যোন্নতির ক্ষেত্রে পেয়ারা খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। পেয়ারাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমানে পটাসিয়াম যা রক্ত নালীকে শিথিল করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে (12)। একইসাথে পেয়ারাতে রয়েছে ফাইবার যা খারাপ কোলেস্টেরল হ্রাস করতে পারে। অনেকসময় এই খারাপ কোলেস্টেরল হৃদরোগের  কারণ হয়ে ওঠে (13)। এইভাবে পেয়ারা হৃদরোগের সম্ভবনা হ্রাস করে।


৭. দৃষ্টি শক্তি বর্দ্ধক

         এখন অল্প বয়স থেকেই শিশুদের চোখের দৃষ্টি দুর্বল হতে দেখা যায়। কম আলোতে টিভি দেখা, পড়াশুনা করা এগুলি তো রয়েছেই একইসাথে পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব। সব মিলিয়ে ছোট বয়স থেকেই শিশুদের দৃষ্টি শক্তি ক্ষীণ হয়ে যায়। এই কারণ গুলিকে প্রতিহত করার জন্যই খাদ্য তালিকায় পেয়ারা অন্তর্ভূক্ত করা উচিৎ। কারণ পেয়ারাতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং তামা ও জিঙ্ক ইত্যাদি পৌষ্টিক উপাদান। এইসব ভিটামিন এবং খনিজ উপাদানগুলি চোখের স্বাস্থ্যোন্নতিতে ভীষণভাবে সহায়তা করে। ছোট বয়স থেকেই বাচ্চাদের খাদ্য তালিকায় পেয়ারা যুক্ত করলে তাদের চোখের নানারকম সমস্যা সম্ভবনাওও অনেক কমে যায় (14)  ।


৮. গর্ভাবস্থায় উপকারী পথ্য

        পেয়ারা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে তা শরীরে আয়রণের পর্যাপ্ত জোগান দেয়। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তাল্পতা দেখা যায়। তাই গর্ভাবস্থায় শরীরে আয়রণের জোগান নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য খাদ্য তালিকায় পেয়ারার উপস্থিতি একান্ত ভাবে প্রয়োজনীয়। এছাড়াও ভিটামিন সি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। গর্ভাবস্থায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ফলে প্রিক্লেম্পসিয়া ( গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ ) এবং নির্ধারিত সময়ের পূর্বে শিশুর জন্ম ইত্যাদি সম্ভবনা সৃষ্টি করে। সেই কারণেই এইসময় ভিটামিন সি গ্রহণ পূর্বোল্লিখিত সমস্যা গুলির বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে(15)। শুধু তাই নয় পেয়ারায় রয়েছে ফলেট যা একটি অপরিহার্য পৌষ্টিক উপাদান। এটা গর্ভস্থ শিশুর স্নায়বিক ত্রুটির (মস্তিষ্ক এবং মেরুদ্বণ্ড সম্পর্কিত জন্মগত ত্রুটি) ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে (16)।


৯.  মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রক

        ম্যাগনেসিয়াম মানসিক চাপ কমাতে ভীষণভাবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। একটি গবেষণা থেকে আরও জানা গিয়েছে যে ম্যাগনেসিয়াম ব্যক্তির উদ্বেগ কমাতেও সাহায্য করে(17)। তাই মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ থেকে শরীরকে মুক্ত রাখার জন্য পেয়ারা খাওয়া দরকার। অবশ্য এই বিষয়ে এখনও অনেক গবেষণা প্রয়োজন আছে।


১০. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক

        বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এর মতে উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগ, চোখের দৃষ্টি শক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়া, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে (18)। তাই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য খাদ্য তালিকায় পেয়ারা উপস্থিতি একান্তভাবেই কাম্য। আমরা আগেই জেনেছি যে পেয়ারাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমানে পটাশিয়াম এবং এই পটাশিয়াম রক্তনালিকে শিথিল করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।


১১. থাইরয়েড প্রতিরোধক

       থাইরয়েড এমন একটি গ্রন্থি যা মানুষের গলায় থাকে। এই গ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরিত হয় যা শরীরে বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে। এই হরমোনের ক্ষরণে ভারসাম্যহীনটা দেখা দিলেই আমাদের হাইরয়েডের সমস্যা দেখা যায়(19)। একটি গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে পেয়ারা খেলে থাইরয়েডের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রনাধীন থাকে। যদিও এই বিষয়ে এখনও প্রয়োজনীয় গবেষণার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।


১২.  সর্দি গর্মি নাশক

    পেয়ারার উপকারীতা গুলির মধ্যে অন্যতম একটি হলো এটা সর্দি গর্মি নাশ করে। পেয়ারা ভিটামিন সি এবং আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে তা ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যে সাহায্য করে একইসাথে মিউকাস তৈরী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। ভিটামিন সি ব্যাক্টেরিয়া এবং ভাইরাস আক্রমনের ফলে সৃষ্ট সর্দি কাশি উপশম করতে সাহায্য করে।


১৩. কোষ্ঠ্য কাঠিন্য নাশক

       পেয়ারা অত্যাধিক ফাইবার সমৃদ্ধ হয়। তাই খাদ্য হিসেবে পেয়ারা গ্রহণের ফলে কোষ্ঠ্য কাঠিন্যের সমস্যা অনায়াসেই দূর হয়ে যায়। সেই কারণে কোষ্ঠ্য কাঠিন্যের সমস্যায় জর্জরিত মানুষদের অবিলম্বে খাদ্য তালিকায় পেয়ারা অন্তর্ভূক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে (20)। 


১৪. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যোন্নতিতে সহায়ক

         এখনও পর্যন্ত পেয়ারার বেশ কিছু উপকারীতার বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। সেই তথ্য থেকে জানা গেছে যে পেয়ারাতে লাইকোপেন নামক একটি উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা সূত্রে জানা যায় যে লাইকোপেন যুক্ত খাদ্য বহু স্নায়বিক অসুখ যেমন অ্যালজাইমার এবং পারকিন্সস (এক ধরণের ব্রেন ডিসঅর্ডার) প্রভৃতি রোগের সম্ভবনা হ্রাস করতে সহায়তা করে। উপরন্তু লাইকোপেন মস্তিষ্কের কোষের সুরক্ষা জোগায় (20)।



১৫. পেয়ারায় উপস্থিত ভিটামিন সমূহ

        শরীরে একাধিক ভিটামিনের জোগান দেয় পেয়ারা। পেয়ারাতে উপস্থিত ভিটামিন গুলি হলো যথা – ভিটামিন এ, সি, কে , এবং বি ৬ । 


      ভিটামিন এ চোখ, পাকস্থলী, ত্বক এবং শ্বাসনালীর সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খুবই উপকারী (21) । 

ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে (22) । 

       ভিটামিন কে ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। এছাড়াও হাড়ের ক্ষয় রোধ করে হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা লাঘব করে। এবং সর্বোপরি কার্ডিওভাস্কুলার অসুখের সম্ভবনাও অনেকাংশেই কমিয়ে দেয় (23) । 

        ভিটামিন বি ৬ মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য এই ভিটামিনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই গর্ভবতী মহিলাদের ভিটামিন বি ৬ গ্রহণ খুবই জরুরী (24) । 

১৬. ঋতুস্রাব জনিত সমস্যার নিরামায়ক

        ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড কম বেশি প্রত্যেক মহিলার জীবনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এইসময় মহিলারা মুড সুইং, পেটে ব্যথা, মাথা ব্যথা, খিঁচুনি, এবং অন্যান্য একাধিক শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হন (25)। এই সময় পেয়ারা খাওয়া খুবই উপাদেয় বলে বিবেচিত হয়। একটি গবেষণা থেকে জানতে পারা গেছে যে ঋতুস্রাব চলাকালীন ১৯৭ জন মহিলা যারা পেটে ব্যাথার সমস্যায় ভুগছেন তাদের প্রতিদিন ৬ মিলিগ্রাম পেয়ারার নির্যাস সমন্বিত একটি ওষুধ খাওয়ানো হয় যা তাদের জন্য খুবই উপকারী হয়েছে বলে জানা যায় (26)। দক্ষিণ আফ্রিকার আরেকটি গবেষণা থেকে জানা গেছে পেয়ারা পাতার নির্যাস থেকে ক্র্যাম্প দূর করার ঔষধী পাওয়া যায়(27)। সব মিলিয়ে ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে মহিলাদের জন্য পেয়ারা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য বলে বিজ্ঞানসম্মত ভাবেই জানা গেছে।


১৭. দাঁত ব্যথা প্রতিরোধক

        পেয়ারা অ্যান্টিপ্লাক এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। প্লাকের ওপর জমা হওয়া ব্যাক্টেরিয়া সমন্বিত একটি স্তর থেকে পেয়ারা দাঁত কে রক্ষা করে। এই প্লাক কে পিরিয়ডেন্টাল অসুখ বা মাড়ির সংক্রমন বলা যেতে পারে। পেয়ারাতে জীবানুনাশক হয় যার প্রধান কারণ এতে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, গ্যাজাইরইন, এবং কুয়েরসেটিন নামক উপাদান। পেয়ারা খোসায় ট্যানিনের উপস্থিতির কারণে এটা রোগ জীবানু সৃষ্টিকারক ব্যাক্টেরিয়া থেকে শরীরকে মুক্ত রাখে। এছাড়াও পেয়ারা পাতার নির্যাস মুখ বিবরের মধ্যে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমন প্রতিহত করে (28) ।


১৮. ত্বকের পরিচর্যায়ক

       পেয়ারা ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পেয়ারা পাতার মিথানলিক নির্যাস সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি দ্বারা সৃষ্ট পিগমেন্টেশনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিমেলানোজেনেসিস ক্রিয়ায় সহায়তা করে অর্থাৎ এটি মেলানিন উৎপাদন হ্রাস করতে পারে। মেলানিন ত্বকের দাগছোপ তৈরী করে যা পেয়ারা পাতার প্রভাবে অনায়াসেই দূরীভূত হয় (29)। অবশ্য এই বিষয়ে যথেষ্ট গবেষণার অভাব রয়েছে।


পেয়ারার পুষ্টিগুণ

পৌষ্টিক উপাদান ----- প্রতি ১০০ গ্রামে

শক্তি ------ ৬৮ ক্যালোরি

জল -------    ৮০.৮ গ্রাম

কার্বোহাইড্রেট------------ ১৪.৩২ গ্রাম

ফ্যাট---------- ০.৯৫ গ্রাম

প্রোটিন----------- ২.৫৫ গ্রাম

মোট কার্বোহাইড্রেট------- ২৩.৬ গ্রাম

ডায়টারি ফাইবার------- ৫.৪ গ্রাম

শর্করা------ ৮.৯২ গ্রাম

ভিটামিন এ আরএই-------- ৩১ মাইক্রোগ্রাম

ভিটামিন সি--------- ---২২৮.৩ মিলিগ্রাম

ভিটামিন ই (আলফা টোকোফেরল)------------ ০.৭৩ মিলিগ্রাম

ভিটামিন কে--------------- -২.৬ মাইক্রোগ্রাম

থিয়ামিন----------- ০.০৬৭ মিলিগ্রাম

রাইবোফ্লেবিন-------------- ০.০৪ মিলিগ্রাম

নিয়াসিন------------- ১.০৮৪ মিলিগ্রাম

ভিটামিন বি -----------৬০.১১ মিলিগ্রাম

ফলেট --------------৪৯ মাইক্রোগ্রাম

কোলিন ----------৭.৬ মিলিগ্রাম

ক্যালসিয়াম---------- ১৮ মিলিগ্রাম

আয়রণ----------- ০.২৬ মিলিগ্রাম

ম্যাগনেশিয়াম---------- ২২ মিলিগ্রাম

ফসফরাস------------- ৪০ মিলিগ্রাম

পটাশিয়াম----------- ৪১৭ মিলিগ্রাম

সোডিয়াম------- ২ মিলিগ্রাম

জিঙ্ক---------- ০.২৩ মিলিগ্রাম

কপার---------- ০.২৩ মিলিগ্রাম

সেলেনিয়াম----------- ০.৬ মাইক্রোগ্রাম

সূত্র – ( 30 )


পেয়ারার ব্যবহার –

অনেক উপায়ে পেয়ারা খাওয়া যেতে পারে। এবার দেখে নেওয়া যাক পেয়ারা খাওয়ার পদ্ধতি গুলি কী কী –
1- সবার আগে ভালো পেয়ারা বেছে নেওয়া দরকার। খেয়াল রাখা উচিৎ পেয়ারা গুলি যেনো নরম এবং পাকা ধরণের হয়।
2- পেয়ারা যেনো আবার বেশি পাকা না হয় সেটাও লক্ষ্য রাখা দরকার কারণ বেশি পাকা পেয়ারা তাড়াতাড়ি পচে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।
3-  খাওয়ার আগে পেয়ারা ভালো করে ধুয়ে নেওয়া দরকার যাতে গায়ে কোনো ধুলো, ময়লা বা মাটি লেগে না থাকে।
4- পেয়ারা সবসময় কেটে খাওয়া উচিৎ কারণ অনেক সময় পেয়ারার মধ্যে পোকা থাকতে দেখা যায়।
5- পাকা পেয়ারা ছোটো ছোটো করে কেটে নুন দিয়ে খাওয়া যেতে পারে একইরকম ভাবে কাচা পেয়ারাও খাওয়া যায়।
6- হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য পাকা পেয়ারা কালো নুন সহযোগে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
কোষ্ঠ কাঠিন্যের সমস্যা থাকলে রোজ সকালে পাকা পেয়ারা খাওয়া উচিৎ।
7- পেয়ারা কেটে তা সস এর সাথেও খাওয়া যায়।
 8- পেয়ারার রস এবং স্মুথি বানিয়েও খাওয়া যায় অথবা পেয়ারা দিয়ে আইসক্রিমও তৈরী করা যেতে পারে।
9-  পেয়ারা রান্নার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে।




          তবে আমাদের একথা ভুলে গেলে চলবেনা যে পেয়ারার যেমন উপকারীতা রয়েছে এর অপকারিতাও অনেক রয়েছে।
কী পদ্ধতি অবলম্বন করলে বেশ কিছুদিন সময় পর্যন্ত পেয়ারা সংরক্ষণ করা যায়
কয়েকটি বিষয় একটু নজরে রাখলেই বেশ কিছুদিন সময় পর্যন্ত পেয়ারা সংরক্ষণ করা যায় –
 ফ্রিজে অন্য ফলের সাথে যাতে পেয়ারা রাখা না হয় সেইদিকে খেয়াল রাখা দরকার। কারণ অন্য ফলের সাথে পেয়ারা রাখলে সেটা সহজেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
 পেয়ারা কাটার কিছু সময় পর সেটা খেতে চাইলে, পেয়ারা কাটার সাথে সাথেই তাতে পাতিলেবুর রস মাখিয়ে নেওয়া দরকার।
পেয়ারাকে হিমায়িত করেও রাখা যায় তবে তার আগে ভালো করে পেয়ারা ধুয়ে শুকিয়ে তারপর কেটে নিতে হবে। এবং কাটা টুকরো গুলিকে এয়ারটাইট কৌটোর মধ্যে ভরে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে ঐ কৌটোয় ভেতর পেয়ারার টুকড়ো রাখার পর একটু হলেও যেনো ফাঁকা জায়গা থাকে। এমন করলে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত পেয়ারা টাটকা থাকবে।
এয়ারটাইট কৌটোর মধ্যে ঠাণ্ডা করা চিনির রস ঢেলে তার মধ্যে পেয়ারা ডুবিয়ে রেখেও খাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে কৌটোর ঢাকনা যেনো খুব ভালো করে বন্ধ করা হয় সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে।

পেয়ারার রস তৈরীর পদ্ধতি

পেয়ারার রস বানানো খুবই সহজ আর এটা স্বাদেও উত্তম। পেয়ারা রসের পৌষ্টিক গুরুত্বও অনেক। তাহলে এবার দেখে নেওয়া যাক পেয়ারার রস তৈরীর পদ্ধতি কী –


উপকরণ 


২ টি পেয়ারা

১ টা কাঁচালঙ্কা

১ টুকরো আদা

৪-৫ টা গোল মরিচ

১ চামচ পাতিলেবুর রস

পুদিনা পাতা (সাজানোর জন্য)

নুন (স্বাদ অনুসারে)

তৈরীর পদ্ধতি 


 সবার প্রথমে পেয়ারা ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট করে টুকরো করে নিতে হবে।

 পেয়ারার রস করার জন্য ওপরে উল্লিখিত সব কটি উপাদান ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।

 পেয়ারা পেসাই করার পর সেটাকে ছেঁকে রস বের করে নিতে হবে।

 অবশ্য এই রস না ছেঁকেও স্মুথির মতন করে পান করা যেতে পারে।

 ইচ্ছে করলে পেয়ারা রসের সাথে বরফের টুকরো যোগ করা যেতে পারে।

 গ্লাসে করে সার্ভ করার সময় পুদিনা পাতা সাজিয়ে দিলে দেখতে ভালো লাগবে।

পেয়ারার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

       পেয়ারায় খুব একটা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই ঠিকই, তবু পেয়ারা খাবার আগে কয়েকটা বিষয় মনে রাখা দরকার। এছাড়াও অতিরিক্ত পরিমাণে পেয়ারা খাওয়ার ফলে যাতে শরীর খারাপ না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিৎ। পেয়ারার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলি হলো নিম্নরূপ –


         ইতিমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি যে পেয়ারায় রয়েছে অত্যধিক পরিমাণে ফাইবার। এই অতিরিক্ত ফাইবার সমৃদ্ধ পেয়ারা তাই অনেকসময় পেটে ব্যথা এবং গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। 

         পেয়ারাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাসিয়াম। তাই যদি কারো কিডনি বা সেই সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থেকে চিকিৎসকরা তাদের পেয়ারা খেতে নিষেধ করে থাকেন। তাই কিডনি সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা পেয়ারা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে নেওয়াই ভালো।

        গর্ভবতী মহিলা এবং স্তনদায়ী মায়েদের জন্য পেয়ারা আদৌ নিরাপদ কিনা সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ।

        বিভিন্ন বয়সের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটা ফল হলো পেয়ারা। সহজ লভ্য এবং দামেও খুব বেশি নয় অথচ সারা বছর পাওয়া যায় পেয়ারা। পেয়ারায় উপস্থিত পৌষ্টিক গুণাগুন মানুষের সুস্বাস্থ্য গঠনের জন্য খুবই উপকারী। তবে যে কোনো মানুষের জন্যই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে পেয়ারা খাওয়া দরকার। পরিমাণের তারতম্য অনেক সময়ই অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। তাই সুষম পরিমাণে পেয়ারা খাওয়া শরীর সুস্থ্য রাখার জন্য দরকার। উপরিক্তো নিবন্ধ থেকে পেয়ারা সম্বদ্ধীয় সমস্ত তথ্যাদি পাঠকের উপকারে লাগবে বলে মনে করা হয়।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন
 
এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  

 

আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 



রসুনের উপকারিতা, ব্যবহার এবং অপকারিতা – Garlic (Lahsun) Benefits and Side Effects in Bengali

      রসুনের উপকারিতা, ব্যবহার এবং অপকারিতা – Garlic (Lahsun) Benefits and Side Effects in Bengali

         রসুন প্রায় প্রত্যেকের রান্নাঘরেই এক আবশ্যকীয় উপকরণ। বিশেষ স্বাদ ও গন্ধের জন্য এটি রান্নায় একটি বিশেষ ফ্লেভার সৃষ্টি করে। যেকোনো আমিষ রান্নায় যেমন মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদিতে ও বিশেষ কিছু সবজি বা তরকারি রান্নায় রসুন ব্যবহার করা হয়। আপনি জানেন কি যে রসুনের গুণ শুধু রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ নয় ? রসুন খাওয়ার উপকারিতা নানা রকম ভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। আজ জেনে নিন রসুন ও রসুনের উপকারিতা নানা তথ্য।

রসুনের উপকারিতা, ব্যবহার এবং অপকারিতা


Table Of Contents

1 - রসুনের ঔষধীয় গুণ – Medicinal Properties of Garlic in Bengali

2 - রসুনের উপকারিতা – Benefits of Garlic in Bengali

3 - রসুনের পুষ্টিগত মান – Garlic Nutritional Value in Bengali

4 - রসুন কয় ধরণের হয় – Types of Garlic in Bengali

5 - রসুন খাওয়ার সঠিক সময় ও পদ্ধতি – Best Way to Eat Garlic in Bengali

6 - রসুনকে বেশিদিন সুরক্ষিত রাখার উপায় – How to Store Garlic in Bengali

7 - রসুনের অপকারিতা – Side Effects of Garlic in Bengali

8 - কাদের রসুন খাওয়া উচিত নয় – Who Should Avoid Garlic in Bengali

9 - রসুনের ঔষধীয় গুণ – Medicinal Properties of Garlic in Bengali

        রসুন খাওয়ার প্রচলন আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ভারত ও মিশরে আরম্ভ হয় ও ধীরে ধীরে এটি সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। রসুনের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যার ফলে এটি একটি ওষধীয় গুণ সমৃদ্ধ গাছ বললেও একেবারেই ভুল হবেনা 

        (১)। রসুনে রয়েছে এলিসিন, সালফার, জিঙ্ক ও ক্যালসিয়াম যা স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য্য দুটির জন্যেই অনবদ্য। এছাড়া রসুনে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ সেলেনিয়াম যা ভিটামিন ই- এর সাথে মিলিত হয়ে এন্টি অক্সিডেন্ট বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে শরীর ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা অর্জন করে। রসুন শরীরে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন করতে সাহায্য করে। রসুন খাওয়ার উপকারিতা পেতে হলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তত ২ থেকে ৩ কোয়া রসুন অবশ্যই যোগ করা উচিত। অবশ্য কাঁচা রসুন খেতে অসুবিধা হলে তা অন্য কোনো তরকারিতে ব্যবহার করে খাওয়া যেতে পারে।


রসুনের উপকারিতা – Benefits of Garlic in Bengali

     রসুন খাওয়ার উপকারিতা নানারকম। শরীর সুস্থ রাখতে, ত্বক, চুল, দাঁত সুন্দর রাখতে রসুন অত্যন্ত কার্যকরী।

স্বাস্থ্যের জন্য রসুনের উপকারিতা – Health Benefits of Garlic in Bengali

স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রসুন এর উপকারিতা প্রচুর। আসুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।


১. ওজন কমাতে রসুন

কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

        ওজন কমানোর জন্যে রসুন অনবদ্য। শরীরের এডিপোস কোষগুলিকে রসুনের দ্বারা শক্ত করে এঁটে রাখা যায় যার ফলে উচ্চ পরিমানে থার্মোজেনেসিস নিঃসরণ হয়। এর ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই ওজন কমতে শুরু করে ও কোলেস্টরলও নিয়ন্ত্রনের মধ্যে চলে আসে। (২),(৩)

       কিভাবে ব্যবহার করেন?

ওজন কমানোর জন্যে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যেস করুন।


২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

            রসুনে রয়েছে সালফার যা জৈব পদার্থে ভরপুর ও এস-এলিলসিস্টিন। এই দুটোই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ প্রায় সিস্টোলিকে ১০ mmHg ও ডায়াস্টোলিকে ৮ mmHg কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। শরীরে সালফারের পরিমাণ কম হলেই রক্তচাপ বাড়তে শুরু করে। (৪)

      কিভাবে ব্যবহার করবেন?

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রতিদিন ২ কোয়া কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যেস করুন।


৩. ডায়বেটিস রোধকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

      রসুন ডায়বেটিস কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এটি শরীরে গ্লুকোসের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই ডায়বেটিস কমতে শুরু করে (৫)।

     কিভাবে ব্যবহার করবেন?

কাঁচা রসুন নিয়মিত ৩ থেকে ৪ কোয়া খাওয়ার অভ্যেস করুন।


৪. সর্দি কাশি থেকে মুক্তিকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

       সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাস কষ্টের জন্যে রসুন দারুন উপকারি। রসুন ফুসফুসের জমাটভাব দূর করে বুকে বসে যাওয়া কফ নিমেষে তরল করে বের করে দেয়। এমনকি, যাদের শ্বাস কষ্ট বা এসাথেমার সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও রসুন বিশেষভাবে সাহায্য করে (৬),(৭)।

     কিভাবে ব্যবহার করবেন?

       সর্দি, কাশি, গলা ব্যাথা বা শ্বাস কষ্ট থাকলে ৩ চামচ সর্ষের তেলের মধ্যে ২-৩ কোয়া রসুন ফেলে সেটি গরম করে সারা শরীরে ভালো করে মালিশ করুন। বেশ আরাম পাবেন। তবে এটি করার আগে একবার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন।


৫. কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

            আমেরিকার একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে রসুনের সাহায্যে কম করে ১০% কোলেটরল নামিয়ে আনা যায় কারণ রসুন জল ও তেল দুটির সাথেই ভালো করে মিশে যেতে পারে। এর ফলে ২০% থেকে ৬০% পর্যন্ত হাইপারকোলেস্টরোল জড়িত সমস্যা রোধ করা যায় (৮)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

প্রতিদিন ১ থেকে ২ কোয়া রসুন কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে খান, কোলেস্টরল সহজেই কমে যাবে।


৬. হার্টের জন্যে রসুনকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

        বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে রসুনের সাহায্যে প্রায় সব রকমের হার্টের সমস্যার মোকাবিলা করা যায়। রসুন হার্টের কোলেস্টরল, লিপিড ও সিরাম ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে প্রচুর পরিমাণ এন্টি অক্সিডেন্ট বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে প্লেটলেট সংখ্যাও সঠিক থাকে। এছাড়া এথেরোস্ক্লেরোসিসের বিরুদ্ধেও রসুন দারুন কাজ করে (৯), (১০)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

খালি পেটে রসুন খাওয়ার উপকারিতা হার্টের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে দেখা যায়। রোজ সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন চিবিয়ে খান, উপকার নিশ্চয়ই পাবেন।


৭. আর্থারাইটিসের চিকিৎসায় রসুন

কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

        দীর্ঘদিনের ব্যস্ততা, অনিয়ম ও বয়স বাড়ার ফলে হাড়ের স্বাস্থ্য দিনে দিনে ভঙ্গুর হতে শুরু করে যার ফলে আর্থারাইটিস বা অস্টিওপোরোসিসের মত সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে রসুন খুব কার্যকরী বলে দেখা গিয়েছে। রসুন তেল মালিশ করলে হাড়ের রস অনায়াসেই শুকিয়ে যায় যা পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা রোধ করে (১১)। এছাড়া রসুনের সালফাইড হাড়ের ভঙ্গুরতা দূর করে (১২)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যে রোজ ২-৩ কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যেস করুন।


৮. গর্ভাবস্থায় সাহায্যকারীকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

         গর্ভাবস্থার সময় রসুন খাওয়ার বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। রসুনের মধ্যে থাকা পুষ্টিকর উপাদানগুলি গর্ভাবস্থার সময় প্রি এক্লাম্পসিয়া রোধ করে ও শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠায় সাহায্য করে। এছাড়া এই সময় কোলেস্টরল বা হাড়ের সমস্যা দেখা যাওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। রসুন এই সমস্ত সমস্যাগুলি থেকে বেশ উপকার করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

গর্ভাবস্থার সময় নিয়মিত ৩ থেকে ৪ কোয়া রসুন অবশ্যই খাবেন।


৯. রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে রসুনকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

      রসুনে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট যা এন্টি অক্সিডেন্ট উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরের সমস্ত বিষাক্ত পদার্থগুলি অনায়াসে বেরিয়ে আসে ও ডি এন এ সফলভাবে তৈরি হয়। সেই কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়ে ওঠে (১৩)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

নিয়মিত ২ থেকে ৩ কোয়া কাঁচ রসুন খাওয়ার অভ্যেস করুন।


১০. লিভারের জন্যে রসুনকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

              লিভারে প্রচুর পরিমানে ফ্যাট জমে গেলে তা অত্যন্ত ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। রসুন লিভারের এই ফ্যাট সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় কারণ এটি এলকোহল মুক্ত। এছাড়া এতে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট যা ফ্যাটি লিভার হওয়া রোধ করে (১৪), (১৫)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

      পালং শাকের সাথে রোজ ১ থেকে ২ কোয়া রসুন ভালো করে কেটে মিশিয়ে একটি স্যালাড তৈরী করে রোজ খাওয়ার অভ্যেস করুন।


১১. ক্যান্সার রোধে রসুন

কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

       রসুনে রয়েছে ডাই এলিলসালফাইড ও সেলেনিয়াম যা এন্টিঅক্সিডেন্ট উৎপন্ন করে ক্যান্সারের বিরুধ্যে লড়াই করে ও ডি এন এ নষ্ট করা আটকায় (১৬)। একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে রসুনের সাহায্যে প্রায় ৩৩% পরিমানে ক্যান্সারের সম্ভাবনা রোধ করা যায় (১৭)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

      রোজ ১ টুকরো কাঁচা রসুন প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়ার অভ্যেস করুন। তারপর ১৫মিনিট হাঁটার অভ্যেস করুন। উপকার পাবেন।


১২. ছত্রাকের ইনফেকশনের চিকিৎসায় রসুনকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

       মহিলা বা পুরুষদের গোপনাঙ্গের চারপাশে অনেক সময় ছত্রাকের ইনফেকশন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে রসুন এন্টিসেপ্টিকের কাজ করে (১৮)। ক্যানডিডা বা ভ্যাগনাইটিস ইনফেকশনে রসুন উপকারী (১৯)। তবে কখনোই কাঁচা রসুন ইনফেকশনের ওপরে লাগাবেন না।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

প্রতিদিন ২ থেকে ৩ টুকরো করে কাঁচা রসুন খেলে ছত্রাকের সমস্যা দূর হয়।


১৩. কিডনির ইনফেকশন দূর করতে রসুন

কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

        ক্র্যানবেরির পাশাপাশি রসুনও কিডনির ইনফেকশনের জন্যে দারুণ কার্যকরী। যেসব প্যাথোজিনের জন্যে ইউ.টি.আই হয়ে থাকে সেগুলি রসুনের দ্বারা রোধ করা যায় (২০)। এছাড়া ই- কোলাই ইনফেকশনও এই রসুনের সাহায্যে রোধ করা যায় (২১)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

কিডনি ইনফেকশন রোধ করতে রোজ ৩ থেকে ৪ কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যেস করুন।


১৪.গ্যাসের সমস্যা দূর করেকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

        গ্যাসের সমস্যা একটি খুব সাধারণ অথচ ব্যথাদায়ক সমস্যা যা রোজকার জীবনকে উলটপালট করে দিতে পারে। এই ধরণের গ্যাসের সমস্যা হলে রসুন খুব কার্যকরী। রসুন ব্যাকটিরিয়া দূর করে ইন্টেস্টাইনের সমস্যা রোধ করে (২২)। এছাড়া রসুন পাইলোরি ইনফেকশনের বিরুদ্ধেও কাজ করে (২৩)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

রোজ ব্রেকফাস্টের সময় ১ কোয়া কাঁচা রসুন জলের সাথে খাওয়ার অভ্যেস করুন।


১৫. জ্বরের সময় ভালকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

      জ্বর, সর্দি, কাশি হলে রসুন খুব উপকারী। রসুন শরীর গরম করে ঠান্ডা লাগা ও জ্বরের সমস্যায় বুকের কফ তরল করে তা পরিষ্কার করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

       সর্দি ও জ্বর হলে কাঁচা রসুন কয়েক চামচ সর্ষের তেলের মধ্যে ফেলে হালকা গরম করে গায়ে মালিশ করুন। এছাড়া রসুন কালো জিরে দিয়ে ভেজে তা ভাতে মেখে খেতে পারেন। উপকার নিশ্চয়ই পাবেন।


১৬. গলা ব্যথার জন্যে ভাল

কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

      ঠান্ডা লেগে গলা ব্যথা হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা যা সাধারণত ভাইরাস জড়িত কারণে হয়ে থাকে। রসুনে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট, এন্টি ইনফ্লেমেটরি ও এন্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদানগুলি গলা ব্যথা বা গলা ফুলে যাওয়াকে সারিয়ে তোলে ও আরাম দেয়।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

গলা ব্যথা হলে রোজ ২ থেকে ৩ কোয়া কাঁচা রসুন খালি পেটে খান ও উপকারিতা ভোগ করুন।


১৭. এস্থেমা বা স্বাস কষ্টের জন্যকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

      যাদের শ্বাস কষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্যে রসুন খুব কার্যকরী একটি ওষুধ। ফুসফুসের চাপ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যে রসুন বিশেষভাবে কাজ করে যা নিশ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা দূর করে আরাম প্রদান করে (২৪) , (২৫)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

       প্রতিদিন খাবারের সাথে ২ থেকে ৩ কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যেস করুন ও রোজ রাতে ঘুমোনোর আগে সর্ষের তেলে রসুন গরম করে তা বুকে মালিশ করুন।


১৮. কানে ব্যাথা থেকে মুক্তি

কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

      কানে ব্যথা হওয়ার মূল কারণ হল ইনফেকশন। রসুনে রয়েছে এন্টি মাইক্রোবিয়াল ও এন্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা কানের ইনফেকশনের বিরদ্ধে কাজ করে কানের ইনফেকশন সারিয়ে তোলে। ফলে কানে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কিভাবে ব্যবহার করবেন


কিভাবে ব্যবহার করবেন?

        রোজ ২ থেকে ৩ কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যেস করলে কানের ব্যথা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।


১৯. ফাঙ্গাস জড়িত ইনফেকশন থেকে মুক্তিকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

        ফাঙ্গাস জড়িত ইনফেকশন হলে নানারকমের সমস্যা দেখা যায় যেমন চুলকানি, দাদ, হাজা, ইত্যাদি। এগুলির আসল কারণ শুধুমাত্র বাইরে নয়, ভিতর থেকে উৎপন্ন হয়। রসুনে রয়েছে সালফাইড যা শরীরের ভেতর থেকে ফাঙ্গাস ইনফেকশন সারিয়ে তোলে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

      রোজ ২ থেকে ৩ কোয়া কাঁচা রসুন খালি পেতে খাখাওয়ার উপকারিতা ফাঙ্গাসের ক্ষেত্রে ভালোভাবে দেখা যায়।


২০. দাঁতে ব্যথার সমস্যা দূর করেকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

       রসুনে থাকা এন্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান দাঁতের নানারকমের সমস্যা দূর করে যা প্যাথোজেন বা পেরিডন্টিলিসের জন্যে দায়ী (২৬)। রসুনের বিভিন্ন উপাদান মুখের ভেতরের অংশকে সতেজ করে (২৭)। এছাড়া দাঁতে ব্যাথা বা দাঁতের বিভিন্ন সমস্যার জন্যে রসুন বিশেষভাবে উপকারী (২৮)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?
     রোজ একটি করে কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাবার অভ্যেস করুন, দাঁতের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

ত্বকের জন্য রসুনের উপকারিতা – Skin Benefits of Garlic in Bengali
রসুনের উপকারিতা শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নয়, ত্বকের ক্ষেত্রেও দারুন ভাবে দেখা যায়। আসুন বিস্তারিত ভাবে দেখে নেওয়া যাক।

২১. ব্রণর জন্যে ভালো

কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

      রসুনে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট, এন্টিমাইক্রোবিয়াল ও এন্টিইনফ্লেমেটরি উপাদানগুলি ত্বকের কোষে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ ও ব্যাকটিরিয়াগুলিকে টেনে বের করে আনে। এর ফলে ব্রণর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় (২৯)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

রোজ সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন এক গ্লাস জলের সাথে খাওয়ায় অভ্যেস করুন। এছাড়া রোজ ৩ ঘন্টা ছাড়া জল পান করে থাকুন। এতে ত্বকের উপকার হয়।


২২. সোরিয়াসিস থেকে মুক্তিকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

      সোরিয়াসিস হল ত্বকের এমন একটি সমস্যা যা দেখতে লালচে ও আঁশটে মত হয় ও এতে প্রচুর পরিমানে চুলকানি হয়ে থাকে। এটি সাধারণত কুনুই, মাথার ত্বক ও হাঁটুতে হয়ে থাকে। রসুনে রয়েছে এন্টিইনফকমেটরি উপাদান যা সোরিয়াসিস সারিয়ে তোলে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

রোজ ৩ কোয়া কাঁচা রসুন ব্রকোলি ও বিটের সাথে খাওয়ার অভ্যেস করুন।


২৩. একজিমার জন্যে ভাল

কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

       একজিমা হলে ত্বক রুক্ষ ও ফুলে ওঠে এবং তার সাথে থাকে চুলকানি। রসুন তার এন্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান দিয়ে এই সমস্ত এলার্জি জাতীয় সমস্যা সারিয়ে তোলে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

প্রতিদিন এক গ্লাস জল দিয়ে এক থেকে দুই কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যেস করুন।


২৪. দাদের সমস্যার জন্যে ভালোকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

     রসুনের এন্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান দিয়ে সহজেই দাদের সমস্যা দূর করা যায়। এর থেকে চুলকানি, জ্বালাভাব ও নানারকমের সমস্যা দূর হয়।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

প্রতিদিন এক গ্লাস জল দিয়ে এক থেকে দুই কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যেস করুন।


২৫. ফোসকায় আরাম দেয়কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

ফোসকা পড়ে যাওয়ায় উপকারিতা এক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে দেখা যায়।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

     ত্বকের কোনো জায়গায় ফোসকা পড়ে গেলে রোজ সকালে খালি পেটে রসুন খাওয়ার অভ্যেস করুন। ফলাফল নিশ্চয়ই পাবেন।


২৬. বার্ধক্যের ছাপ কমিয়ে আনে

কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

       প্রতিদিনের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, অনিয়ম ও নানারকমের বাহ্যিক কারণে মুখে শীঘ্রই বার্ধক্যের ছাপ পড়তে শুরু করে। তারপর সূর্যের প্রখর কিরণও এর জন্যে অনেকটাই দায়ী। রসুনে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ত্বকের কুঁচকে যাওয়া ভাব সমতল করে তোলে ও কম বয়সে বার্ধক্যের ছাপ রোধ করে (৩০),(৩১)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

      প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস জলের মধ্যে লেবু ও মধুর সাথে ১ কোয়া রসুন মিশিয়ে সেটি পান করুন। এছাড়া ত্রিফলার জলের সাথেও কুচোনো রসুন মিশিয়ে সেটি পান করতে পারেন।


২৭.স্ট্রেচ মার্কস দূর করেকিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

         রসুন ত্বকের স্ট্রেচ মার্কস কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও কার্যকরী। ত্বকের যেকোনো অংশে স্ট্রেচ মার্কস দেখা গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে কোনো পদক্ষেপ না নিলে আরো বেড়ে যায়। রসুন এই চিহ্নগুলি সহজেই কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

     রোজ ২ চামচ অলিভ তেল বা সর্ষের তেলের মধ্যে ২ কোয়া রসুন ফেলে তা ভালো করে গরম করে সারা শরীরে মালিশ করুন। ফলাফল নিশ্চয়ই পাবেন।

চুলের জন্য রসুনের উপকারিতা – Hair Benefits of Garlic in Bengali

আপনি কি জানেন চুলের জন্যে রসুন কতখানি উপকারি? আসুন বিস্তারিত ভাবে জেনে নিই।


২৮. চুল পড়ার সমস্যায়কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

চুল পড়া একটি গুরুতর সমস্যা যা সকলের জন্যে বেশ চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রধান কারণ হল দূষণ, জল বিশুদ্ধ না হওয়া, মানসিক চাপ ও খাওয়ার অনিয়ম। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে রসুনের জেলে রয়েছে বিটামিথাসন ভালেরেট যা চুল পড়ার সমস্যা রোধ করে (৩২)।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

পালং শাক দিয়ে একটি স্মুদি তৈরী করে তার মধ্যে এক টুকরো কাঁচা রসুন মিশিয়ে পান করুন। এছাড়া রান্নায় ভালো করে রসুন ব্যবহার করুন। চুল পড়ার সমস্যা দূর হবে।


২৯. খুশকি দূর করে

কিভাবে ও কেন সাহায্য করে?

রসুনে রয়েছে এন্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান যা খুশকি দূর করতে বেশ কার্যকরী। নিয়মিত রসুন খেলে খুশকির সমস্যার হাত থেকে অনায়াসে মুক্তি পাওয়া যাবে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

খুশকির সমস্যা রোধ করতে সপ্তাহে দুবার করে নারকেল তেলের সাথে এক কোয়া রসুন গরম করে সেটি মাথায় ভালো করে মালিশ করুন। তারপর ভালো করে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ফলাফল অবশ্যই বুঝতে পারবেন।

রসুনের পুষ্টিগত মান – Garlic Nutritional Value in Bengali

রসুনে রয়েছে একাধিক পুষ্টিকর উপাদান যা বিশেষভাবে উপকারী। তার মধ্যে অন্যতম হল ফ্লাভোনোয়েড, অলিগোস্যাকারাইড, এলিন, ও সালফার (৩৩)। বিস্তারিত ভাবে রসুনের পুষ্টিগত মান জানতে নিচের তালিকাটি ভাল করে পড়ে দেখুন:


এনার্জি                      ১৪৯ কিলো ক্যালোরি                       DV % ৭.৫%

কার্বোহাইড্রেট          ৩৩.০৬ গ্রাম                                      ২৫%

প্রোটিন                      ৬.৩৬ গ্রাম                                       ১১%

ফ্যাট                            ০.৫ গ্রাম                                         ২%

কোলেস্টরল                  ০ মিলিগ্রাম                                       ০%

ফাইবার                            ২.১ গ্রাম                                        ৫.৫ %

ভিটামিন

ফোলেট                            ৩ µg                                         ১%

নায়াসিন                            ০.৭০০ মিলিগ্রাম                         ৪%

প্যান্টোথেনিক এসিড              ০.৫৯৬ মিলিগ্রাম                      ১২%

পাইরিডক্সিন                             ১.২৩৫ মিলিগ্রাম                   ৯৫%

রিবোফ্লাবিন                               ০.১১০ মিলিগ্রাম                          ৮%

থায়ামিন                                      ০.২০০ মিলিগ্রাম                   ১৭%

ভিটামিন এ                                        ৯ IU                               ১%

ভিটামিন সি                                    ৩১.২ মিলিগ্রাম                     ৫২%

ভিটামিন ই                                      ০.০৮ মিলিগ্রাম                      ০.৫%

ভিটামিন কে                                        ১.৭ µg                              ১.৫%

ইলেক্ট্রোলাইট

সোডিয়াম                                    ১৫৩ মিলিগ্রাম                          ১০%

পটাসিয়াম                                     ৪০১ মিলিগ্রাম                        ৮.৫%

মিনারেল

ক্যালসিয়াম                                  ১৮১ মিলিগ্রাম                              ১৮%

কোপার                                     ০.২০০ মিলিগ্রাম                              ৩৩%

আয়রন                                          ১.৭০ মিলিগ্রাম                           ২১%

ম্যাগনেসিয়াম                                  ২৫ মিলিগ্রাম                               ৬%

ম্যাঙ্গানিজ                                      ১.৬৭২ মিলিগ্রাম                                 ৭৩%

ফসফরাস                                     ১৫৩ মিলিগ্রাম                                   ২২%

সেলেনিয়াম                                             ১৪.২ µg                                  ২৬%

জিঙ্ক                                              ১.১৬০ মিলিগ্রাম                           ১০.৫%

ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট

ক্যারোটিন বি                                           ৫ µg                                         

ক্রিপ্টো জানথিন                                        ০ µg                                            

লিউটিন-জিজানথিন                                  ১৬µg                                        


রসুন কয় ধরণের হয় – Types of Garlic in Bengali

      রসুনের বেশ কয়েকটি প্রকার রয়েছে যেমন সরু গলার রসুন, রুপোলি রঙের রসুন, আর্টিচোক রসুন ও শক্ত গলার রসুন।

     সরু গলার রসুন – বেশিরভাগ রান্নাঘরে এই ধরণের রসুনই বেশি থাকে। এই রসুনের খোসা কাগজের মত হয় ও সাদা রঙের হয়ে থাকে। এই রসুনের মাঝখানে একটি ডাঁটি থাকে যা সমস্ত কোয়াগুলিকে একসাথে বেঁধে রাখে।

     রুপোলি রঙের রসুন – এই ধরণের রসুনে একটু হালকা গোলাপি রেখা থাকে ও এটি বেশ ঝাঁঝালো হয়।

      আর্টিচোক রসুন – এই ধরণের রসুনের ঝাঁঝ একটু কম হয়। এর কোয়াগুলি আকারে বেশ বড় হয় কিন্তু সংখ্যায় কম।

       শক্ত গলার রসুন – এই রসুনের রং হালকা বেগুনি হয়ে থাকে এবং এটি বেশ শক্ত হয়। এই ধরণের রসুন আবার ৩ ধরণের হয়- রক্যাম্বল রসুন, প্রসিলেইন রসুন ও বেগুনি খোসার রসুন (৩৪)।

রসুন খাওয়ার সঠিক সময় ও পদ্ধতি – Best Way to Eat Garlic in Bengali

             আমরা আগেই বলেছি যে রসুন এর উপকারিতা নানারকম ভাবে আপনার স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুলের ক্ষেত্রে দেখা যায়। আপনি নানারকম ভাবে রসুন রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন। তবে রসুন খাওয়ার উপকারিতা যদি সঠিকভাবে পেতে চান তাহলে অভ্যেস করুন এটি কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে খেতে। এমনকি খালি পেটে রসুন খাওয়ার উপকারিতা আরো বেশি করে প্রমাণিত হয়েছে। এর জন্যে আপনাকে এক কোয়া রসুন নিয়ে এক গ্লাস জল দিয়ে গিলে ফেলতে হবে।


         এছাড়াও, আপনি অন্যান্যভাবে রসুন খেতে পারেন। রসুন থেঁতো করে বা কুচি করে কেটে বা বেটে রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন। ভাজা রসুন যেকোনো সুস্বাদু খাবার যেমন পাস্তা, চাউমিন, পাউরুটি, স্যুপ, তরকারি, স্যালাড, ডাল, ইত্যাদিতে ব্যবহার করলে একটি অন্যতম স্বাধ ও গন্ধ ফুটে ওঠে। মনে রাখবেন, এক কোয়া নিয়মিত খেলে আপনার শরীরের নানা রোগ ব্যাধি থেকে অনায়াসে মুক্তি পেতে পারেন।


রসুনকে বেশিদিন সুরক্ষিত রাখার উপায় – How to Store Garlic in Bengali

রসুন সংরক্ষণ করা খুব একটা কঠিন নয়। জেনে নিন রসুন কেনার ও সুরক্ষিত রাখার কিছু কিছু টিপ্স।


           রসুন কেনার আগে ভাল করে তা হাতে ধরে টিপে দেখে নিন যে কোনোরকম আর্দ্রতা বা নরম ভাব আছে কি না। নরম বা আর্দ্র হলে তা খুব তাড়াতাড়ি পচে যেতে পারে। তাই কিনবেন না।

      রসুন সেরকম দেখেই কিনুন যেগুলি বেশ শক্ত ও ডাঁটির সাথে আটো সাটো করে বাধা থাকে।

           আপনার যদি প্রায় দিনই রসুন খাওয়ার অভ্যেস থাকে তাহলে বড় কোয়া দেখে রসুন কিনবেন। কারণ, ছোট কোয়ার রসুনের খোসা ছাড়ানো খুব সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

        রসুন ছাড়ানোর ও সংরক্ষণ করার সেরা উপায় হল কোয়াগুলিকে ছাড়িয়ে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিয়ে তারপর একটি মুখ বন্ধ করা স্টিলের বাটিতে রেখে ভালো করে ঝাঁকানো। তাতে এক মিনিটের মধ্যে সব খোসা বেরিয়ে আসে।

    রসুন কখনও ফ্রিজে রাখবেন না। সাধারণ ঘরোয়া তাপমাত্রায় শুকনো জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করবেন।

      খোসা ছাড়িয়ে বেশিক্ষণ রসুন রাখলে রসুনের আসল গন্ধ চলে যায়; তার বদলে একটি অন্যরকম ঝাঁঝালো গন্ধ ফুটে ওঠে। সেটি তখন আর ভালো লাগেনা। তাই ঠিক রান্নায় ব্যবহার করার আগে বা খাওয়ার আগেই সেটির খোসা ছাড়াবেন।

       খোসা ছাড়িয়ে রসুন রাখলে তা একটি মুখ বন্ধ করা শুকনো ব্যাগে রাখবেন। তার আগে সেগুলিকে একটু ভিনিগার বা তেল দিয়ে মাখিয়ে নেবেন।

রসুনের অপকারিতা – Side Effects of Garlic in Bengali

        রসুন খাওয়ার উপকারিতা এতখানি থাকার সত্ত্বেও এর কিছু কিছু অপকারিতাও রয়েছে যা আপনার অবশ্যই জানা উচিত। রান্নায় ব্যবহার করা রসুনের থেকেও বিশেষ করে কাঁচা রসুনের অপকারিতা বেশি। আসুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।


১. কাঁচা রসুনের একটি তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে যা খেলে বেশ খানিক্ষণ মুখে লেগে থাকে ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। এমনকি, হাত দিয়ে ছাড়ানোর সময়ও রসুনের গন্ধ বেশ খানিক্ষণ হাতে লেগে থাকে।

২. বেশি পরিমাণ কাঁচা রসুন খেলে বুকে জ্বালাভাব ও ব্যাথার অনুভূতি হয়, যার ফলে বমি পেতে পারে।

৩. অত্যাধিক কাঁচা রসুন খাওয়ার ফলে গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি, পেটে জ্বালাভাব, ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে।

৪. কাঁচা রসুন বেশি খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাতে পারে যার ফলে খুব ঘাম হয়।

৫. মাইগ্রেন বা অত্যাধিক মাথা ধরার সমস্যা থাকলে কম রসুন খাওয়াই ভাল। বেশি পরিমাণ কাঁচা রসুন খেলে মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে যায়।

৬. অত্যাধিক রসুন খাওয়ার ফলে দৃষ্টি শক্তির ওপর প্রভাব পড়ে। এর ফলে চোখের ভেতরে রক্তপাত বা হাইফেমার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৭. রসুন উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু বেশি রসুন খেলে রক্তচাপের মাত্রা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে।

৮. বেশি রসুন খেলে ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব, ঘামাচি বা শুস্কতা দেখা দেয়।
৯. কম রসুন খেলে যোনির ইনফেকশন যদিও কমে যায়, কিন্তু বেশি খেলে তা আবার বেড়ে যায় ও যোনিতে দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে।

১০. অত্যাধিক রসুন খাওয়ার ফলে লিভারে বিষাক্ত ক্রিয়াকলাপ সৃষ্টি হতে পারে যা আপনার লিভারের কার্যকলাপকে নষ্ট করে দিতে পারে।


কাদের রসুন খাওয়া উচিত নয় – Who Should Avoid Garlic in Bengali

        আপনার যদি নিচের তালিকার কোনো একটি পরিস্থিতি বা সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আপনার একেবারেই রসুন খাওয়া উচিত না।

       অনেকের রসুন খেলে এলার্জির সমস্যা দেখা যায়। তাদের রসুন খাওয়া উচিত নয়।

      পেটের আলসার, আই.বি.এস, আই.বি.ডি. বা যেকোনো রকমের ইন্টেস্টাইনের সমস্যা থাকলে রসুন খাওয়া উচিত নয়।

     কোনোরকম সমস্যার জন্যে যদি আপনার ডাক্তার রসুন খেতে না করেন, তাহলে রসুন খাওয়া উচিত নয়।

        সবকিছুর মধ্যেই ভালো ও মন্দ দুটি দিকই থাকে। এক্ষেত্রেও তাই। তাই আপনাকে ঠিক করতে হবে ঠিক কতটা পরিমাণ রসুন খাওয়া আপনার জন্যে ঠিক। যাই হোক না কেন, রসুন খাওয়ার উপকারিতা প্রচুর। তাই প্রতিদিন অল্প পরিমাণ রসুন অবশ্যই খাওয়া উচিত। এর ফলে আপনার শরীরের নানারকমের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। রসুন নিয়ে আমাদের এই তথ্যগুলি কেমন লাগলো আপনার? এর মধ্যে কোনোটা কি আপনার কাজে লাগল ? কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানাতে ভুলবেন না।




পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন
 
এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  

 

আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


My Blog List

  • Positive Thoughts - * 1) ‘Dreams are not what you see in your sleep. Dreams* *That's what keeps you awake. '* *2) ‘To be as bright as the sun first* *You have to burn li...
    7 months ago

Popular Posts