English to Bengali, বাংলা ও ইংরেজি, Online English to Bengali Tense, English Gramma

শিক্ষায় জীবন

ডিম পুষ্টি উপাদানে ভরপুর একটি প্রাকৃতিক খাদ্য। একে প্রোটিন এবং পুষ্টি উপাদানের পাওয়ার হাউসও বলা হয়ে থাকে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সের জন্য ডিম একটি অত্যন্ত উপাদেয় খাদ্য। বলা হয়ে থাকে, ‘যদি সুস্থ থাকতে চান, প্রতিদিন একটি করে ডিম খান’।

 ডিম পুষ্টি উপাদানে ভরপুর একটি প্রাকৃতিক খাদ্য। একে প্রোটিন এবং পুষ্টি উপাদানের পাওয়ার হাউসও বলা হয়ে থাকে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সের জন্য ডিম একটি অত্যন্ত উপাদেয় খাদ্য। বলা হয়ে থাকে, ‘যদি সুস্থ থাকতে চান, প্রতিদিন একটি করে ডিম খান’।





একটি বড় ডিমের ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম হয়ে থাকে । একটি সেদ্ধ ডিম থেকে যেসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় এবং শরীরে তাদের কাজ নিয়ে আলোচনা করা হলো:

ক্যালরি: একটি ডিম থেকে সাধারণত ৭৭ ক্যালরি পাওয়া যায়। ডিম দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং ক্ষুধা কমায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ডায়েটে ডিম রাখা জরুরি। সকালের নাশতায় একটি ডিম সারা দিনের পুষ্টি চাহিদা অনেকটুকুই পূরণ করতে সহায়তা করে।


প্রোটিন: একটি ডিম থেকে প্রায় ৬.৩ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন পাওয়া যায়। ডিমের প্রোটিন শরীরে খুব সহজে শোষিত হয়। শরীরের গঠন ও ক্ষয়পূরণের জন্য প্রোটিন অত্যাবশ্যকীয়। এ ছাড়া প্রোটিন বিভিন্ন অঙ্গ, ত্বক, চুল এবং শরীরের বিভিন্ন টিস্যু পুনর্গঠনে সহায়তা করে।


আয়রন: ডিম থেকে যে আয়রন পাওয়া যায়, তা শরীরে খুব সহজে শোষিত হয়। এই আয়রন শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।




ভিটামিন এ: ডিম থেকে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। এই ভিটামিন এ ত্বক এবং চোখের কোষের সুস্থতা দান করে। সেই সঙ্গে রাতকানা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডির একটি ভালো খাদ্য উৎস হচ্ছে ডিম। ভিটামিন ডি হাড় এবং দাঁত সুস্থ ও মজবুত করে। কিছু কিছু ক্যানসার কোষ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়।




ভিটামিন ই: ভিটামিন ই দেহে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক ও চুলের জন্য ভিটামিন ই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরকে সুস্থ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।


ভিটামিন বি-১২: এটি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে এবং হার্ট সুস্থ রাখে।


ফলেট: ডিমে ফলেট থাকে, যা নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। ফলেট এর অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়তা করে। গর্ভবতী মায়েদের জন্য ফলেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুর জন্মগত ত্রুটি দূর করতে সহায়তা করে।

সেলেনিয়াম: ডিম থেকে সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। এটি ভিটামিন ই-এর সঙ্গে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর ক্ষয় রোধ করে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে ।



কোলিন: ডিমের কুসুমে কোলিন থাকে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। কোলিন মস্তিষ্কের বিকাশ এবং কার্যক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখে।


কোলেস্টেরল: একটি বড় সেদ্ধ ডিম থেকে প্রায় ১৮৬.৫ গ্রাম কোলেস্টেরল পাওয়া যায়। বর্তমান গবেষণায় জানা গেছে, ডিম থেকে যে কোলেস্টেরল পাওয়া যায় তা আমাদের শরীরে বিশেষ কোনো ক্ষতি করে না ।


ডিম ও ডিমের কুসুম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা



ডিমের কুসুম নিয়ে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। যেহেতু ডিমের কুসুমে অধিক মাত্রায় কোলেস্টেরল থাকে, তাই ধারণা করা হতো, যাঁদের করোনারি হার্ট ডিজিজ রয়েছে এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাঁদের জন্য ডিমের কুসুম ক্ষতিকর। পরামর্শ দেওয়া হতো কুসুমছাড়া ডিম খাওয়ার জন্য। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে, ডিমের কুসুম থেকে যে কোলেস্টরেল পাওয়া যায়, তা রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় না এবং এটি করোনারি হার্ট ডিজিজের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রতিদিন কুসুমসহ একটি ডিম সবার জন্য নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর। ডিমের কুসুমে পুরো ডিমের প্রায় অর্ধেক পুষ্টি উপাদান থাকে। এ ছাড়া কুসুমে আমাদের জন্য উপকারী উপাদান ফলেট, কোলিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, লেটিইন এবং জি-অ্যাকজানথাইন থাকে। তাই কুসুম বাদ দিয়ে নয়, কুসুমসহ প্রতিদিন একটি ডিম সবার জন্যই স্বাস্থ্যসম্মত।


বিভিন্ন বয়সে ডিমের গুরুত্ব এবং গ্রহণের পরিমাণ




শিশু : সাধারণত এক বছর বয়সের পর থেকে শিশুকে ডিম খাওয়ানো শুরু করতে হয়। ডিমের ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন শিশুর দেহের ক্ষয়পূরণ ও সঠিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। ডিমের কুসুমে কোলিন থাকে, যা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া ডিমে ভিটামিন ডি, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, আয়রনসহ আরও অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে, যা শিশুর বিকাশে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। শিশুদের ক্ষেত্রে এক বছর বয়সের পর থেকে দিনে একটি ডিম এবং তিন বছর বয়সের পর থেকে দুটি ডিম খাওয়া যেতে পারে।


কিশোর: এই বয়সে শরীরের সব পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় বিভিন্ন অঙ্গের পরিপক্বতা ও পরিবর্তন হয়, বিভিন্ন হরমোন ও এনজাইমের কার্যকারিতা বেড়ে যায় এ ছাড়া লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার জন্য সঠিক পুষ্টিকর খাদ্যযত্ন খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা হলে তা দৈনিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। কৈশোর ও টিন এজ বয়সে দিনে দুটো ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যকর।


প্রাপ্তবয়স্ক: যাঁরা প্রাপ্তবয়স্ক, তাঁরা কাজের চাপে অনেক সময় নিজের খাবারের প্রতি মনোযোগী থাকেন না । একটি পরিকল্পিত ডায়েট ফলো করেন না। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি ঘাটতি দেখা যায়। এই পুষ্টি ঘাটতি পূরণের জন্য এবং স্বল্প সময়ে এনার্জি পাওয়ার জন্য ডিম খুবই উপকারী। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ডিমের কুসুমসহ দুটো ডিম এবং আরও একটি ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। এ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের অনেক সময় বিভিন্ন হরমোনাল ইমব্যালেন্স দেখা যায়; ডিমের প্রোটিন এই হরমোন এবং বিভিন্ন এনজাইমের কার্যকারিতা সঠিক রাখতে সহায়তা করে।


পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি: এই সময়ে মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ পরিবর্তন আসে এবং পুষ্টি চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। কারণ, শরীরের ভেতর যে ক্ষয় হয়, সেটা আর তখন পূরণ হয় না। তাই খাবারের মাধ্যমে এই ক্ষয় প্রতিরোধ করতে হয়। আর এ ক্ষেত্রে একটি চমৎকার উপাদেয় খাবার হচ্ছে ডিম। বয়স্ক মানুষের খাদ্যতালিকায় কুসুমসহ একটি ডিম এবং কুসুমছাড়া আরও দুটি ডিম রাখা যায়। ডিমের কুসুমের কোলিন মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখে। ডিমে ভিটামিন এ থাকে, যা বয়সের কারণে চোখের কোষের যে ক্ষতি হয়, তা কমাতে সহায়তা করে। ডিমের কুসুমে ভিটামিন ডি এবং ফসফরাস থাকে, যা হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন ডি অনেক ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতেও সহায়তা করে। এ ছাড়া ভিটামিন বি-১২ হার্টের সুস্থতা বজায় রাখে। আর ডিমের কুসুমে থাকা টাইরোসিন ও ট্রিপটোফেন অ্যামাইনো অ্যাসিড হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।





গর্ভবতী মা: একজন গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকে, এটা আমরা সবাই জানি। ভ্রূণের সঠিক গঠন ও বিকাশের জন্য অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ডিম একটি চমৎকার খাবার। গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধের জন্য এবং ভ্রূণের হাড়, মস্তিষ্ক এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনের জন্য যে পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন, তার প্রায় সব উপাদান ডিমে বিদ্যমান। তাই গর্ভবতী মা দিনে দুটি ডিম খেলে তাঁর পুষ্টি উপাদানের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। এ ছাড়া ডিমে যে পুষ্টি উপাদান রয়েছে, তার মধ্যে ফোলেট ভ্রূণের সুস্থতা দান করে এবং জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


কমলালেবুর উপকারিতা বা পুষ্টিগুণ, আপনাদের জন্য তো আজকের টিপস কমলালেবুর উপকারিতা বা পুষ্টিগুণ

            

       মলকির পরে ভিটামিন C এর উৎস হিসেবে যাকে ধরা হয় তা হল কমলালেবু (Orange) । কাঁচা আমলকি যেহেতু সারা বছর পাওয়া যায় না, তাই সেটা শুকনো বা পাউডার রূপে রাখা হয়। কিন্তু কমলালেবু সারা বছরই পাওয়া যায়। তাই ভিটামিন C কে নিয়ে আমাদের আর দ্বিতীয়বার ভাবতে হয় না। কমলা খাই না এমন মানুষ খুব কম আছে। মুখে স্বাদ নেই তো কি হয়েছে, মুখের রুচির জন্য আর মুখে স্বাদ আনার জন্য একটা কমলাই যথেষ্ট। ওজন কমানো, ত্বকের পুষ্টি এমন কি হৃদযন্ত্র ভালো রেখে শরীরে রক্ত চলাচল নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে কমলা। কমলার রয়েছে আরো অনেক উপকারিতা। আপনাদের জন্য তো আজকের টিপস কমলালেবুর উপকারিতা বা পুষ্টিগুণ   



রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে

       কমলা আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করে। একই সঙ্গে এ ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান। এ পুষ্টি উপাদানসমূহ রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ছোটবড় নানা ব্যাধি ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।


         আমাদের মুখে ভিটামিন সি এর অভাবে যে ঘাঁ হয় সেটার ঔষুধ হিসেবে কমলা অনেক ভাল কাজ করে।এটি ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। কমলাতে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন সেল ড্যামেজ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম যা দাঁত ও হাঁড়ের গঠনে সাহায্য করে।


সুন্দর ত্বকের জন্য

      বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বকও দ্রুত বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। ভিটামিন সি ছাড়াও কমলায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহ ত্বককে সতেজ ও সজীব রাখতে সাহায্য করে। বার্ধক্যেও ত্বককে অনেকটাই মসৃণ রাখে, সহজে বলিরেখা পড়ে না। কারণ, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিস সি ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখে বহু বছর। ফলে, বয়স বাড়লেও, আপনাকে দেখাবে চিরতরুণের ন্যায়।


চোখের জন্য

       প্রতিদিন একটি করে কমলা খাওয়ার অভ্যাস আপনার দৃষ্টিশক্তিকে ভাল রাখে। কারণ, কমলায় রয়েছে ভিটামিন এ, সি ও পটাসিয়াম। এ ভিটামিনগুলো আপনার দৃষ্টিশক্তির জন্য বেশ উপকারী।


পাকস্থলীর আলসার থেকে সুরক্ষায়

       আঁশের অন্যতম উৎস কমলা পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত কমলা খাওয়ার অভ্যাস পাকস্থলীর আলসার ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সুরক্ষা দেবে। পাকস্থলীকে রাখবে সবল।


ক্যান্সার প্রতিরোধ (anti-cancer)

          কমলায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিনের পাশাপাশি রয়েছে আলফা ও বেটা ক্যারোটিনের মতো ফ্ল্যাভনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কমলায় উচ্চমাত্রার পুষ্টিগুণ হচ্ছে ফ্ল্যাভনয়েড যা ফুসফুস এবং ক্যাভিটি ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর। তাই ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন ১ টি কমলা খাওয়া উচিত।


       কমলার ভিটামিন সি উপাদান (vitamin C content) আমাদের শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এটি আমাদের শরীরের কোলন ক্যান্সার (colon cancer) ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের (breast cancer) অন্যতম সেল প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।


ব্যথা উপশম (pain killer)

        ব্যথা উপশমে কমলার তুলনা হয়না। কমলা ও কমলার জুসের পুষ্টিমাণ আমাদের শরীরের যেকোন ধরণের ব্যথা উপশমে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।


কিডনি রক্ষা (kidney protector)

     কমলার উচ্চ সাইট্রেট উপাদান ( high citrate content) কিডনি রক্ষা করে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে লেবুর থেকে কমলার জুস আরও ভালভাবে আমাদের কিডনির দেখভাল করে।


ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ (diabetes management)

      কমলা একটি উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ ফল। আর দি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন(the New England Journal of Medicine) থেকে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে লিখা হয়েছে উচ্চ ফাইবার আমাদের শরীরের সুগারের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে একটি বড় অবদান রাখে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে নিয়মিত কমলা গ্রহণের বিকল্প হয়না।


কলেস্টেরল হ্রাস (cholesterol reducer)

      প্রতিদিন ৭৫০ মিলি. কমলার জুস গ্রহণ করলে আমাদের শরীরের ক্ষতিকর কলেস্টেরল (bad cholesterol) এর মাত্রা কমে গিয়ে উপকারী কলেস্টেরল (good cholesterol) এর পরিমাণ বেড়ে যাই। তাই আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত একগ্লাস কমলার জুস খাওয়া খুব উপকারী।


হার্ট সুস্থ রাখে:

     কমলায় আছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান যা হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম এবং ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ উপাদানগুলো শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কমলার চর্বিহীণ আঁশ, সোডিয়াম মুক্ত এবং কোলেস্টেরল মুক্ত উপাদানগুলো হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে।


এক নজরে কমলার উপকারিতা

১) কিডনিতে পাথর  হওয়া প্রতিরোধ করে,
২) এটি খেলে চর্বি কিছুটা কমে,
৩) যাদের পেট বেশি মোটা তারা খেলে পেট কিছুটা কমে যায়,
৪) দাঁতকে সুন্দর করে,
৫) যদি প্রতিদিন কেউ কমলা খায় তাহলে তার কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়,
৬) কমলাতে হেসপেরিডিন এবং পেকটিন থাকে যা কিনা কোলেস্টেরল কমায় আর যার কারণে কমলা খেলে এটি শরীরের চর্বি আস্তে আস্তে কমাতে সাহায্য করে,
৭) কমলার ক্যালরি অনেক কম তাই এটি শরীরের সুগারের উপর কাজ করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে,
৮) কেউ যদি প্রতিদিন এক গ্লাস কমলার জুস খায় তাহলে তার রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়,
৯) কমলাতে হেসপিরিডিন এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারনে এটি ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে,
১০) কমলাতে ডি-লিনোনেন নামক এক ধরনের জিনিস থাকে যা কিনা প্নেক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাই কেউ যদি কমলা খায় তাহলে এই কমলা খাওয়ার কারনে সে কোলন ক্যান্সার,ফুসফুসের ক্যান্সার,স্কিন ক্যান্সার,ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে,
১১) কমলাতে আঁশ, হেসপেরিডিন, ফলেট থাকার কারণে এটি স্বাস্থ্যকে ভাল রাখে। কেউ নিয়মিত কমলা খেলে তার হার্ট ভাল থাকে,
১২) কমলাতে ফলিক এসিড থাকে যা কিনা ব্রেনের ডেভেলপমেন্টে কাজ করে,
১৩) কমলাতে থাকে ভিটামিন সি আর যা কিনা আমাদের শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা বাড়ায়ে আমাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করে,
১৪) কমলাতে কম ক্যালরি এবং বেশি ফাইবার থাকার কারণে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে,
১৫) কমলাতে ফ্লাভোনোয়েড এবং পলিফেনল থাকার কারণে এটি ভাইরাল ইনফেকশন থেকে আমাদের সাহায্য করে,
১৬) কমলাতে ক্যালসিয়াম থাকার কারণে এটি হাড় এবং দাতের গঠন ঠিক রাখ্তে সাহায্য করে,
১৭) কমলাতে অনেক বেশি ফাইবার থাকার কারণে এটি অনেক আলসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।কেউ নিয়মিত কমলা খেলে তার পাকস্থলির ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে,
১৮) কমলা খেলে চোখের জ্যোতি ভাল থাকে,
১৯) কমলাতে ভিটামিন সি থাকার কারণে এটি আর্টেরিওস্কেলোরোসিস থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে,
২০) যেসব মায়েরা বাচ্চাদের বুকের দুধ পান করায় তাদের জন্য কমলা খুবই উপকারী কারণ তারা যদি ঠিকমত কমলা খায় তাহলে এতে অতিরিক্ত দুধ আসে ব্রেস্ট থেকে যার কারোনে বাচ্চা ও ঠিকমত দুধ পায়,
২১) কেউ নিয়মিত কমলার চা খেলে তার শ্বাসের সমস্যা কিছুটা হলে ও কমে এবং সেই সাথে ওরাল হাইজিন উন্নত করে এটি,
২২) কমলা খেলে রক্ত সঞ্চালন ভাল থাকে,
২৩) চুলের গ্রোথে কমলা খুবই উপকারি,
২৪) ড্যানড্রাফ দূর করতে ও কমলার জুড়ি নেই,
২৫) কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কমলা সাহায্য করে কারণ কমলাতে ফাইবার বেশি থাকে।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


দুধের উপকারিতা, দুধ কেন স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি,দুধের খাদ্যগুণ,কিভাবে দুধ ব্যবহার করবেন ? দুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া,দুধ কেন স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি ?

 দুধের ব্যবহার ও উপকারিতা :-



দুধের উপকারিতা

        আপনাদের মধ্যে অনেকেই দুধ খেতে পছন্দ করেন, তারা আশা করি আমাদের এই প্রতিবেদন পড়ে খুশি হবেন। আবার অনেকে আছে যারা দুধ পছন্দ করেন না, তাদের এই প্রতিবেদনটি পড়া উচিত। আপনাদের আজ জানাবো দুধের  উপকারিতা ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত। তাহলে শুরু করা যাক।

     দুধের উপকারিতা, দুধ কেন স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি,দুধের খাদ্যগুণ,কিভাবে দুধ ব্যবহার করবেন ? দুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া,দুধ কেন স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি ?

       নিয়মিত দুধ খাওয়ার অভ্যেস থাকলে ত্বক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব দেখতে পাবেন। আর কেন দুধ উপকারী বলা হচ্ছে, এ ব্যাপারে নিচে উল্লেখ করা হল।


দুধের উপকারিতা

 ঘুম গাঢ় করতে

      আমাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, রাতে এক গ্লাস গরম জল খেলে ঘুমোলে ঘুম ভালো হয়, জলের জায়গায় গরম দুধ খেয়ে দেখুন, দারুন ফল পেতে পারেন ।


    অনেকেই অনিদ্রা রোগে ভোগেন। সেক্ষেত্রে কিন্তু কিছু ডাক্তার পরামর্শ দেন রাতে শুতে যাবার আগে এক গ্লাস গরম দুধ খাওয়ার। দুধে বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান থাকার জন্য তা স্ট্রেস কমিয়ে ঘুম গাঢ় করতে সাহায্য করে (7)।


 ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে

     দুধে থাকে ল্যাক্টোফেরিন নামক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদান, তাই দুধ অ্যাকনের সমস্যা দূর করতে উপযোগী বলে জানা যায়। নিয়মিত লো ফ্যাট দুধ খেলে নাকি ত্বক কম ফাটে, এর কারণ হল কম ফ্যাট যুক্ত দুধে থাকে ট্রাই-গ্লিসারাইড। একটি গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত ত্বকে দুধ লাগালে ত্বকের থেকে অতিরিক্ত তেল ৩১% কম বেরোয় (10)।


 চুলকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে

        অনেকেই কন্ডিশনার হিসেবে দুধ ব্যবহার করে থাকেন। এতে চুল মসৃণ ও চকচকে হয়ে ওঠে। এছাড়া চুলের নানা প্যাক দুধ দিয়ে বানান। এটি চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।


 ব্লাড প্রেসার ঠিক রাখতে

     ব্লাড প্রেসারের সমস্যা থাকলে নিয়মিত কম ফ্যাট যুক্ত দুধ খাওয়া উচিত, এতে ব্লাড প্রেসারের মাত্রা ঠিক থাকে  (8)।


 ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

      দুধে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ডি থাকার জন্য আমাদের শরীরের কোষের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।  একটি গবেষণার মাধ্যমে দাবি করেছে যে দুধ নাকি ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে উপযোগী (9)। তাই দুধ নিয়মিত খাওয়া খুবই ভালো । কোলন ক্যান্সারের রোগীদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে দুধ বলে জানা যায়।




 হাড় ও পেশিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে 

     একটি সুস্থ শরীরের জন্য হাড়ের মজবুত হওয়া খুবই জরুরি। তাই প্রয়োজন ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি -এর। আর যেসব মহিলারা মেনোপোজের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের এই সময় হাড়ের ক্ষয় শুরু হয় কারণ শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের তারতম্য হয়ে থাকে (1)।


    দুধে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি, তাই সবারই নিয়মিত দুধ খাওয়ার অভ্যেস করা উচিত।


 দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

     নিয়মিত দুধ খেলে হাড় শক্ত হওয়ার পাশাপাশি দাঁতও মজবুত হয় কারণ দুধে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি উপস্থিত (2) । দাঁতের ওপরে যে এনামেলের স্তর থাকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ক্ষয় হতে থাকে। ফলে দাঁতে কনকনানি ব্যাথা হতে শুরু হয়। তাই নিয়মিত দুধ খাওয়ার অভ্যেস থাকলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয় না বলে জানা যায়।


 শরীরের ওজন হ্রাস করতে

     দুধে প্রোটিন থাকার কারণে তা অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে , ফলে অন্যান্য খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে (3) । এক্ষেত্রে ননিমুক্ত বা ফ্যাট মুক্ত দুধ খাওয়া প্রয়োজন। ফলে এই ধরণের দুধ খেলে শরীরে প্রোটিন প্রবেশ করে কিন্তু ক্যালোরি নয়।


 স্ট্রেস দূর করতে

      নানা গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য যে স্ট্রেস কমাতে নাকি দুধ খুবই উপযোগী। তাই যদি আপনি স্ট্রেসে ভুগছেন, তাহলে অবশ্যই নিয়মিত দুধ খেতে শুরু করুন।


  হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

       জানা যায় প্রত্যেকদিন ২০০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার দুধ খেলে নাকি হার্টের সমস্যা হওয়ার প্রবণতা ৭% কমে যায়। কম ফ্যাট যুক্ত দুধ খেলে রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমান বৃদ্ধি পায় ও খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। কম বয়স থেকে কম ফ্যাট যুক্ত দুধ খেতে শুরু করলে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস ও অন্যান্য হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা কমে (4)। এছাড়া ব্লাড প্রেসার সঠিক রাখতেও সাহায্য করে।


 ডায়াবেটিসের সমস্যা কমাতে

      ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি তে পরিপূর্ণ এই দুধ। আর সেজন্য দুধ ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য উপকারী খাবার বলে জানা যায় (5), (6)।  তবে অবশ্যই কম ফ্যাট যুক্ত দুধ খাওয়া প্রয়োজন এক্ষেত্রে।


 পেটের সমস্যা ও অ্যাসিডিটি কমাতে

       দুধে উপস্থিত ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি র জন্যই পেটের সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে পারে বলে জানা যায় (6) ।  কখনোই ননি যুক্ত দুধ এই সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না, তাই লো ফ্যাট যুক্ত দুধই খাবেন।


দুধের খাদ্যগুণ

গরুর দুধের খাদ্যগুণ সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হল - ৬ টি  ।

১- জল ৮৮ গ্রাম। 
২- এনার্জি ৬১ কিলো ক্যালোরি।  
৩- প্রোটিন ৩.২ গ্রাম। 
৪- ফ্যাট ৩.৪ গ্রাম।  
৫- ল্যাক্টোজ ৪.৭ গ্রাম। 
৬- মিনারেলস ০.৭২ গ্রাম। 


কিভাবে দুধ ব্যবহার করবেন ?

১.একটি সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন।

২.ঘুম ভালো হওয়ার জন্য রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধ খেতে পারেন।  ব্রেকফাস্টের সময়ও দুধ খেতে পারেন।

৩.শুধু দুধ খেতে না ভালো লাগলে হরলিক্স বা ওই জাতীয় কিছু মিশিয়েও খেতে পারেন।

৪.কোনো ফল দিয়ে মিল্ক শেক বানিয়েও খেতে পারেন, তাহলে স্বাদের পরিবর্তন হবে।
দুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

৫.আমরা জানি, কোনো কিছুই বেশি খাওয়া উচিত না। এক্ষেত্রেও আপনার পরিমান মতো দুধ খাওয়া উচিত, কখনোই ভাববেন না বেশি পরিমানে দুধ খেলে এর উপকারিতাও বাড়বে।

৬.নিয়মিত দুধ খাওয়ার অভ্যেস করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন অবশ্যই। নিচে দুধের কিছু ক্ষতিকারক দিকের কথা উল্লেখ করা হল।


১. ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স

      যারা দুধ খেয়ে হজম করতে পারে না, পেটে গ্যাস বা হজমের সমস্যা হয় তাদের মূলত ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স থাকে (11)। দুধে থাকে  ল্যাক্টোজ, আর যাদের ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স থাকে, তাদের ইন্টেস্টাইনে দুধ গিয়ে তা পাচিত হয় না। কোলনে প্রবেশ করার পর তা গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং তার সঙ্গে গ্যাসেরও সৃষ্টি হয়  । এর ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও দেখা দেয়। এক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় যে দুধে অ্যালার্জি আছে।

২. হরমোনের তারতম্য

     দুধে থাকে ইস্ট্রোজেন হরমোন, যদি বেশি দুধ খাওয়া হয়ে যায় তাহলে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণও বেড়ে যায় কারণ এমনিতেই এই হরমোন তৈরী হয়। এর ফলে ব্রেস্ট, প্রস্ট্রেট ক্যান্সার সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে জানা যায় (12)।

      দুধের গুনাগুণ ও ক্ষতিকারক দিক  সম্পর্কে তো জানলেন, তাহলে বুঝতেই পারছেন এটি শরীরের পক্ষে কতটা স্বাস্থ্যকর। তাই আশা করি, এখন থেকে নিশ্চয়ই এটি খাওয়ার চেষ্টা করবেন নিয়মিত, তবে পরিমাণ সম্পর্কে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না কিন্তু । নিজের যত্ন করুন ও সুস্থ থাকুন।


রাতে দুধ খাওয়া কি শরীরের পক্ষে উপকারী ?
হ্যাঁ, অবশ্যই উপকারী।  এতে ঘুম ভালো হয়, তবে গরম দুধ এক্ষেত্রে উপযোগী।
কাঁচা দুধ কি খাওয়া যেতে পারে ?
না, কখনোই না।
গরম দুধ খেলে কি কি উপকার পাওয়া যায় ?
দুধের যেসব উপকারিতা আছে, তা গরম দুধ খেলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাওয়া যায়।
খালি পেটে দুধ খাওয়া কি উচিত ?
খালি পেটে দুধ না খাওয়াই উচিত।


প্রতিদিন খেজুর খেলে কী হতে পারে জানেন?

 

প্রতিদিন খেজুর খেলে কী হতে পারে জানেন?

সুস্বাদু এই মরু ফলটির শরীরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, উপকারি তেল, ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, কপার এবং আরও নানাবিধ খনিজ। রয়েছে উপকারি ভিটামিনও। তাই তো প্রতিদিন সকালে ৩-৪ টে খেজুর খেলে শরীরের তো কোনও ক্ষতি হয়ই না। উল্টে দারুন উপকার পাওয়া যায়। বিশেষত যারা কনস্টিপেশন বা কোনও ধরনের পেটের রোগে ভুগছেন তাদের জন্য় তো এই ফলটি মহৌষধির সমান! তবে এখানেই শেষ হয়ে যায় খজুরের গুণ, এমনটা ভাবলে কিন্তু ভুল করবেন। কারণ নিয়মিত এই ফলটি কেলে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন...


১. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে খেজুর খাওয়ার পাশাপাশি যদি নিয়মিত এই ফলটির পাতা খাওয়া যায়, তাহলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে চোকে পরার মতো! সেই সঙ্গে নাইট ব্লাইন্ডনেস সহ অন্যান্য চোখের রোগের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না।


২. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

এই ফলটির অন্দরে থাকা প্রকৃতিক সুগার রক্তে মেশার পর এমন মাত্রায় খেল দেখাতে শুরু করে যে শরীর একেবারে চনমনে হয়ে ওঠে, সেই সঙ্গে মানসিক ক্লান্তি দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এবার থেকে যখনই ক্লান্ত লাগবে এক-দুটো খেজুর খেয়ে নেবেন, তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে!



৩. হার্টের ক্ষমতা বাড়ে:

ডায়াটারি ফাইবারে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে নিয়মিত খেজুর খেলে শরীরে "এল ডি এল" বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে এতে উপস্থিত পটাশিয়াম আরও সব হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমায়।


৪. পেটের রোগের প্রকোপ কমায়:

প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকার কারণে নিয়মিত এই ফলটি খেলে বাওয়েল মুভমেন্টে মারাত্মক উন্নতি ঘটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোনও ধরনের পেটের রোগই আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ৩ টে করে খেজুর খেলে শরীরে অন্দরে উপকারি ব্যাকটেরিয়ায় মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে বদ-হজম, কোলাইটিস এবং হেমোরয়েডের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।


৫. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ:

খেজুরে প্রচুর মাত্রায় প্রাকৃতির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা একাধিক রোগকে দূরে রাখার পাশাপাশি শরীরের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানেই শেষ নয়, এই ফলটিতে বেশ কিছু অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজও রযেছে, ফলে নিয়মিত খেজুর খেলে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও অনেকাংশে হ্রাস পায়।


৬. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

খেজুরে উপস্থিত খনিজ এবং ভিটামিন হাড়কে এতটাই শক্তপোক্ত করে দেয় যে বয়স্কালে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, এই ফলটিতে উপস্থিত সেলেনিয়াম, ম্য়াঙ্গানিজ, কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।


৭. ওজন বৃ্দ্ধি পায়:

নানা কারণে যাদের ওজন মাত্রাতিরিক্ত হারে কমে যেতে শুরু করেছে, তারা আজ থেকেই খেজুর খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। কারণ এই ফলটিতে উপস্থিত ক্যালরি শরীরে ভাঙন রোধ করে ওজন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।


৮. নার্ভাস সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:

খেজুরে উপস্থিত নানাবিধ ভিটামিন এবং খনিজ, বিশেষত পটাশিয়াম নার্ভের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ব্রেন পাওয়ার বাড়াতেও এই ফলটি দারুনভাবে সাহায্য করে। এবার নিশ্চয় বুঝেছেন বাচ্চাদের প্রতিদিন কেন খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।


৯. অ্যানিমিয়ার মতো রোগকে দূরে রাখে:

শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলেই মূলত এই ধরনের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তাই তো শরীরে যাতে এই খনিজটির ঘাটতি কোনও সময় দেখা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর এক্ষেত্রে খেজুর দারুনভাবে সাহায্য করতে পারে। কীভাবে? এই ছোট্ট ফলটি আয়রণ সমৃদ্ধি। তাই তো অ্যানিমিয়ার মতো রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।


১০. অ্যালার্জির প্রকোপ কমায়:

২০০২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে দাবি করা হয়েছিল খেজুরে উপস্থিত সালফার কম্পাউন্ড অ্যালার্জির মতো রোগ থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো যারা সারা বছরই এই রোগে ভুগে থাকেন, তাদের রোজের ডায়েটে এই ফলটির অন্তর্ভুক্তি মাস্ট!



পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 


বিয়ার খাওয়া আপনার পক্ষে উপকারী,বিয়ারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অনেক উপকারিতা আছে। জানার জন্যে লেখাটা পড়ে দেখুন

 বিয়ার খাওয়া আপনার পক্ষে উপকারী

      ডিনার কিংবা সান্ধ্যভোজনের সঙ্গে এক গ্লাস ঠাণ্ডা বিয়ার কি আপনি পছন্দ করেন? তাহলে আপনার জন্য ভালো খবর। হ্যাঁ, বিয়ারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অনেক উপকারিতা আছে। 


মেটাবোলিজম এবং কোলেস্টেরলের জন্য ভালো

       বিয়ারের মধ্যে সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিনের সাথে খুবই সামান্য পরিমাণ অ্যাসিড এবং অল্প পরিমাণ শর্করা থাকে বলে এটা মেটাবোলিজমের জন্য ভালো। এটা আরও ভালোভাবে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখে।  

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

       ফ্রি রাডিক্যেল ক্যান্সার সহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অনেক রোগের সাথে জড়িত। বিয়ারের পলিফেনল আদপে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এটা শরীরের ফ্রি রাডিক্যেলের মোকাবিলা করে। 


হৃদরোগ হওয়া আটকায় 

      বিয়ারের মধ্যে কম পরিমাণ ক্যালসিয়াম এবং সোডিয়াম থাকে বলে এটা উত্তম মূত্রবর্ধিক, যা শক্তিশালী  এবং ভালো ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বানায় কারণ সোডিয়াম নিষ্কৃত হলেও পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হয় না। এটা হৃদরোগ হাত থেকে রক্ষা করার সাথে গলস্টোন এবং ইউরিনারি ক্যালকুলি তৈরি হওয়া আটকায়। 


স্বাস্থ্যকর মিনারেল বাড়ায়

      মল্টের মধ্যে ৩০-র থেকে অধিক ট্রেস উপাদান এবং মিনারেল সুরা পাওয়া যায়, যা বিয়ারের মধ্যেও থাকে। উদাহরণস্বরূপ, এক লিটার বিয়ার প্রাত্যহিক ম্যাগনেসিয়ামের চাহিদার ৩০%, ফসফরাসের ২৫% ও পটাশিয়ামের ৩০% প্রদান করে।  


বাস্তবিক অসাধারণ উপায়ে চাপ-ধকল কমায়

        বিয়ার পেশীর চাপ কমায় এবং এর স্নায়ুকে প্রশমিত করার গুণ আছে। কোলেস্টেরলের কম পরিমাণের জন্য চাপ কমে আরাম হয় এবং কিছু বিয়ার কার্বোনেশানও প্রশমিত করতে সহায়তা করে। 


ভিটামিন কোশেন্ট যোগ করে

     বিয়ারের মধ্যে সামান্য পরিমাণে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের পাশাপাশি ভিটামিন থাকে। প্রাথমিকভাবে ভিটামিন বি, বি১, বি২, বি৬ এবং ভিটামিন এইচ, আমাদের স্নায়ুর এবং মনঃসংযোগ ক্ষমতার জন্য ভালো। তাছাড়া, এইসব ভিটামিন লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হওয়া বাড়ায়।   


অ্যালকোহল তেষ্টা মেটায়

        বিয়ার দারুণ তেষ্টা মেটাতে পারে এবং এর স্বাদও ভালো। অতএব, একগ্লাস হিমশীতল বিয়ার নিয়ে পছন্দের টেলিভিশান অনুষ্ঠান কিংবা গান চালিয়ে আরাম করুন। অবশ্য অতিরিক্ত খাবেন না। সবকিছুই মাত্রার মধ্যে ভালো।


        ভায়াগ্রা বা ওই জাতীয় ওষুধের কথা ভুলে যান। নিয়মিত বিয়ার খাওয়া যৌন জীবনের দিক থেকে উপকারি। রোগ প্রতিরোধক হিসাবেও বিয়ার বেশ উপযোগী। এমনই বিয়ারের সাত সত্যি পড়ুন নিচে এক নজরে।

১) বিয়ার যৌনউদ্দীপক- বিয়ারের আয়রন আমাদের রেড ব্লাড সেলে হিমগ্লোবিন তৈরি করে।  আমাদের সারা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ আরও বেশি করে হয়। এর ফলে যৌন বা কাম উদ্দীপনা বাড়িয়ে তোলে।
২) সেক্সের সময় বাড়াতে সাহায্য করে - সেক্সের সময় বাড়াতে বিয়ারের জুড়ি মেলা ভার।
৩) ত্বক ও চুলে মসৃণভাব আনে-বিয়ার ত্বকের ক্ষত, অনেকসময় ব্রনো সারাতে সাহায্য করে। চুলেও আলাদা ঔজ্জ্বল্য আনে।
৪) রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে- হার্টের রোগ সহ ছোট বড় অন্তত দশটা রোগ প্রতিরোধে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সাহায্য করে বিয়ার।
৫) কর্মক্ষমতা বাড়ায়-বিয়ার খাওয়ার ঘণ্টাখানেক পর কাজ করার ইচ্ছা বেশি খানিকটা বেড়ে যায়।
৬) ক্ষুধামন্দা দূর করে-বিয়ার খেলে খিদে বাড়ে।
৭) দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে-একটি গবেষণায় প্রকাশ নিয়মিত বিয়ার খাওয়া মানুষরা দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন, 
 এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  


আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 

আপেলের উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক – Apple Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

আপেলের উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক – Apple Benefits, Uses and Side Effects in Bengali

        কথায় আছে, “প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে সারা জীবনের জন্যে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।” আসলে এই প্রবাদের কারণ হল এই যে আপেল এমন একটি ফল যার মধ্যে রয়েছে ভরপুর পুষ্টিকর উপাদান যা শরীরের জন্যে অত্যন্ত উপকারী। ভরপুর এন্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবারে সম্পন্ন এই আপেল খুব সহজেই বাজারে পাওয়া যায় ও পুষ্টির তুলনায় এর দাম এমন কিছুই বেশি নয় (১)। আপেলের উপকারিতা নানারকম ভাবে হার্ট, মস্তিস্ক, পেট, হাড় ও চোখের ক্ষেত্রে বার বার প্রমাণিত হয়েছে।


           আপেলের বৈজ্ঞানিক নাম হল ম্যালাস ডোমেস্টিকা এবং এই ফল সারা বছর ধরে পৃথিবীর সর্বত্র দেশগুলিতে আমদানি ও রপ্তানি করা হয়ে থাকে (২)। ডাক্তারদের মতে প্রতিদিন যেসব সবজি বা ফল অবশ্যই খাওয়া উচিত তার মধ্যে আপেল হল অন্যতম।


Table Of Contents

আপেলের উপকারিতা – Benefits of Apple in Bengali

স্বাস্থ্যের জন্য আপেলের উপকারিতা – Health Benefits of Apple in Bengali

ত্বকের জন্য আপেলের উপকারিতা – Skin Benefits of Apple in Bengali

চুলের জন্য আপেলের উপকারিতা – Hair Benefits of Apple in Bengali

আপেলের পুষ্টিগত মান – Apple Nutritional Value in Bengali

আপেলের ব্যবহার – How to Use Apple in Bengali

আপেলের ক্ষতিকর দিক – Side Effects of Apple in Bengali

আপেলের উপকারিতা – Benefits of Apple in Bengali



        আপেলের উপকারিতা সম্পর্কে বলতে গেলে যত বলা হবে ততই কম মনে হবে। আজকের পোস্টে আমরা বিস্তারিতভাবে আপেলের উপকারিতা সম্পর্কে বর্ণনা করবো। প্রত্যমেই দেখে নেব স্বাস্থ্যের ওপরে আপেলের উপকারিতা কতখানি।

স্বাস্থ্যের জন্য আপেলের উপকারিতা – Health Benefits of Apple in Bengali


       স্বাস্থ্যের জন্যে আপেলের উপকারিতা প্রখর। বয়সজনীত সমস্যা কমানো থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য, হার্টের স্বাস্থ্য বা অন্য যে কোনো স্বাস্থ্যের জন্যে আপেলের মত উপকারী কোনো ফল নেই। আসুন বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক:

ওজন কমানো: Weight Loss

       এক বাটি খোসা সমেত আপেলের টুকরোয় রয়েছে ২.৬ গ্রাম ফাইবার। ফাইবার হজমের প্রক্রিয়াকে ধীর গতিতে পরিণত করে যার ফলে আপনার বেশ অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভর্তি থাকে। ফলে আপনার দ্রুত খিদে না পাওয়ায় আপনি সহজেই অতিরিক্ত খাওয়ার থেকে দূরে থাকবেন ও ওজন সহজেই কমে যাবে (৩), (৪)। একটি কাঁচা আপেলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স হল ৩৬ ও আপেলের জ্যুসে রয়েছে ৪১। এগুলি রক্তে সুগারের পরিমাণ কম করতে সাহায্য করে এবং বার বার ক্ষুধাভাব রোধ করে (৫), (৬)। আপেল ফ্যাট কমাতেও বেশ কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে (৭)।


ক্যান্সার: Cancer

       প্রতিদিন আপেল খেলে ক্যান্সারের মত রোগকে প্রায় ৮০% রোধ করা যায়, বিশেষ করে ফুসফুসের ক্যান্সার, কোলোরেকটল ক্যান্সার ও পেটের ক্যান্সার। এমনকি, কিছু কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে যে ব্রেস্ট ক্যান্সার রোধ করতেও আপেল খুব কার্যকরী (৮), (৯), (১০)। এছাড়া আপেলে রয়েছে প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট (১১)। এই এন্টি অক্সিডেন্ট সেই সব রেডিক্যাল দূর করে যা শরীরের কোষগুলিকে নষ্ট করে দেয় এবং নতুন করে ডি এন এ তৈরী করতে সাহায্য করে। এতে টিউমারের সংখ্যাও সহজেই রোধ করা যায় (১২)।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: Diabet Immunity

      আপেলে রয়েছে প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল যা সহজেই নানা রকমের রোগ হওয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এর ফলে প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে নানারকমের রোগের হাত থেকে নিমেষে মুক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে সর্দি কাশি, পেট খারাপ, হার্টের সমস্যা বা ইত্যাদি রোধ করতে আপেল খুব উপকারী।


 দাঁতের রঙ উজ্জ্বল করে: Whiter Teeth

        আপেলের সুস্বাদু মিষ্টি রস দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্যে দারুণ উপকারী। এর সাহায্যে দাঁত নষ্ট হওয়া সহজেই রোধ করা যায় আপেলের উচ্চ পরিমাণে ফাইবার মুখে এসিডের পরিমাণকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যার ফলে মুখ শুকোয় না, মুখের অর্দ্রভাব বজায় থাকে। এমনকি, আপনি যখন চিবিয়ে চিবিয়ে আপেল আপেল খান তখন ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটা রোধ করা যায় (১৩)।


কোলেস্টরল দূর করে: Anti-Cholesterol

        নানারকমের বৈজ্ঞনিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে আপেলে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড হার্টের বহু ধরণের রোগ রোধ করতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে মহিলাদের জন্যে তা ৩৫% বেশি কার্যকরী। এমনকি স্ট্রোকের মত সমস্যাও আপেলের সাহায্যে রোধ করা যায় (১৪)। একটি বিদেশী পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে আপেলের সাথে ওয়াইন মিশিয়ে পান করলে হার্ট এটাক এড়িয়ে চলা যায়। আপেলের খোসা ও ফল উভয়তেই কোলেস্টরল রোধ করার বিশেষ উপাদান রয়েছে (১৫)।


এস্থেমা রোধ করে: Averting Asthma

      এস্থেমায় ভুক্তভুগি মানুষদের জন্যে আপেল, বিশেষ করে লাল রঙের আপেল ও তার খোসা ভীষণ উপকারী। এর প্রধান কারণ হল এন্টি অক্সিডেন্ট যা প্রাকৃতিক এন্টি হিস্টেরিনের কাজ করে। এছাড়া আপেলে রয়েছে এন্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা এস্থেমার এলার্জি কমাতেও সাহায্য করে।


আলজাইমার রোধ করে: Preventing Alzheimer’s

      আপেলে থাকা পলিফেনল মস্তিষ্কের স্নায়ু বিনাশকারী রোগগুলি যেমন আলজাইমার ও পার্কিনসন বা যেকোনো বার্ধক্যের ফলে যে মস্তিকের রোগগুলি হয়ে থাকে সেগুলিকে রোধ করতে পারে (১৬)। এছাড়া এতে রয়েছে ফোলেট যা আরো বেশি করে মস্তিষ্কের স্নায়ু বিনাশকে রোধ করে। এমলয়েড বিটা প্রোটিন যা মস্তিষ্কে জমার ফলে আলজাইমার বাড়তে শুরু করে তা সহজেই রোধ করে আপেল (১৭), (১৮)।


পেটের সমস্যা রোধ করে: Neutralize Irritable Bowel Syndrome

      আপেলে থাকা পলিফেনল, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার কোলনের নালী পরিষ্কার করে ও পাচনতত্র সঠিক করে তোলে (১৯)। এর ফলে শরীরে জলের পরিমাণ সঠিক থাকে ও পেট পরিষ্কার হয় (২০)। আপেলে থাকা পেকটিন ও হেমিসেলুলোজ পেটে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড পরিণত হয় যার ফলে অন্ত্রের মাইক্রোবগুলি সহজেই বাড়তে পারে।


লিভার পরিষ্কার রাখে: Detoxify Your Liver

      আগেই বলা হয়েছে যে আপেলে থাকে প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট যার ফলে লিভারের বিষক্রিয়াকরণ বা ফ্যাটি লিভার হওয়া খুব সহজেই রোধ করা যায়। লিভার ও অগ্নাশয়ের সমস্যা থেকে নানারকমের রোগ যেমন গল ব্লাডারে পাথর, জন্ডিস, ইত্যাদি হতে পারে। আপেলের সাহায্যে এগুলি খুব সহজেই এড়িয়ে চলা যায়।


হজম শক্তি বাড়ায়: Aid Digestion

       আপেলে থাকা উচ্চ পরিমাণ ফাইবার হজমের জন্যে খুব ভাল। এই ফাইবারের সাহায্যে হজম ক্রিয়া বাড়ানোর জ্যুস উৎপন্ন হয় যার ফলে খুব সহজে ও ধীর গতিতে খাবার হজম হয়ে সম্পূর্ণ পুষ্টি শরীরের কাজে লাগে। এর ফলে ব্লাড সুগার বা ওজন বৃদ্ধি রোধ করা যায়।


রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়: Aid Blood Circulation

     হার্ট এবং রক্তনালীকে অপ্রয়োজনীয় রেডিক্যাল থেকে বাঁচিয়ে নানারকমের রোগের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে আপেল। এর ফলে রক্ত সঞ্চালনও খুব সঠিক ভাবে হয়। যদিও এই তথ্যটি নিয়ে এখনও অনেক গবেষণা চলছে।


হাড়ের জন্যে ভাল: Promote Bone Health

     আপেল হল মিনারেলের ভাণ্ডার এবং এতে রয়েছে বোরন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও জিঙ্ক যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যে ভীষণ উপকারী (২১)। মহিলাদের রজবন্ধ হওয়ার আগের দিকে এবং বয়স্ক লোকেদের অবশ্যই প্রতিদিন একটি করে আপেল খাওয়া প্রয়োজন। এর সাহায্যে অস্টিওপোরেসিস, আর্থরাইটিস বা অন্যান্য হাড়ের রোগ রোধ করা যায়।


রাতের দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়: Improve Night Vision

      আপেলে থাকা ভিটামিন এ ও সি চোখ এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি সজীব রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বার্ধক্যের ফলে যে চোখের কোষগুলি নষ্ট হতে শুরু করে বা সংক্রমণ সৃষ্টি করে, সেগুলি আপেলের সাহায্যে অনেকটা রোধ করা যায়। আপেলে থাকা ক্যারোটিনয়েড যেমন লিউটিন ও জান্থামিন পরিষ্কার রেটিনার রঙের জন্যে খুব প্রয়োজনীয়। এর ফলে রাতের দৃষ্টি শক্তি খুব সহজেই পরিষ্কার রাখা যায় (২২)।


চোখের ফোলাভাব রোধ করে: Treatment of Puffy Eyes

      লাল রঙের আপেল ও তার খোসায় থাকে লিউটিন, ক্যারোটিন, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি। এর ফলে চোখে ছানি পড়া, অতিরিক্ত মাংস পেশী ফুলে যাওয়া, চোখের তোলার ফোলাভাব, ইত্যাদি রোধ করা যায়। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে একটি করে আপেল খাওয়ার অভ্যেস করুন (২৩)।


ভিটামিন সি ভরপুর: Source Of Vitamin C

      আপেল হল ভিটামিন সি-এর ভাণ্ডার। এই ভিটামিন সি যে শরীরের জন্যে কতখানি প্রয়োজন তা হয়ত যত বলা হবে ততটাই কম। হার্ট, লিভার, ফুসফুস, পেট, দাঁত, কিডনি বা মহিলাদের যেকোনো সমস্যায় লড়াই করতে সাহায্য করে এই ভিটামিন সি। এই কারণেই বলা হয় রোজ একটি করে আপেল খেলে হাজার রকমের রোগ প্রতিরোধ করা যায়।


ত্বকের জন্য আপেলের উপকারিতা – Skin Benefits of Apple in Bengali

      স্বাস্থ্যের জন্যে আপেলের উপকারিতা তো দেখলেন। এবার দেখে নেওয়া যাক ত্বকের জন্যে আপেল কিভাবে সাহায্য করে। বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হল।




ত্বকের রং উজ্জ্বল ও পরিষ্কার করে: Brighten And Lighten Complexion

        আপেলে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ এন্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি যা ত্বকের জন্যে ভীষণভাবে উপকারী। এন্টি অক্সিডেন্ট লিভার ও পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ও ভিটামিন সি নতুন করে কোষ জন্মাতে সাহায্য করে। এই দুটি সজীব প্রক্রিয়ার ফলে ত্বকে কোনোরকম সমস্যা দেখা দেয় না ও দিনে দিনে ত্বকের রং উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দেখাতে শুরু করে। এমনকি, ব্রণ বা কালো দাগ ছোপের সমস্যা থাকলেও তা নিমেষের মধ্যে সেরে ওঠে।


বার্ধক্যের ছাপ রোধ করে: Anti-Aging Benefits

       আপেলে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড যেমন ফ্লোরিজিন, সিলিমারিন ও জেনিসটিন। এই সবকটি হল ত্বকের জন্যে ভীষণ উপকারী। এর সাহায্যে ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ ফেলার জন্যে যেই কোষগুলি দায়ী, সেগুলি ধীরে ধীরে নষ্ট হতে শুরু করে ও ত্বক দীর্ঘ বছর পর্যন্ত উজ্জ্বল ও টানটান দেখায় (২৪)। আপেল খাওয়া ছাড়া আপনি দুধ, মধু ও আপেলের পেস্ট একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে আধ ঘন্টা রেখে দিতে পারেন। পরে সেটি জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলবেন। এই প্রক্রিয়াটি সপ্তাহে তিনদিন করে অনুসরণ করলে খুব দ্রুত ফলাফল পাবেন।


অতি বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে: UV Protection

       আপেলে থাকা এপিজেনিন, জেনিসটিন ও অন্যান্য পলিফেনল খুব সহজেই ত্বককে সূর্যর প্রখর তাপ ও ক্ষতিকারক অতি বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। এর ফলে ত্বকে প্রচুর সেবাম উৎপন্ন হয় যা সানবার্ন হওয়াকে খুব সহজেই রোধ করে। প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে আপনি এই উপকারিতা ভোগ করতে পারবেন (২৫)।


ব্রণ ও কালো দাগ ছোপ রোধ করে: Acne, Blemishes, And Dark Spots

      ব্রণ বা কালো দাগ ছোপ দূর করতে আপেলের জুড়ি মেলা ভার। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে ব্রণ বা ত্বকের কালো দাগ দূর করতে প্রয়োজন ভিটামিন সি যা আপেলের মধ্যে ভরপুর রয়েছে। এমনকি, সানবার্ন কমাতেও খুব কার্যকরী ভূমিকা নেয় আপেল। আপেল ও আমলকির পেস্টের মধ্যে কয়েক ফোটা লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে সেটি মুখে লাগিয়ে আধ ঘন্টা রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন করলে খুব দ্রুত মুখের কালো দাগ ছোপ দূর হয়ে যায়।


ত্বকের ক্যান্সার রোধ করে: Prevent Skin Cancer

       এক কাপ কাঁচা আপেলে রয়েছে ৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। এই ভিটামিন ত্বকে এন্টি অক্সিডেন্ট ভরিয়ে তোলে ও ত্বককে নতুন করে কোষ জন্মাতে সাহায্য করে। এতে ত্বকে ময়শ্চার ভরপুর থাকে ও ত্বকের ক্যান্সার রোধ করা যায়।


চুলের জন্য আপেলের উপকারিতা – Hair Benefits of Apple in Bengali

       স্বাস্থ্য ও ত্বক ছাড়া চুলের জন্যেও আপেলের উপকারিতা প্রবল ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আসুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে:


লম্বা চুল: Hair growth

          আপেলে রয়েছে প্রোক্যান্ডিন বি ২ নামক একটি পলিফেনল যা চুল লম্বা করতে দারুন সাহায্য করে। এর ফলে চুলের গোড়া মজবুত হয় ও চুলের জন্যে প্রয়োজনীয় প্রোটিন অর্থাৎ কেরাটিন উৎপন্ন হয় (২৬), (২৭)।


চুল পড়ার সমস্যা দূর করে: Prevent Hair Loss

        আপেল থেকে তৈরী হয় আপেল সিডার ভিনিগার যা চুলের নানা সমস্যার জন্যে ব্যবহার করা হয়। তার মধ্যে অন্যতম হল চুল পড়ার সমস্যা ও খুশকি। অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা থাকলে সপ্তাহে তিনদিন করে চুলে এই প্যাকটি ব্যবহার করুন।


কিভাবে বানাবেন?


       এক বাটি দই-এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস, ডিমের সাদা অংশ ও আপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে চুলে লাগান। এর ফলে চুল পড়ার সমস্যা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে।


খুশকি দূর করে: Treatment Of Dandruff

চুলের খুশকি দূর করতেও সমানভাবে কার্যকরী আপেল সিডার ভিনিগার।


কিভাবে ব্যবহার করবেন?

       একটি পাত্রে আপেল সিডার ভিনিগার নিয়ে কয়েক ফোটা আদার রস ফেলে ভালো করে ঘষে ঘষে চুলের গোড়ায় লাগান। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন। খুব শীঘ্রই খুশকি দূর হয়ে যাবে।


আপেলের পুষ্টিগত মান – Apple Nutritional Value in Bengali

APPLE, RAW

Serving size 1 medium (3″ dia) or 182 g

পুষ্টি    & পরিমাণ

পুষ্টিগত মান

শক্তি (কিলো ক্যালোরি) ৯৫

প্রোটিন (গ্রাম) ০.৪৭

ফ্যাট (গ্রাম) ০.৩১

কার্বোহাইড্রেট (গ্রাম) ২৫.১৩

সুগার (গ্রাম) ১৮,৯১

ফাইবার (গ্রাম) ৪.৪

কোলেস্টরল (মিলিগ্রাম)

মিনারেল

ক্যালসিয়াম (মিলিগ্রাম) ১১

কোপার (মিলিগ্রাম) ০.০৪৯

আয়রন (মিলিগ্রাম) ০.২২

ম্যাগনেসিয়াম (মিলিগ্রাম)

ফসফরাস (মিলিগ্রাম) ২০

পটাসিয়াম (মিলিগ্রাম) ১৯৫

সোডিয়াম (মিলিগ্রাম)

জিঙ্ক (মিলিগ্রাম) ০.০৭

ভিটামিন

ভিটামিন এ& (মিলিগ্রাম)

ভিটামিন সি (মিলিগ্রাম) ৮.৪

ভিটামিন bi& (মিলিগ্রাম) ০.০৭৫

কোলিন (মিলিগ্রাম) ৬.২

ভিটামিন ই (মিলিগ্রাম) ০.৩৩

ফোলেট (মিলিগ্রাম)

ফোলেট (খাদ্য)

ফোলেট (সম্পূর্ণ)

ভিটামিন কে (মিলিগ্রাম)

নিয়াসিন (মিলিগ্রাম) ০.১৬৬

রিবোফ্ল্যাভিন (মিলিগ্রাম) ০.০৪৭

থিয়ামিন (মিলিগ্রাম) ০.০৩১

বিটা ক্যারোটিন& ৪৯

ক্রিপ্টো জ্যানথিন& ২০

লিউটিন +জানথিন& ৫৩

আপেলকে বেশিদিন ধরে সুরক্ষিত রাখার উপায়

        আপেল খুব শক্ত পোক্ত ও তাজা একটি ফল যা বেশ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অনায়াসে টাটকা অবস্থায় রাখা যায়। তবে কিছু কিছু ছোট নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। বাড়িতে আপেল নিয়ে আসলে ফ্রিজের একটি শুকনো ও ঠাণ্ডা বাক্সে আপেল রাখুন। এভাবে প্রায় এক মাস আপেল টাটকা থাকে। আপেল থেকে এথিলিন নামক একটি বায়ু নির্গত হয় যা আপেলকে দিনে দিনে পাকতে সাহায্য করে। ফ্রিজে রাখার ফলে এই এথিলিন ধীরে ধীরে নির্গত হয় ও আপেল দেরীতে পাকে। ফলে অনেকদিন পর্যন্ত আপনি তা সুরক্ষিত রাখতে পারেন। তবে একসাথে সব আপেল এক জায়গায় রাখবেন না, এতে সব কটি আপেল একসাথে পেকে যায়। এক একটি আলাদা আলাদা জায়গায় রাখবেন।


আপেলের ব্যবহার – How to Use Apple in Bengali

         আপেল কতখানি উপকারী তা হয়তো আপনি ভালো করেই বুঝে গেছেন। এবারে দেখে নিন আপেলের ব্যবহার অর্থাৎ আপেল কিভাবে খাবেন বা কোন কোন সময় আপেল খেলে আপনি তার সর্বাধিক উপকারিতা পাবেন, ইত্যাদি।


দিনে ঠিক কটি আপেল খাওয়া উচিত?

       বয়স অনুযায়ী আপেল খাওয়ার পরিমাণও বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম ভাবে নির্ভর করে। একটি শিশুর বয়স যদি ৪ বছরের নিচে হয়, তাহলে ১.৫ থেকে ২ বাটি আপেল খাওয়া যথেষ্ট। প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে দিনে প্রায় ২৫-৩০ গ্রাম ফাইবার প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে অন্যান্য শাক সবজি ও ফলের সাথে ২-৩ টি ছোট আপেল অনায়াসেই খাওয়া যায়। আপেল যদি আকারে বড় হয় তবে ১ টি খাওয়া যথেষ্ট।


আপেল খাওয়ার সুরক্ষিত উপায়:

পেয়ারার উপকারীতা, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং ব্যবহার | All About Guava

 পেয়ারার উপকারীতা, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং ব্যবহার | All About Guava

             একাধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ পেয়ারা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপযোগী একটি ফল। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় পুষ্টিলাভের জন্য পেয়ারার অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। এই নিবন্ধে পেয়ারা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নিয়ে বিশদে আলোচনা করা হবে। জানা যাবে পেয়ার উপকারীতা, পৌষ্টিক গুরুত্ব, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া একইসাথে পেয়ারা সংরক্ষণের উপায় ইত্যাদি। প্রধাণত গ্রীষ্মমণ্ডলের এই ফলে রয়েছে ভিটামিন সি এবং লাইসোপিন সহ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতন কার্যকরী পৌষ্টিক উপাদান। যা সুস্বাস্থ্য গঠনের জন্য বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।


Table Of Contents

পেয়ারার ঔষধি গুণ

পেয়ারার উপকারীতা

পেয়ারার পুষ্টিগুণ

পেয়ারার ব্যবহার –

কী পদ্ধতি অবলম্বন করলে বেশ কিছুদিন সময় পর্যন্ত পেয়ারা সংরক্ষণ করা যায়

পেয়ারার রস তৈরীর পদ্ধতি

পেয়ারার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী :

পেয়ারার ঔষধি গুণ



           পেয়ারায় রয়েছে একাধিক ঔষধি গুণ। পেয়ারা এবং এই গাছের অন্যান্য উপাদানগুলি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিফ্যাঙ্গাল, অ্যান্টিডায়াবেটিক, এবং অ্যান্টিডায়রিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়।


                গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনল ইনফেকশন বা সংক্রমণ, ওরাল ইনফেকশন বা মুখবিবরে এবং দাঁতের সংক্রমণ, ত্বকের সংক্রমণ, মধুমেহ বা ডায়াবেটিস, হৃদযন্ত্র বা হার্টের সমস্যা এবং সর্বোপরি অপুষ্টিজনিত সমস্যার জন্য পেয়ারা খুবই উপকারী পথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। শুধু তাই নয় অনেক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে মহিলাদের স্বাস্থ্য সমস্যা, কিডনি এবং ক্যান্সারের জন্য পেয়ারা খুবই উপাদেয় একটি ফল (1) । সব মিলিয়ে দেখতে গেলে দৈনন্দিন জীবনে খাদ্য হিসেবে পেয়ারার গুরুত্ব অপরিসীম।


পেয়ারার উপকারীতা

       পেয়ারার একাধিক উপকারীতার কথা আমরা অনেকেই জানি। তবে সেগুলি ঠিক কী কী এবার সেগুলো জেনে নেওয়া যাক। পেয়ারার উপকারিতা গুলি হলো নিম্নরূপ-



১. ডায়বেটিস বা মধুমেহর জন্য পেয়ারার উপকারীতা

          মধুমেহ রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পেয়ারা খুবই উপকারী একটি ফল। খোসা ছাড়ানো পেয়ারা রক্তে শর্করার পরিমাণ হ্রাস করতে সাহায্য করে (2)। একইসাথে একটি গবেষণা থেকে আরোও জানা যায় যে, পেয়ারাতে উপস্থিত পলিস্যাকারাইড উপাদান গুলি টাইপ ২ ডায়বেটিস হ্রাস করতে পারে (3)। অন্যদিকে পেয়ারা পাতার নির্যাসে অ্যান্টি-হাইপারগ্লাইসেমিক প্রভাবও রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রন করতে সহায়তা করে (4)। এই কারণে মধুমেহ রোগীদের খাবারের তালিকায় পেয়ারা অন্তর্ভূক্ত করা জরুরী।


২. ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে

         ক্যান্সার প্রতিরোধে পেয়ারার গুরুত্ব অপরিসীম। একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে পেয়ারা প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। পেয়ারাতে রয়েছে লাইকোপিন নামক একটি উপাদান যা প্রোস্টেট ক্যান্সারের কোষগুলির বিরুদ্ধে গিয়ে কেমোপ্রেনভেটিভ প্রভাব প্রদর্শন করে (5)। তবে পাঠকদের একথা মনে রাখতে হবে যে পেয়ারা কোনোভাবেই ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধাদি নয়। ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ।


৩. ওজন কমাতে সহায়ক

        ওজন কম করার জন্য ফল একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। তবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অন্যসব ফলের মধ্যে পেয়ারা একটি অতি কার্যকরী নাম। একজন সুস্থ্য মানুষের উচ্চতা অনুয়ারী কত ওজন হওয়া উচিৎ তা নির্ধারণ করা হয় তার বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) এর মাধ্যমে। এই বডি মাস ইনডেক্স এর আধিক্য মেদ বৃদ্ধিকে ইঙ্গিত করে (6)। এনসিবিআই (ন্যাশানাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে খোসা সমেত পাকা পেয়ারাতে উপস্থিত পরিপূরক গুলি শরীরের ভর সূচক হ্রাস করতে পারে (7)। তবে শরীরের ওজন সূচক এবং মেদ হ্রাস করার জন্য পেয়ারা কীভাবে আরোও উপকারী হয়ে উঠতে পারে সেই বিষয়ে আরো গবেষণা দরকার।


৪. পরিপাকে সহায়ক

        পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় করে পেয়ারা পরিপাকে সহায়তা করে। একটি গবেষনা থেকে জানা গেছে পেয়ারা এবং পেয়ারার গুঁড়ো ডায়টারি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে কোষ্ঠ্য কাঠিণ্যের সমস্যা দূর করে। শরীরে ফাইবারের অভাব অধিকাংশ সময়েই কোষ্ঠ্য কাঠিন্যের সৃষ্টি করে (8) (9)। এই কারণে হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং কোষ্ঠ্য কাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে চাইলে অবশ্যই পেয়ারা খাওয়া দরকার।


৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বর্দ্ধক

         পেয়ারায় উপস্থিত ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে (10)। এছাড়াও পেয়ারা স্থিত ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং রোগ সৃষ্টিকারী জীবানুদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শরীরকে শক্তি জোগায় (11)।  তাই পেয়ারা খাওয়া রোগ জীবানু প্রতিরোধ করে সুস্বাস্থ্য গঠনের জন্য খুবই উপকারী বলে বিবেচিত হয়।


৬. হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যোন্নতিতে সহায়ক

         হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যোন্নতির ক্ষেত্রে পেয়ারা খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। পেয়ারাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমানে পটাসিয়াম যা রক্ত নালীকে শিথিল করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে (12)। একইসাথে পেয়ারাতে রয়েছে ফাইবার যা খারাপ কোলেস্টেরল হ্রাস করতে পারে। অনেকসময় এই খারাপ কোলেস্টেরল হৃদরোগের  কারণ হয়ে ওঠে (13)। এইভাবে পেয়ারা হৃদরোগের সম্ভবনা হ্রাস করে।


৭. দৃষ্টি শক্তি বর্দ্ধক

         এখন অল্প বয়স থেকেই শিশুদের চোখের দৃষ্টি দুর্বল হতে দেখা যায়। কম আলোতে টিভি দেখা, পড়াশুনা করা এগুলি তো রয়েছেই একইসাথে পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব। সব মিলিয়ে ছোট বয়স থেকেই শিশুদের দৃষ্টি শক্তি ক্ষীণ হয়ে যায়। এই কারণ গুলিকে প্রতিহত করার জন্যই খাদ্য তালিকায় পেয়ারা অন্তর্ভূক্ত করা উচিৎ। কারণ পেয়ারাতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং তামা ও জিঙ্ক ইত্যাদি পৌষ্টিক উপাদান। এইসব ভিটামিন এবং খনিজ উপাদানগুলি চোখের স্বাস্থ্যোন্নতিতে ভীষণভাবে সহায়তা করে। ছোট বয়স থেকেই বাচ্চাদের খাদ্য তালিকায় পেয়ারা যুক্ত করলে তাদের চোখের নানারকম সমস্যা সম্ভবনাওও অনেক কমে যায় (14)  ।


৮. গর্ভাবস্থায় উপকারী পথ্য

        পেয়ারা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে তা শরীরে আয়রণের পর্যাপ্ত জোগান দেয়। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তাল্পতা দেখা যায়। তাই গর্ভাবস্থায় শরীরে আয়রণের জোগান নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য খাদ্য তালিকায় পেয়ারার উপস্থিতি একান্ত ভাবে প্রয়োজনীয়। এছাড়াও ভিটামিন সি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। গর্ভাবস্থায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ফলে প্রিক্লেম্পসিয়া ( গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ ) এবং নির্ধারিত সময়ের পূর্বে শিশুর জন্ম ইত্যাদি সম্ভবনা সৃষ্টি করে। সেই কারণেই এইসময় ভিটামিন সি গ্রহণ পূর্বোল্লিখিত সমস্যা গুলির বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে(15)। শুধু তাই নয় পেয়ারায় রয়েছে ফলেট যা একটি অপরিহার্য পৌষ্টিক উপাদান। এটা গর্ভস্থ শিশুর স্নায়বিক ত্রুটির (মস্তিষ্ক এবং মেরুদ্বণ্ড সম্পর্কিত জন্মগত ত্রুটি) ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে (16)।


৯.  মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রক

        ম্যাগনেসিয়াম মানসিক চাপ কমাতে ভীষণভাবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। একটি গবেষণা থেকে আরও জানা গিয়েছে যে ম্যাগনেসিয়াম ব্যক্তির উদ্বেগ কমাতেও সাহায্য করে(17)। তাই মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ থেকে শরীরকে মুক্ত রাখার জন্য পেয়ারা খাওয়া দরকার। অবশ্য এই বিষয়ে এখনও অনেক গবেষণা প্রয়োজন আছে।


১০. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক

        বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এর মতে উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগ, চোখের দৃষ্টি শক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়া, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে (18)। তাই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য খাদ্য তালিকায় পেয়ারা উপস্থিতি একান্তভাবেই কাম্য। আমরা আগেই জেনেছি যে পেয়ারাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমানে পটাশিয়াম এবং এই পটাশিয়াম রক্তনালিকে শিথিল করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।


১১. থাইরয়েড প্রতিরোধক

       থাইরয়েড এমন একটি গ্রন্থি যা মানুষের গলায় থাকে। এই গ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরিত হয় যা শরীরে বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে। এই হরমোনের ক্ষরণে ভারসাম্যহীনটা দেখা দিলেই আমাদের হাইরয়েডের সমস্যা দেখা যায়(19)। একটি গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে পেয়ারা খেলে থাইরয়েডের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রনাধীন থাকে। যদিও এই বিষয়ে এখনও প্রয়োজনীয় গবেষণার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।


১২.  সর্দি গর্মি নাশক

    পেয়ারার উপকারীতা গুলির মধ্যে অন্যতম একটি হলো এটা সর্দি গর্মি নাশ করে। পেয়ারা ভিটামিন সি এবং আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে তা ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যে সাহায্য করে একইসাথে মিউকাস তৈরী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। ভিটামিন সি ব্যাক্টেরিয়া এবং ভাইরাস আক্রমনের ফলে সৃষ্ট সর্দি কাশি উপশম করতে সাহায্য করে।


১৩. কোষ্ঠ্য কাঠিন্য নাশক

       পেয়ারা অত্যাধিক ফাইবার সমৃদ্ধ হয়। তাই খাদ্য হিসেবে পেয়ারা গ্রহণের ফলে কোষ্ঠ্য কাঠিন্যের সমস্যা অনায়াসেই দূর হয়ে যায়। সেই কারণে কোষ্ঠ্য কাঠিন্যের সমস্যায় জর্জরিত মানুষদের অবিলম্বে খাদ্য তালিকায় পেয়ারা অন্তর্ভূক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে (20)। 


১৪. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যোন্নতিতে সহায়ক

         এখনও পর্যন্ত পেয়ারার বেশ কিছু উপকারীতার বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। সেই তথ্য থেকে জানা গেছে যে পেয়ারাতে লাইকোপেন নামক একটি উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা সূত্রে জানা যায় যে লাইকোপেন যুক্ত খাদ্য বহু স্নায়বিক অসুখ যেমন অ্যালজাইমার এবং পারকিন্সস (এক ধরণের ব্রেন ডিসঅর্ডার) প্রভৃতি রোগের সম্ভবনা হ্রাস করতে সহায়তা করে। উপরন্তু লাইকোপেন মস্তিষ্কের কোষের সুরক্ষা জোগায় (20)।



১৫. পেয়ারায় উপস্থিত ভিটামিন সমূহ

        শরীরে একাধিক ভিটামিনের জোগান দেয় পেয়ারা। পেয়ারাতে উপস্থিত ভিটামিন গুলি হলো যথা – ভিটামিন এ, সি, কে , এবং বি ৬ । 


      ভিটামিন এ চোখ, পাকস্থলী, ত্বক এবং শ্বাসনালীর সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খুবই উপকারী (21) । 

ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে (22) । 

       ভিটামিন কে ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। এছাড়াও হাড়ের ক্ষয় রোধ করে হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা লাঘব করে। এবং সর্বোপরি কার্ডিওভাস্কুলার অসুখের সম্ভবনাও অনেকাংশেই কমিয়ে দেয় (23) । 

        ভিটামিন বি ৬ মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য এই ভিটামিনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই গর্ভবতী মহিলাদের ভিটামিন বি ৬ গ্রহণ খুবই জরুরী (24) । 

১৬. ঋতুস্রাব জনিত সমস্যার নিরামায়ক

        ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড কম বেশি প্রত্যেক মহিলার জীবনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এইসময় মহিলারা মুড সুইং, পেটে ব্যথা, মাথা ব্যথা, খিঁচুনি, এবং অন্যান্য একাধিক শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হন (25)। এই সময় পেয়ারা খাওয়া খুবই উপাদেয় বলে বিবেচিত হয়। একটি গবেষণা থেকে জানতে পারা গেছে যে ঋতুস্রাব চলাকালীন ১৯৭ জন মহিলা যারা পেটে ব্যাথার সমস্যায় ভুগছেন তাদের প্রতিদিন ৬ মিলিগ্রাম পেয়ারার নির্যাস সমন্বিত একটি ওষুধ খাওয়ানো হয় যা তাদের জন্য খুবই উপকারী হয়েছে বলে জানা যায় (26)। দক্ষিণ আফ্রিকার আরেকটি গবেষণা থেকে জানা গেছে পেয়ারা পাতার নির্যাস থেকে ক্র্যাম্প দূর করার ঔষধী পাওয়া যায়(27)। সব মিলিয়ে ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে মহিলাদের জন্য পেয়ারা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য বলে বিজ্ঞানসম্মত ভাবেই জানা গেছে।


১৭. দাঁত ব্যথা প্রতিরোধক

        পেয়ারা অ্যান্টিপ্লাক এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। প্লাকের ওপর জমা হওয়া ব্যাক্টেরিয়া সমন্বিত একটি স্তর থেকে পেয়ারা দাঁত কে রক্ষা করে। এই প্লাক কে পিরিয়ডেন্টাল অসুখ বা মাড়ির সংক্রমন বলা যেতে পারে। পেয়ারাতে জীবানুনাশক হয় যার প্রধান কারণ এতে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, গ্যাজাইরইন, এবং কুয়েরসেটিন নামক উপাদান। পেয়ারা খোসায় ট্যানিনের উপস্থিতির কারণে এটা রোগ জীবানু সৃষ্টিকারক ব্যাক্টেরিয়া থেকে শরীরকে মুক্ত রাখে। এছাড়াও পেয়ারা পাতার নির্যাস মুখ বিবরের মধ্যে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমন প্রতিহত করে (28) ।


১৮. ত্বকের পরিচর্যায়ক

       পেয়ারা ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পেয়ারা পাতার মিথানলিক নির্যাস সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি দ্বারা সৃষ্ট পিগমেন্টেশনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিমেলানোজেনেসিস ক্রিয়ায় সহায়তা করে অর্থাৎ এটি মেলানিন উৎপাদন হ্রাস করতে পারে। মেলানিন ত্বকের দাগছোপ তৈরী করে যা পেয়ারা পাতার প্রভাবে অনায়াসেই দূরীভূত হয় (29)। অবশ্য এই বিষয়ে যথেষ্ট গবেষণার অভাব রয়েছে।


পেয়ারার পুষ্টিগুণ

পৌষ্টিক উপাদান ----- প্রতি ১০০ গ্রামে

শক্তি ------ ৬৮ ক্যালোরি

জল -------    ৮০.৮ গ্রাম

কার্বোহাইড্রেট------------ ১৪.৩২ গ্রাম

ফ্যাট---------- ০.৯৫ গ্রাম

প্রোটিন----------- ২.৫৫ গ্রাম

মোট কার্বোহাইড্রেট------- ২৩.৬ গ্রাম

ডায়টারি ফাইবার------- ৫.৪ গ্রাম

শর্করা------ ৮.৯২ গ্রাম

ভিটামিন এ আরএই-------- ৩১ মাইক্রোগ্রাম

ভিটামিন সি--------- ---২২৮.৩ মিলিগ্রাম

ভিটামিন ই (আলফা টোকোফেরল)------------ ০.৭৩ মিলিগ্রাম

ভিটামিন কে--------------- -২.৬ মাইক্রোগ্রাম

থিয়ামিন----------- ০.০৬৭ মিলিগ্রাম

রাইবোফ্লেবিন-------------- ০.০৪ মিলিগ্রাম

নিয়াসিন------------- ১.০৮৪ মিলিগ্রাম

ভিটামিন বি -----------৬০.১১ মিলিগ্রাম

ফলেট --------------৪৯ মাইক্রোগ্রাম

কোলিন ----------৭.৬ মিলিগ্রাম

ক্যালসিয়াম---------- ১৮ মিলিগ্রাম

আয়রণ----------- ০.২৬ মিলিগ্রাম

ম্যাগনেশিয়াম---------- ২২ মিলিগ্রাম

ফসফরাস------------- ৪০ মিলিগ্রাম

পটাশিয়াম----------- ৪১৭ মিলিগ্রাম

সোডিয়াম------- ২ মিলিগ্রাম

জিঙ্ক---------- ০.২৩ মিলিগ্রাম

কপার---------- ০.২৩ মিলিগ্রাম

সেলেনিয়াম----------- ০.৬ মাইক্রোগ্রাম

সূত্র – ( 30 )


পেয়ারার ব্যবহার –

অনেক উপায়ে পেয়ারা খাওয়া যেতে পারে। এবার দেখে নেওয়া যাক পেয়ারা খাওয়ার পদ্ধতি গুলি কী কী –
1- সবার আগে ভালো পেয়ারা বেছে নেওয়া দরকার। খেয়াল রাখা উচিৎ পেয়ারা গুলি যেনো নরম এবং পাকা ধরণের হয়।
2- পেয়ারা যেনো আবার বেশি পাকা না হয় সেটাও লক্ষ্য রাখা দরকার কারণ বেশি পাকা পেয়ারা তাড়াতাড়ি পচে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।
3-  খাওয়ার আগে পেয়ারা ভালো করে ধুয়ে নেওয়া দরকার যাতে গায়ে কোনো ধুলো, ময়লা বা মাটি লেগে না থাকে।
4- পেয়ারা সবসময় কেটে খাওয়া উচিৎ কারণ অনেক সময় পেয়ারার মধ্যে পোকা থাকতে দেখা যায়।
5- পাকা পেয়ারা ছোটো ছোটো করে কেটে নুন দিয়ে খাওয়া যেতে পারে একইরকম ভাবে কাচা পেয়ারাও খাওয়া যায়।
6- হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য পাকা পেয়ারা কালো নুন সহযোগে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
কোষ্ঠ কাঠিন্যের সমস্যা থাকলে রোজ সকালে পাকা পেয়ারা খাওয়া উচিৎ।
7- পেয়ারা কেটে তা সস এর সাথেও খাওয়া যায়।
 8- পেয়ারার রস এবং স্মুথি বানিয়েও খাওয়া যায় অথবা পেয়ারা দিয়ে আইসক্রিমও তৈরী করা যেতে পারে।
9-  পেয়ারা রান্নার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে।




          তবে আমাদের একথা ভুলে গেলে চলবেনা যে পেয়ারার যেমন উপকারীতা রয়েছে এর অপকারিতাও অনেক রয়েছে।
কী পদ্ধতি অবলম্বন করলে বেশ কিছুদিন সময় পর্যন্ত পেয়ারা সংরক্ষণ করা যায়
কয়েকটি বিষয় একটু নজরে রাখলেই বেশ কিছুদিন সময় পর্যন্ত পেয়ারা সংরক্ষণ করা যায় –
 ফ্রিজে অন্য ফলের সাথে যাতে পেয়ারা রাখা না হয় সেইদিকে খেয়াল রাখা দরকার। কারণ অন্য ফলের সাথে পেয়ারা রাখলে সেটা সহজেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
 পেয়ারা কাটার কিছু সময় পর সেটা খেতে চাইলে, পেয়ারা কাটার সাথে সাথেই তাতে পাতিলেবুর রস মাখিয়ে নেওয়া দরকার।
পেয়ারাকে হিমায়িত করেও রাখা যায় তবে তার আগে ভালো করে পেয়ারা ধুয়ে শুকিয়ে তারপর কেটে নিতে হবে। এবং কাটা টুকরো গুলিকে এয়ারটাইট কৌটোর মধ্যে ভরে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে ঐ কৌটোয় ভেতর পেয়ারার টুকড়ো রাখার পর একটু হলেও যেনো ফাঁকা জায়গা থাকে। এমন করলে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত পেয়ারা টাটকা থাকবে।
এয়ারটাইট কৌটোর মধ্যে ঠাণ্ডা করা চিনির রস ঢেলে তার মধ্যে পেয়ারা ডুবিয়ে রেখেও খাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে কৌটোর ঢাকনা যেনো খুব ভালো করে বন্ধ করা হয় সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে।

পেয়ারার রস তৈরীর পদ্ধতি

পেয়ারার রস বানানো খুবই সহজ আর এটা স্বাদেও উত্তম। পেয়ারা রসের পৌষ্টিক গুরুত্বও অনেক। তাহলে এবার দেখে নেওয়া যাক পেয়ারার রস তৈরীর পদ্ধতি কী –


উপকরণ 


২ টি পেয়ারা

১ টা কাঁচালঙ্কা

১ টুকরো আদা

৪-৫ টা গোল মরিচ

১ চামচ পাতিলেবুর রস

পুদিনা পাতা (সাজানোর জন্য)

নুন (স্বাদ অনুসারে)

তৈরীর পদ্ধতি 


 সবার প্রথমে পেয়ারা ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট করে টুকরো করে নিতে হবে।

 পেয়ারার রস করার জন্য ওপরে উল্লিখিত সব কটি উপাদান ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।

 পেয়ারা পেসাই করার পর সেটাকে ছেঁকে রস বের করে নিতে হবে।

 অবশ্য এই রস না ছেঁকেও স্মুথির মতন করে পান করা যেতে পারে।

 ইচ্ছে করলে পেয়ারা রসের সাথে বরফের টুকরো যোগ করা যেতে পারে।

 গ্লাসে করে সার্ভ করার সময় পুদিনা পাতা সাজিয়ে দিলে দেখতে ভালো লাগবে।

পেয়ারার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

       পেয়ারায় খুব একটা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই ঠিকই, তবু পেয়ারা খাবার আগে কয়েকটা বিষয় মনে রাখা দরকার। এছাড়াও অতিরিক্ত পরিমাণে পেয়ারা খাওয়ার ফলে যাতে শরীর খারাপ না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিৎ। পেয়ারার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলি হলো নিম্নরূপ –


         ইতিমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি যে পেয়ারায় রয়েছে অত্যধিক পরিমাণে ফাইবার। এই অতিরিক্ত ফাইবার সমৃদ্ধ পেয়ারা তাই অনেকসময় পেটে ব্যথা এবং গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। 

         পেয়ারাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাসিয়াম। তাই যদি কারো কিডনি বা সেই সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থেকে চিকিৎসকরা তাদের পেয়ারা খেতে নিষেধ করে থাকেন। তাই কিডনি সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা পেয়ারা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে নেওয়াই ভালো।

        গর্ভবতী মহিলা এবং স্তনদায়ী মায়েদের জন্য পেয়ারা আদৌ নিরাপদ কিনা সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ।

        বিভিন্ন বয়সের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটা ফল হলো পেয়ারা। সহজ লভ্য এবং দামেও খুব বেশি নয় অথচ সারা বছর পাওয়া যায় পেয়ারা। পেয়ারায় উপস্থিত পৌষ্টিক গুণাগুন মানুষের সুস্বাস্থ্য গঠনের জন্য খুবই উপকারী। তবে যে কোনো মানুষের জন্যই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে পেয়ারা খাওয়া দরকার। পরিমাণের তারতম্য অনেক সময়ই অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। তাই সুষম পরিমাণে পেয়ারা খাওয়া শরীর সুস্থ্য রাখার জন্য দরকার। উপরিক্তো নিবন্ধ থেকে পেয়ারা সম্বদ্ধীয় সমস্ত তথ্যাদি পাঠকের উপকারে লাগবে বলে মনে করা হয়।


পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ 
আমাদের পোস্ট টি পড়ে যদি আপনার ভালো লাগে অথবা এই পোস্ট থেকে আপনি যদি উপকৃত হন, তাহলে আপনার একটি মূল্যবান কমেন্ট করেদিন
 
এতে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হতে পারি।  

 

আপনার একটি কমেন্ট আমাদের আরো বেশি উৎসাহিত করে 


Thank You 



Labels

Present Tense (25) Normal English Lessons (15) Tense (12) Regular English Lessons (11) মধু খাওয়ার উপকারিতা (11) রসুনের উপকারিতা (10) Interrogative Sentence (8) Negative Sentence (8) জীবন বদলে দেওয়ার মতো 30 টি বাণী (8) Affirmative Sentence (হাঁ -বাচক ) (7) Interrogative Negative (7) কম্পিউটার কীবোর্ড শর্টকাট কোড এবং টেকনিক – (keyboard shortcuts) (6) পেয়ারার উপকারিতা (6) 7 Idioms Starting with "Cold" (4) Parts of Speech-English Grammar (ইংরেজি ব্যাকরণ) (4) Swami Vivekananda Bani in Bengali – বিবেকানন্দের অমূল্য বাণী (4) 6 Idioms Starting with "Close" (3) Sayings Starting with "Cross" and "Cry" (3) রবীন্দ্রনাথের বাণী সমগ্র (3) Adjective (2) Figures of speech Starting with "Come" (2) Preposition (2) grammar (2) voice-active-voice-passive-voice (2) About Us (1) Adverb (1) Believe-in-yourself-sand-stone. (1) Computer Shortcut Keys (1) Motivational speech (1) Noun (1) Parts of Speech: Noun (1) Pronoun (1) Verb (1) এ.পি.জে আব্দুল কালাম (1) এ.পি.জে আব্দুল কালামের অনুপ্রেরণাদায়ক বাণী (1) ব্যবহার এবং অপকারিতা (1)

My Blog List

  • Positive Thoughts - * 1) ‘Dreams are not what you see in your sleep. Dreams* *That's what keeps you awake. '* *2) ‘To be as bright as the sun first* *You have to burn li...
    8 months ago

Popular Posts

Most Popular

জীবন বদলে দেবার মতো উক্তি,গুণীজনের বাণী , যা আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে

জীবন বদলে দেবার মতো উক্তি  জীবন ও সময় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, জীবন শেখায়, সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করতে। আর সময় শেখায়, জীবনের মূল্য দিতে।...